সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 196)
হরকত ছাড়া:
وإنه لفي زبر الأولين ﴿١٩٦﴾
হরকত সহ:
وَ اِنَّهٗ لَفِیْ زُبُرِ الْاَوَّلِیْنَ ﴿۱۹۶﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইন্নাহূলাফী যুবুরিল আওওয়ালীন।
আল বায়ান: আর অবশ্যই তা রয়েছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৯৬. আর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে অবশ্যই এর উল্লেখ আছে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে।
আহসানুল বায়ান: (১৯৬) পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে অবশ্যই এর উল্লেখ আছে। [1]
মুজিবুর রহমান: পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে অবশ্যই এর উল্লেখ রয়েছে।
ফযলুর রহমান: পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে (তাওরাত ও ইনজীলে) এর উল্লেখ রয়েছে।
মুহিউদ্দিন খান: নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।
জহুরুল হক: আর নিঃসন্দেহ এটি পূর্ববর্তীদের ধর্মগ্রন্থে রয়েছে ।
Sahih International: And indeed, it is [mentioned] in the scriptures of former peoples.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৯৬. আর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে অবশ্যই এর উল্লেখ আছে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৯৬) পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে অবশ্যই এর উল্লেখ আছে। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, যেমন শেষ নবীর আগমন বার্তা ও তাঁর সুন্দর চারিত্রিক গুণাবলীর বর্ণনা পূর্বের ধর্মগ্রন্থসমূহে রয়েছে। অনুরূপ কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সুসংবাদও পূর্বের কিতাবসমূহে দেওয়া হয়েছিল। এর অন্য একটি অর্থ হল, সমস্ত শরীয়তের অভিন্ন বিধি-বিধানের দিক দিয়ে এই কুরআন মাজীদ পূর্বের কিতাবসমূহেও মওজুদ রয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৯৬-১৯৯ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে বর্ণনা করা হয়েছে, এ কুরআন সম্পর্কে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও সংবাদ দেয়া হয়েছে, যে বিষয়ে বানী ইসরাঈলের পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গ অবগত আছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَإِذْ قَالَ عِيْسَي ابْنُ مَرْيَمَ يٰبَنِيْٓ إِسْرَا۬ئِيْلَ إِنِّيْ رَسُوْلُ اللّٰهِ إِلَيْكُمْ مُّصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرٰةِ وَمُبَشِّرًاۭبِرَسُوْلٍ يَّأْتِيْ مِنْۭ بَعْدِي اسْمُه۫ٓ أَحْمَدُ)
“(স্মরণ কর) যখন মারইয়াম পুত্র ঈসা বলেছিল: হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহ তা‘আলার প্রেরিত রাসূল এবং আমার পূর্ব হতে তোমাদের নিকট যে তাওরাত রয়েছে আমি তার সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমাদ নামে যে রাসূল আসবেন আমি তাঁর সুসংবাদদাতা।” (সূরা সাফ ৬১:৬)
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করার কারণ বর্ণনা করেছেন। এ কুরআন আরবি ভাষায় এবং আরবি ভাষাভাষী নাবীর ওপর নাযিল করার কারণ হল যাতে মক্কার কাফিররা ঈমান নিয়ে আসে। যদি এ কুরআন অনারবদের প্রতি নাযিল করা হত তাহলে তারা এতে বিশ্বাস করত না বা ঈমান আনত না। যার ফলে এ কুরআনকে আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কুরআনের বর্ণনা পূর্ববর্তী কিতাবে দেয়া হয়েছে।
২. ঈমানদার আরবদের মর্যাদা অবগত হলাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৯৬-১৯৯ নং আয়াতের তাফসীর
মহান আল্লাহ বলেন যে, পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলোর মধ্যেও এই শেষ পবিত্র কিতাব আল-কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণী, এর সত্যতা এবং বিশেষণ বিদ্যমান রয়েছে। পূর্ববর্তী নবীরাও এর সুসংবাদ দিয়েছেন, এমনকি এই সব নবী (আঃ)-এর শেষ নবী, যার পরে হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) পর্যন্ত আর কোন নবী ছিলেন না, অর্থাৎ হযরত ঈসা (আঃ) বানী ইসরাঈলকে একত্রিত করে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তাতে তিনি বলেছিলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “স্মরণ কর, যখন মারইয়াম তনয় ঈসা (আঃ) বলেছিলঃ হে বানী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল এবং আমার পূর্ব হতে তোমাদের নিকট যে তাওরাত রয়েছে আমি তার সমর্থক এবং আমার পরে আহমাদ (সঃ) নামে যে রাসূল আসবে আমি তার সুসংবাদদাতা।” (৬১:৬)
(আরবি) শব্দটি (আরবি) শব্দের বহুবচন। (আরবি) হযরত দাউদ (আঃ)-এর কিতাবের নাম। (আরবি)শব্দটি এখানে কিতাবসমূহের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তারা যা কিছু করছে সবই কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে। (৫৪: ৫২)
অতঃপর বলা হচ্ছেঃ যদি তারা বুঝে ও হঠকারিতা না করে তবে এটা কি করআন কারীমের সত্যতার কম বড় দলীল যে, স্বয়ং বানী ইসরাঈলের আলেমরা এটা মেনে থাকে? যারা সত্যবাদী ও যারা হঠকারী নয় তারা তাওরাতের ঐ আয়াতগুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করছে যেগুলোতে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর প্রেরিতত্ব, কুরআনের উল্লেখ এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সত্যতার সংবাদ রয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ), হযরত সালমান ফারসী (রাঃ) এবং তাদের ন্যায় সত্য উক্তিকারী মহোদয়গণ দুনিয়ার সামনে তাওরাত ও ইঞ্জীলের ঐ সমুদয় আয়াত রেখে দেন যেগুলো নবী (সঃ)-এর মাহাত্ম ও গুণাবলী প্রকাশকারী।
পরবর্তী আয়াতের ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি যদি এই কালাম কোন আজমীর উপর অবতীর্ণ করতাম এবং সে ওটা মুশরিকদের নিকট পাঠ করতো তবে তখনো তারা এতে ঈমান আনতো না। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেছেনঃ “আমি যদি তাদের জন্যে আকাশের দরও খুলে দিতাম এবং তারা আকাশে চড়েও যেতো তবুও তারা বলতো-আমাদেরকে নেশা পান করিয়ে দেয়া হয়েছে এবং আমাদের চোখের উপর পর্দা ফেলে দেয়া হয়েছে।” আর একটি আয়াতে রয়েছেঃ “যদি তাদের কাছে ফেরেশতারাও এসে পড়তে এবং যদি মৃতরাও কথা বলে উঠতো তবুও তারা ঈমান আনতো না। তাদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তাদের জন্যে হিদায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তারা ঈমান আনবে না।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।