আল কুরআন


সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 92)

সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 92)



হরকত ছাড়া:

عالم الغيب والشهادة فتعالى عما يشركون ﴿٩٢﴾




হরকত সহ:

عٰلِمِ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَۃِ فَتَعٰلٰی عَمَّا یُشْرِکُوْنَ ﴿۹۲﴾




উচ্চারণ: ‘আ-লিমিল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতি ফাতা‘আ-লা-‘আম্মা-ইউশরিকূন।




আল বায়ান: তিনি গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞানী, তারা যা শরীক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯২. তিনি গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞাণী, সুতরাং তারা যা কিছু শরীক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী, তারা যা তাঁর শরীক বানায়, তাত্থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।




আহসানুল বায়ান: (৯২) তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তারা যাকে শরীক করে, তিনি তার ঊর্ধ্বে।



মুজিবুর রহমান: তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তারা যাকে শরীক করে তিনি তার উর্ধ্বে।



ফযলুর রহমান: তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান বস্তুর (সবকিছুর) জ্ঞান রাখেন। অতএব, তারা (তাঁর সাথে) যা কিছু শরীক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে (তা থেকে পবিত্র)।



মুহিউদ্দিন খান: তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী। তারা শরীক করে, তিনি তা থেকে উর্ধ্বে।



জহুরুল হক: তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্য সন্বন্ধে পরিজ্ঞাত, কাজেই তারা যা শরিক করে তিনি সে-সবের বহু উর্ধ্বে?



Sahih International: [He is] Knower of the unseen and the witnessed, so high is He above what they associate [with Him].



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯২. তিনি গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞাণী, সুতরাং তারা যা কিছু শরীক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯২) তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তারা যাকে শরীক করে, তিনি তার ঊর্ধ্বে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯১-৯২ নং আয়াতের তাফসীর:



(مَا اتَّخَذَ اللّٰهُ مِنْ وَّلَدٍ.....)



উক্ত আয়াতটিতে তিনটি মাসআলাহ বর্ণিত হয়েছে:



১. আল্লাহ তা‘আলার কোন সন্তান নেই, তিনি এ থেকে পবিত্র।

২. আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্য কোন মা‘বূূদ নেই, এ থেকেও তিনি পবিত্র।

৩. একাধিক মা‘বূদ হওয়া অসম্ভব তার প্রমাণ পেশ করা হয়েছে যে, যদি একাধিক মা‘বূূদ থাকত তাহলে প্রত্যেক মা‘বূূদ যা সৃষ্টি করেছে সে তা নিয়ে আলাদা হয়ে যেত এবং একজন অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করত।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَوْ كَانَ فِيْهِمَآ اٰلِهَةٌ إِلَّا اللّٰهُ لَفَسَدَتَا ج فَسُبْحَانَ اللّٰهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُوْنَ)‏



“যদি আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে বহু ইলাহ্ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে তা হতে ‘আরশের অধিপতি আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র, মহান।” (সূরা আম্বিয়া ২১:২২) এ সম্পর্কে সূরা বানী ইসরাঈলের ৪২ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



এরপর বলা হচ্ছে যে, আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল বিষয় সম্পর্কে অবগত আছেন। সুতরাং মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলার সাথে যে শিরক করে তা থেকে তিনি পবিত্র। এ সম্পর্কে সূরা রাদের ৯ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই উপাস্য। তিনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই।

২. একাধিক উপাস্য থাকলে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হত।

৩. আল্লাহ তা‘আলার কোন স্ত্রী-সন্তান নেই, তিনি তা থেকে পূতঃপবিত্র।

৪. আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল বিষয় সম্পর্কে সর্বদা অবগত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯১-৯২ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা নিজেকে সন্তান ও শরীক হতে মুক্ত বলে ঘোষণা করছেন। অধিকারিত্বে, ব্যবস্থাপনায় ও ইবাদতের হকদার হওয়ার ব্যাপারে তিনি একক। তার সন্তানও নেই এবং অংশীদারও নেই। যদি কয়েকটি মাবুদ মেনে নেয়া হয় তবে প্রত্যেক মাবুদের স্বীয় সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যাওয়া জরুরী। আর এরূপ হলে সৃষ্টিজগতে শৃঙ্খলা বজায় থাকা সম্ভব নয়। অথচ সৃষ্টিজগতের শৃঙ্খলা ও পরিচালনা পূর্ণরূপে বিদ্যমান রয়েছে। উর্ধজগত, নিম্নজগত, আসমান, যমীন ইত্যাদি পরস্পরের পূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে নিজ নিজ নির্ধারিত কাজে নিযুক্ত ও ব্যস্ত রয়েছে। এগুলো বিধিবদ্ধ আইন-শৃঙ্খলা থেকে এক ইঞ্চি পরিমাণও এদিক-ওদিক হয় না। সুতরাং জানা গেল যে, এসবের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ, কয়েকজন নয়। কয়েকটি মাবুদ মেনে নেয়া অবস্থায় এটাও প্রকাশমান যে, একে অৱে উপর প্রাধান্য বিস্তার করতে চাইবে। একজন বিজয়ী হলে অপরজন আর মা’বূদ থাকে না। আবার বিজয়ীজন বিজয় লাভে অসমর্থ হলে সেও আর মাবুদ থাকে না। এ দুটো দলীল এটাই প্রমাণ করছে যে, মা'বুদ একজনই এবং তিনিই আল্লাহ। দার্শনিকদের পরিভাষায় এই দলীলকে দলীলে তামানু’ বলা হয়। তাদের যুক্তি এই যে, যদি দুই বা ততোধিক আল্লাহ মেনে নেয়া হয় তবে একজন চাইবে দেহকে গতি বিশিষ্ট রাখতে এবং অপরজন চাইবে ওটাকে গতিবিহীন রাখতে। এখন যদি দু’জনেরই উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয় তবে দু’জনই অপারগ প্রমাণিত হবে। তাহলে কেউই আল্লাহ হতে পারবে না। কেননা ওয়াজিব কখনো অপারগ হয় না। আর দু’জনেরই উদ্দেশ্য যে সফল হবে এটাও সম্ভব নয়। কারণ, একজনের চাহিদা অপরজনের বিপরীত। সুতরাং দু’জনেরই চাহিদা পূর্ণ হওয়া অসম্ভব। আর এই অসম্ভব অবস্থার সৃষ্টি এ কারণেই হচ্ছে যে, দুই বা ততোধিক আল্লাহ মেনে নেয়া হয়েছিল। সুতরাং এই বেশী সংখ্যা বাতিল হয়ে গেল। এখন বাকী থাকলো তৃতীয় অবস্থা, অর্থাৎ একজনের চাহিদা পূর্ণ হলো এবং অপরজনের পূর্ণ হলো না। যার চাহিদা পূর্ণ হলো সে তো থাকলে বিজয়ী ও ওয়াজিব, আর যার চাহিদা পূর্ণ হলো না সে হয়ে গেল পরাজিত ও মুমকিন বা সম্ভাবনাময়। কেননা, ওয়াজিবের বিশেষণ এটা নয় যে, সে পরাজিত হবে। তাহলে এই অবস্থাতেও আল্লাহর সংখ্যার আধিক্য বাতিল হয়ে গেল। অতএব, প্রমাণিত হলো যে, মাবুদ একজনই।

এই উদ্ধত, যালিম ও সীমালংঘনকারী মুশরিকরা যে আল্লাহ তাআলার সন্তান থাকার কথা বলছে এবং তার শরীক স্থাপন করছে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধে। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। সৃষ্টজীবের কাছে যা কিছু অজ্ঞাত আছে। এবং যা কিছু তাদের কাছে প্রকাশমান এই সবকিছুরই খবর আল্লাহ তা'আলা রাখেন। মুশরিকরা যাদেরকে তাঁর শরীক করছে তাদের থেকে তিনি সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। তিনি তাদের থেকে বহু ঊর্ধে রয়েছেন। তিনি হলেন অতুলনীয়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।