আল কুরআন


সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 184)

সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 184)



হরকত ছাড়া:

واتقوا الذي خلقكم والجبلة الأولين ﴿١٨٤﴾




হরকত সহ:

وَ اتَّقُوا الَّذِیْ خَلَقَکُمْ وَ الْجِبِلَّۃَ الْاَوَّلِیْنَ ﴿۱۸۴﴾ؕ




উচ্চারণ: ওয়াত্তাকুল্লাযী খালাকাকুম ওয়াল জিবিল্লাতাল আওওয়ালীন।




আল বায়ান: ‘যিনি তোমাদেরকে ও পূর্ববর্তী প্রজন্মসমূহকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৮৪. আর তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের আগে যারা গত হয়েছে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: এবং ভয় কর তাঁকে যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী বংশাবলীকে সৃষ্টি করেছেন।’




আহসানুল বায়ান: (১৮৪) এবং ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে সৃষ্টি করেছেন।’[1]



মুজিবুর রহমান: এবং তোমরা ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।



ফযলুর রহমান: আর সেই মহান সত্তাকে ভয় করবে, যিনি তোমাদেরকে ও পূর্ববর্তী মানুষদেরকে সৃষ্টি করেছেন।”



মুহিউদ্দিন খান: ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোক-সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছেন।



জহুরুল হক: আর ভয়-ভক্তি করো তাঁকে যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং পূর্ববর্তী লোকদেরও।



Sahih International: And fear He who created you and the former creation."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৮৪. আর তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের আগে যারা গত হয়েছে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৮৪) এবং ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে সৃষ্টি করেছেন।’[1]


তাফসীর:

[1] جِبِلَّة ও جِبِلٌّ শব্দ দুটির অর্থ সৃষ্টি। যেমন অন্যত্র শয়তানের ব্যাপারে বলা হয়েছে,{وَلَقَدْ أَضَلَّ مِنكُمْ جِبِلاًّ كَثِيرًا} সে তোমাদের অনেক সৃষ্টিকেই ভ্রষ্ট করেছে। (সূরা ইয়াসীন ৬২ আয়াত) এর ব্যবহার বড় দল ও জাতির অর্থেও হয়ে থাকে। (ফাতহুল কাদীর)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৭৬-১৯১ নং আয়াতের তাফসীর:



অত্র আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা শু‘আইব (عليه السلام) ও তাঁর সম্প্রদায় ‘আইকাবাসী’ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। লূত (عليه السلام)-এর অবাধ্য জাতি ধ্বংসের অনতিকাল পরে তাঁকে নবুওয়াত দিয়ে মাদইয়ানবাসীদের হিদায়াতের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। মাদইয়ান হল লূত সাগরের নিকটবর্তী সিরিয়া ও হিজাযের সীমান্তবর্তী একটি জনপদের নাম। যা অদ্যাবধি পূর্ব জর্ডানের সামুদ্রিক বন্দর ‘মো‘আন’ (معان ) এর অদূরে বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলার গযবে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রধান ছয়টি প্রাচীন জাতির মধ্যে ৫ম জাতি হল ‘আহলে মাদইয়ান’। আহলে মাদইয়ান-কে পবিত্র কুরআনের অত্র সূরাসহ সূরা হিজর, স্ব-দ ও ক্বাফে ‘আসহাবুল আইকাহ’ (اصحاب الايكة) বলা হয়েছে। যার অর্থ জঙ্গলের অধিবাসী। এটা বলার কারণ এই যে, এ অবাধ্য জাতি প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ট হয়ে নিজেদের বসতি ছেড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সেখানেই ধ্বংস করে দেন। এটাও বলা হয় যে, উক্ত জঙ্গলে ‘আইকা’ বলে একটা গাছকে তারা পূজো করত। যার আশপাশ জঙ্গল দ্বারা বেষ্টিত ছিল। খুব সুন্দর ও উত্তমভাবে কথা বলার কারণে শু‘আইব (خطيب الانبياء) ‘খতীবুল আম্বিয়া’ বা নাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বক্তা বলা হয়।



তাদের পাপ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করত, নাবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করত, রাহাজানি করত, লোকদেরকে ওজনে কম দিত এবং নিজেরা মানুষের নিকট থেকে নেয়ার সময় বেশি নিত। তাদের এই সীমালংঘনের কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছেন। এমনকি তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এদের সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৮৫-৯৩ ও হূদের ৮৪-৯৫ নং আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৮১-১৮৪ নং আয়াতের তাফসীর

হযরত শুআইব (আঃ) ওজন ও মাপ ঠিক করার হিদায়াত করছেন। মাপে ঘাটতি করতে তিনি নিষেধ করছেন। তিনি বলছেনঃ “যখন তোমরা কাউকে কোন জিনিস মেপে দেবে তখন পূর্ণমাত্রায় দেবে, তার প্রাপ্য হতে কম দেবে না। অনুরূপভাবে কারো নিকট থেকে যখন কোন জিনিস নেবে তখন বেশী নেয়ার চেষ্টা করো না। এটা কেমন বিচার যে, নেয়ার সময় বেশী নেবে এবং দেয়ার সময় কম দেবে? লেন-দেন ঠিকভাবে করবে। দাঁড়িপাল্লা সঠিক রাখবে যাতে ওজন সঠিক হয়। ন্যায়ের সাথে ওজন করবে, ডান্ডি মারবে না এবং কম দেবে না।

কাউকেও তার জিনিস কম দেবে না। চুরি-ডাকাতি এবং লুটপাট করবে না। লোকদেরকে ভয় দেখিয়ে তাদের মাল-ধন ছিনিয়ে নেবে না। ঐ আল্লাহর শাস্তিকে তোমরা ভয় করো যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তী সমস্ত লোককে সৃষ্টি করেছেন। যিনি তোমাদের ও তোমাদের বড়দের প্রতিপালক।” এ শব্দটিই। (আরবি) (৩৬:৬২) এই আয়াতেও এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ “শয়তান তো তোমাদের বহু দলকে বিভ্রান্ত করেছিল।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।