আল কুরআন


সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 10)

সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 10)



হরকত ছাড়া:

ذلك بما قدمت يداك وأن الله ليس بظلام للعبيد ﴿١٠﴾




হরকত সহ:

ذٰلِکَ بِمَا قَدَّمَتْ یَدٰکَ وَ اَنَّ اللّٰهَ لَیْسَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِیْدِ ﴿۱۰﴾




উচ্চারণ: যা-লিকা বিমা-কাদ্দামাত ইয়াদা-কা ওয়া আন্নাল্লা-হা লাইছা বিজাল্লা-মিল লিল‘আবীদ।




আল বায়ান: (সেদিন তাকে বলা হবে), ‘এটি তোমার দু’হাত যা পূর্বে প্রেরণ করেছে তার কারণে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের প্রতি যুলমকারী নন’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০. এটা তোমার কৃতকর্মেরই ফল, আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্রও যুলুমকারী নন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: (বলা হবে) তোমার হাত দু’খানা আগেই যা পাঠিয়েছিল এটা তারই ফল, কারণ আল্লাহ তো তাঁর বান্দাহদের প্রতি যালিম নন।




আহসানুল বায়ান: (১০) (সেদিন তাকে বলা হবে,) ‘এটা তোমার কৃতকর্মেরই ফল। নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যাচার করেন না।’



মুজিবুর রহমান: (সেদিন তাকে বলা হবে) এটা তোমার কৃতকর্মের ফল। কারণ আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যাচার করেন না।



ফযলুর রহমান: এটা তোমার নিজের কৃতকর্মের জন্যই; কারণ, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না।



মুহিউদ্দিন খান: এটা তোমার দুই হাতের কর্মের কারণে, আল্লাহ বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না।



জহুরুল হক: এ তার জন্য যা তোমার হাত দুখানা আগবাড়িয়েছে, আর আল্লাহ্ তো তাঁর বান্দাদের প্রতি একটুও অন্যায়কারী নন।



Sahih International: "That is for what your hands have put forth and because Allah is not ever unjust to [His] servants."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০. এটা তোমার কৃতকর্মেরই ফল, আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্রও যুলুমকারী নন।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০) (সেদিন তাকে বলা হবে,) ‘এটা তোমার কৃতকর্মেরই ফল। নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যাচার করেন না।’


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮-১০ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে ঐসমস্ত লোকদের কথা বর্ণনা করা হয়েছে যারা আল্লাহ তা‘আলা সম্বন্ধে কোন প্রকার দলীল ছাড়াই তর্ক করে। আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে এমন কথা ও মন্তব্য করে থাকে যা তাঁর সত্তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ثَانِيَ অর্থ সে বাঁকায়, عِطْفِه অর্থ তার পার্শ্ব, গর্দান ইত্যাদি। অর্থাৎ সে যখন বিতণ্ডা করে তখন ঘাড় বাঁকা করে বিতণ্ডা করে। এর দ্বারা মূলত সত্য গ্রহণে তার অহংকার ও বিমুখতা বুঝানো হয়েছে। এমন ভংগিমা ও রসালো কথা বলে মানুষকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِذَا قِيْلَ لَهُمْ تَعَالَوْا يَسْتَغْفِرْ لَكُمْ رَسُوْلُ اللّٰهِ لَوَّوْا رُؤُوْسَهُمْ وَرَأَيْتَهُمْ يَصُدُّوْنَ وَهُمْ مُّسْتَكْبِرُوْنَ)



“যখন তাদেরকে বলা হয়: তোমরা এসো, আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, তখন তারা মাথা ফিরিয়ে নেয় এবং তুমি তাদেরকে দেখতে পাও যে, তারা অহংকার করে ফিরে যায়।” (সূরা মুনাফিকূন ৬৩:৫)



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِذَا تُتْلٰي عَلَيْهِ اٰيٰتُنَا وَلّٰي مُسْتَكْبِرًا كَأَنْ لَّمْ يَسْمَعْهَا)



“যখন তার কাছে আমার আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, তখন সে অহঙ্কারবশত এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে তা শুনতেই পায়নি। ” (সূরা লুক্বমান ৩১:৭)



তার এ সকল কৃতকর্মের জন্য সে দুনিয়াতেও লাঞ্ছিত হবে আর আখিরাতে তাকে দেয়া হবে কঠিন শাস্তি। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(خُذُوْھُ فَاعْتِلُوْھُ اِلٰی سَوَا۬ئِ الْجَحِیْمِﭾﺫثُمَّ صُبُّوْا فَوْقَ رَاْسِھ۪ مِنْ عَذَابِ الْحَمِیْمِﭿﺚذُقْﺐ اِنَّکَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْکَرِیْمُﮀاِنَّ ھٰذَا مَا کُنْتُمْ بِھ۪ تَمْتَرُوْنَ)



“(বলা হবে) তাকে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে, অতঃপর তার মস্তকের ওপর ফুটন্ত পানি ঢেলে শাস্তি দাও। (এবং বলা হবে:) আস্বাদন গ্রহণ কর, তুমি তো ছিলে পরাক্রমশালী। এটা তো সেটাই, যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ করতে।” (সূরা দুখান ৪৪:৪৭-৫০)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. যারা আল্লাহ তা‘আলার শানে এমন কথা বলে যা থেকে তিনি মুক্ত তাদেরকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।

২. যারা আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে অনর্থক কথা বলে তাদের কোন প্রকার দলীল নেই।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮-১০ নং আয়াতের তাফসীর:

উপরোক্ত আয়াতগুলিতে আল্লাহ তাআলা অনুসরণকারীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। এখানে তিনি তাদের অনুসৃত পীর মুরশিদদের অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন। তারা কিছু না জেনে বিনা দলীলে শুধু নিজেদের মত ও ইচ্ছানুযায়ী আল্লাহর ব্যাপারে বাক বিতণ্ডা করে থাকে। সত্য হতে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং গর্ব ভরে ঘাড় ঘুরিয়ে থাকে। সত্যকে বেপরোয়াভাবে তারা প্রত্যাখ্যান করে। যেমন ফিরাউনীরা হযরত মূসার (আঃ) স্পষ্ট মু'জিযাগুলি দেখেও বেপরোয়ার সাথে তাকে অমান্য করে। অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তাদেরকে যখন বলা হয়ঃ আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের (সঃ) দিকে এসো, তখন মুনাফিকদেরকে তুমি তোমার নিকট হতে মুখ একেবারে ফিরিয়ে নিতে দেখবে।` (৪:৬১) আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ তোমরা এসো আল্লাহর রাসূল (সঃ) তোমাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, তখন তারা মাথা ফিরিয়ে নেয় এবং তুমি তাদেরকে দেখতে পাও যে, তারা দম্ভভরে ফিরে যায়।` (৬৩:৫)। হযরত লোকমান (আঃ) স্বীয় পুত্রকে বলেছিলেনঃ অর্থাৎ ‘মানুষকে অবজ্ঞা করে তুমি তোমার মুখ ঘুরিয়ে নিয়ো না।` অর্থাৎ নিজেকে বড় মনে করে তাদেরকে দেখে অবজ্ঞা করো না। অন্যত্র আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন তার কাছে আমার আয়াত আবৃত্তি করা হয় তখন সে দরে মুখ ফিরিয়ে নেয়।` (৩১:৭)।

(আরবী) এর (আরবী) টি (আরবী) (পরিণামের লাম) অথবা (আরবী) (কারণ বোধক লাম)। কেননা, কোন কোন সময় এর উদ্দেশ্য অপরকে পথভ্রষ্ট করা হয় না। সম্বতঃ এর দ্বারা উদ্দেশ্য অস্বীকারই হবে। আবার ভাবার্থ এও হতে পারেঃ আমি তাকে এরূপ দুশ্চরিত্র এ জন্যেই করে দিয়েছি যে, সে যেন পথ ভ্রষ্টদের সরদার হয়ে যায়। তার জন্যে দুনিয়াতেও লাঞ্ছনা ও অপমান রয়েছে, যা তার অহংকারের প্রতিফল। এখানে সে অহংকার করে বড় হতে চাচ্ছিল। আমি তাকে আরো ছোট করে দেবো। এখানেও সে তার উদ্দেশ্য সাধনে ব্যর্থকাম হবে। আর আখেরাতেও জাহান্নাম তাকে গ্রাস করে ফেলবে। তাকে ধমকের সুরে বলা হবেঃ এটা তোমার কৃতকর্মের ফল। আল্লাহর সত্তা যুলুম হতে পবিত্র। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “(ফেরেশতাদের বলা হবে) তাকে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্য স্থলে। অতঃপর তার মস্তিষ্কের উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে শাস্তি দাও। আর বলা হবেঃ আস্বাদ গ্রহণ করো, তুমি তো ছিলে সম্মানিত, অভিজাত। এটা তো ওটাই, যে বিষয়ে তুমি সন্দেহ করতে।” (৪৪:৪৭-৫০)

হযরত হাসান (রঃ) বলেনঃ “আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, তাদেরকে দিনে সত্তর হাজার বার করে জ্বালানো হবে।” (এটা ইবনু আবি হাতিম-(রঃ) বর্ণনা করেছে)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।