সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 104)
হরকত ছাড়া:
تلفح وجوههم النار وهم فيها كالحون ﴿١٠٤﴾
হরকত সহ:
تَلْفَحُ وُجُوْهَهُمُ النَّارُ وَ هُمْ فِیْهَا کٰلِحُوْنَ ﴿۱۰۴﴾
উচ্চারণ: তালফাহুউজূহাহুমুন্না-রু ওয়া হুম ফীহা-কা-লিহূন।
আল বায়ান: আগুন তাদের চেহারা দগ্ধ করবে, সেখানে তারা হবে বীভৎস চেহারাবিশিষ্ট।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৪. আগুন তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারায়(১);
তাইসীরুল ক্বুরআন: আগুন তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে আর তারা বীভৎস চেহারা নিয়ে তার ভিতরে দাঁত কটমট করতে থাকবে।
আহসানুল বায়ান: (১০৪) আগুন তাদের মুখমন্ডলকে দগ্ধ করবে[1] এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারায়।[2]
মুজিবুর রহমান: আগুন তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারায়।
ফযলুর রহমান: আগুন তাদের মুখমণ্ডল পুড়ে ফেলবে এবং সেখানে তাদের চেহারা বীভৎস হবে।
মুহিউদ্দিন খান: আগুন তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা তাতে বীভৎস আকার ধারন করবে।
জহুরুল হক: আগুন তাদের মুখ পুড়িয়ে দেবে। আর তারা সেখানে হবে বিকৃত-বীভৎস।
Sahih International: The Fire will sear their faces, and they therein will have taut smiles.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১০৪. আগুন তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারায়(১);
তাফসীর:
(১) আয়াতে এসেছে তারা كالح অবস্থায় থাকবে। যার অর্থ করা হয়েছে বীভৎস চেহারা। অবশ্য অভিধানে كالح এমন ব্যক্তিকে বলা হয়, যার ওষ্ঠীদ্বয় মুখের দাঁতকে আবৃত করে না। এক ওষ্ঠ উপরে উত্থিত এবং অপর ওষ্ঠ নীচে ঝুলে থাকে, ফলে দাঁত বের হয়ে থাকে। এটা খুব বীভৎস আকার হবে। জাহান্নামে জাহান্নামী ব্যক্তির ওষ্ঠদ্বয়ও তদ্রুপ হবে এবং দাঁত খোলা ও বেরিয়ে থাকবে। [দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১০৪) আগুন তাদের মুখমন্ডলকে দগ্ধ করবে[1] এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারায়।[2]
তাফসীর:
[1] মুখমন্ডলের কথা এই জন্য উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ মানব দেহে সবচেয়ে গুরুত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ অঙ্গ হল মুখমন্ডল। নচেৎ পুরো দেহটাই তো জাহান্নামের আগুনে পুড়তে থাকবে।
[2] শব্দের অর্থ হল, ঠোঁট জড়ো হয়ে দাঁত বেরিয়ে যাওয়া। ঠোঁট যেন দাঁতের পোশাক। যখন জাহান্নামের আগুনে ঠোঁট সংকুচিত ও জড়ো হয়ে যাবে, তখন দাঁতগুলি প্রকাশ পাবে এবং তার ফলে মানুষের চেহারা হবে বীভৎস ও ভয়ানক।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০১-১০৪ নং আয়াতের তাফসীর:
..... فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّوْرِ
‘এবং যেদিন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে’ এখানে যে ফুৎকারের কথা বলা হয়েছে তা দ্বিতীয় ফুঁৎকার (যদি ফুঁৎকার দুটি হয়) এ ফুঁৎকার দিলে মানুষ পুনরুত্থিত হবে, হাশরের ময়দানে একত্রিত হবে।
فَلَآ أَنْسَابَ অর্থাৎ দুনিয়াতে যেমন আত্মীয়দের নিয়ে গর্ব করত, এক জনের দ্বারা অন্য জন উপকৃত হত সেখানে তা হবে না। প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে যে, না জানি তার কী হয়। মূল আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে তা বলা হয়নি। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(یَوْمَ یَفِرُّ الْمَرْئُ مِنْ اَخِیْھِﭱﺫ وَاُمِّھ۪ وَاَبِیْھِﭲﺫ وَصَاحِبَتِھ۪ وَبَنِیْھِ)
“সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার নিজের ভাই হতে, এবং তার মাতা, তার পিতা, তার স্ত্রী ও তার সন্তান হতে।” (সূরা আবাসা ৮০:৩৪-৩৬) সুতরাং আত্মীয় থাকবে কিন্তু কেউ কাউকে জিজ্ঞাসা করবে না, যদি কিছু চেয়ে বসে। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন: কিয়ামতের দিন বংশ নিয়ে গর্ব করবে না যেমন দুনিয়াতে করত, দুনিয়াতে যেমন একজন অন্যজনের খোঁজ খবর নিত কিয়ামতের দিন তেমন কেউ কারো খোঁজ-খবর নিবে না। (তাফসীর কুরতুবী)
(وَّلَا يَتَسَا۬ءَلُوْنَ)
‘এবং একে অপরের খোঁজ-খবর নিবে না’। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে তারা একজন অপরজনের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করবে। (সূরা সাফফাত ৩৭:৫০) এখানে জিজ্ঞাসা করবে না বা খোঁজ-খবর নিবে না বলা হয়েছে। আর প্রাথমিক অবস্থায় এমন হবে এবং পরবর্তীতে পরস্পরে চিনবে ও পরস্পরে জিজ্ঞাসা করবে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: যার নেকীর পাল্লা ভারী হবে সে সফলকাম হবে আর যার নেকীর পাল্লা হালকা হবে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَاَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِیْنُھ۫ﭕﺫ فَھُوَ فِیْ عِیْشَةٍ رَّاضِیَةٍﭖﺚ وَاَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِیْنُھ۫ﭗﺫ فَاُمُّھ۫ ھَاوِیَةٌﭘﺚ وَمَآ اَدْرٰٿکَ مَا ھِیَھْﭙﺚ نَارٌ حَامِیَةٌﭚ)
“অতএব যার পাল্লা ভারী হবে, সে সন্তোষজনক জীবন যাপন কররে, আর যার পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে হাবিয়া। তুমি কি জান তা কী? প্রজ্জ্বলিত অগ্নি।” (সূরা কারিয়া ১০১:৬-১১) এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৮-৯ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
تَلْفَحُ কঠিনভাবে পুড়ে ফেলা। অর্থাৎ জান্নামের আগুন তাদের চেহারা পুড়িয়ে ফেলবে। كٰـلِحُوْنَ অর্থ ঠোঁট জড়ো হয়ে দাঁত বেরিয়ে যাওয়া। জাহান্নামের আগুন তাদের চেহারা এমনভাবে দগ্ধ করবে যে, তাদের ঠোঁট পুড়ে জড়ো হয়ে যাবে ফলে দাঁত দেখা যাবে যা দেখতে হবে বিভৎস। মোট কথা তাদের মর্মান্তিক শাস্তি দেয়া হবে। আল্লাহ তা‘আলা বাণী:
(وَمَنْ جَا۬ءَ بِالسَّيِّئَةِ فَكُبَّتْ وُجُوْهُهُمْ فِي النَّارِ ط هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ)
“যে কেউ অসৎ কর্ম নিয়ে আসবে, তাকে অধোমুখে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে (এবং তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে।” (সূরা নামল ২৭:৯০)
এ সম্পর্কে কুরআনের বহু জায়গায় আলোচনা রয়েছে। যেমন সূরা আ‘রাফের ৬৬ নং, যুমারের ২৪ নং ও সূরা কাহফের ২৯ নং আয়াতে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কিয়ামতের দিন যখন মানুষ কবর থেকে জীবিত হয়ে বের হবে তখন কারো সাথে কারো কোন সম্পর্ক থাকবে না।
২. যারা ভাল কাজ করবে তারা জান্নাতে যাবে, আর যারা মন্দ কাজ করবে তারা জাহান্নামে যাবে।
৩. জাহান্নামীদেরকে লাঞ্ছিতভাবে আগুনের শাস্তি দেয়া হবে।
৪. জাহান্নামের আগুন মানুষের চেহারাকে পুড়িয়ে বীভৎস করে দিবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০১-১০৪ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, যখন পুনরুত্থানের জন্যে শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং মানুষ জীবিত হয়ে কবর হতে বেরিয়ে পড়বে তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে এবং একে অপরের কোন খোঁজ খবর নিবে না। না পিতার সন্তানের উপর কোন ভালবাসা থাকবে, না সন্তান পিতার দুঃখে দুঃখিত হবে। অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সুহৃদ সুহৃদের তত্ত্ব নিবে না, তাদের এককে অপরের দৃষ্টি গোচর করা হবে।” (৭০-১০-১১) আর এক জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সেই দিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভ্রাতা হতে, তার মাতা, তার পিতা, তার পত্নী ও তার সন্তান হতে।” (৮০:৩৪-৩৬)
হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী লোকদেরকে একত্রিত করবেন। অতঃপর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেনঃ “যার কোন হক অন্যের উপর রয়েছে সে যেন এসে তার হক তার নিকট থেকে নিয়ে যায়।” এ কথা শুনে কারো হক তার পিতার উপর থাকলে বা পুত্রের উপর থাকলে অথবা স্ত্রীর উপর থাকলে সেও আনন্দিত হয়ে দৌড়িয়ে আসবে এবং নিজের হক বা প্রাপ্যের জন্যে তার কাছে তাগাদা শুরু করে দেবে। যেমন এই আয়াতে রয়েছে। (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ফাতেমা (রাঃ) আমার দেহের একটা অংশ। যে তাকে কষ্ট দেয় সে আমাকেও কষ্ট দেয়। আর যে তাকে খুশী করে সে আমাকেও খুশী করে। কিয়ামতের দিন সমস্ত আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে, কিন্তু আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হবে না।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
এই হাদীসের মূল সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমেও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ফাতেমা (রাঃ) আমার দেহের একটা অংশ। তাকে অসন্তুষ্টকারী ও কষ্টদানকারী আমাকেও অসন্তুষ্টকারী ও কষ্টদানকারী।”
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছেনঃ “লোকদের কি হয়েছে যে, তারা বলে-রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর আত্মীয়তার সম্পর্কও তাঁর কওমের কোন উপকারে আসবে না? আল্লাহর শপথ! আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক দুনিয়া ও আখিরাতে মিলিতভাবে রয়েছে। হে লোক সকল! আমি তোমাদের আসবাব পত্রের রক্ষক হবো যখন তোমরা আসবে।” একটি লোক বলবেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি অমুকের পুত্র অমুক।” আমি উত্তরে বলবোঃ “হ্যা, আমি বংশ চিনে নিয়েছি। কিন্তু আমার পরে তুমি বিদআতের আবিষ্কার করেছিলে এবং উল্টো পদে ফিরে গিয়েছিলে।” (এ হাদীসটিও মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে)
আমীরুল মুমিনীন হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর মুসনাদে কয়েকটি সনদের মাধ্যমে আমরা বর্ণনা করেছি যে, যখন তিনি হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ)-এর কন্যা উম্মে কুলসুম (রাঃ)-কে বিয়ে করেন তখন তিনি বলতেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ “কিয়ামতের দিন সমস্ত মূল ও বংশের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে, কিন্তু আমার বংশ ও মূলের সম্পর্ক ছিন্ন হবে না।” এটাও বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার (রাঃ) হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ)-এর মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে তাঁর মোহরর ধার্য করেছিলেন চল্লিশ হাজার (দিরহাম)।
হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন আমার বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়া সমস্ত বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।” (এ হাদীসটি হাফিয ইবনে আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমি আমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেছি যে, যেখানে আমার বিয়ে হয়েছে এবং যার সাথে আমি বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হয়েছি তারা সবাই যেন জান্নাতে আমার সঙ্গ লাভ করে। আল্লাহ তা'আলা আমার এ দু'আ কবুল করেছেন।”
মহান আল্লাহ বলেনঃ যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম। যার একটি মাত্র পুণ্য পাপের উপর বেশী হবে সেই পরিত্রাণ পেয়ে যাবে। সে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাবে এবং জান্নাতে প্রবেশ লাভ করবে। তার উদ্দেশ্য সফল হবে এবং যা থেকে সে ভয় করতো তা থেকে সে বেঁচে যাবে। পক্ষান্তরে, যাদের পাল্লা হালকা হবে, অর্থাৎ পুণ্যের চেয়ে পাপ বেশী হয়ে যাবে তারা হবে চরমভাবে ক্ষগ্রিস্ত।
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন একজন ফেরেশতা দাঁড়িপাল্লার উপর নিযুক্ত থাকবেন যিনি প্রত্যেক মানুষকে দাড়ি-পাল্লার দুই পাল্লার মাঝে দাঁড় করিয়ে দিবেন। অতঃপর পাপ ও পুণ্য ওজন করা হবে। যদি পুণ্য বেশী হয়ে যায় তবে তিনি উচ্চ স্বরে ঘোষণা করবেনঃ “অমুকের পুত্র অমুক মুক্তি পেয়ে গেছে। এরপর ক্ষতি ও ধ্বংস তার কাছেও যাবে না। আর যদি পাপ বেশী হয়ে যায় তবে সবারই সামনে তিনি উচ্চ স্বরে ঘোষণা করবেনঃ “অমুকের পুত্র অমুক ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন সে কল্যাণ লাভে বঞ্চিত হয়েছে।” (এটা হাফিয আবু বকর আল বাযযার (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এর সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারী দাউদ ইবনে হাজর দুর্বল ও বর্জনীয়)
মহান আল্লাহর উক্তিঃ তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে। অর্থাৎ তারা চিরদিনই জাহান্নামে থাকবে। কখনো তাদেরকে তা থেকে বের করা হবে না। অগ্নি তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে। আগুনকে সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা তাদের হবে না।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “প্রথম অগ্নিশিখা তাদেরকে জড়িয়ে ধরামাত্রই তাদের গোশ্ত অস্থি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং তাদের পায়ের উপর পড়ে যাবে। (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিমে বর্ণিত হয়েছে) ফলে তাদের চেহারা বীভৎস ও বিকৃত হয়ে যাবে। দাঁত বের হয়ে থাকবে, ওষ্ঠ উপরের দিকে উঠে যাবে এবং অধর নীচের দিকে নেমে থাকবে। উপরের ঠোট তালু পর্যন্ত উঠে যাবে এবং নীচের ঠোট নাভী পর্যন্ত নেমে আসবে।” (এটা মুসনাদে আহমাদে হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে মারফু’রূপে বর্ণিত আছে)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।