আল কুরআন


সূরা আন-নূর (আয়াত: 42)

সূরা আন-নূর (আয়াত: 42)



হরকত ছাড়া:

ولله ملك السماوات والأرض وإلى الله المصير ﴿٤٢﴾




হরকত সহ:

وَ لِلّٰهِ مُلْکُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ۚ وَ اِلَی اللّٰهِ الْمَصِیْرُ ﴿۴۲﴾




উচ্চারণ: ওয়ালিল্লা-হি মুলকুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া ইলাল্লা-হিল মাসীর।




আল বায়ান: আর আসমান ও যমীনের মালিকানা আল্লাহর জন্যই। আর আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪২. আর আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং আল্লাহরই দিকে ফিরে যাওয়া।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: আসমান ও যমীনের রাজত্বের মালিকানা আল্লাহর জন্যই, আর ফিরে আসতে হবে আল্লাহর কাছেই।




আহসানুল বায়ান: (৪২) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন।[1]



মুজিবুর রহমান: আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন।



ফযলুর রহমান: আসমান ও জমিনের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। আর আল্লাহর কাছেই (সবার) প্রত্যাবর্ত।



মুহিউদ্দিন খান: নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।



জহুরুল হক: আর মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌম কর্তৃত্ব আল্লাহ্‌র, আর আল্লাহ্‌র প্রতিই হচ্ছে প্রত্যাবর্তনস্থল।



Sahih International: And to Allah belongs the dominion of the heavens and the earth, and to Allah is the destination.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪২. আর আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং আল্লাহরই দিকে ফিরে যাওয়া।(১)


তাফসীর:

(১) সবকিছুই তাঁর মালিকানাভুক্ত। তারা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় তার কাছেই ফিরে যাবে। তাদের মধ্যে যারা সেথায় তাসবীহ পাঠ করেছে তারা হবে পুরস্কৃত। আর যারা করেনি তারা হবে তিরস্কৃত। [দেখুন: তাবারী, মুয়াসসার]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪২) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন।[1]


তাফসীর:

[1] সুতরাং তিনিই আসল বাদশাহ, তাঁর আদেশের সমালোচনা করার, তাঁর কাজের কৈফিয়ত নেওয়ার কেউ নেই। তিনিই একমাত্র সত্য উপাস্য, তিনি ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য আর কেউ নেই। সকলকেই তাঁর নিকট ফিরে যেতে হবে। সেখানে তিনি ন্যায় ও ইনসাফের সাথে সকলের বিচার করবেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪১-৪২ নং আয়াতের তাফসীর:



অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বড়ত্ব, সার্বভৌমত্ব ও মহিমা সম্পর্কে অবগত করাচ্ছেন। আকাশ ও জমিনে যা কিছু আছে তা জীব হোক আর জড় হোক সকল কিছু একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই তাসবীহ পাঠ করে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(تُسَبِّحُ لَهُ السَّمٰوٰتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيْهِنَّ ط وَإِنْ مِّنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِه۪ وَلٰكِنْ لَّا تَفْقَهُوْنَ تَسْبِيْحَهُمْ) ‏



“সপ্ত আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের অন্ত‎র্বর্তী সমস্ত‎ কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না; কিন্তু তাদের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পার না।” (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭:৪৪)



এমনকি বিহঙ্গকুলও তাঁর তাসবীহ পাঠ করে। এখানে বিশেষভাবে বিহঙ্গকুলকে উল্লেখ করার কারণ হলন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এমন বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যা অন্য জাতিকে দেননি। তা হল তারা আল্লাহ তা‘আলার কুদরতে আকাশ-জমিনের মধ্যবর্তী শূন্যস্থানে কোন কিছুর সাহায্য ছাড়াই নিজেদের ডানার মাধ্যমে উড়ে। এরা উড়তে উড়তে আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(اَوَ لَمْ یَرَوْا اِلَی الطَّیْرِ فَوْقَھُمْ صٰ۬فّٰتٍ وَّیَقْبِضْنَﺔ مَا یُمْسِکُھُنَّ اِلَّا الرَّحْمٰنُﺚ اِنَّھ۫ بِکُلِّ شَیْءٍۭ بَصِیْرٌﭢ)



“তারা কি লক্ষ্য করে না তাদের ওপরে পাখিসমূহের প্রতি, যারা ডানা বিস্তার করে ও সংকুচিত করে? দয়াময় আল্লাহই তাদেরকে শূন্যে স্থির রাখেন। তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।” (সূরা মূলক ৬৭:১৯)



অনুরূপ সূরা নাহলের ৭৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে।



(كُلٌّ قَدْ عَلِمَ صَلَاتَه)



অর্থাৎ প্রত্যেক মাখলুক আল্লাহ তা‘আলার জন্য সালাত আদায় ও তাসবীহ পাঠ করার জ্ঞান রাখে যেমন তাদের জন্য উপযোগী। সালাত ও তাসবীহ পাঠ করার জ্ঞান হয় রাসূলগণের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন যেমন মানব ও জিন জাতি। অথবা আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং ইলহাম করে দিয়েছেন যেমন অন্যান্য সকল মাখলুকাত। সুতরাং প্রত্যেকে স্ব-স্ব পদ্ধতিতে আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করে থাকে।



আসমান-জমিনের রাজত্ব, কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য। তিনি ব্যতীত দ্বিতীয় আর কোন মালিক নেই। সুতরাং যিনি এত ক্ষমতার অধিকারী তিনিই একমাত্র উপাসনার যোগ্য, অন্য কেউ নয়।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সকল মাখলূক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করে, অন্য কারো নয়।

২. সকলেই নিজস্ব তাসবীহ সম্পর্কে অবগত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪১-৪২ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে। অর্থাৎ মানুষ, জ্বিন, ফেরেশতা এমনকি অজৈব বস্তুও আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণায় লিপ্ত রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ “সপ্ত আকাশ ও যমীন এবং এগুলোর মধ্যে যত কিছু রয়েছে সবাই তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে থাকে। (শেষ পর্যন্ত)।”

উড্ডীয়মান পক্ষীকুলও আল্লাহ তা'আলার মহিমা ঘোষণা করে থাকে। এ সবগুলোর জন্যে যথাযোগ্য তাসবীহ তিনি এগুলোকে শিখিয়ে দিয়েছেন এবং নিজের ইবাদতের বিভিন্ন পন্থাও তিনি তাদেরকে শিখিয়ে রেখেছেন। তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত। কোন কিছুই তার কাছে গোপন নেই। তিনি শাসনকর্তা, ব্যবস্থাপক, একচ্ছত্র মালিক, প্রকৃত উপাস্য এবং আসমান ও যমীনের বাদশাহ একমাত্র তিনিই। তিনি ছাড়া কেউই ইবাদতের যোগ্য নয়। তাঁর হুকুম কেউ টলাতে পারে না। কিয়ামতের দিন সবাইকে তাঁরই সামনে হাযির হতে হবে। তিনি যা চাইবেন তাঁর সৃষ্টজীবের মধ্যে হুকুম জারী করে দিবেন। মন্দ লোকে মন্দ বিনিময় পাবে এবং ভাল লোক ভাল বিনিময় লাভ করবে। সৃষ্টিকর্তা ও অধিপতি তিনিই। তিনিই দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত হাকেম। তাঁরই সত্তা প্রশংসা ও গুণকীর্তনের যোগ্য।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।