আল কুরআন


সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 43)

সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 43)



হরকত ছাড়া:

ما تسبق من أمة أجلها وما يستأخرون ﴿٤٣﴾




হরকত সহ:

مَا تَسْبِقُ مِنْ اُمَّۃٍ اَجَلَهَا وَ مَا یَسْتَاْخِرُوْنَ ﴿ؕ۴۳﴾




উচ্চারণ: মা-তাছবিকুমিন উম্মাতিন আজালাহা-ওয়ামা-ইয়াছতা’খিরূন।




আল বায়ান: কোন জাতি থেকে তার নির্দিষ্ট মেয়াদ এগিয়ে আসে না এবং বিলম্বিতও হয় না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৩. কোন জাতিই তার নির্ধারিত কালকে ত্বরান্বিত করতে পারে না, বিলম্বিতও করতে পারে না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: কোন জাতিই তাদের নির্দিষ্ট কালকে অগ্র পশ্চাৎ করতে পারে না।




আহসানুল বায়ান: (৪৩) কোন জাতিই তার নির্ধারিত কালকে ত্বরান্বিত করতে পারে না, বিলম্বিতও করতে পারে না। [1]



মুজিবুর রহমান: কোন জাতিই তার নির্ধারিত কালকে ত্বরান্বিত করতে পারেনা, আর না পারে বিলম্বিত করতে।



ফযলুর রহমান: কোন জাতি তার নির্ধারিত সময়কে এগিয়ে আনতে পারে না, কিংবা তা বিলম্বিতও করতে পারে না।



মুহিউদ্দিন খান: কোন সম্প্রদায় তার নির্দিষ্ট কালের অগ্রে যেতে পারে না। এবং পশ্চাতেও থকাতে পারে না।



জহুরুল হক: কোনো সম্প্রদায়ই তার নির্ধারিত কাল ত্বরান্বিত করতে পারবে না, আর তা বিলন্বিত করতেও পারবে না।



Sahih International: No nation will precede its time [of termination], nor will they remain [thereafter].



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৩. কোন জাতিই তার নির্ধারিত কালকে ত্বরান্বিত করতে পারে না, বিলম্বিতও করতে পারে না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৩) কোন জাতিই তার নির্ধারিত কালকে ত্বরান্বিত করতে পারে না, বিলম্বিতও করতে পারে না। [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, সকল জাতিই নূহ ও আদ জাতির মত ধ্বংসের নির্দিষ্ট সময় আসার সাথে সাথে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল; এক সেকেন্ড্ও এদিক ওদিক হয়নি। {لِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ إِذَا جَاء أَجَلُهُمْ فَلاَ يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلاَ يَسْتَقْدِمُونَ} অর্থাৎ, প্রত্যেক উম্মতের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়-সীমা আছে; যখন তাদের সেই নির্দিষ্ট সময় এসে পৌঁছে যাবে, তখন তারা মুহূর্তকাল না বিলম্ব করতে পারবে, আর না ত্বরা করতে পারবে। (সূরা ইউনুস ৪৯ আয়াত)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪২-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর:



সালেহ (عليه السلام)-এর জাতি সামুদকে তাদের অবাধ্যতার কারণে ধ্বংস করার পর আল্লাহ তা‘আলা আরো অনেক জাতি নিয়ে এসেছিলেনন যেমন লূত, শু‘আইব, আইয়ুব ও ইউনুস প্রমুখ নাবীর জাতি। যেমন সূরা আ‘রাফে ও হুদে তাদের ঘটনাগুলো অনুরূপ আলোচিত হয়েছে। قرون শব্দটি قرن এর বহুবচন। অর্থ যুগ, কাল; এখানে জাতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেহেতু কালক্রমে জাতির উত্থান-পতন সেহেতু এ অর্থে ব্যবহৃত হয়।



(مَا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ)



অর্থাৎ দুনিয়াতে আসার জন্য যে জাতির যে সময় নির্ধারিত ছিল তারা সে সময়েই আগমন করেছে, অগ্র-পশ্চাত হয়নি এবং যে সময়ে বিদায় নেয়ার সে সময়েই বিদায় নিয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ ط إِذَا جَا۬ءَ أَجَلُهُمْ فَلَا يَسْتَأْخِرُوْنَ سَاعَةً وَّلَا يَسْتَقْدِمُوْنَ)



“প্রত্যেক জাতির এক নির্দিষ্ট সময় আছে; যখন তাদের সময় আসবে তখন তারা মুহূর্তকালও আগপিছ করতে পারবে না।” (সূরা ইউনুস ১০:৪৯)



تَتْرَا অর্থ ধারাবাহিকভাবে আসা, একের পর এক আসা। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা ধারাবাহিকভাবে রাসূল প্রেরণ করেছেন। এমন নয় যে, কোন জাতির কাছে প্রেরণ করেছেন আর কোন জাতির কাছে প্রেরণ করেননি। যেমন সূরা নাহলের ৩৬ নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক জাতির লোকেরাই রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। তাই আল্লাহ তা‘আলা আফসোস করে বলেন:



(يَا حَسْرَةً عَلَي الْعِبَادِ مَا يَأْتِيْهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ إِلَّا كَانُوْا بِه۪ يَسْتَهْزِئُوْنَ)



“আফসোস বান্দাদের জন্য! তাদের কাছে কখনও এমন কোন রাসূল আসেনি, যাকে নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করেনি।” (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৩০)



(فَأَتْبَعْنَا بَعْضَهُمْ بَعْضًا)



অর্থাৎ তারা যেমন রাসূলের প্রতি ঈমান আনেনি আমিও তাদেরকে একের পর এক ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের ধ্বংসের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই বাকী নেই, এসব কাহিনী পরবর্তীদের উপদেশ গ্রহণের জন্য রেখে দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(فَقَالُوْا رَبَّنَا بَاعِدْ بَيْنَ أَسْفَارِنَا وَظَلَمُوْآ أَنْفُسَهُمْ فَجَعَلْنٰهُمْ أَحَادِيْثَ وَمَزَّقْنٰهُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ ط إِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوْرٍ)



“কিন্তু তারা বলল: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ভ্রমণের পরিসর বাড়িয়ে দিন। তারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল। ফলে আমি তাদেরকে কাহিনীর বস্তুতে পরিণত করে দিলাম এবং সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন-ভিন্ন করে দিলাম। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে দৃষ্টান্ত প্রত্যেক ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য।” (সূরা সাবা ৩৪:১৯)



সুতরাং রাসূলদের দাওয়াতে যারা সাড়া দিয়ে ঈমান আনবে তারাই সফলকাম, আর যারা তাদের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করবে তাদের জন্য দুর্ভোগ।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক জাতির কাছে রাসূল প্রেরণ করেছেন যাতে কিয়ামতের দিন কেউ অভিযোগ করতে না পারে।

২. প্রত্যেক জাতি নির্ধারিত সময়ে আগমন করে আবার নির্ধারিত সময়ে চলে যায়।

৩. যারা রাসূলদের ডাকে সাড়া দেয়নি তাদের পরিণাম খুবই ভয়াবহ হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪২-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তাদের পরে বহু জাতির আগমন ঘটেছিল। যাদেরকে আমিই সৃষ্টি করেছিলাম। আমি তাদের জন্যে যে কাল নির্ধারণ করেছিলাম তা পূর্ণ হয়েছিল। তা ত্বরান্বিত হয়নি এবং বিলম্বিতও হয়নি। আমি একের পর এক রাসূল পাঠিয়েছি। প্রত্যেক জাতির কাছে রাসূল এসেছেন। তিনি তাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। তারা তাদেরকে বলেছেনঃ তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর এবং তার ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সঠিক পথে এসে যায় এবং কারো কারো উপর আল্লাহর শাস্তি অবতীর্ণ হয়। অধিকাংশ জাতিই তাদের নবীকে অস্বীকার করে। যেমন সূরায়ে ইয়াসীনে মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “পরিতাপ বান্দাদের জন্যে! তাদের নিকট যখনই কোন রাসূল এসেছে তখনই তারা তাকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে।”(৩৬:৩০)

আল্লাহ পাক বলেনঃ আমি তাদের একের পর এককে ধ্বংস করে দিয়েছি। যেমন অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ ‘নূহ (আঃ)-এর পরেও আমি বহু জনপদকে ধ্বংস করেছি। (১৭:১৭)

মহান আল্লাহর উক্তিঃ আমি তাদেরকে কাহিনীর বিষয় করেছি। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সুতরাং আমি তাদেরকে কাহিনীর বিষয় করেছি এবং তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে টুকরা টুকরা করে ফেলেছি।” (৩৪:১৯)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।