আল কুরআন


সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 198)

সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 198)



হরকত ছাড়া:

ولو نزلناه على بعض الأعجمين ﴿١٩٨﴾




হরকত সহ:

وَ لَوْ نَزَّلْنٰهُ عَلٰی بَعْضِ الْاَعْجَمِیْنَ ﴿۱۹۸﴾ۙ




উচ্চারণ: ওয়ালাও নাযযালনা-হু ‘আলা-বা‘দিল আ‘জামীন।




আল বায়ান: আর আমি যদি এটাকে কোন অনারবের প্রতি নাযিল করতাম।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৯৮. আর আমরা যদি এটা কোন অনারবের উপর নাযিল করতাম




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি যদি তা কোন অনারবের প্রতি অবতীর্ণ করতাম,




আহসানুল বায়ান: (১৯৮) যদি এ কোন অনারবের প্রতি আমি অবতীর্ণ করতাম,



মুজিবুর রহমান: আমি যদি ইহা কোন আজমীর (ভিন্ন ভাষী) প্রতি অবতীর্ণ করতাম –



ফযলুর রহমান: আমি যদি এ কোরআন কোন অনারবের ওপর নাযিল করতাম



মুহিউদ্দিন খান: যদি আমি একে কোন ভিন্নভাষীর প্রতি অবতীর্ণ করতাম,



জহুরুল হক: আর আমরা যদি এটি অবতারণ করতাম কোনো ভিন্ন দেশীয়ের কাছে,



Sahih International: And even if We had revealed it to one among the foreigners



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৯৮. আর আমরা যদি এটা কোন অনারবের উপর নাযিল করতাম


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৯৮) যদি এ কোন অনারবের প্রতি আমি অবতীর্ণ করতাম,


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৯৬-১৯৯ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে বর্ণনা করা হয়েছে, এ কুরআন সম্পর্কে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও সংবাদ দেয়া হয়েছে, যে বিষয়ে বানী ইসরাঈলের পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গ অবগত আছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِذْ قَالَ عِيْسَي ابْنُ مَرْيَمَ يٰبَنِيْٓ إِسْرَا۬ئِيْلَ إِنِّيْ رَسُوْلُ اللّٰهِ إِلَيْكُمْ مُّصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرٰةِ وَمُبَشِّرًاۭبِرَسُوْلٍ يَّأْتِيْ مِنْۭ بَعْدِي اسْمُه۫ٓ أَحْمَدُ)



“(স্মরণ কর) যখন মারইয়াম পুত্র ঈসা বলেছিল: হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহ তা‘আলার প্রেরিত রাসূল এবং আমার পূর্ব হতে তোমাদের নিকট যে তাওরাত রয়েছে আমি তার সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমাদ নামে যে রাসূল আসবেন আমি তাঁর সুসংবাদদাতা।” (সূরা সাফ ৬১:৬)



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করার কারণ বর্ণনা করেছেন। এ কুরআন আরবি ভাষায় এবং আরবি ভাষাভাষী নাবীর ওপর নাযিল করার কারণ হল যাতে মক্কার কাফিররা ঈমান নিয়ে আসে। যদি এ কুরআন অনারবদের প্রতি নাযিল করা হত তাহলে তারা এতে বিশ্বাস করত না বা ঈমান আনত না। যার ফলে এ কুরআনকে আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কুরআনের বর্ণনা পূর্ববর্তী কিতাবে দেয়া হয়েছে।

২. ঈমানদার আরবদের মর্যাদা অবগত হলাম।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৯৬-১৯৯ নং আয়াতের তাফসীর

মহান আল্লাহ বলেন যে, পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলোর মধ্যেও এই শেষ পবিত্র কিতাব আল-কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণী, এর সত্যতা এবং বিশেষণ বিদ্যমান রয়েছে। পূর্ববর্তী নবীরাও এর সুসংবাদ দিয়েছেন, এমনকি এই সব নবী (আঃ)-এর শেষ নবী, যার পরে হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) পর্যন্ত আর কোন নবী ছিলেন না, অর্থাৎ হযরত ঈসা (আঃ) বানী ইসরাঈলকে একত্রিত করে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তাতে তিনি বলেছিলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “স্মরণ কর, যখন মারইয়াম তনয় ঈসা (আঃ) বলেছিলঃ হে বানী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল এবং আমার পূর্ব হতে তোমাদের নিকট যে তাওরাত রয়েছে আমি তার সমর্থক এবং আমার পরে আহমাদ (সঃ) নামে যে রাসূল আসবে আমি তার সুসংবাদদাতা।” (৬১:৬)

(আরবি) শব্দটি (আরবি) শব্দের বহুবচন। (আরবি) হযরত দাউদ (আঃ)-এর কিতাবের নাম। (আরবি)শব্দটি এখানে কিতাবসমূহের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তারা যা কিছু করছে সবই কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে। (৫৪: ৫২)

অতঃপর বলা হচ্ছেঃ যদি তারা বুঝে ও হঠকারিতা না করে তবে এটা কি করআন কারীমের সত্যতার কম বড় দলীল যে, স্বয়ং বানী ইসরাঈলের আলেমরা এটা মেনে থাকে? যারা সত্যবাদী ও যারা হঠকারী নয় তারা তাওরাতের ঐ আয়াতগুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করছে যেগুলোতে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর প্রেরিতত্ব, কুরআনের উল্লেখ এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সত্যতার সংবাদ রয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ), হযরত সালমান ফারসী (রাঃ) এবং তাদের ন্যায় সত্য উক্তিকারী মহোদয়গণ দুনিয়ার সামনে তাওরাত ও ইঞ্জীলের ঐ সমুদয় আয়াত রেখে দেন যেগুলো নবী (সঃ)-এর মাহাত্ম ও গুণাবলী প্রকাশকারী।

পরবর্তী আয়াতের ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি যদি এই কালাম কোন আজমীর উপর অবতীর্ণ করতাম এবং সে ওটা মুশরিকদের নিকট পাঠ করতো তবে তখনো তারা এতে ঈমান আনতো না। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেছেনঃ “আমি যদি তাদের জন্যে আকাশের দরও খুলে দিতাম এবং তারা আকাশে চড়েও যেতো তবুও তারা বলতো-আমাদেরকে নেশা পান করিয়ে দেয়া হয়েছে এবং আমাদের চোখের উপর পর্দা ফেলে দেয়া হয়েছে।” আর একটি আয়াতে রয়েছেঃ “যদি তাদের কাছে ফেরেশতারাও এসে পড়তে এবং যদি মৃতরাও কথা বলে উঠতো তবুও তারা ঈমান আনতো না। তাদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তাদের জন্যে হিদায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তারা ঈমান আনবে না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।