সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 57)
হরকত ছাড়া:
إن الذين هم من خشية ربهم مشفقون ﴿٥٧﴾
হরকত সহ:
اِنَّ الَّذِیْنَ هُمْ مِّنْ خَشْیَۃِ رَبِّهِمْ مُّشْفِقُوْنَ ﴿ۙ۵۷﴾
উচ্চারণ: ইন্নাল লাযীনা হুম মিন খাশইয়াতি রাব্বিহিম মুশফিকূন।
আল বায়ান: নিশ্চয় যারা তাদের রবের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত,
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৭. নিশ্চয় যারা তাদের রব-এর ভয়ে সন্ত্রস্ত,
তাইসীরুল ক্বুরআন: নিশ্চয় যারা তাদের প্রতিপালকের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থাকে,
আহসানুল বায়ান: (৫৭) নিঃসন্দেহে যারা তাদের প্রতিপালকের ভয়ে সন্ত্রস্ত,
মুজিবুর রহমান: যারা তাদের রবের ভয়ে সন্ত্রস্ত –
ফযলুর রহমান: যারা তাদের প্রভুর ভয়ে ভীত থাকে,
মুহিউদ্দিন খান: নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তার ভয়ে সন্ত্রস্ত,
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ যারা খোদ তাদের প্রভুর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত,
Sahih International: Indeed, they who are apprehensive from fear of their Lord
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৭. নিশ্চয় যারা তাদের রব-এর ভয়ে সন্ত্রস্ত,
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৭) নিঃসন্দেহে যারা তাদের প্রতিপালকের ভয়ে সন্ত্রস্ত,
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৭-৬১ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে যারা ভাল কাজে অগ্রগামী তাদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। তাদের গুণাগুণ হল তারা তাদের প্রতিপালকের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে, তারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীর প্রতি ঈমান রাখে, তাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরীক করে না এবং তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরে যেতে হবে এ ভয়ে তাদেরকে যা দান করা হয়েছে তা হতে ব্যয় করে।
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: আয়িশাহ (رضي الله عنها) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! যারা ভীত-সন্ত্রস্ত হৃদয়ে তাদেরকে দেয়া সম্পদ হতে ব্যয় করে, চুরি করে, যিনা করে এবং মদ পান করে, সে কি আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে না? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: হে আবূ বাকরের মেয়ে! বিষয়টি এমন নয়। বরং যারা সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে এবং তাদের সম্পদ হতে ব্যয় করে মূলত তারাই আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে আর তাদের দান কবূল করা হয়। (মুসনাদ আহমাদ ২/১৫৯, তিরমিযী হা: ৩১৭৫, সহীহ)
যারা এসকল কাজ সম্পাদন করে তারাই মূলত সৎ কাজ করে, আর তারাই এ ব্যাপারে অগ্রগামী। সুতরাং আমাদের উচিত হবে, উল্লিখিত সৎ আমলগুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে সকল অন্যায় কাজ ছেড়ে দিতে হবে।
২. মু’মিন সর্বদা ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় থাকে, হয়তো কোন কারণে তাদের আমল বাাতিল হয়ে যেতে পারে।
৩. নিজের সম্পদ হতে আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় ব্যয় করা ঈমানের পরিচায়ক।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫৭-৬১ নং আয়াতের তাফসীর:
মহান আল্লাহ বলেন যে, ইহসান ও ঈমানের সাথে সাথে সৎ কাজ করা এবং এরপরেও আল্লাহর ভয়ে প্রকম্পিত হওয়া মুমিনের বিশেষণ। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, মুমিন ভাল কাজ করে এবং সাথে সাথে আল্লাহকে ভয় করতে থাকে। পক্ষান্তরে মুনাফিক খারাপ কাজ করে, আবার আল্লাহ থেকে নির্ভয় থাকে।
ঘোষিত হচ্ছেঃ তারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে। যেমন মহান আল্লাহ হযরত মারইয়াম (আঃ)-এর গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সে তার প্রতিপালকের কালেমা ও কিতাবসমূহর্কে সত্য বলে জেনেছিল।” (৬৬: ১২) অর্থাৎ তিনি আল্লাহ তাআলার ক্ষমতা, ইচ্ছা ও শরীয়তের উপর পূর্ণ আস্থা রাখতেন। তাঁর আদিষ্ট প্রতিটি কাজকে তিনি ভালবাসতেন। আর তাঁর নিষেধকৃত প্রতিটি কাজকে তিনি অপছন্দ করতেন।
আল্লাহ তা'আলার উক্তিঃ তারা তাদের প্রতিপালকের সাথে শরীক করে না বরং তাকে এক বলে বিশ্বাস করে। তারা স্বীকার করে যে, আল্লাহ সম্পূর্ণরূপে অভাবমুক্ত। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান নেই। তিনি অতুলনীয়। তাঁর সমকক্ষ কেউই নেই। তাঁর নামে তারা দান-খয়রাত করে থাকে। কিন্তু তা ককূল হবে কি না এ ভয় তাদের অন্তরে থাকে। তাই আল্লাহর পথে খরচ করার সময় তারা ভীত-কম্পিত হয়। হযরত সাঈদ ইবনে অহাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) জিজ্ঞেস করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যারা যা দান করার তা দান করে ভীত-কম্পিত হৃদয়ে’-এর দ্বারা কি ঐ লোকদেরকে বুঝানো হয়েছে যারা চুরি করে, ব্যভিচার করে এবং মদ্যপান করে, অতঃপর মহামহিমান্বিত আল্লাহকে ভয় করে?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হে আবু বকর (রাঃ)-এর কন্যা! হে সিদ্দীক (রাঃ)-এর কন্যা। না, তারা নয়; বরং যারা নামায পড়ে, রোযা রাখে এবং দান-খয়রাত করে, অথচ আল্লাহকে ভয় করে তাদেরকেই বুঝানো হয়েছে।” (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে। জামেউত তিরমিযী ও মুসনাদে ইবনে আবি হাতিমেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। তাতে আছেঃ “হে সিদ্দীক (রাঃ)-এর কন্যা! না, তারা নয়, বরং যারা নামায পড়ে, রোযা রাখে এবং দান-খয়রাত করে অথচ ওগুলো কবুল হয় কি-না এজন্যে সদা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে তাদেরকেই বুঝানো হয়েছে)
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ ‘তারাই দ্রুত সম্পাদন করে কল্যাণকর কাজ এবং তারা তাতে অগ্রগামী হয়। (আরবী) অন্য কিরাতে (আরবী) রয়েছে। অর্থাৎ তারা যা করার তা করে থাকে, কিন্তু তাদের অন্তর থাকে ভীত-সন্ত্রস্ত।
বর্ণিত আছে যে, হযরত আবু আসিম (রাঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করেন। তখন তিনি তাকে মারহাবা বলে সাদর সম্ভাষণ জানান এবং বলেনঃ “তুমি মাঝে মাঝে আমাকে দর্শন দান কর না কেন?` উত্তরে তিনি বলেনঃ “আপনি হয়তো বিরক্তিবোধ করবেন এ জন্যেই আসি না। আজকে একটি আয়াতের শব্দগুলোর বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যেই আগমন করেছি। রাসূলুল্লাহ (সঃ) কিভাবে এটা পড়তেন তা আমি জানতে চাই।” হযরত আয়েশা (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ “ওটা কোন আয়াত?` তিনি জবাবে বললেনঃ “আয়াতটি হলোঃ (আরবী)
উনি এভাবে পাঠ করতেন, না (আরবী) এভাবে পাঠ করতেন?” হযরত আয়েশা (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ “এ দুটোর মধ্যে কোনটি তোমার নিকট অধিক পছন্দনীয়?” তিনি উত্তরে বললেনঃ (আরবী) এরূপভাবে পঠিত হয়ে থাকলে আমি যেন সারা দুনিয়াই পেয়ে যাবো, এমনকি এর চেয়েও বেশী আমি আনন্দিত হবো।” তখন হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ তুমি শুনে খুশী হও যে, আল্লাহর শপথ! আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে। এই আয়াতটি এভাবেই পড়তে শুনেছি। (এটা মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে। এর একজন বর্ণনাকারী হলেন ইসমাঈল ইবনে মুসলিম। তিনি দুর্বল। বর্তমানে কুরআনে যেরূপ আছে এটাই প্রসিদ্ধ সাতটি কিরআত ও জমহূরের কিরাত। অর্থের দিক দিয়েও এটাই বেশী প্রকাশমান। কেননা, তাদেরকে অগ্রগামী বলা হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় কিরআতটি নিলে তারা অগ্রগামী থাকেন না। বরং মধ্যম হালকা হয়ে যান। এসব ব্যাপারে আল্লাহই বেশী ভাল জানেন)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।