সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 49)
হরকত ছাড়া:
قل يا أيها الناس إنما أنا لكم نذير مبين ﴿٤٩﴾
হরকত সহ:
قُلْ یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنَّمَاۤ اَنَا لَکُمْ نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ ﴿ۚ۴۹﴾
উচ্চারণ: কুল ইয়াআইয়ুহান্না-ছুইন্নামাআনা লাকুম নাযীরুম মুবীন।
আল বায়ান: বল, ‘হে মানুষ, আমি তো কেবল তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৯. বলুন, হে মানুষ! আমি তো কেবল তোমাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী;
তাইসীরুল ক্বুরআন: বল, ‘হে মানুষ! আমি (প্রেরিত হয়েছি) তোমাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্ককারীরূপে।’
আহসানুল বায়ান: (৪৯) বল, ‘হে মানুষ! আমি তো তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।’ [1]
মুজিবুর রহমান: বলঃ হে মানুষ! আমিতো তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী।
ফযলুর রহমান: বল, “হে মানুষ! আসলে আমি তোমাদের জন্য একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।”
মুহিউদ্দিন খান: বলুনঃ হে লোক সকল! আমি তো তোমাদের জন্যে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ককারী।
জহুরুল হক: বলো -- "ওহে মানবজাতি! আমি তো তোমাদের জন্য একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।"
Sahih International: Say, "O people, I am only to you a clear warner."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৯. বলুন, হে মানুষ! আমি তো কেবল তোমাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী;
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৯) বল, ‘হে মানুষ! আমি তো তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।’ [1]
তাফসীর:
[1] এটি কাফের ও মুশরিকদের আযাব দাবি করার জবাবে বলা হচ্ছে যে, হে নবী! তুমি বল, আমার কাজ তো কেবল সতর্ক করা ও সুসংবাদ দেওয়া। আযাব ও শাস্তি প্রেরণ করা আল্লাহর কাজ। কাউকে জলদি পাকড়াও করা অথবা কাউকে দেরীতে পাকড়াও করা, এ কাজ তাঁর হিকমত ও ইচ্ছাধীন। তার জ্ঞানও আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। এ কথা যদিও মক্কাবাসীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, তবুও যেহেতু নবী (সাঃ) ছিলেন সারা মানবকুলের পথপ্রদর্শক ও রসূল, সেই জন্য সম্বোধন ‘হে মানুষ’ দিয়ে করা হয়েছে। এই আয়াতে কিয়ামত পর্যন্ত আগত সমস্ত কাফের ও মুশরিকদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যারা মক্কার লোকেদের মত আচরণ করবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৯-৫১ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে কাফির-মুশরিকদের পূর্বোক্ত দাবীর জবাব প্রদান করা হচ্ছে, যে দাবী তারা করত। তারা তাদেরকে শাস্তি তাড়াতাড়ি দেয়ার জন্য বলত, তাই তাদের এ কথার জবাবে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে নাবী! তুমি বল, আমার কাজতো কেবল সতর্ক করা ও সুসংবাদ দেয়া। আযাব ও শাস্তি প্রেরণ করা আল্লাহ তা‘আলার কাজ। এটা আমার ক্ষমতার বাইরে। কাউকে দ্রুত পাকড়াও করা অথবা দেরীতে পাকড়াও করার কাজ তাঁর হিকমত ও ইচ্ছাধীন। তার জ্ঞানও আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া আর কারো নেই। এ কথা যদিও মক্কাবাসীর উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেহেতু সারা বিশ্ববাসীর জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন তাই ‘হে মানুষ’ দিয়ে সম্বোধন করা হয়েছে। এ আয়াতে কিয়ামত পর্যন্ত আগত ঐ সমস্ত কাফির-মুশরিকদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে যারা মক্কার লোকদের মত আচরণ করবে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: যারা সতর্কবাণী শোনার পর ঈমান আনবে ও সৎ আমল করবে তারাই হবে ক্ষমাপ্রাপ্ত দল এবং তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী। পক্ষান্তরে যারাই স্বৈরাচারিতা করবে, আয়াতকে মিথ্যা বলবে তারাই হবে জাহান্নামী।
আয়াত হতে শি¬ক্ষণীয় বিষয়:
১. আকাশ থেকে শাস্তি প্রেরণ করা কেবল আল্লাহ তা‘আলারই কাজ।
২. কোন্ কাজ করলে জান্নাতী এবং কোন্ কাজ করলে মানুষ জাহান্নামী হবে তা জানতে পারলাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৯-৫১ নং আয়াতের তাফসীর:
কাফিররা যখন তাড়াতাড়ি শাস্তি চাইলো তখন আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূলকে (সঃ) বলছেনঃ হে রাসূল (সঃ)! তুমি তাদেরকে বলে দাওঃ হে লোক সকল! আমি তো আল্লাহ তাআলার একজন প্রেরিত বান্দা। আমি তোমাদেরকে ঐ শাস্তি হতে সতর্ক করতে এসেছি যা তোমাদের সামনে রয়েছে। তোমাদের হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আমার নয়। শাস্তি আল্লাহ তাআলার অধিকারে রয়েছে। ইচ্ছা করলে তিনি এখনই তা নাজিল করবেন, ইচ্ছা করলে বিলম্বে করবেন। কার ভাগে হিদায়াত রয়েছে এবং কে আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত তা আমার জানা নেই। হুকুমত তারই হাতে। তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারে না। তিনি খুব তাড়াতাড়ি হিসাব গ্রহণকারী। আমার অধিকার শুধু এটুকুই যে, আমি একজন সতর্ককারী ও ভয় প্রদর্শক। যাদের অন্তরে ইয়াকীন ও ঈমান রয়েছে এবং তাদের আমল দ্বারা তা প্রমাণিত হয়, তাদের সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার যোগ্য। তাঁর পূণ্যগুলিও প্রশংসা লাভের যোগ্যতা রাখে।
(আরবী) দ্বারা জান্নাতকে বুঝানো হয়েছে। যারা অন্যদেরকে আল্লাহর পথ ও রাসূলের (সঃ) আনুগত্য হতে বিরত রাখে তারা জাহান্নামী। তারা হবে কঠিন শাস্তি ও প্রজ্জলিত অগ্নির খড়ি। আল্লাহ আমাদেরকে ওটা হতে রক্ষা করুন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা কুফরী করেছে এবং আল্লাহর পথ হতে (মানুষকে) বিরত রেখেছে, তাদের ফাসাদ সৃষ্টির কারণে আমি তাদের শাস্তির উপর শাস্তি বৃদ্ধি করবো।” (১৬:৮৮)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।