সূরা আল-ফুরকান (আয়াত: 75)
হরকত ছাড়া:
أولئك يجزون الغرفة بما صبروا ويلقون فيها تحية وسلاما ﴿٧٥﴾
হরকত সহ:
اُولٰٓئِکَ یُجْزَوْنَ الْغُرْفَۃَ بِمَا صَبَرُوْا وَ یُلَقَّوْنَ فِیْهَا تَحِیَّۃً وَّ سَلٰمًا ﴿ۙ۷۵﴾
উচ্চারণ: উলাইকা ইউজযাওনাল গুরফাতা বিমা-সাবারূওয়া ইউলাক্কাওনা ফীহা-তাহিইইয়াতাওঁ ওয়া ছালা-মা-।
আল বায়ান: তারাই, যাদেরকে [জান্নাতে] সুউচ্চ কক্ষ প্রতিদান হিসাবে দেয়া হবে যেহেতু তারা সবর করেছিল সেজন্য। আর তাদের সেখানে অভ্যর্থনা করা হবে অভিবাদন ও সালাম দ্বারা।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৫. তারাই, যাদেরকে প্রতিদান হিসেবে দেয়া হবে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষ(১) যেহেতু তারা ছিল ধৈর্যশীল। আর তারা প্ৰাপ্ত হবে সেখানে অভিবাদন ও সালাম।
তাইসীরুল ক্বুরআন: এদেরকেই তাদের ধৈর্যধারণের কারণে জান্নাতের সুউচ্চ স্থান দান ক’রে পুরস্কৃত করা হবে। সেখানে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানানো হবে সংবর্ধনা ও সালাম জানিয়ে।
আহসানুল বায়ান: (৭৫) তাদেরকে ধৈর্যাবম্বনের প্রতিদান স্বরূপ (বেহেশ্তের) কক্ষ দেওয়া হবে এবং তাদেরকে সেখানে অভিবাদন ও সালাম সহকারে অভ্যর্থনা জানানো হবে ।
মুজিবুর রহমান: তাদেরকে প্রতিদান স্বরূপ দেয়া হবে জান্নাত, যেহেতু তারা ধৈর্যশীল। তাদেরকে সেখানে অভ্যর্থনা করা হবে অভিবাদন ও সালাম সহকারে।
ফযলুর রহমান: এমন লোকদেরকে তাদের ধৈর্যের প্রতিদানে (জান্নাতে) কক্ষ দেওয়া হবে এবং সেখানে তাদেরকে অভিবাদন ও সালাম দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হবে।
মুহিউদ্দিন খান: তাদেরকে তাদের সবরের প্রতিদানে জান্নাতে কক্ষ দেয়া হবে এবং তাদেরকে তথায় দোয়া ও সালাম সহকারে অভ্যর্থনা করা হবে।
জহুরুল হক: এইসব লোকেদের প্রতিদান দেওয়া হবে উচুঁ পদমর্যাদা দিয়ে যেহেতু তারা অধ্যবসায় করেছিল, আর সেখানে তাদের অভ্যর্থনা করা হবে অভিবাদন ও সালাম জানিয়ে, --
Sahih International: Those will be awarded the Chamber for what they patiently endured, and they will be received therein with greetings and [words of] peace.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৫. তারাই, যাদেরকে প্রতিদান হিসেবে দেয়া হবে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষ(১) যেহেতু তারা ছিল ধৈর্যশীল। আর তারা প্ৰাপ্ত হবে সেখানে অভিবাদন ও সালাম।
তাফসীর:
(১) غرفة শব্দের আভিধানিক অর্থ উঁচু কক্ষ, উপরতলার কক্ষ। বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্তগণ এমন উঁচু কক্ষ পাবে, যা সাধারণ জান্নাতীদের কাছে তেমনি দৃষ্টিগোচর হবে, যেমন পৃথিবীর লোকদের নিকট তারকা-নক্ষত্র দৃষ্টিগোচর হয়। [বুখারীঃ ৩০৮৩, মুসলিমঃ ২৮৩১, মুসনাদে আহমাদঃ ৮৪৫২] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ “জান্নাতে এমন কক্ষ থাকবে, যার ভেতরের অংশ বাইরে থেকে এবং বাইরের অংশ ভেতর থেকে দৃষ্টিগোচর হবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), এসব কক্ষ কাদের জন্য? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি সৎ ও পবিত্ৰ কথাবার্তা বলে, প্রত্যেক মুসলিমকে সালাম করে, ক্ষুধার্তকে আহার করায় এবং রাত্রে যখন সবাই নিদ্রিত থাকে, তখন সে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে।” [সহীহ ইবনে হিব্বানঃ ৫০৯, সহীহ ইবনে খুযাইমাঃ ২১৩৭, মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ১/১৫৩, তিরমিযীঃ ১৯৮৪, মুসনাদে আহমাদঃ ১৩৩৭]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৫) তাদেরকে ধৈর্যাবম্বনের প্রতিদান স্বরূপ (বেহেশ্তের) কক্ষ দেওয়া হবে এবং তাদেরকে সেখানে অভিবাদন ও সালাম সহকারে অভ্যর্থনা জানানো হবে ।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭৫-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর:
দয়াময় আল্লাহ তা‘আলার একনিষ্ঠ বান্দা যারা উপর্যুক্ত গুণে গুণান্বিত হবে তাদের প্রতিদানের কথা এ আয়াতগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা আল্লাহ তা‘আলার বান্দার পরিচয় দিতে গিয়ে যে ধৈর্য ধারণ করেছে তার প্রতিফলস্বরূপ জান্নাতে একটি কক্ষ দেয়া হবে।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَهُمْ فِي الْغُرُفٰتِ اٰمِنُوْنَ)
“আর তারা প্রাসাদসমূহে নিরাপদে থাকবে।” (সূরা সাবা ৩৪:৩৭)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(الَّذِيْنَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِّنْ فَوْقِهَا غُرَفٌ مَّبْنِيَّةٌ لا تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهٰرُ ط৫ وَعْدَ اللّٰهِ ط لَا يُخْلِفُ اللّٰهُ الْمِيْعَادَ)
“যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের জন্য জান্নাতে এমন সব প্রাসাদ রয়েছে যার ওপর আরও প্রাসাদ নির্মিত আছে, যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। আল্লাহ তা‘আলা এ ওয়াদা দিয়েছেন; আল্লাহ তা‘আলা কখনও ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।” (সূরা যুমার ৩৯:২০)
আর তারা তথায় কোন বেহুদা কথাবার্তা শুনবে না। তারা শুধু শান্তিপূর্ণ কথাবার্তা শুনবে। যেমনটি সূরা ইউনুসে আলোচনা করা হয়েছে। আর তারা তথায় চিরকাল থাকবে। সে সম্পর্কে সূরা কাহফে আলোচনা করা হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মানুষের সকল বিষয় থেকে বেপরোয়া। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। কিন্তু যদি কেউ তাঁর ইবাদত না করে তাতে তাঁর কিছুই যায় আসে না। শুধুমাত্র তিনি এ ইবাদতের দ্বারা মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَهُوَ الَّذِيْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ فِيْ سِتَّةِ أَيَّامٍ وَّكَانَ عَرْشُه۫ عَلَي الْمَا۬ءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا)
“আর তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেন, তখন তাঁর ‘র্আশ ছিল পানির ওপর, (সৃষ্টি করেছেন) তোমাদের মধ্যে কে কর্মে শ্রেষ্ঠ তা পরীক্ষা করার জন্য।” (সূরা হূদ ১১:৭)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. যারা আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করবে কেবল তারাই চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে আর বাকীরা সব জাহান্নামী।
২. আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সকল জিনিস থেকে বেপরোয়া।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৫-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর
মুমিনদের পবিত্র গুণাবলী, তাদের ভাল কথা ও কাজের বর্ণনা দেয়ার পর আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতিদানের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তারা জান্নাত লাভ করবে যা উচ্চতম স্থান। কারণ এই যে, তারা উপরোক্ত গুণে গুণান্বিত ছিল। তাই সেখানে তারা সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে।
তাদের জন্যে রয়েছে সেখানে শান্তি আর শান্তি। জান্নাতের প্রতিটি দর দিয়ে ফেরেশতারা তাদের খিদমতে হাযির হবে এবং সালাম জানিয়ে বলবেঃ “তোমাদের পরিণাম ভাল হয়েছে। কেননা, তোমরা ধৈর্যশীল ছিলে।”
তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। তারা সেখান হতে বের হবে না এবং তাদের বের করাও হবে না। তথাকার নিয়ামত কম হবে না এবং শান্তি ও আরামের সমাপ্তি আসবে না। তারা হবে বড়ই ভাগ্যবান। তাদের উঠা, বসা এবং বিশ্রামের জায়গা খুবই পাক, সাফ ও মনোরম। দেখতেও সুন্দর এবং বাসের পক্ষেও আরামদায়ক।
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মাখলুককে তাঁর ইবাদত বন্দেগী এবং তাসবীহ ও তাহলীলের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। মাখলুক যদি এগুলো পালন না করে তবে সে আল্লাহর নিকট অতি নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য। ঈমান ছাড়া মানুষ একেবারে অকেজো। আল্লাহ যদি চাইতেন তবে তিনি কাফিরদেরকে তাঁর ইবাদতের দিকে ঝুঁকিয়ে দিতেন। কিন্তু তারা তাঁর নিকট মোটেই গণ্য নয়।
মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি এসব কাফিরকে বলে দাওতোমরা আমার প্রতিপালককে না ডাকলে তার কিছু আসে যায় না। তোমরা অস্বীকার করেছে। এখন হে কাফিরের দল! তোমরা মনে করো না যে, তোমাদের মুআমালা শেষ হয়ে গেল। জেনে রেখো যে, তোমাদের উপর অচিরে নেমে আসবে অপরিহার্য শাস্তি। দুনিয়া ও আখিরাতে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহর শাস্তি তোমাদেরকে জরিয়ে রয়েছে। বদরের দিনে কাফিরদের শোচনীয় পরাজয় পার্থিব শাস্তির একটি বড় প্রমাণ। যেমন হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) প্রমুখ গুরুজন হতে এটা বর্ণিত আছে। কিয়ামতের দিনের শাস্তি এখনো বাকী রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।