আল কুরআন


সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 100)

সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 100)



হরকত ছাড়া:

لعلي أعمل صالحا فيما تركت كلا إنها كلمة هو قائلها ومن ورائهم برزخ إلى يوم يبعثون ﴿١٠٠﴾




হরকত সহ:

لَعَلِّیْۤ اَعْمَلُ صَالِحًا فِیْمَا تَرَکْتُ کَلَّا ؕ اِنَّهَا کَلِمَۃٌ هُوَ قَآئِلُهَا ؕ وَ مِنْ وَّرَآئِهِمْ بَرْزَخٌ اِلٰی یَوْمِ یُبْعَثُوْنَ ﴿۱۰۰﴾




উচ্চারণ: লা‘আললীআ‘মালুসা-লিহান ফীমা-তারাকতুকাল্লা- ইন্নাহা-কালিমাতুন হুওয়া কাইলুহা- ওয়ামিওঁ ওয়ারাইহিম বারযাখুন ইলা-ইয়াওমি ইউব‘আছূন।




আল বায়ান: যেন আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।’ কখনো নয়, এটি একটি বাক্য যা সে বলবে। যেদিন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন পর্যন্ত তাদের সামনে থাকবে বরযখ।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০০. যাতে আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি আগে করিনি।(১) না, এটা হবার নয়। এটা তো তার একটি বাক্য মাত্র যা সে বলবেই(২)৷ তাদের সামনে বার্‌যাখ(৩) থাকবে উত্থান দিন পর্যন্ত।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি যা আমি করিনি। কক্ষনো না, এটা তো তার একটা কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা থাকবে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত।




আহসানুল বায়ান: (১০০) যাতে আমি আমার ছেড়ে আসা জীবনে সৎকর্ম করতে পারি।’[1] না, এটা হবার নয়;[2] এটা তো তার একটা উক্তি মাত্র;[3] তাদের সামনে ‘বারযাখ’ (যবনিকা) থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।[4]



মুজিবুর রহমান: যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি যা আমি পূর্বে করিনি। না এটা হবার নয়; এটাতো তার একটা উক্তি মাত্র; তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিন পর্যন্ত।



ফযলুর রহমান: যাতে আমি যা রেখে এসেছি সেখানে (দুনিয়ার জীবনে) ভাল কাজ করতে পারি।” কিছুতেই তা হবার নয়, এটা তো একটা কথা যা সে বলবেই। (মৃত্যুর পর থেকে) যেদিন তাদেরকে পুনরায় উঠানো হবে সেদিন (কেয়ামতের দিন) পর্যন্ত তাদের পেছনে একটি প্রতিবন্ধক থাকবে।



মুহিউদ্দিন খান: যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি, যা আমি করিনি। কখনই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা আছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।



জহুরুল হক: "যেন আমি সৎকর্ম করতে পারি সেইখানে যা আমি ছেড়ে এসেছি।" কখনোই না! এ তো শুধু একটি মুখের কথা যা সে বলছে। আর তার সামনে রয়েছে 'বরযখ’ সেইদিন পর্যন্ত যখন তাদের পুনরুত্থান করা হবে।



Sahih International: That I might do righteousness in that which I left behind." No! It is only a word he is saying; and behind them is a barrier until the Day they are resurrected.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০০. যাতে আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি আগে করিনি।(১) না, এটা হবার নয়। এটা তো তার একটি বাক্য মাত্র যা সে বলবেই(২)৷ তাদের সামনে বার্–যাখ(৩) থাকবে উত্থান দিন পর্যন্ত।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ মৃত্যুর সময় যখন কাফের ব্যক্তি আখেরাতের আযাব অবলোকন করতে থাকে, তখন এরূপ বাসনা প্ৰকাশ করে, আফসোস, আমি যদি পুনরায় দুনিয়াতে ফিরে যেতাম এবং সৎকর্ম করে এই আযাব থেকে রেহাই পেতাম। [ইবন কাসীর] অন্য আয়াতেও এসেছে, “আর আমরা তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারও মৃত্যু আসার আগে। অন্যথায় মৃত্যু আসলে সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সাদাকাহ দিতাম ও সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম! আর যখন কারো নির্ধারিত কাল উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ তাকে কিছুতেই অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা আমল করা আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।” [সূরা আল-মুনাফিকূন: ১০–১১]

আরও এসেছে, “আর সেখানে তারা আর্তনাদ করে বলবে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে বের করুন, আমরা যা করতাম তার পরিবর্তে সৎকাজ করব।’ আল্লাহ বলবেন, “আমরা কি তোমাদেরকে এতো দীর্ঘ জীবন দান করিনি যে, তখন কেউ উপদেশ গ্ৰহণ করতে চাইলে উপদেশ গ্ৰহণ করতে পারতো? আর তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল। কাজেই শাস্তি আস্বাদন কর; আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।” [সূরা ফাতির: ৩৭] কিন্তু তাদের সে চাওয়া পূরণ করা হবে না। [ইবন কাসীর]


(২) অৰ্থাৎ ফেরত পাঠানো হবে না। নতুন করে কাজ শুরু করার জন্য তাকে আর দ্বিতীয় কোন সুযোগ দেয়া যেতে পারে না। তাছাড়া যদি তাদের কথামত তাদেরকে পাঠানোও হতো তারপরও তারা আবার অন্যায় করত। যেমন অন্য আয়াতে এসেছে, “আর তারা আবার ফিরে গেলেও তাদেরকে যা করতে নিষেধ করা হয়েছিল আবার তারা তাই করত” [সূরা আল-আন’আম: ২৮] [কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর]


(৩) ‘বারযাখ’ এর শাব্দিক অর্থ অন্তরায় ও পৃথককারী বস্তু। দুই অবস্থা অথবা দুই বস্তুর মাঝখানে যে বস্তু আড়াল হয় তাকে বারযাখ বলা হয়। [ফাতহুল কাদীর] এ কারণেই মৃত্যুর পর কেয়ামত ও হাশার পর্যন্ত কালকে বারযাখ বলা হয়। কারণ এটা দুনিয়ার জীবন ও আখেরাতের জীবনের মাঝখানে সীমা প্রাচীর। আয়াতের অর্থ এই যে, মরণোম্মুখ ব্যক্তির ফেরেশতাদেরকে দুনিয়াতে পাঠানোর কথা বলা শুধু একটি কথা মাত্র, যা সে বলতে বাধ্য। কেননা, এখন আযাব সামনে এসে গেছে। কিন্তু এখন এই কথার ফায়দা নেই। কারণ, সে বরযাখে পৌছে গেছে। বারযাখ থেকে দুনিয়াতে ফিরে আসে না এবং কেয়ামত ও হাশর-নশরের পূর্বে পুনর্জীবন পায় না, এটাই নিয়ম।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০০) যাতে আমি আমার ছেড়ে আসা জীবনে সৎকর্ম করতে পারি।’[1] না, এটা হবার নয়;[2] এটা তো তার একটা উক্তি মাত্র;[3] তাদের সামনে ‘বারযাখ’ (যবনিকা) থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।[4]


তাফসীর:

[1] এই কামনা প্রতিটি কাফের মৃত্যুর সময়, পুনর্জীবিত হওয়ার সময়, আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হওয়ার সময় এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ হওয়ার সময় করে থাকে ও করবে। কিন্তু এতে কোন লাভ হবে না। কুরআন কারীমে এ বিষয়টিকে বিভিন্ন জায়গায় বর্ণনা করা হয়েছে। যেমনঃ সূরা মুনাফিকূন ১০-১১, ইবরাহীম ৪৪, আ’রাফ ৫৩, সাজদাহ ১২, আনআম ২৭-২৮, শূরা ৪৪, মু’মিন ১১-১২, ফাত্বির ৩৭ আয়াত ইত্যাদি।

[2] كَلا শব্দটি ধমকরূপে প্রয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ এ রকম কখনই হবে না যে, তাদেরকে পৃথিবীতে পুনর্বার পাঠিয়ে দেয়া হবে।

[3] এর একটি অর্থ এই যে, এ রকম কথা তো প্রত্যেক কাফের তার মৃত্যুর সময় বলে থাকে। দ্বিতীয় অর্থ হল, এটা শুধু তাদের মুখের কথা; যা কাজে পরিণত হওয়ার নয়। অর্থাৎ, তাদেরকে পৃথিবীতে পুনর্বার পাঠিয়ে দেওয়া হলেও তাদের এ কথা কথাই থেকে যাবে; সৎকাজের সুমতি তাদের হবে না। যেমন, এক জায়গায় বলা হয়েছে ‘‘যদি তাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তাহলেও যা করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল তারা তাই করবে।’’ (সূরা আনআমঃ ২৮) ক্বাতাদাহ (রহঃ) বলেন, কাফেরদের এই কামনায় আমাদের জন্য বড় শিক্ষা রয়েছে। কাফের নিজ বংশে ও গোত্রে ফিরে যাওয়ার কামনা করবে না। বরং পৃথিবীতে সৎকর্ম করার কামনা করবে। সেই জন্য জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান মনে করে অধিকাধিক সৎকর্ম করা উচিত। যাতে কাল কিয়ামত দিবসে এ রকম কামনা করার প্রয়োজন না হয়। (ইবনে কাসীর)

[4] দুই জিনিসের মধ্যেকার পর্দা ও আড়ালকে ‘বারযাখ’ বলে। ইহকাল ও পরকাল জীবনের মধ্যকার যে একটি জীবন রয়েছে, তাকেই ‘বারযাখ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কারণ, মৃত্যুর পরপরই পৃথিবীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। আর আখেরাতের জীবন তখন শুরু হবে, যখন সমস্ত মানুষকে পুনর্বার জীবিত করা হবে। এর মধ্যকার জীবন যা কবরে বা পশু-পক্ষীর পেটে কিংবা পুড়িয়ে ছাই করে দিলে শেষ পর্যন্ত মাটির ধূলিকণা আকারে অতিবাহিত হয়, তাকে ‘বারযাখী জীবন’ বলে। মানুষের এই অস্তিত্ব যেখানেই থাক আর যেভাবেই থাক, শেষ পর্যন্ত মাটিতে মিশে মাটিতে পরিণত হবে অথবা ছাই হয়ে হাওয়ায় উড়ে যাবে, অথবা সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হবে অথবা কোন জন্তুর খাদ্যে পরিণত হবে। পরিশেষে মহান আল্লাহ সকলকে এক নতুন অস্তিত্ব দান করে হাশরের মাঠে জমা করবেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯৯-১০০ নং আয়াতের তাফসীর:



কাফির-মুশরিকদের যখন মৃত্যু উপস্থিত হবে তখন তারা আল্লাহ তা‘আলার কাছে যে আবেদন পেশ করবে সে কথা তুলে ধরা হয়েছে। মৃত্যুর কঠিন যন্ত্রণার মুখোমুখি হয়ে কাফির-মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলার কাছে আবেদন করবে: হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়াতে আবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিন, যাতে ফেলে আসা জীবনের ভুলগুলো সংশোধন করতে পারি। এ আকাক্সক্ষা প্রত্যেক কাফির-মুশরিক মৃত্যুর সময় করবে। যেমন তাদের উক্তি:



(وَلَوْ تَرٰٓي إِذِ الْمُجْرِمُوْنَ نٰكِسُوْا رُؤُوْسِهِمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ط رَبَّنَآ أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوْقِنُوْنَ)



“আর যদি তুমি দেখতে, যখন পাপীরা তাদের প্রতিপালকের সামনে স্বীয় মাথা নীচু করে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম, (এখন) তুমি আমাদেরকে পুনরায় (পৃথিবীতে) প্রেরণ কর; আমরা নেক কাজ করব। আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী হয়েছি।” (সূরা সাজদাহ ৩২:১২)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(وَأَنْفِقُوْا مِنْ مَّا رَزَقْنٰكُمْ مِّنْ قَبْلِ أَنْ يَّأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُوْلَ رَبِّ لَوْلَآ أَخَّرْتَنِيْٓ إِلٰٓي أَجَلٍ قَرِيْبٍ لا فَأَصَّدَّقَ وَأَكُنْ مِّنَ الصّٰلِحِيْنَ)



“আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তোমরা তা হতে ব্যয় কর তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে; (অন্যথায় মৃত্যু আসলে সে বলবে,) হে আমার প্রতিপালক! আমাকে যদি কিছু কালের জন্য অবকাশ দিতেন তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎ কর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।” (সূরা মুনাফিকূন ৬৩:১০-১১) এরূপ সূরা আন‘আমের ২৭-২৮ নং, ইবরাহীমের ৪৪ নং, সূরা আ‘রাফের ৫৩ নং এবং সূরা মু’মিনের ১১-১২ নং আয়াতে আলোচনা রয়েছে।



তাদের এমন আবেদনের প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: ‘এটা একটি উক্তি মাত্র যা সে বলেছে’ অর্থাৎ এটা তার মুখের কথা যার কোন মূল্য নেই, এরূপ কথা দুনিয়াতে কতবার বলেছে। দুনিয়াতে যখন কোন বিপদে পড়ত তখন বলত, এ বিপদ থেকে মুক্তি পেলে আর কোন অন্যায় করবে না। কিন্তু যখনই মুক্তি লাভ করেছে তখনই তাতে জড়িত হয়েছে।



সুতরাং যা আমল করার তা মৃত্যুর পূর্বেই করতে হবে। মৃত্যু এসে গেলে আর কোন আমল করার সুযোগ পাওয়া যাবে না।



بَرْزَخٌ - হল এমন একটি জায়গা যা দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে প্রতিবন্ধক। যেখানে সৎ বান্দারা আরাম-আয়েশ ও নেয়ামত ভোগ করবে আর অবাধ্যরা শাস্তি ভোগ করবে। আর তা হবে মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত, কবরস্থ করা হোক আর না-ই করা হোক।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মৃত্যু চলে আসলে আর কোন আমল করার সুযোগ থাকে না।

২. অসৎ ব্যক্তিরা মৃত্যুর পূর্বে দুঃখ করে আল্লাহ তা‘আলার কাছে আবেদন করবে দুনিয়াতে পুনরায় আসার জন্য কিন্তু তাদেরকে সে সুযোগ দেয়া হবে না।

৩. মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়কে বারযাখী জীবন বলা হয়। এ জীবনে ঈমানদার ব্যক্তিরা জান্নাতের আরাম-আয়েশের অংশ পেয়ে থাকে, আর কাফির-মুশরিকরা জাহান্নামের শাস্তির অংশ পেয়ে থাকে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯৯-১০০ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, মৃত্যুর সময় কাফির ও পাপীরা ভীষণ লজ্জিত হয় এবং দুঃখ ও আফসোসের সাথে আকাঙ্ক্ষা করে যে, হায়! যদি তাদেরকে পুনরায় দুনিয়ায় ফিরিয়ে দেয়া হতো তবে তারা সৎ কাজ করতো! কিন্তু ঐ সময় তাদের এই আশা ও আকাঙ্ক্ষা বৃথা। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) হতে (আরবী) পর্যন্ত। অর্থাৎ “আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তোমরা তা হতে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে; অন্যথায় মৃত্যু আসলে সে বলবেঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরো কিছুকালের জন্যে অবকাশ দিলে আমি সাদকা দিতাম এবং সকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম! কিন্তু নির্ধারিত কাল যখন উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ কখনো কাউকেও অবকাশ দিবেন না; তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।” (৬৩:১০-১১) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) হতে (আরবী) পর্যন্ত। অর্থাৎ “যেদিন তাদের শান্তি আসবে সেই দিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক কর, তখন যালিমরা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে কিছুকালের জন্যে অবকাশ দিন! আমরা আপনার আহ্বানে সাড়া দিবো এবং রাসূলদের অনুসরণ করাবো! (উত্তরে বলা হবে) তোমরা কি পূর্বে শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের পতন নেই?” (১৪:৪৪) আর এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “এবং হায়! তুমি যদি দেখতে! যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সামনে অধোবদন হয়ে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা প্রত্যক্ষ করলাম ও শ্রবণ করলাম; এখন আপনি আমাদেরকে পুনরায় প্রেরণ করুন, আমরা সকর্ম করাবো, আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী!” (৩২:১২) অন্য এক জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হায়! তুমি যদি দেখতে! যখন তাদেরকে জাহান্নামের উপর দাঁড় করানো হবে তখন তারা বলবেঃ হায়! যদি আমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হতো তবে আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম না। হতে- নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।” (৬: ২৭-২৮) অন্য এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তুমি যালিমদেরকে দেখবে, যখন তারা শাস্তি অবলোকন করবে তখন বলবেঃ আমাদের ফিরবার কোন পথ আছে কি?” (৪২:৪৪) আর এক জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি দু’বার আমাদেরকে মৃত্যু দান করেছেন এবং দু’বার জীবিত করেছেন, এখন আমরা আমাদের পাপসমূহ স্বীকার করে নিয়েছি, সুতরাং (জাহান্নাম হতে) বের হওয়ার কোন পথ আছে কি?” (৪০:১১) অন্যত্র মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা ওর মধ্যে চীৎকার করে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে (জাহান্নাম হতে) বের করে নিন এবং পুনরায় দুনিয়ায় ফিরিয়ে দিন), তাহলে আমরা (পূর্বের) কৃত (মন্দ) আমল বাদ দিয়ে ভাল আমল করাবো। (উত্তরে বলা হবেঃ) তোমাদেরকে কি আমি এমন বয়স দান করিনি যে, যে উপদেশ গ্রহণ করার (ইচ্ছা করতো) সে উপদেশ গ্রহণ করতে পারতো? আর তোমাদের কাছে তো ভয় প্রদর্শকের আগমন ঘটেছিল, সুতরাং (আজ ওসব কথা বলে কোন লাভ নেই, বরং) তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর, অত্যাচারীদের জন্যে কোনই সাহায্যকারী নেই।” (৩৫:৩৭) এ সব আয়াতে এই বর্ণনা দেয়া হয়েছে যে, এইরূপ পাপী লোকেরা মৃত্যুর সময় এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে জাহান্নামের পাশে দণ্ডায়মান অবস্থায় দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাক্ষা করবে এবং সৎ আমল করার অঙ্গীকার করবে। কিন্তু ঐ সময় তাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে না। এটা ঐ কথা যা ঐ ভয়াবহ অবস্থায় বাধ্য হয়েই তারা বলে ফেলবে। আর প্রকৃতপক্ষে ওটা শুধু তাদের মুখের কথা। যদি তাদেরকে দুনিয়ায় ফিরিয়েও দেয়া হয় তবুও তারা ভাল কাজ করবে না। বরং পূর্বে যেমন ছিল তেমনই থাকবে। তারা তো মিথ্যাবাদী। কতই না ভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যে এই পার্থিব জীবনে ভাল কাজ করে থাকে। আর ঐ লোকগুলো কতই না হতভাগ্য যারা ঐ বিচার দিবসে ধন-মাল ও সন্তান-সন্ততির আকাক্ষা করবে না এবং দুনিয়ার সৌন্দর্য ও জাঁকজমক তারা কামনা করবে না, বরং দুনিয়ায় মাত্র কয়েক দিন বাস করে সৎ কার্যাবলী সম্পাদন করার আকাঙ্ক্ষা করবে। কিন্তু সেই দিনের আকাঙ্ক্ষা, কামনা ও বাসনা সবই বৃথা হবে। এটাও বর্ণিত আছে যে, যখন তারা এরূপ আকাঙ্ক্ষা করবে তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ধমক দিয়ে বলবেনঃ “এটা শুধু তোমাদের মুখের কথা। এর পরেও তোমরা ভাল কাজ করবে না।”

হযরত আ’লা ইবনে যিয়াদ (রঃ) কতই না সুন্দর কথা বলেছেন। তিনি বলেছেনঃ “তোমরা এটা মনে করে নাও যে, আমার মৃত্যু এসে গিয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ তাআলার নিকট কয়েক দিনের অবকাশ চেয়েছিলাম যাতে আমি পুণ্য অর্জন করতে পারি। তিনি আমাকে অবকাশ দিয়েছেন। সুতরাং এখন অন্তর খুলে পুণ্য কামানো আমার উচিত।”

হযরত কাতাদা (রঃ) বলেনঃ “তোমরা কাফিরদের এই আকাঙ্ক্ষার কথা স্মরণ করে নিজেদের জীবনের মুহূর্তগুলো আল্লাহর আনুগত্যের কাজে লাগিয়ে দাও।”

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন যে, যখন কাফিরকে কবরে রাখা হয় এবং সে তার জাহান্নামের বাসস্থান দেখে নেয় তখন বলেঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ফিরিয়ে দিন, আমি তাওবা করাবো ও সৎ কার্যাবলী সম্পাদন করাবো।” উত্তরে বলা হবেঃ “তোমাকে যে বয়স দেয়া হয়েছিল তা তুমি শেষ করে ফেলেছো।” (এটা মুহাম্মাদ ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছে) অতঃপর তার কবরকে সংকুচিত করে দেয়া হবে এবং সর্প ও বিচ্ছু তাকে দংশন করতে থাকবে।

হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন যে, পাপীদের কবর অত্যন্ত বিপদপূর্ণ ও ভয়াবহ জায়গা। তাদের কবরের মধ্যে কালো সর্প তাদেরকে দংশন করতে থাকে। এই সর্পগুলোর মধ্যে একটি বিরাটাকার সাপ প্রত্যেকের শিয়রে থাকে এবং অনুরূপ আর একটি সাপ থাকে তার পায়ের কাছে। সাপ দু’টি তাকে দংশন করতে করতে এগুতে থাকে এবং দেহের মধ্যভাগে এসে উভয়ে মিলিত হয়। এটাই হলো বারযাখের শাস্তি যার কথা আল্লাহ তা'আলা এই আয়াতে বলেছেন।

(আরবী) এর অর্থ করা হয়েছেঃ তাদের সম্মুখে বারযাখ থাকবে। বারযাখ হলো দুনিয়া ও আখিরাতের মাঝে পর্দা বা আড়। সে না সরাসরি দুনিয়ায় আছে যে, পানাহার করবে এবং না সরাসরি আখিরাতে আছে যে, আমলের পূর্ণ প্রতিদান প্রাপ্ত হবে। বরং রয়েছে এ দু’য়ের মাঝামাঝি জায়গায়। সুতরাং এই আয়াতে অত্যাচারী ও সীমালংঘন কারীদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হচ্ছে যে, আলমে বারযাখেও তাদেরকে কঠিন শাস্তির মধ্যে রাখা হবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ “তাদের সামনে জাহান্নাম রয়েছে।” (৪৫:১০) আর এক জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তার সামনে রয়েছে খুবই কঠিন শাস্তি।” (১৪:১৭) কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর বারযাখের এই শাস্তি চালু থাকবে। যেমন হাদীসে এসেছেঃ “ওর মধ্যে সদা সর্বদা সে শাস্তিপ্রাপ্ত হবে।” অর্থাৎ যমীনের মধ্যে (তাকে সব সময় শাস্তি দেয়া হবে)।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।