সূরা আন-নূর (আয়াত: 56)
হরকত ছাড়া:
وأقيموا الصلاة وآتوا الزكاة وأطيعوا الرسول لعلكم ترحمون ﴿٥٦﴾
হরকত সহ:
وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّکٰوۃَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ لَعَلَّکُمْ تُرْحَمُوْنَ ﴿۵۶﴾
উচ্চারণ: ওয়া আকীমুসসালা-তা ওয়া-আ-তুযযাকা-তা ওয়া আতী‘উর রাছূলা লা‘আল্লাকুম তুরহামূন।
আল বায়ান: আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হতে পার।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৬. আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা যায়।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমরা (নিয়মিত) নামায প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত প্রদান কর ও রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও।
আহসানুল বায়ান: (৫৬) তোমরা যথাযথভাবে নামায পড়, যাকাত দাও এবং রসূলের আনুগত্য কর; যাতে তোমরা করুণাভাজন হতে পার। [1]
মুজিবুর রহমান: তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হতে পার।
ফযলুর রহমান: তোমরা নামায কায়েম করো, যাকাত দান করো এবং রসূলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা (আল্লাহর) অনুগ্রহ লাভ করতে পার।
মুহিউদ্দিন খান: নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও।
জহুরুল হক: আর তোমরা নামায কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর আর রসূলের আজ্ঞাপালন কর, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়।
Sahih International: And establish prayer and give zakah and obey the Messenger - that you may receive mercy.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৬. আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা যায়।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৬) তোমরা যথাযথভাবে নামায পড়, যাকাত দাও এবং রসূলের আনুগত্য কর; যাতে তোমরা করুণাভাজন হতে পার। [1]
তাফসীর:
[1] যেন মুসলিমদেরকে এ কথার তাকীদ করা হয়েছে যে, আল্লাহর রহমত ও মদদ পাওয়ার রাস্তা সেটিই, যে রাস্তায় চলে সাহাবায়ে কিরামগণ রহমত ও মদদপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৬-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে নির্দেশ প্রদান করেছেন যে, তারা যেন সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَالْمُؤْمِنُوْنَ وَالْمُؤْمِنٰتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَا۬ءُ بَعْضٍ م يَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَيُطِيْعُوْنَ اللّٰهَ وَرَسُوْلَه۫ ط أُولٰٓئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللّٰهُ ط إِنَّ اللّٰهَ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ)
“মু’মিন নর ও মু’মিন নারী একে অপরের বন্ধু, এরা সৎ কাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎ কাজ নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে; এদেরকেই আল্লাহ তা‘আলা কৃপা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা তাওবাহ ৯:৭১)
সুতরাং বুঝা যাচ্ছে সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করা আল্লাহ তা‘আলার রহমত পাওয়ার অন্যতম উপায়। যেখানেই এ সকল আমল বলবত থাকবে সেখানেই আল্লাহ তা‘আলার রহমত নাযিল হবে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলছেন: তুমি এরূপ মনে কর না, কাফির-মুশরিকরা দুনিয়াতে আল্লাহ তা‘আলাকে অপারগ করে ফেলবে, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পাকড়াও করতে পারবেন না। বরং আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পাকড়াও করতে সক্ষম, তিনি যা চান তা কেউ প্রতিহত করতে পারে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَسِيْحُوْا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَّاعْلَمُوْآ أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللّٰهِ لا وَأَنَّ اللّٰهَ مُخْزِي الْكٰفِرِيْنَ)
“অতঃপর তোমরা দেশে চার মাসকাল চলাফেরা কর ও জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে হীনবল করতে পারবে না এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদেরকে লাঞ্ছিত করে থাকেন।” (সূরা তাওবাহ ৯:২)
এ সম্পর্কে সূরা তাওবার ২ নং আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সালাত আদায় এবং যাকাত প্রদান করতে হবে।
২. আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করতে হবে।
৩. কাফির-মুশরিকরা যতকিছুই করুক না কেন তারা আল্লাহ তা‘আলার শক্তির নিকট অপারগ।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫৬-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা স্বীয় ঈমানদার বান্দাদেরকে শুধু তাঁরই ইবাদত করার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি বলছেনঃ তাঁরই জন্যে তোমরা নামায সুপ্রতিষ্ঠিত কর এবং সাথে সাথে তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ কর ও তাদের সাথে সৎ ব্যবহার কর। দুর্বল, দরিদ্র এবং মিসকীনদের খবরাখবর নিতে থাকো। মালের মধ্য হতে আল্লাহর হক অর্থাৎ যাকাত বের কর এবং প্রতিটি কাজে আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য করতে থাকো। তিনি যে কাজের নির্দেশ দেন তা পালন কর এবং যা করতে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাকো। জেনে রেখো যে, আল্লাহর রহমত লাভের এটাই একমাত্র পন্থা। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “ওরাই তারা যাদের উপর আল্লাহ সত্বরই করুণা বর্ষণ করবেন।” (৯:৭১)
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি ধারণা করো না যে, তোমাকে অবিশ্বাসকারীরা আমার উপর জয়যুক্ত হবে বা এদিক-ওদিক পালিয়ে গিয়ে আমার কঠিন শাস্তি হতে রক্ষা পেয়ে যাবে। আমি তাদের প্রকৃত বাসস্থান জাহান্নামে ঠিক করে রেখেছি যা বাসের পক্ষে অত্যন্ত জঘন্য স্থান।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।