আল কুরআন


সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 168)

সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 168)



হরকত ছাড়া:

قال إني لعملكم من القالين ﴿١٦٨﴾




হরকত সহ:

قَالَ اِنِّیْ لِعَمَلِکُمْ مِّنَ الْقَالِیْنَ ﴿۱۶۸﴾ؕ




উচ্চারণ: কা-লা ইন্নী লি‘আমালিকুম মিনাল কা-লীন।




আল বায়ান: লূত বলল, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কাজকে ঘৃণা করি’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৬৮. লুত বললেন, আমি অবশ্যই তোমাদের এ কাজের ঘৃণাকারী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: লূত বলল- ‘আমি তোমাদের এ কাজকে ঘৃণা করি।




আহসানুল বায়ান: (১৬৮) লূত বলল, ‘আমি তো তোমাদের এ কুকর্মকে ঘৃণা করি [1]



মুজিবুর রহমান: লূত বলল, আমি তোমাদের এই কাজকে ঘৃণা করি।



ফযলুর রহমান: সে বলল, “আমি তোমাদের এ (জঘন্য) কাজকে ঘৃণা করি।



মুহিউদ্দিন খান: লূত বললেন, আমি তোমাদের এই কাজকে ঘৃণা করি।



জহুরুল হক: তিনি বললেন -- "আমি অবশ্যই তোমাদের আচরণকে ঘৃণাকারীদেরই একজন।



Sahih International: He said, "Indeed, I am, toward your deed, of those who detest [it].



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৬৮. লুত বললেন, আমি অবশ্যই তোমাদের এ কাজের ঘৃণাকারী।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৬৮) লূত বলল, ‘আমি তো তোমাদের এ কুকর্মকে ঘৃণা করি [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, আমি এ কাজ পছন্দ করি না এবং আমি এ ব্যাপারে চরম নারাজ।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৬০-১৭৫ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে লূত (عليه السلام) ও তার নির্লজ্জ জাতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



(أَتَأْتُوْنَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعٰلَمِيْنَ)



‘বিশ্বজগতের মধ্যে তো তোমরাই পুরুষের সাথে কুকর্ম কর, অর্থাৎ পৃথিবীতে তারাই সর্বপ্রথম সমকামিতায় লিপ্ত হয়। অথচ নারীদেরকে বিবাহ করা তাদের জন্যও বৈধ ছিল। লূত (عليه السلام) তাদের এ কুকর্ম হতে বিরত থাকতে বললে তারা লূত (عليه السلام)-কে দেশ থেকে বহিস্কার করে দেয়ার হুমকি প্রদান করে।



(إِلَّا عَجُوْزًا) “এক বৃদ্ধা ব্যতীত” এ বৃদ্ধা হলো লূত (عليه السلام)-এর স্ত্রী, তাকেও ধ্বংস করা হয়েছে। কারণ সে ঈমান আনেনি। এদের সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৮০-৮৪ নং, হূদের ৭৬-৮৩ নং আয়াত ও সূরা হিজর ও অন্যান্য সূরাতে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৬৫-১৭৫ নং আয়াতের তাফসীর

হযরত লূত (আঃ) তাঁর কওমকে এই বিশেষ নির্লজ্জতাপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখতে গিয়ে বলেনঃ “তোমরা তোমাদের কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে পুষদের নিকট যেয়ো না। বরং তোমরা তোমাদের হালাল স্ত্রীদের কাছে গিয়ে তোমাদের কাম বাসনা চরিতার্থ কর, যাদেরকে মহান আল্লাহ তোমাদের জোড়া বানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এ কথার উত্তরে তাঁর কওমের লোকেরা তাঁকে বললোঃ ‘হে লূত (আঃ)! তুমি যদি এ কাজ হতে বিরত না হও তবে অবশ্যই তোমাকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “উত্তরে তার সম্প্রদায় শুধু বললোঃ তোমরা লুত (আঃ) ও তার অনুসারীদেরকে তোমাদের জনপদ হতে বহিষ্কার কর, তারা তো এমন লোক যারা অতি পবিত্র হতে চায়।” ২৭: ৫৬) তাদের এ অবস্থা দেখে হযরত লুত (আঃ) তাদের প্রতি অসন্তুষ্টি ও তাদের থেকে বিচ্ছিন্নতার কথা ঘোষণা করেন এবং বলেন, “আমি তোমাদের এ জঘন্য কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট। আমি এ কাজ মোটেই পছন্দ করি না। আমি মহান আল্লাহর সামনে নিজেকে এসব কাজ হতে মুক্তরূপে প্রকাশ করছি।'
অতঃপর হযরত লূত (আঃ) তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তা'আলার নিকট বদদু'আ করেন এবং নিজের ও পরিবার-পরিজনদের জন্যে মুক্তির প্রার্থনা করেন। তাঁর স্ত্রী তাঁর কওমের সাথে যোগ দিয়েছিল। তাই সেও তাদের সাথে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। যেমন সূরায়ে আ'রাফ, সূরায়ে হৃদ এবং সূরায়ে হিজরে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

হযরত লূত (আঃ) আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর অনুসারীদেরকে নিয়ে ঐ জনপদ হতে সরে পড়লেন। নির্দেশ ছিল যে, তাঁদের সেখান হতে চলে যাওয়ার পরই তাঁর কওমের উপর আল্লাহর শাস্তি আপতিত হবে, ঐ সময় তাদের দিকে ফিরেও তাকানো যাবে না। অতঃপর তাদের সবারই উপর আযাব এসে পড়ে এবং তারা সব ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের উপর আকাশ হতে পাথর বর্ষিত হয়। তাদের জন্যে এই প্রস্তর বৃষ্টি ছিল কতই না নিকৃষ্ট! তাদের এ ঘটনাটিও একটি শিক্ষামূলক বিষয়। এতে সবারই জন্যে উপদেশ রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়। তবে আল্লাহ যে মহাপরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু এতে সন্দেহের লেশমাত্র নেই।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।