আল কুরআন


সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 37)

সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 37)



হরকত ছাড়া:

يأتوك بكل سحار عليم ﴿٣٧﴾




হরকত সহ:

یَاْتُوْکَ بِکُلِّ سَحَّارٍ عَلِیْمٍ ﴿۳۷﴾




উচ্চারণ: ইয়া’তূকা বিকুল্লি ছাহহা-রিন ‘আলীম।




আল বায়ান: ‘তারা তোমার নিকট প্রত্যেক বিজ্ঞ যাদুকরকে নিয়ে আসুক’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৭. যেন তারা তোমার কাছে প্রতিটি অভিজ্ঞ জাদুকরকে উপস্থিত করে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা আপনার কাছে প্রত্যেকটি অভিজ্ঞ যাদুকরকে নিয়ে আসবে।’




আহসানুল বায়ান: (৩৭) যেন তারা আপনার নিকট প্রতিটি সুদক্ষ যাদুকর উপস্থিত করে।’ [1]



মুজিবুর রহমান: যেন তারা তোমার নিকট প্রতিটি সুদক্ষ যাদুকর উপস্থিত করে।



ফযলুর রহমান: যাতে তারা প্রত্যেক বিজ্ঞ যাদুকরকে আপনার কাছে নিয়ে আসে।”



মুহিউদ্দিন খান: তারা যেন আপনার কাছে প্রত্যেকটি দক্ষ জাদুকর কে উপস্থিত করে।



জহুরুল হক: যেন তারা প্রত্যেক জ্ঞানী জাদুকরদের তোমার কাছে নিয়ে আছে।



Sahih International: Who will bring you every learned, skilled magician."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩৭. যেন তারা তোমার কাছে প্রতিটি অভিজ্ঞ জাদুকরকে উপস্থিত করে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩৭) যেন তারা আপনার নিকট প্রতিটি সুদক্ষ যাদুকর উপস্থিত করে।’ [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, এদের দু’জনকে এখন তাদের নিজ অবস্থায় ছেড়ে দিন এবং সমস্ত শহর হতে জাদুকরদের একত্রিত করে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা-সভা অনুষ্ঠিত হোক; যাতে তাদের যাদুর জবাব দেওয়া যায় এবং আপনার সমর্থন ও জয় হয়। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ হতে সৃষ্টিগত একটি ব্যবস্থা, যাতে লোক এক জায়গায় একত্রিত হয় এবং এ সব প্রমাণাদি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে; যা মূসা (আঃ)-কে মহান আল্লাহ দান করেছিলেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০-৬৮ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা মূসা ও হারূন (عليهم السلام)-এর দাওয়াতী পদ্ধতি, বানী ইসরাঈলকে ফির‘আউনের দাসে পরিণত করা ও ফির‘আউনের সীমালঙ্ঘন করার কথা আলোচনা করেছেন।



মূসা ও হারূন (عليهم السلام)-এর ফিরআনের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাসমূহ আল্লাহ তা‘আলা একাধিক স্থানে উল্লখ করেছেন। কারণ এদের ঘটনার মাঝে অনেক শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। তাই বলা হয় “যেখানেই ফির‘আউন সেখানেই মূসা”



আল্লাহ তা‘আলা মূসা (عليه السلام)-কে



الْقَوْمَ الظّٰلِمِيْنَ



তথা ফির‘আউনের কাছে তাক্বওয়ার দাওয়াত দিয়ে প্রেরণ করলেন। ফির‘আউন ছিল সে দেশের তৎকালীন শাসক, মূসা (عليه السلام) সাধারণ একজন নাগরিক। তাই তিনি ভয় পেলে আল্লাহ তা‘আলাকে বললেন: আমি ভয় করছি যে, তারা আমাকে মিথ্যে প্রতিপন্ন করবে। ভয়ে অন্তর সংকীর্ণ হয়ে আসছে, পূর্ব থেকে তো মুখে জড়তা ছিলই। তাই তিনি সহযোগী হিসেবে ভাই হারূনকে নাবী হিসেবে প্রেরণ করার প্রার্থনা করলেন। অর্থাৎ কিবতী ব্যক্তিকে হত্যা করে আমি তাদের কাছে অপরাধী হয়ে আছি তা তো তাদের জানা। সুতরাং আমি ভয় করছি, তারা আমাকে পেলে হত্যা করে ফেলবে। “আল্লাহ তা‘আলা বললেন: ‘কখনই নয়, অতএব তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনসহ যাও, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, শ্রবণকারী হিসেবে।” এখান থেকে জানা গেলন দাওয়াতী কাজ রাষ্ট্রের শাসক পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে। আরো জানা গেল, কেউ আল্লাহ তা‘আলার পথে সঠিক দাওয়াতী কাজ করলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করবেন।



(إِنَّا مَعَكُمْ مُّسْتَمِعُوْنَ)



অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ক্ষমতা, দর্শন, শ্রবণ দ্বারা মূসা (عليه السلام)-এর সাথে ছিলেন। যা পরের শব্দ مُّسْتَمِعُوْنَ তাফসীর করে দিয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা সব কিছু দেখছেন শুনছেন। মূসা (عليه السلام)-কে সহযোগিতা করার জন্য আল্লাহ তা‘আলাকে মূসার সাথে যেতে হবে না, আরশের ওপর থেকেই যথেষ্ট।



মূসা (عليه السلام) ফির‘আউনের কাছে গেলেন। বানী ইসরাঈলকে সাথে দিয়ে দেয়ার জন্য আবেদন করলেন। তখন ফির‘আউন মূসা (عليه السلام)-এর শৈশবকাল থেকে যতদূর লালন-পালন করেছে তার ইতিবৃত্ত তুলে ধরল। মূসা (عليه السلام) বললেন: ‎ ‘‘আমি তো এটা করেছিলাম তখন যখন ছিলাম অজ্ঞ।”



অজ্ঞ এর অর্থ হলন অনিচ্ছাকৃতভাবে অজ্ঞতাবশত হত্যা করেছি। হত্যা করা বৈধ মনে করিনি যে কারণে আমি কুফরী পর্যায়ে চলে যাব। আমি বুঝতে পারিনি যে, ঘুষি মারলে মারা যাবে। ফলে আমি আল্লাহ তা‘আলার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।



তোমরা যখন হত্যার প্রতিশোধ নিতে এসেছিলে তখন আমি পলায়ন করে মাদইয়ান চলে যাই। পরে আল্লাহ তা‘আলা আমাকে নবুওয়াত দান করেন।



মূসা (عليه السلام) যখন ফির‘আউনের কাছে রবের দাওয়াত দিলেন তখন “ফির‘আউন বলল:‎ ‘জগতসমূহের প্রতিপালক আবার কী?’ মূসা বলল:‎ ‘তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং তাদের মধ্যবর্তী সমস্ত‎ কিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।’’ এখান থেকে বুঝা যাচ্ছে অমুসলিমকে প্রথমে আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদের দাওয়াত দিতে হবে। যেমন মুআয (رضي الله عنه)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইয়ামানে প্রেরণ করেন তখন সর্বপ্রথম তাকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে বলেন। (সহীহ বুখারী হা: ১৩৯৫)



অতঃপর ফির‘আউনের দাবী অনুযায়ী মূসা (عليه السلام) মু‘জিযাহ প্রকাশার্থে সাপ দেখালে সেখানে উপস্থিত সকল জাদুকর ঈমান আনে এবং তারা বুঝতে পারে এটা কোন জাদু নয়। পরে এসব ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।



(إِنَّا لَمُدْرَكُوْنَ)



অর্থাৎ যখন মূসা (عليه السلام) বানী ইসরাঈলকে নিয়ে রওনা দিয়ে সাগর পাড়ে চলে আসেন তখন পিছন দিক থেকে ফির‘আউনের বাহিনী চলে আসে, যখন একদল অপরদলকে দেখতে পেতে লাগল তখন মূসা (عليه السلام)-এর কাছে অভিযোগ করে বানী ইসরাঈল বলল: ‘আমরা তো ধরা পড়ে গেলাম!’ মূসা (عليه السلام) বললেন: ‘কখনই নয়! আমার সঙ্গে আছেন আমার প্রতিপালক; সত্বর তিনি আমাকে পথনির্দেশ করবেন।’ অতঃপর মূসা (عليه السلام)-সহ বানী ইসরাঈলকে নাজাত দেন আর ফির‘আউন ও তার দলবলকে সাগরে ডুবিয়ে মারেন। এ সম্পর্কে ইতোপূর্বে সূরা ত্বা-হা-সহ আরো অন্যান্য সূরাতেও আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. দেশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ঈমান আনলে অধীনস্থরা এমনিতেই ঈমান আনবে। তাই প্রথমে শাসক শ্রেণিকে ঈমানের দাওয়াত দিতে হবে।

২. অমুসলিমদেরকে প্রথমে তাওহীদের দাওয়াত দিতে হবে।

৩. ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ করলে বাধা দিতে হবে।

৪. কোন ব্যক্তির ভয় ঈমানদারকে তার ঈমান থেকে সরাতে পারে না, যেমন ফির‘আউনের জাদুকরেরা ঈমান আনার পর তাদেরকে ভয় দেখানো হলেও তারা ঈমান বর্জন করেনি।

৫. যারা সত্যের অনুসরণ করে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৯-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর

ফিরাউন যখন বিতর্কে হেরে গেল, দলীল ও বর্ণনায় বিজয়ী হতে পারলো না, তখন সে ক্ষমতার দাপট প্রকাশ করতে লাগলো এবং গায়ের জোরে সত্যকে দাবিয়ে রাখার ইচ্ছা করলো। সে বললোঃ “হে মূসা (আঃ)! আমাকে ছাড়া অন্যকে যদি তুমি মা'বূদ রূপে গ্রহণ কর তবে জেলখানায় আমি তোমাকে বন্দী করবো এবং সেখানেই মড়িয়ে পচিয়ে তোমার জীবন শেষ করবো।” তখন হযরত মূসা (আঃ) তাকে বললেনঃ “আমি তোমার নিকট স্পষ্ট কোন নিদর্শন আনয়ন করলেও কি তুমি বিশ্বাস করবে না?' ফিরাউন উত্তরে বললোঃ “আচ্ছা, ঠিক আছে, তুমি যদি তোমার কথায় সত্যবাদী হও তবে কোন নিদর্শন আনয়ন কর।

হযরত মূসা (আঃ) তখন তাঁর হাতের লাঠিটি মাটিতে নিক্ষেপ করলেন। মাটিতে পড়া মাত্রই লাঠিটি এক বিরাটাকার অজগর হয়ে গেল। অতঃপর হযরত মূসা (আঃ) তাঁর হাতটি বের করলেন এবং তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হলো। কিন্তু ফিরাউনের ভাগ্যে ঈমান ছিল না বলে এমন উজ্জ্বল নিদর্শন দেখার পরেও হঠকারিতা ও ঔদ্ধত্যপনা পরিত্যাগ করলো না। সে তার পারিষদবর্গকে বললোঃ “এ লোকটি তো এক সুদক্ষ যাদুকর। এ তোমাদেরকে তার যাদুবলে তোমাদের দেশ হতে বের করে দিতে চায়। এখন তোমরা আমাকে কি করতে বল?` আল্লাহ তা'আলার কি মাহাত্ম যে, তিনি ফিরাউনের লোকদের মুখ দিয়ে এমন কথা বের করালেন যার ফলে হযরত মূসা (আঃ) সাধারণভাবে তাবলীগের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেন এবং লোকদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পথ পরিষ্কার হলো। তা হলো যাদুকরদেরকে প্রতিযোগিতার জন্যে আহ্বান করা।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।