সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 201)
হরকত ছাড়া:
لا يؤمنون به حتى يروا العذاب الأليم ﴿٢٠١﴾
হরকত সহ:
لَا یُؤْمِنُوْنَ بِهٖ حَتّٰی یَرَوُا الْعَذَابَ الْاَلِیْمَ ﴿۲۰۱﴾ۙ
উচ্চারণ: লা-ইউ’মিনূনা বিহী হাত্তা-ইয়ারাউল ‘আযা-বাল আলীম।
আল বায়ান: যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এতে ঈমান আনবে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২০১. তারা এতে ঈমান আনবে না যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেখতে পাবে;
তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা এর প্রতি ঈমান আনবে না যতক্ষণ না তারা ভয়াবহ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
আহসানুল বায়ান: (২০১) ওরা এতে বিশ্বাস স্থাপন করবে না; যতক্ষণ না ওরা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে;
মুজিবুর রহমান: তারা এতে ঈমান আনবেনা যতক্ষণ না তারা মর্মন্তদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
ফযলুর রহমান: তারা একে (কোরআন) বিশ্বাস করবে না, যতক্ষণ না তারা কষ্টদায়ক শাস্তি দেখতে পায়।
মুহিউদ্দিন খান: তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে না, যে পর্যন্ত প্রত্যক্ষ না করে মর্মন্তুদ আযাব।
জহুরুল হক: তারা এতে বিশ্বাস করবে না যে পর্যন্ত না তারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
Sahih International: They will not believe in it until they see the painful punishment.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২০১. তারা এতে ঈমান আনবে না যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেখতে পাবে;
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২০১) ওরা এতে বিশ্বাস স্থাপন করবে না; যতক্ষণ না ওরা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে;
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২০০-২০৯ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে মূলত কাফিররা যে বিভিন্ন ওযর পেশ করে ঈমান আনে না এবং তারা যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন আফসোস করে বলবে তাদেরকে অবকাশ দেয়ার জন্য কিন্তু তাদেরকে আর অবকাশ দেয়া হবে নান এ কথাই আলোচনা করা হয়েছে।
তারা ঈমান না আনার জন্য বিভিন্ন ওযর পেশ করবে, এক পর্যায়ে দেখা যাবে যে, হঠাৎ করে তাদের নিকট শাস্তি এসে যাবে তখন তারা আর ঈমান নিয়ে আসার সুযোগ পাবে না। যেমন ফির‘আউন বলেছিল:
(حثج اِذَآ اَدْرَکَھُ الْغَرَقُﺫ قَالَ اٰمَنْتُ اَنَّھ۫ لَآ اِلٰھَ اِلَّا الَّذِیْٓ اٰمَنَتْ بِھ۪ بَنُوْٓا اِسْرَا۬ءِیْلَ وَاَنَا مِنَ الْمُسْلِمِیْنَ)
“পরিশেষে যখন সে ডুবতে শুরু করল তখন বলল: ‘আমি ঈমান এনেছি যে, তিনি ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই যাঁর প্রতি ঈমান এনেছে বানী ইসরাঈল এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’ ‘এখন! ইতোপূর্বে তো তুমি অমান্য করেছ এবং তুমি অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।” (সূরা ইউনুস ১০:৯০-৯১) আর মুমূর্ষু অবস্থায় ঈমান আনলেও তা কোন কাজে আসবে না। যেমন ফির‘আউনের ঈমান নিয়ে আসা ফলদায়ক হয়নি। এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُوْنَ)
(তারা শাস্তির ব্যাপারে তাড়াহুড়া করত।) এ সম্পর্কে সূরা রাদের ৬ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তিনি কোন সম্প্রদায়কে সতর্ক না করা পর্যন্ত শাস্তি প্রদান করেন না। এ সম্পর্কে সূরা ইসরায় আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّي نَبْعَثَ رَسُولًا)
“আমি রাসূল না পাঠান পর্যন্ত কাউকেও শাস্তি দেই না।” (সূরা ইসরা ১৭:১৫)
আর আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুম করেন না, বরং প্রত্যেককে তার কর্মের উপযুক্ত প্রতিদান দেবেন। এ সম্পর্কে সূরা ইউনুসের ৪ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলা যাদের জন্য হিদায়াত রাখেননি তাদেরকে শত সতর্ক করলেও কোন কাজে আসবে না।
২. মুমূর্ষু অবস্থায় ঈমান আনলে তা কুবল করা হবে না।
৩. কোন জাতিকে সতর্ক না করে আল্লাহ তা‘আলা শাস্তি দেন না।
৪. পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিদের থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২০০-২০৯ নং আয়াতের তাফসীর
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ অবিশ্বাস, কুফরী, অস্বীকার ও অমান্যকরণ এই অপরাধীদের অন্তরে সঞ্চার করে দেয়া হয়েছে। তারা যে পর্যন্ত না শাস্তি স্বচক্ষে দেখবে ঈমান আনবে না। ঐ সময় যদি তারা ঈমান আনয়ন করে তবে তা বিফলে যাবে। সেই সময় তারা অভিশপ্ত হয়েই যাবে। না অনুশোচনা করে কোন কাজ হবে, না ওজর করে কোন উপকার হবে। তাদের অজ্ঞাতে আকস্মিকভাবে তাদের উপর আযাব চলে আসবে। ঐ সময় তারা কামনা করবে যে, যদি তাদেরকে ক্ষণেকের জন্যে অবকাশ দেয়া হতো তবে তারা সৎ হয়ে যেতো! শুধু তারা কেন, প্রত্যেক যালিম, পাপী, ফাসেক, কাফির ও বদকার শাস্তি প্রত্যক্ষ করা মাত্রই সোজা হয়ে যাবে এবং শাস্তি হতে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যে অনুনয় বিনয় করতে থাকবে, কিন্তু সবই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “যেদিন তাদের শাস্তি আসবে সেই দিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক কর, তখন যালিমরা বলবে-হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে কিছুকালের জন্যে অবকাশ দিন, আমরা আপনার আহ্বানে সাড়া দিবো এবং রাসূলদের অনুসরণ করবো। (উত্তরে বলা হবে) তোমরা কি পূর্বে শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের পতন নেই?` (১৪:৪৪)
ফিরাউনের অবস্থা দেখা যায় যে, হযরত মূসা (আঃ) তার জন্যে বদদু'আ করেন এবং তা কবূল করা হয়। আল্লাহর শাস্তি দেখে ডুবন্ত অবস্থায় সে বলেঃ “এখন আমি মুসলমান হচ্ছি।” কিন্তু উত্তরে বলা হয় যে, এখন ঈমান আনয়নে কোনই লাভ হবে না। অন্য জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ “যখন তারা আমার শাস্তি দেখলো তখন বললো-আমরা এক আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম (শেষ পর্যন্ত)।”
এরপর তাদের আর একটি দুষ্কৃতির বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, তারা তাদের নবীকে বলেছিলঃ “তুমি সত্যবাদী হলে আল্লাহর আযাব নিয়ে এসো।' মহান আল্লাহ বলেনঃ “যদি আমি তাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ-বিলাসের সুযোগ দিই এবং পরে তাদের উপর আমার ওয়াদাকৃত শাস্তি এসে পড়ে তবে ঐ সময় তাদের ভোগ-বিলাসের উপকরণ তাদের কোন কাজে আসবে কি?” ঐ সময় তো এরূপই মনে হবে যে, সে হয়তো এক সকাল বা এক সন্ধ্যাই দুনিয়ায় অবস্থান করেছে। যেমন অন্য একটি আয়াতে রয়েছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “তাদের একজন এটা কামনা করে যে, যদি তাকে এক হাজার বছর আয়ু দেয়া হতো! যদি তাকে এই আয়ু দেয়াও হয় তবুও তা তাকে শাস্তি হতে দূরে রাখতে পারবে না।” (২: ৯৬) এখানেও তিনি একথাই বলেন যে, তাদের ভোগ-বিলাসের উপকরণ সেদিন তাদের কোন উপকারে আসবে না। সেই দিন যখন তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে তখন তাদের শক্তি ও দাপট সব হারিয়ে যাবে।
সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, কিয়ামতের দিন কাফিরকে আনয়ন করা হবে, অতঃপর তাকে জাহান্নামের আগুনে ডুবিয়ে দেয়ার পর উঠানো হবে এবং বলা হবেঃ তুমি কখনো সুখ ও নিয়ামত পেয়েছিলে কি? সে উত্তরে বলবেঃ “হে আমার প্রতিপালক! আপনার শপথ! আমি কখনোই সুখ-শান্তি পাইনি।” অপর একটি লোককে আনয়ন করা হবে যে সারা জীবনে কখনো সুখ-শান্তির স্বাদ গ্রহণ করতে পায়নি, তাকে জান্নাতের বাতাসে ভ্রমণ করানোর পর জিজ্ঞেস করা হবেঃ
“তুমি জীবনে কখনো দুঃখ-কষ্ট পেয়েছিলে কি?” সে জবাবে বলবেঃ “আপনার সত্তার কসম! আমি জীবনে কখনো দুঃখ-কষ্ট ভোগ করিনি।” হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) দৃষ্টান্ত স্বরূপ নিম্নের কবিতাংশটি পাঠ করতেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “যখন তুমি তোমার আকাঙ্ক্ষিত জিনিস পেয়ে গেলে তখন যেন তুমি কখনো দুঃখ-কষ্টের নামও শুননি।”
এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ নিজের ন্যায়পরায়ণতার খবর দিচ্ছেন যে, তিনি। এমন কোন জনপদ ধ্বংস করেননি যার জন্যে তিনি কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেননি। তিনি রাসূলদেরকে প্রেরণ করেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেন এবং সতর্ক করে থাকেন। এরপরেও যারা অমান্য করে তাদের উপর তিনি বিপদের পাহাড় চাপিয়ে দেন। এ জন্যেই তিনি বলেনঃ এরূপ কখনো হয়নি যে, নবীদেরকে প্রেরণ না করেই আমি কোন উম্মতের উপর শাস্তি পাঠিয়েছি। প্রথমে আমি ভয়-প্রদর্শক প্রেরণ করি এবং সে উম্মতকে ভয় প্রদর্শন করে ও উপদেশ দেয়। এভাবে আমি তাদের ওযর করবার কিছুই বাকী রাখি না। কিন্তু এতদসত্তেও যখন তারা তাদের নবীকে অবিশ্বাস করে তখন তাদের উপর শাস্তি আপতিত হয়।
যেমন তিনি বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “আমি শাস্তি প্রদানকারী নই যে পর্যন্ত না আমি রাসূল প্রেরণ করি।” (১৭: ১৫) আর এক জায়গায় বলেনঃ “তোমার প্রতিপালক কোন জনপদকে ধ্বংস করেন না যে পর্যন্ত না তিনি জনপদগুলোর মূল জনপদে কোন রাসূল প্রেরণ করেন যে তাদেরকে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনায়।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।