সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 118)
হরকত ছাড়া:
وقل رب اغفر وارحم وأنت خير الراحمين ﴿١١٨﴾
হরকত সহ:
وَ قُلْ رَّبِّ اغْفِرْ وَ ارْحَمْ وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَ ﴿۱۱۸﴾
উচ্চারণ: ওয়া কুর রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুররা-হিমীন।
আল বায়ান: আর বল, ‘হে আমাদের রব, আপনি ক্ষমা করুন, দয়া করুন এবং আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১৮. আর বলুন, হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, আর আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
তাইসীরুল ক্বুরআন: কাজেই বল : ‘হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা কর ও রহম কর, তুমি রহমকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’
আহসানুল বায়ান: (১১৮) বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি ক্ষমা কর ও দয়া কর, দয়ালুদের মধ্যে তুমিই তো শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
মুজিবুর রহমান: বলঃ হে আমার রাব্ব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, দয়ালুদের মধ্যে আপনিইতো শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
ফযলুর রহমান: আর বল, “হে প্রভু! ক্ষমা করো ও দয়া কর। তুমিই তো শ্রেষ্ঠ দয়াকারী।”
মুহিউদ্দিন খান: বলূনঃ হে আমার পালনকর্তা, ক্ষমা করুন ও রহম করুন। রহমকারীদের মধ্যে আপনি শ্রেষ্ট রহমকারী।
জহুরুল হক: বলো -- "আমার প্রভু! পরিত্রাণ করো, আর দয়া করো, কেননা তুমিই তো করুণাময়দের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।"
Sahih International: And, [O Muhammad], say, "My Lord, forgive and have mercy, and You are the best of the merciful."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১১৮. আর বলুন, হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, আর আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১১৮) বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি ক্ষমা কর ও দয়া কর, দয়ালুদের মধ্যে তুমিই তো শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১১৭-১১৮ নং আয়াতের তাফসীর:
بُرْهَانَ অর্থ সুস্পষ্ট প্রমাণ যা সত্যের ব্যাপারে কোন সংশয় রাখে না। অর্থাৎ যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্য মা‘বূদের ইবাদত করে তাদের এ বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই। আল্লাহ তা‘আলা বিগত কোন কিতাব নাযিল করেননি বা কোন রাসূল প্রেরণ করেননি যারা একথা বলেছেন যে, আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্য মা‘বূূদের ইবাদত করা যাবে । আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَيَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِه۪ سُلْطٰنًا وَّمَا لَيْسَ لَهُمْ بِه۪ عِلْمٌ ط وَمَا لِلظّٰلِمِيْنَ مِنْ نَّصِيْرٍ)
“এবং তারা ইবাদত করে আল্লাহ তা‘আলার পরিবর্তে এমন কিছুর যার সম্পর্কে তিনি কোন দলীল প্রেরণ করেননি এবং যার সম্বন্ধে তাদের কোন জ্ঞান নেই। আর জালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরা হজ্জ ২২:৭১)
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(لَا تَجْعَلْ مَعَ اللّٰهِ إلٰهًا اٰخَرَ فَتَقْعُدَ مَذْمُوْمًا مَّخْذُوْلًا)
“আল্লাহ তা‘আলার সাথে অপর কোন ইলাহ্ সাব্যস্ত কর না; করলে নিন্দিত ও লাঞ্ছিত হয়ে পড়বে।” (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭:২২) যেহেতু তারা বিনা দলীলে আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্য মা‘বূদের ইবাদত করে সেহেতু তাদের হিসাব আল্লাহ তা‘আলার দায়িত্বে। এখান থেকে বুঝা যাচ্ছেন মুশরিকরা আখিরাতে সফলকাম হবে না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা যার হিসাব নেবেন সে কোনদিন সফল হতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যার হিসাব নেয়া হবে তাকে শাস্তি দেয়া হবে। (সহীহ বুখারী হা: ১০৩) সুতরাং প্রকৃত সফলতা আখিরাতের সফলতা, শুধুমাত্র দুনিয়ার ধন-দৌলত ও ক্ষমতা সফলতার মাপকাঠি নয়। এ সব তো পৃথিবীতে কাফিরদেরও রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাদের সফলতাকে নাকচ করে দিলেন।
সূরার সর্বশেষে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলছেন, তুমি বল, হে আল্লাহ তা‘আলা আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার প্রতি রহম করুন, আপনি সর্বোত্তম রহমকারী। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষ্পাপ ও রহমতপ্রাপ্তই ছিলেন। এতদসত্ত্বেও তাঁকে ক্ষমা প্রার্থনা ও রহমতের দু‘আ শিক্ষা দেয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটা উম্মতকে শিক্ষা দেয়ার জন্য যে, তোমাদের এ ব্যাপারে খুবই যত্মবান হওয়া উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্য মা‘বূদের ইবাদতের স্বপক্ষে কোন প্রমাণ নেই।
২. কিয়ামতের দিন যাদের হিসাব নেয়া হবে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।
৩. বেশি বেশি আল্লাহ তা‘আলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১১৭-১১৮ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা মুশরিকদেরকে ধমকের সুরে বলছেন যে, তারা যে শিরক করছে এর কোন দলীল প্রমাণ ও যুক্তি তাদের কাছে নেই। এটা হলো (আরবি) এবং শরতের জাযা। (আরবি) এর মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ এর হিসাব আল্লাহর কাছে রয়েছে। কাফির তাঁর কাছে কৃতকার্য হতে পারে না। সে পরিত্রাণ লাভে বঞ্চিত হবে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) একটি লোককে জিজ্ঞেস করেনঃ “তুমি কার উপাসনা কর?” উত্তরে লোকটি বলেঃ “আল্লাহর এবং অমুক অমুকের (আমি উপাসনা করে থাকি)।” পুনরায় রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে প্রশ্ন করেনঃ “এদের মধ্যে কাকে তুমি তোমার বিপদের সময় ডেকে থাকো এবং তিনি তোমাকে বিপদ থেকে মুক্তি দান করে থাকেন?” জবাবে সে বলেঃ “তিনি হলেন একমাত্র মহামহিমান্বিত আল্লাহ।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে বলেনঃ “তাহলে তার সাথে অন্যদের ইবাদত করার তোমার কি প্রয়োজন? তুমি কি মনে কর যে, তিনি একাই তোমার জন্যে যথেষ্ট হবেন না?” সে উত্তর দেয়ঃ “এ কথা আমি বলতে পারি না। তবে তাঁর সাথে অন্যদের উপাসনা করি এই উদ্দেশ্যে যে, এর মাধ্যমে পুরোপুরিভাবে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “সুবহানাল্লাহ! জ্ঞানের সাথে এই অজ্ঞতা? তুমি জান অথচ অজ্ঞ হচ্ছো?” এরপর সে আর কোন জবাব দিতে পারলো না। পরে সে মুসলমান হয়েছিল। ইসলাম গ্রহণের পর সে বলেঃ “আমি এমন একটি লোকের সাথে মিলিত হয়েছি যিনি তর্কে আমার উপর জয়যুক্ত হয়েছেন।” (এ হাদীসটি মুরসাল। ইমাম তিরমিযী (রঃ)-ও এটা বর্ণনা করেছেন)
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ (হে নবী সঃ)! তুমি বলঃ হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, দয়ালুদের মধ্যে আপনিই তো শ্রেষ্ঠ দয়ালু। আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি একটি প্রার্থনার বাক্য, যা বান্দাদেরকে বলতে বলা হয়েছে (আরবি) শব্দের সাধারণ অর্থ হলো পাপরাশি মিটিয়ে দেয়া এবং ওগুলো লোকদের থেকে গোপন রাখা। আর (আরবি) এর অর্থ হলো সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত থাকা এবং ভাল কথা ও কাজের তাওফীক দেয়া।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।