সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 160)
হরকত ছাড়া:
كذبت قوم لوط المرسلين ﴿١٦٠﴾
হরকত সহ:
کَذَّبَتْ قَوْمُ لُوْطِۣ الْمُرْسَلِیْنَ ﴿۱۶۰﴾ۚۖ
উচ্চারণ: কাযযাবাত কাওমুলূতিনিল মুরছালীন।
আল বায়ান: লূতের সম্প্রদায় রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৬০. লুতের সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল,
তাইসীরুল ক্বুরআন: লূতের সম্প্রদায় রসুলদেরকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আহসানুল বায়ান: (১৬০) লূতের সম্প্রদায়[1] রসূলগণকে মিথ্যা মনে করেছিল।
মুজিবুর রহমান: লূতের সম্প্রদায় রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।
ফযলুর রহমান: লূতের সমপ্রদায় রসূলদেরকে অবিশ্বাস করেছিল।
মুহিউদ্দিন খান: লূতের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
জহুরুল হক: আর লূতের লোকদল রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
Sahih International: The people of Lot denied the messengers
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৬০. লুতের সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল,
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৬০) লূতের সম্প্রদায়[1] রসূলগণকে মিথ্যা মনে করেছিল।
তাফসীর:
[1] লূত (আঃ) ইবরাহীম (আঃ)-এর ভাই হারান বিন আযরের পুত্র ছিলেন। তাঁকে ইবরাহীমের জীবিতাবস্থায় নবী করে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর জাতির লোক সাদূম ও আম্মূরাতে বাস করত। এই সব জনপদ ছিল শাম দেশের অন্তর্ভুক্ত।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৬০-১৭৫ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে লূত (عليه السلام) ও তার নির্লজ্জ জাতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
(أَتَأْتُوْنَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعٰلَمِيْنَ)
‘বিশ্বজগতের মধ্যে তো তোমরাই পুরুষের সাথে কুকর্ম কর, অর্থাৎ পৃথিবীতে তারাই সর্বপ্রথম সমকামিতায় লিপ্ত হয়। অথচ নারীদেরকে বিবাহ করা তাদের জন্যও বৈধ ছিল। লূত (عليه السلام) তাদের এ কুকর্ম হতে বিরত থাকতে বললে তারা লূত (عليه السلام)-কে দেশ থেকে বহিস্কার করে দেয়ার হুমকি প্রদান করে।
(إِلَّا عَجُوْزًا) “এক বৃদ্ধা ব্যতীত” এ বৃদ্ধা হলো লূত (عليه السلام)-এর স্ত্রী, তাকেও ধ্বংস করা হয়েছে। কারণ সে ঈমান আনেনি। এদের সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৮০-৮৪ নং, হূদের ৭৬-৮৩ নং আয়াত ও সূরা হিজর ও অন্যান্য সূরাতে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৬০-১৬৪ নং আয়াতের তাফসীর
এখানে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দা ও রাসূল হযরত লূত (আঃ)-এর বর্ণনা দিচ্ছেন। তাঁর নাম ছিল পূত ইবনে হারান ইবনে আষর। তিনি হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর ভ্রাতুস্পুত্র ছিলেন। হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর জীবদ্দশাতেই আল্লাহ তাআলা হযরত লূত (আঃ)-কে অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির উম্মতের নিকট প্রেরণ করেন। ঐ লোকগুলো সাযুম এবং ওর আশে পাশে বসবাস করতো। অবশেষে তাদের দুষ্কর্মের কারণে তাদের উপরও আল্লাহর শাস্তি আপতিত হয় এবং তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের বসতিগুলোর জায়গাটি একটি ময়লাযুক্ত দুর্গন্ধময় পানির বিলে পরিণত হয়েছে। ওটা এখনো বেলাদে গাওর নামে প্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছে যা বায়তুল মুকাদ্দাস এবং বেলাদে কারক ও শাওবাকের মধ্যভাগে অবস্থিত। ঐ লোকগুলোও আল্লাহর রাসূল হযরত লূত (আঃ)-কে অবিশ্বাস করে। তিনি তাদেরকে আল্লাহর নাফরমানী পরিত্যাগ করার এবং তাঁর আনুগত্য করার উপদেশ দেন। তিনি যে তাদের নিকট রাসূলরূপে প্রেরিত হয়েছে তা তিনি তাদের কাছে প্রকাশ করেন। তিনি তাদেরকে বলেন যে, তিনি ঐ কাজের জন্যে তাদের কাছে কোন প্রতিদান চান না। তার পুরস্কার তো রয়েছে বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর নিকট। তিনি তাদেরকে বলেন, তোমরা তোমাদের জঘন্য কাজ হতে বিরত থাকো অর্থাৎ নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষদের দ্বারা তোমাদের কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে যেয়ো না। কিন্তু তারা তাঁর কথা মানলো না, বরং তাকে কষ্ট দিতে শুরু করলো।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।