সূরা আন-নূর (আয়াত: 59)
হরকত ছাড়া:
وإذا بلغ الأطفال منكم الحلم فليستأذنوا كما استأذن الذين من قبلهم كذلك يبين الله لكم آياته والله عليم حكيم ﴿٥٩﴾
হরকত সহ:
وَ اِذَا بَلَغَ الْاَطْفَالُ مِنْکُمُ الْحُلُمَ فَلْیَسْتَاْذِنُوْا کَمَا اسْتَاْذَنَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَکُمْ اٰیٰتِهٖ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَکِیْمٌ ﴿۵۹﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইযা-বালাগাল আতফা-লুমিনকুমুল হুলুমা ফালইয়াছতা’যিনূকামাছতা’যানাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুম আ-য়া-তিহী ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।
আল বায়ান: আর তোমাদের সন্তান-সন্ততি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন তারাও যেন অনুমতি চায় যেমনিভাবে তাদের অগ্রজরা অনুমতি চাইত। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৯. আর তোমাদের সন্তান-সন্ততি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমন অনুমতি প্রার্থনা করে থাকে তাদের বড়রা। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তার আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্ৰজ্ঞাময়।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমাদের শিশুরা যখন বয়োঃপ্রাপ্ত হবে তখন তারা যেন তোমাদের নিকট আসতে অনুমতি নেয়, যেমন তাদের বয়োজ্যেষ্ঠরা অনুমতি নেয়। এভাবে আল্লাহ তাঁর নির্দেশ খুবই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, কারণ আল্লাহ সর্বজ্ঞ, বড়ই হিকমতওয়ালা।
আহসানুল বায়ান: (৫৯) আর তোমাদের শিশুরা বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন তাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের মত (সর্বদা) অনুমতি প্রার্থনা করে।[1] এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তার আয়াত সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
মুজিবুর রহমান: এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে তাদের বয়ঃজ্যেষ্ঠদের ন্যায়। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নির্দেশ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন; আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
ফযলুর রহমান: তোমাদের শিশুরা যখন সাবালক হবে তখন তারাও যেন অনুমতি চায়, যেমন তাদের পূর্ববর্তীরা (বয়োজ্যেষ্ঠরা) অনুমতি চেয়ে থাকে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর বিধানসমূহ স্পষ্ট করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
মুহিউদ্দিন খান: তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বায়োপ্রাপ্ত হয়, তারাও যেন তাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায় অনুমতি চায়। এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
জহুরুল হক: আর তোমাদের মধ্যেকার ছেলেপিলেরা যখন সাবালগত্বে পৌঁছে যায় তখন তারাও যেন অনুমতি চায় যেমন অনুমতি চাইত তারা যারা এদের আগে রয়েছিল। এইভাবেই আল্লাহ্ তোমাদের জন্য তাঁর বাণীসমূহ সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।
Sahih International: And when the children among you reach puberty, let them ask permission [at all times] as those before them have done. Thus does Allah make clear to you His verses; and Allah is Knowing and Wise.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৯. আর তোমাদের সন্তান-সন্ততি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন অনুমতি প্রার্থনা করে যেমন অনুমতি প্রার্থনা করে থাকে তাদের বড়রা। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তার আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্ৰজ্ঞাময়।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৯) আর তোমাদের শিশুরা বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন তাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের মত (সর্বদা) অনুমতি প্রার্থনা করে।[1] এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তার আয়াত সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
তাফসীর:
[1] এখানে শিশুরা বলতে স্বাধীন শিশুদের বুঝানো হয়েছে। তারা যখন সাবালক হয়ে যাবে, তখন সাধারণ পুরুষদের মত হবে। সেই জন্য তাদের জন্য আবশ্যিক যে, তারা যখনই কারো ঘরে আসবে, তখন আসার পূর্বে যেন অনুমতি চেয়ে নেয়।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৮-৬০ নং আয়াতের তাফসীর:
পর্দা, সামাজিকতা ও পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাতের উত্তম রীতিনীতি অত্র সূরার ২৭, ২৮, ২৯ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কারো সাথে দেখা সাক্ষাত করতে গেলে অনুমতি নিয়ে গৃহে প্রবেশ করতে হবে। অনুমতি না দিলে প্রবেশ করা যাবে না। এসব বিধান ছিল বাহির থেকে আগন্তুক ব্যক্তিদের জন্য। অত্র আয়াতগুলোতেও এমন সব ব্যক্তিদের বিশেষ সময়ে অনুমতি নিয়ে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যারা সাধারণত সর্বদা বাড়ির ভিতরে থাকে এবং তাদের সাথে নারীদের পর্দাও জরুরী নয়। অর্থাৎ দাস-দাসী এবং ছোট ছেলে মেয়ে যারা প্রাপ্ত বয়স্কা হয়নি। এরাও তিনটি সময় অন্য রুমে প্রবেশকালীন অনুমতি নিবে। সে তিনটি সময় হলন (১) ফজরের সালাতের পূর্বে, কারণ এ সময় সাধারণত গায়ের পোশাক ঠিক মত নাও থাকতে পারে। তাছাড়া স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার থাকতে পারে। (২) দুপুরে বিশ্রামের সময়ন এ সময় বিশ্রামের জন্য গায়ের পোশাক ঠিক না থাকতে পারে। (৩) ইশার সালাতের পর ঘুমানোর সময়। দাস-দাসীই হোক আর ছোট বাচ্চাই হোক এ সময়গুলোতে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে ফেললে আর তখন অসতর্ক অবস্থায় থাকলে লজ্জার কারণ ঘটবে। তাই অনুমতি নেয়া আবশ্যক।
(ثَلٰثُ عَوْرٰتٍ)
অর্থাৎ এ সময়গুলোকে পর্দার সময় বলা হয়েছে। কারণ এ সময় পুরুষ বা মহিলারা (স্বামী-স্ত্রী) পোশাক সম্পর্কে সচেতন থাকে না।
এ তিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করাতে কোন দোষ নেই। কারণ তোমরা একজন অপরের কাছে বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াত করে থাক। তোমাদের দাস-দাসীরা তোমাদের সেবা করার জন্য আসে, ছোট বাচ্চারা দৌড়াদৌড়ি করে থাকে বা প্রয়োজনে আসা যাওয়া করে থাকে। কিন্তু বাচ্চারা যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে যাবে তখন বড়দের ন্যায় যে কোন সময় প্রবেশ করতে চাইলে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করবে। যেমনভাবে অনুমতি নেয়ার কথা অত্র সূরার প্রথমে বলা হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বৃদ্ধা নারীদের পর্দার কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা বিবাহের আশা রাখে না অর্থাৎ একবারে বৃদ্ধা, তারা যদি তাদের চাদর নামিয়ে দিয়ে শুধু দোপাট্টা পরে থাকে তাহলে তাদের কোন গুনাহ হবে না। তবে এর দ্বারা যেন উদ্দেশ্য না থাকে সৌন্দর্য প্রকাশ করা। এ ব্যাপারে আয়িশাহ (رضي الله عنها)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: তোমাদের জন্য সাজ-সজ্জা অবশ্যই বৈধ, কিন্তু এটা যেন অপর পুরুষের চক্ষু ঠাণ্ডা করার জন্য না হয়। (দুররুল মানসূর ৫/৫৭)
এখানে প্রথম আয়াতটিতে গোলাম ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক আপন সন্তানদের সম্পর্কে, দ্বিতীয় আয়াতটিতে বয়ঃপ্রাপ্ত আপন সন্তানদের সম্পর্কে এবং তৃতীয় আয়াতটিতে বৃদ্ধা মহিলাদের বিধি-বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তবে বৃদ্ধা মহিলাদের ওড়নার ওপরে চাদর ব্যবহার করাই উত্তম।
সুতরাং মহিলাদের এ বিষয়টি জানা থাকা দরকার, কারণ অজ্ঞতার কারণে কখন কী হয়ে যায় যার জন্য পরে আফসোস করতে হবে কিন্তু তা কোন উপকারে আসবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. তিন সময় আপন সন্তান ও দাস-দাসীরা গৃহে প্রবেশ করলেও অনুমতি নিতে হবে। আর তা হচ্ছে ফজরের পূর্বে, দ্বিপ্রহরে এবং এশার পরে।
২. আপন সন্তানেরাও প্রাপ্ত বয়স্ক হলে অনুমতি নিয়ে গৃহে প্রবেশ করতে হবে।
৩. বৃদ্ধা মহিলারাও সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারবে না। তবে পর্দার ব্যাপারে তাদের কিছুটা শিথিলতা রয়েছে।
৪. ছোট বাচ্চা ও দাস-দাসীদের ক্ষেত্রে পোষাকের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫৮-৬০ নং আয়াতের তাফসীর
এই আয়াতে নিকটাত্মীয়দেরকেও নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যে, তারাও যেন অনুমতি নিয়ে বাড়ীতে প্রবেশ করে। ইতিপূর্বে এই সূরার প্রথম দিকের আয়াতে যে হুকুম ছিল তা ছিল পর পুরুষ ও অনাত্মীয়ের জন্যে। এখানে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তিন সময়ে গোলামদেরকে এমনকি নাবালক বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেদেরকেও অনুমতি নিতে হবে। ঐ তিন সময় হলোঃ ফজরের নামাযের পূর্বে। কেননা, এটা হলো ঘুমানোর সময়। দ্বিতীয় হলো দুপুরের সময়, যখন মানুষ সাধারণতঃ কিছুটা বিশ্রামের জন্যে কাপড় ছেড়ে বিছানায় শুয়ে থাকে। আর তৃতীয় হলো এশার নামাযের সময়। কেননা, ওটাই হচ্ছে শিশুদেরকে নিয়ে শয়নের সময়। সুতরাং এই তিন সময় যেন গোলাম ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেরাও অনুমতি ছাড়া ঘরে প্রবেশ না করে। তবে এই তিন সময় ছাড়া অন্যান্য সময়ে তাদের ঘরে প্রবেশের জন্যে অনুমতির প্রয়োজন নেই। কেননা, তাদের ঘরে যাতায়াত জরুরী। তারা বারবার আসে ও যায়। সুতরাং প্রত্যেকবার অনুমতি প্রার্থনা করা তাদের জন্যে এবং বাড়ীর লোকদের জন্যেও বড়ই অসুবিধাজনক ব্যাপার। এ জন্যেই নবী (সঃ) বলেছেনঃ “বিড়াল অপবিত্র নয়। ওটা তো তোমাদের বাড়ীতে তোমাদের আশে পাশে সদা ঘোরাফেরা করেই থাকে।” (এ হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ), ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) এবং আহলুস সুনান বর্ণনা করেছেন) হুকুম তো এটাই, কিন্তু এর উপর আমল খুব কমই হয়।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “তিনটি আয়াতের উপর আমল মানুষ প্রায় ছেড়েই দিয়েছে। একটি এই আয়াতটি। দ্বিতীয় হলো সূরায়ে নিসার (আরবি) (৪: ৮) এই আয়াতটি এবং তৃতীয়টি হলো সূরায়ে হুজুরাতের (আরবি) (৪৯: ১৩) এই আয়াতটি। শয়তান লোকদের উপর ছেয়ে গেছে এবং সে তাদেরকে এই আয়াতগুলোর উপর আমল করা হতে উদাসীন রেখেছে, যেন তাদের এ আয়াতগুলোৱ উপর ঈমান নেই। আমি তো আমার দাসটিকেও নির্দেশ দিয়েছি যে, সে যেন এই তিন সময়ে বিনা অনুমতিতে কখনো না আসে।” প্রথম আয়াতটিতে দাস-দাসী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেদেরকেও অনুমতি গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় আয়াতটিতে ওয়ারিসদের মধ্যে মাল বন্টনের সময় আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম ও মিকসীন এসে গেলে তাদেকেও কিছু দেয়া ও তাদের সাথে নম্র ব্যবহার করার হুকুম করা হয়েছে। আর তৃতীয় আয়াতে বংশ ও আভিজাত্যের উপর গর্ব না করা, বরং আল্লাহভীরু লোককেই সম্মান প্রাপ্তির যোগ্য মনে কর বর্ণনা রয়েছে।
মূসা ইবনে আবি আয়েশা (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি শাবী (রঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন (আরবি) -এই আয়াতটি কি মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “না, রহিত হয়নি।” তখন পুনরায় তিনি প্রশ্ন করেনঃ “জনগণ এর প্রতি আমল ছেড়ে দিয়েছে যে?” জবাবে তিনি বলেনঃ “(এই আয়াতের প্রতি আমল করার জন্যে) আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত।”
হযরত ইকরামা (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, দু’জন লোক কুরআন কারীমে বর্ণিত তিন সময়ে অনুমতি প্রার্থনা সম্পর্কে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেনঃ “এই আয়াতের উপর আমল ছেড়ে দেয়ার একটি বড় কারণ হলো লোকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ও প্রশস্ততা। পূর্বে জনগণের আর্থিক অবস্থা এমন ভাল ছিল না যে, তারা ঘরের দরযার উপর পর্দা লটকাবে বা কয়েকটি কক্ষ বিশিষ্ট একটি বড় ঘর নির্মাণ করবে। বরং তাদের একটিমাত্র ঘর থাকতো এবং অনেক সময় দাস-দাসীরা তাদের অজ্ঞাতে ঘরে প্রবেশ করতো। ঐ সময় স্বামী স্ত্রী হয়তো ঘরে একত্রে থাকতো, ফলে তারা খুবই লজ্জিত হতো এবং বাড়ীর লোকেরাও এতে কঠিনভাবে অস্বস্তিবোধ করতো। অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে আর্থিক স্বচ্ছলতা দান করলেন এবং তারা পৃথক পৃথক কক্ষ বানিয়ে নিলো ও দরযার উপর পর্দা লটকিয়ে দিলো তখন তারা রক্ষিত হয়ে গেল। আর এর ফলে যে যৌক্তিকতায় অনুমতি প্রার্থনার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তা পূর্ণ হয়ে গেল। তাই জনগণ এই হুকুমের পাবন্দী ছেড়ে দিলো এবং তারা এর প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করতে শুরু করলো।” (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, এই তিনটি এমন সময় যখন মানুষ কিছুটা অবসর পায় এবং বাড়ীতেই অবস্থান করে। আল্লাহ জানেন তারা তখন কি অবস্থায় থাকে। এজন্যেই দাস-দাসীদেরও অনুমতি প্রার্থনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেননা, সাধারণতঃ ঐ সময়েই মানুষ স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়ে থাকে, যেন গোসল করে পাক-পবিত্র হয়ে বের হতে পারে এবং নামাযে শরীক হতে পারে। | মুকাতিল ইবনে হাইয়ান (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একজন আনসারী এবং তার স্ত্রী আসমা বিনতে মুরসিদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর জন্যে কিছু খাদ্য তৈরী করেন। লোকেরা বিনা অনুমতিতে ঘরে প্রবেশ করতে শুরু করে। তখন হযরত আসমা (রাঃ) বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এটাতো খুবই জঘন্য প্রথা যে, স্বামী স্ত্রী একই কাপড়ে রয়েছে এমতাবস্থায় তাদের গোলাম ঘরে প্রবেশ করে।` ঐ সময় (আরবি)-এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।
এই আয়াত যে মানসূখ বা রহিত নয়, শেষের শব্দগুলো তার ইঙ্গিত বহন করছে। ঘোষিত হয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “এইভাবে আল্লাহ তোমাদের নিকট তাঁর নির্দেশ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” হ্যাঁ, তবে যখন ছেলেরা প্রাপ্ত বয়সে পৌঁছে যাবে তখন তাদেরকে এই তিন সময় ছাড়া অন্য সময়েও অনুমতি নিতে হবে। যে তিন সময়ের কথা মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন এই তিন সময়ে ছোট ছেলেকেও তার পিতা-মাতার কাছে যাওয়ার সময় অনুমতি প্রার্থনা করতে হবে। কিন্তু প্রাপ্ত বয়সে পৌঁছার পর সব সময়েই অনুমতি চাইতে হবে যেমন অন্যান্য বড় মানুষ অনুমতি চেয়ে থাকে, তারা নিজস্ব লোকই হোক অথবা অপর লোকই হোক।
ঘোষিত হচ্ছেঃ বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, অর্থাৎ তারা এমন বয়সে পৌছে গেছে যে, পুরুষদের প্রতি তাদের কোনই আকর্ষণ নেই, তাদের জন্যে অপরাধ নেই, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তাদের বহির্বাস খুলে রাখে। অর্থাৎ অন্যান্য নারীদের মত তাদের পর্দার দরকার নেই। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এটি (আরবি) (২৪:৩১) এই আয়াতটি হতে স্বতন্ত্র।
হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এরূপ বৃদ্ধা নারীর জন্যে বুরকা এবং চাদর নামিয়ে দিয়ে শুধু দো-পাট্টা এবং জামা ও পায়জামা পরে থাকার অনুমতি রয়েছে। তার কিরআতও(আরবি) এরূপই বটে। এর দ্বারা দোপাট্টার উপরের চাদরকে বুঝানো হয়েছে। সুতরাং বুড়ী স্ত্রীলোকেরা যখন মোটা, চওড়া দোপাট্টা পরে থাকবে তখন ওর উপরে অন্য চাদর রাখা জরুরী নয়। কিন্তু এর দ্বারাও যেন সৌন্দর্য প্রকাশ উদ্দেশ্য না হয়।
শ্রীলোকেরা হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে এই ধরনের প্রশ্ন করলে তিনি তাদেরকে বলেনঃ তোমাদের জন্যে সাজ-সজ্জা অবশ্যই বৈধ, কিন্তু এটা যেন অর পুরুষদের চক্ষু ঠাণ্ডা করার জন্যে না হয়।”
হযরত হুযাইফা (রাঃ)-এর স্ত্রী খুবই বৃদ্ধা হয়ে গিয়েছিলেন। ঐ সময় তিনি তার গোলামের দ্বারা তার মাথায় মেহেদী লাগিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁকে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ “আমি এমন বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি যে, আমার পুরুষদের প্রতি কোন আকর্ষণই নেই।”
শেষে মহান আল্লাহ বলেনঃ (চাদর না নেয়া তো এরূপ বুড়ী স্ত্রীলোকদের জন্যে জায়েয বটে, কিন্তু এটা হতে তাদের বিরত থাকাই (অর্থাৎ বুরকা ও চাদর ব্যবহার করাই) তাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।