আল কুরআন


সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 176)

সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 176)



হরকত ছাড়া:

كذب أصحاب الأيكة المرسلين ﴿١٧٦﴾




হরকত সহ:

کَذَّبَ اَصْحٰبُ لْـَٔـیْکَۃِ الْمُرْسَلِیْنَ ﴿۱۷۶﴾ۚۖ




উচ্চারণ: কাযযাবা আসহা-বুল আইকাতিল মুরছালীন।




আল বায়ান: আইকার অধিবাসীরা রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৭৬. আইকাবাসীরা(১) রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল,




তাইসীরুল ক্বুরআন: বনের অধিবাসীরা রসূলদেরকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।




আহসানুল বায়ান: (১৭৬) আইকাহবাসীরা[1] রসূলগণকে মিথ্যা মনে করেছিল;



মুজিবুর রহমান: আইকাবাসীরা রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল –



ফযলুর রহমান: (মাদ্‌ইয়ানের নিকটবর্তী) আইকার অধিবাসীরা রসূলদেরকে অবিশ্বাস করেছিল।



মুহিউদ্দিন খান: বনের অধিবাসীরা পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।



জহুরুল হক: আইকার অধিবাসীরা রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।



Sahih International: The companions of the thicket denied the messengers



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৭৬. আইকাবাসীরা(১) রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল,


তাফসীর:

(১) ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর পরে আল্লাহ্ তা'আলা শু'আইব 'আলাইহিস সালামকে পাঠান। তার জাতি ছিল মাদইয়ান জাতি। [সূরা আল-আরাফঃ ৮৫] মাদইয়ান ছিল শু'আইব 'আলাইহিস সালাম-এর জাতির এক পূর্বপুরুষের নাম। অপরদিকে কখনো কখনো পবিত্র কুরআনে শুয়াইব 'আলাইহিস সালাম-এর কওম সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আসহাবুল আইকাহ’ বা গাছওয়ালাগণ। [সূরা আশ-শুয়ারাঃ ১৭৬] অধিকাংশ মুফাসসিরদের মতে আইকাবাসী দ্বারা মাদইয়ান জাতিকে বুঝানো হয়েছে। [আদওয়াউল-বায়ান]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৭৬) আইকাহবাসীরা[1] রসূলগণকে মিথ্যা মনে করেছিল;


তাফসীর:

[1] ‘আইকাহ’ জঙ্গলকে বলা হয়। এখানে শুআইব (আঃ)-এর জাতি ও মাদয়্যান শহরের আশপাশের বাসিন্দাদেরকে বুঝানো হয়েছে। আরো বলা হয় যে, ‘আইকাহ’ অর্থ ঘন ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ। আর এ রকমই একটি গাছ মাদয়্যানের উপকণ্ঠে ছিল, যার পূজা করা হত। শুআইব (আঃ)-এর নবুঅতের পরিধি ও দাওয়াত-তাবলীগের পরিসীমা মাদয়্যান থেকে ওর আশপাশের বসতি পর্যন্ত ছিল; যেখানে ‘আইকাহ’ গাছের পূজা হত। সেখানে বসবাসকারীদেরকে ‘আসহাবুল আইকাহ’ বলা হয়েছে। এই হিসাবে ‘আসহাবুল আইকাহ’ ও মাদয়্যানবাসীদের নবী ছিলেন একজন, অর্থাৎ কেবল শুআইব (আঃ)। আর এই উভয় জাতিই ছিল একই নবীর উম্মত। ‘আইকাহ’ যেহেতু জাতি নয়, বরং একটি গাছ সেহেতু এখানে ভাই সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়নি। যেমন, অন্যান্য জাতির নবীর ক্ষেত্রে করা হয়েছে। অবশ্য যেখানে মাদয়্যানের সঙ্গে শুআইব (আঃ)-এর উল্লেখ হয়েছে সেখানে ভাই সম্পর্ক জুড়ে বর্ণনা করা হয়েছে। যেহেতু মাদয়্যান একটি জাতির নাম।

{وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا} (৮৫) سورة الأعراف কোন কোন তফসীরকারগণ (আইকাহ ও মাদয়্যানকে) আলাদা আলাদা বসতি ধরে আসহাবুল আইকাহ ও মাদয়্যানবাসীদেরকে পৃথক পৃথক দু’টি উম্মত বলেছেন। যাদের নিকট পালাক্রমে শুআইব (আঃ)-কে পাঠানো হয়েছিল; একবার মাদয়্যানের দিকে ও আর একবার আসহাবুল আইকার দিকে। কিন্তু ইমাম ইবনে কাসীর (রঃ) বলেছেন, সঠিক তথ্য হল, এরা ছিল একটিই উম্মত। কারণ ওজন ও মাপে কমবেশী করার ব্যাপারে যে উপদেশ মাদয়্যানবাসীদেরকে দেওয়া হয়েছে, সেই একই উপদেশ আসহাবুল আইকাদেরকেও দেওয়া হয়েছে। যাতে এ কথা স্পষ্ট হয় যে, এরা একই উম্মত, দুই নয়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৭৬-১৯১ নং আয়াতের তাফসীর:



অত্র আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা শু‘আইব (عليه السلام) ও তাঁর সম্প্রদায় ‘আইকাবাসী’ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। লূত (عليه السلام)-এর অবাধ্য জাতি ধ্বংসের অনতিকাল পরে তাঁকে নবুওয়াত দিয়ে মাদইয়ানবাসীদের হিদায়াতের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। মাদইয়ান হল লূত সাগরের নিকটবর্তী সিরিয়া ও হিজাযের সীমান্তবর্তী একটি জনপদের নাম। যা অদ্যাবধি পূর্ব জর্ডানের সামুদ্রিক বন্দর ‘মো‘আন’ (معان ) এর অদূরে বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলার গযবে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রধান ছয়টি প্রাচীন জাতির মধ্যে ৫ম জাতি হল ‘আহলে মাদইয়ান’। আহলে মাদইয়ান-কে পবিত্র কুরআনের অত্র সূরাসহ সূরা হিজর, স্ব-দ ও ক্বাফে ‘আসহাবুল আইকাহ’ (اصحاب الايكة) বলা হয়েছে। যার অর্থ জঙ্গলের অধিবাসী। এটা বলার কারণ এই যে, এ অবাধ্য জাতি প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ট হয়ে নিজেদের বসতি ছেড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সেখানেই ধ্বংস করে দেন। এটাও বলা হয় যে, উক্ত জঙ্গলে ‘আইকা’ বলে একটা গাছকে তারা পূজো করত। যার আশপাশ জঙ্গল দ্বারা বেষ্টিত ছিল। খুব সুন্দর ও উত্তমভাবে কথা বলার কারণে শু‘আইব (خطيب الانبياء) ‘খতীবুল আম্বিয়া’ বা নাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বক্তা বলা হয়।



তাদের পাপ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করত, নাবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করত, রাহাজানি করত, লোকদেরকে ওজনে কম দিত এবং নিজেরা মানুষের নিকট থেকে নেয়ার সময় বেশি নিত। তাদের এই সীমালংঘনের কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছেন। এমনকি তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এদের সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৮৫-৯৩ ও হূদের ৮৪-৯৫ নং আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৭৬-১৮০ নং আয়াতের তাফসীর

এ লোকগুলো মাদইয়ানের অধিবাসী ছিল। হযরত শুআইবও (আঃ) তাদেরই মধ্যে একজন ছিলেন। তাঁকে তাদের ভাই না বলার কারণ শুধু এই যে, তারা আয়কার পূজা করতো। আর এই আয়কার সাথেই তাদেরকে সম্পর্কযুক্ত করা হয়েছে। আয়কা ছিল একটি গাছ। এ কারণেই অন্যান্য নবীদেরকে বংশগত সম্পর্কের কারণে যেমন তাদের উম্মতের ভাই বলা হয়েছে, হযরত শুআইব (আঃ)-কে তাঁর উম্মতের ভাই বলা হয়নি, যদিও বংশগত হিসেবে তিনিও তাদের ভাই ছিলেন। যারা এই বিন্দু পর্যন্ত পৌছতে পারেননি তারা বলেন যে, এ লোকগুলো হযরত শুআইব (আঃ)-এর কম ছিল না বলেই তাঁকে তাদের ভাই বলা হয়নি। তারা অন্য কওম ছিল। হযরত শুআইব (আঃ)-কে তাঁর নিজের কওমের নিকটও পাঠানো হয়েছিল এবং ঐ কওমের নিকটও তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন। অন্য কেউ বলেন যে, তিনি তৃতীয় একটি কওমের নিকটও প্রেরিত হয়েছিলেন। যেমন হযরত ইকরামা (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, কোন নবীকে আল্লাহ দুই বার প্রেরণ করেননি, শুধু হযরত শুআইব (আঃ)-কে ছাড়া। একবার তাকে মাদইয়ানবাসীর নিকট পাঠানো হয়। তারা তাকে অবিশ্বাস করে। তখন বিকট চীৎকার দ্বারা তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। দ্বিতীয়বার তাকে প্রেরণ করা হয় আয়কাবাসীর নিকট। তারাও তাকে অস্বীকার করে। ফলে তাদের উপর আল্লাহর মেঘাচ্ছন্ন দিনের শাস্তি নেমে আসে এবং তারা ধ্বংস হয়ে যায় ।

হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, আসহাবে রস ও আসহাবে আয়কা হলো হযরত শুআইব (আঃ)-এর কওম। একজন বুযর্গ ব্যক্তির উক্তি এই যে, আসহাবে আয়কা ও আসহাবে মাদইয়ান একই। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কওমে মাদইয়ান ও আসহাবে আয়কা দু’টি উম্মত, যাদের নিকট আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী হযরত শুআইব (আঃ)-কে প্রেরণ করেছিলেন।” (এ হাদীসটি হাফিয ইবনে আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হাদীসটি গারীব এবং এর মারফু হওয়া সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে। খুব সম্ভব এটা মাওকুফ হাদীস) আর সঠিক কথা এই যে, দুটো একই উম্মত।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।