সূরা আল-ফুরকান (আয়াত: 77)
হরকত ছাড়া:
قل ما يعبأ بكم ربي لولا دعاؤكم فقد كذبتم فسوف يكون لزاما ﴿٧٧﴾
হরকত সহ:
قُلْ مَا یَعْبَؤُا بِکُمْ رَبِّیْ لَوْ لَا دُعَآؤُکُمْ ۚ فَقَدْ کَذَّبْتُمْ فَسَوْفَ یَکُوْنُ لِزَامًا ﴿۷۷﴾
উচ্চারণ: কুল মা-ইয়া‘বাউ বিকুম রাববী লাওলা-দু‘আউকুম ফাকাদ কাযযাবতুম ফাছাওফা ইয়াকূনুলিযা-মা-।
আল বায়ান: বল, ‘যদি তোমরা না-ই ডাক তাহলে আমার রব তোমাদের কোন পরওয়া করেন না। তারপর তোমরা অস্বীকার করেছ। তাই অচিরেই অপরিহার্য হবে আযাব।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৭. বলুন, আমার রব তোমাদের মোটেই ভ্ৰক্ষেপ করেন না, যদি না তোমরা তাকে ডাক।(১) অতঃপর তোমরা মিথ্যারোপ করেছ, সুতরাং অচিরেই অপরিহার্য হবে শাস্তি।
তাইসীরুল ক্বুরআন: (কাফিরদেরকে) বল : ‘তোমাদের ব্যাপারে আমার প্রতিপালকের কী প্রয়োজন পড়েছে তোমরা যদি তাঁকে না ডাকো? তোমরা তো তাঁকে অস্বীকার করেছ, কাজেই শীঘ্রই তোমাদের উপর এসে পড়বে অপ্রতিরোধ্য (শাস্তি)।
আহসানুল বায়ান: (৭৭) বল, ‘তোমাদের দুআ (আহবান) না থাকলে আমার প্রতিপালক তোমাদের কোন পরোয়াই করতেন না। [1] তোমরা (দ্বীনকে) মিথ্যাজ্ঞান করেছ, ফলে অনিবার্য (শাস্তি) নেমে আসবে।’[2]
মুজিবুর রহমান: বলঃ তোমরা আমার রাব্বকে না ডাকলে তাঁর কিছুই আসে যায়না। তোমরা অস্বীকার করেছ, ফলে অচিরেই নেমে আসবে অপরিহার্য শাস্তি।
ফযলুর রহমান: বল, “তোমরা যদি আমার প্রভুকে না ডাক তাহলে তিনি তোমাদের দিকে মনোযোগ দেন না। তোমরা তো (তাঁকে) অবিশ্বাসই করেছো; তাই শাস্তি হবে (তোমাদের জন্য) অপরিহার্য।”
মুহিউদ্দিন খান: বলুন, আমার পালনকর্তা পরওয়া করেন না যদি তোমরা তাঁকে না ডাক। তোমরা মিথ্যা বলেছ। অতএব সত্বর নেমে আসবে অনিবার্য শাস্তি।
জহুরুল হক: বলো -- "তোমাদের দোয়া না থাকলেও আমার প্রভুর কিছু যায় আসে না, কিন্তু তোমরা তো প্রত্যাখ্যানই করেছ, সেজন্য শীঘ্রই অনিবার্য শাস্তি আসছে।"
Sahih International: Say, "What would my Lord care for you if not for your supplication?" For you [disbelievers] have denied, so your denial is going to be adherent.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৭. বলুন, আমার রব তোমাদের মোটেই ভ্ৰক্ষেপ করেন না, যদি না তোমরা তাকে ডাক।(১) অতঃপর তোমরা মিথ্যারোপ করেছ, সুতরাং অচিরেই অপরিহার্য হবে শাস্তি।
তাফসীর:
(১) এই আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে অনেক উক্তি আছে। তবে স্পষ্ট কথা হলো, আল্লাহর কাছে তোমাদের কোন গুরুত্ব থাকত না যদি তোমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে ডাকা ও তাঁর ইবাদাত করা না হত। কেননা, মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্যই আল্লাহর ইবাদাত করা। [বাগভী] যেমন অন্য আয়াতে আছে (وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) [সূরা আয-যারিয়াতঃ ৫৬] অর্থাৎ আমি মানব ও জিনকে আমার ইবাদাত ব্যতীত অন্য কোন কাজের জন্য সৃষ্টি করিনি।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৭) বল, ‘তোমাদের দুআ (আহবান) না থাকলে আমার প্রতিপালক তোমাদের কোন পরোয়াই করতেন না। [1] তোমরা (দ্বীনকে) মিথ্যাজ্ঞান করেছ, ফলে অনিবার্য (শাস্তি) নেমে আসবে।’[2]
তাফসীর:
[1] দু’আ ও আহবানের অর্থ আল্লাহকে ডাকা ও তাঁর ইবাদত করা। অর্থ এই যে, তোমাদেরকে সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত করা। এমন না করলে আল্লাহর কোন পরোয়া নেই। আল্লাহর নিকট মানুষের মূল্যায়ন ও মান নির্ণয় তাঁর প্রতি ঈমান ও তাঁর ইবাদতের ভিত্তিতেই হবে।
[2] এখানে কাফেরদের সম্বোধন করা হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহকে মিথ্যা মনে করেছ অতএব তার শাস্তি অবশ্যই তোমাদেরকে ভুগতে হবে। সুতরাং পৃথিবীতে এই অনিবার্য শাস্তি বদরে পরাজয়রূপে তারা পেয়েছে এবং পরকালে জাহান্নামে চিরস্থায়ী আযাবও তাদেরকে ভুগতে হবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭৫-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর:
দয়াময় আল্লাহ তা‘আলার একনিষ্ঠ বান্দা যারা উপর্যুক্ত গুণে গুণান্বিত হবে তাদের প্রতিদানের কথা এ আয়াতগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা আল্লাহ তা‘আলার বান্দার পরিচয় দিতে গিয়ে যে ধৈর্য ধারণ করেছে তার প্রতিফলস্বরূপ জান্নাতে একটি কক্ষ দেয়া হবে।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَهُمْ فِي الْغُرُفٰتِ اٰمِنُوْنَ)
“আর তারা প্রাসাদসমূহে নিরাপদে থাকবে।” (সূরা সাবা ৩৪:৩৭)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(الَّذِيْنَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِّنْ فَوْقِهَا غُرَفٌ مَّبْنِيَّةٌ لا تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهٰرُ ط৫ وَعْدَ اللّٰهِ ط لَا يُخْلِفُ اللّٰهُ الْمِيْعَادَ)
“যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের জন্য জান্নাতে এমন সব প্রাসাদ রয়েছে যার ওপর আরও প্রাসাদ নির্মিত আছে, যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। আল্লাহ তা‘আলা এ ওয়াদা দিয়েছেন; আল্লাহ তা‘আলা কখনও ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।” (সূরা যুমার ৩৯:২০)
আর তারা তথায় কোন বেহুদা কথাবার্তা শুনবে না। তারা শুধু শান্তিপূর্ণ কথাবার্তা শুনবে। যেমনটি সূরা ইউনুসে আলোচনা করা হয়েছে। আর তারা তথায় চিরকাল থাকবে। সে সম্পর্কে সূরা কাহফে আলোচনা করা হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মানুষের সকল বিষয় থেকে বেপরোয়া। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। কিন্তু যদি কেউ তাঁর ইবাদত না করে তাতে তাঁর কিছুই যায় আসে না। শুধুমাত্র তিনি এ ইবাদতের দ্বারা মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَهُوَ الَّذِيْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ فِيْ سِتَّةِ أَيَّامٍ وَّكَانَ عَرْشُه۫ عَلَي الْمَا۬ءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا)
“আর তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেন, তখন তাঁর ‘র্আশ ছিল পানির ওপর, (সৃষ্টি করেছেন) তোমাদের মধ্যে কে কর্মে শ্রেষ্ঠ তা পরীক্ষা করার জন্য।” (সূরা হূদ ১১:৭)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. যারা আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করবে কেবল তারাই চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে আর বাকীরা সব জাহান্নামী।
২. আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সকল জিনিস থেকে বেপরোয়া।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৫-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর
মুমিনদের পবিত্র গুণাবলী, তাদের ভাল কথা ও কাজের বর্ণনা দেয়ার পর আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতিদানের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তারা জান্নাত লাভ করবে যা উচ্চতম স্থান। কারণ এই যে, তারা উপরোক্ত গুণে গুণান্বিত ছিল। তাই সেখানে তারা সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে।
তাদের জন্যে রয়েছে সেখানে শান্তি আর শান্তি। জান্নাতের প্রতিটি দর দিয়ে ফেরেশতারা তাদের খিদমতে হাযির হবে এবং সালাম জানিয়ে বলবেঃ “তোমাদের পরিণাম ভাল হয়েছে। কেননা, তোমরা ধৈর্যশীল ছিলে।”
তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। তারা সেখান হতে বের হবে না এবং তাদের বের করাও হবে না। তথাকার নিয়ামত কম হবে না এবং শান্তি ও আরামের সমাপ্তি আসবে না। তারা হবে বড়ই ভাগ্যবান। তাদের উঠা, বসা এবং বিশ্রামের জায়গা খুবই পাক, সাফ ও মনোরম। দেখতেও সুন্দর এবং বাসের পক্ষেও আরামদায়ক।
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মাখলুককে তাঁর ইবাদত বন্দেগী এবং তাসবীহ ও তাহলীলের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। মাখলুক যদি এগুলো পালন না করে তবে সে আল্লাহর নিকট অতি নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য। ঈমান ছাড়া মানুষ একেবারে অকেজো। আল্লাহ যদি চাইতেন তবে তিনি কাফিরদেরকে তাঁর ইবাদতের দিকে ঝুঁকিয়ে দিতেন। কিন্তু তারা তাঁর নিকট মোটেই গণ্য নয়।
মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি এসব কাফিরকে বলে দাওতোমরা আমার প্রতিপালককে না ডাকলে তার কিছু আসে যায় না। তোমরা অস্বীকার করেছে। এখন হে কাফিরের দল! তোমরা মনে করো না যে, তোমাদের মুআমালা শেষ হয়ে গেল। জেনে রেখো যে, তোমাদের উপর অচিরে নেমে আসবে অপরিহার্য শাস্তি। দুনিয়া ও আখিরাতে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহর শাস্তি তোমাদেরকে জরিয়ে রয়েছে। বদরের দিনে কাফিরদের শোচনীয় পরাজয় পার্থিব শাস্তির একটি বড় প্রমাণ। যেমন হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) প্রমুখ গুরুজন হতে এটা বর্ণিত আছে। কিয়ামতের দিনের শাস্তি এখনো বাকী রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।