সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 17)
হরকত ছাড়া:
وما تلك بيمينك يا موسى ﴿١٧﴾
হরকত সহ:
وَ مَا تِلْکَ بِیَمِیْنِکَ یٰمُوْسٰی ﴿۱۷﴾
উচ্চারণ: ওয়ামা-তিলকা বিইয়ামীনিকা ইয়া-মূছা-।
আল বায়ান: আর ‘হে মূসা, তোমার ডান হাতে ওটা কি’?
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৭. আর হে মূসা! আপনার ডান হাতে সেটা কী?(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: ‘হে মূসা! তোমার ডান হাতে ওটা কী?’
আহসানুল বায়ান: (১৭) হে মূসা! তোমার ডান হাতে ওটা কি?’
মুজিবুর রহমান: হে মূসা! তোমার ডান হাতে ওটা কি?
ফযলুর রহমান: (আল্লাহ মূসাকে বলেছিলেন,) “হে মূসা! তোমার ডানহাতে ওটা কি?”
মুহিউদ্দিন খান: হে মূসা, তোমার ডানহাতে ওটা কি?
জহুরুল হক: তোমার ডান হাতে ঐটি কি, হে মূসা?
Sahih International: And what is that in your right hand, O Moses?"
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৭. আর হে মূসা! আপনার ডান হাতে সেটা কী?(১)
তাফসীর:
(১) আল্লাহ রাব্বুল আলামীন-এর পক্ষ থেকে মূসা আলাইহিস সালাম-কে এরূপ জিজ্ঞাসা করা নিঃসন্দেহে তার প্রতি কৃপা, অনুকম্পা ও মেহেরবানীর সূচনা ছিল, যাতে বিস্ময়কর দৃশ্যাবলী দেখা ও আল্লাহর কালাম শোনার কারণে তার মনে যে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তা দূর হয়ে যায়। এটা ছিল একটা হৃদ্যতাপূর্ণ সম্বোধন। এছাড়া এ প্রশ্নের আরো একটি রহস্য এই যে, পরক্ষণেই তার হাতের লাঠিকে একটি সাপ বা অজগরে রূপান্তরিত করা উদ্দেশ্য ছিল। তাই প্ৰথমে তাকে সতর্ক করা হয়েছে যে, আপনার হাতে কি আছে দেখে নিন। তিনি যখন দেখে নিলেন। যে, সেটা কাঠের লাঠি মাত্র, তখন একে সাপে রূপান্তরিত করার মু'জিযা প্রদর্শন করা হল। [ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর] নতুবা মূসা আলাইহিস সালাম-এর মনে এরূপ সম্ভাবনাও থাকতে পারত যে, আমি বোধহয় রাতের অন্ধকারে লাঠির স্থলে সাপই ধরে এনেছি। সুতরাং জ্ঞান লাভ করার বা জানার জন্য এ প্রশ্ন ছিল না।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৭) হে মূসা! তোমার ডান হাতে ওটা কি?’
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৯-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে মূসা (عليه السلام) মাদইয়ানে দশ বছর অবস্থান করার পর যখন মিসরের উদ্দেশ্যে সস্ত্রীক ফিরে আসছিলেন তখন পথিমধ্যে আল্লাহ তা‘আলার সাথে তাঁর কথোপকথন, রিসালাত প্রাপ্তি ও সংশ্লিষ্ট ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যার সারসংক্ষেপ হলো
মূসা (عليه السلام) সস্ত্রীক মাদইয়ান থেকে আসতে পথিমধ্যে রাত হয়ে গেল, রাস্তাও ছিল অজানা, রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিলেন না, হয়তো কোন দিক নির্দেশনা পেলে রাস্তা পেতেন। কেউ কেউ বলেছেন, স্ত্রীর প্রসবের সময় ছিল আসন্ন, শীতও ছিল কনকনে। সব মিলিয়ে আগুনের প্রয়োজন। যখন তুর পাহাড়ের কাছে আসলেন তখন আগুন দেখতে পেলেন, পরিবারকে বললেন: তোমরা এখানে অবস্থান কর, আমি ঐখানে আগুন দেখতে পাচ্ছি, আগুন নিয়ে আসলে হয়তো শীত কাটানো যাবে অথবা একটা পথ খুঁজে পাব। অতঃপর যখন তিনি ঐ আগুনের নিকট পৌঁছলেন, তখন আওয়াজ এল, হে মূসা! আমিই তোমার পালনকর্তা। অতএব তুমি তোমার জুতো খুলে ফেল। কারণ তুমি পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় রয়েছ। আওয়াজটি এসেছিল গাছের আড়াল থেকে, যেমন সূরা ক্বাসাসের ৩০ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। জুতো খোলার নির্দেশ এ জন্য দেয়া হয়েছে যে, এতে বিনয় বেশি প্রকাশ পাবে এবং অধিক সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
আর আমি তোমাকে রাসূল হিসেবে মনোনীত করেছি। অতএব তোমাকে যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোন। আমিই আল্লাহ তা‘আলা। আমি ব্যতীত আর কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই। অতএব একমাত্র আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর।
(وَأَقِمِ الصَّلٰوةَ لِذِكْرِيْ)
‘আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর’ প্রথমে ব্যাপকভাবে ইবাদতের নির্দেশ দেয়ার পর বিশেষভাবে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেয়া হল কেন অথচ ইবাদতের মাঝে সালাত শামিল? কারণ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করার যত ইবাদত রয়েছে বা আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য হাসিল করার যত ইবাদত রয়েছে সকল ইবাদতের মাঝে সালাত সর্বোত্তম পন্থা। তাছাড়া এভাবে ব্যক্ত করে সালাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
(لِذِكْرِيْ) এর একটি অর্থ হল- আমার স্মরণার্থে, অর্থাৎ আমার স্মরণার্থে সালাত আদায় কর। কেননা আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করার প্রধান মাধ্যম হল সালাত।
দ্বিতীয় অর্থ হল যখনই আমার কথা স্মরণ হবে তখনই সালাত আদায় কর। অর্থাৎ যদি কোন সময় উদাসীনতায় বা ভুলে অথবা ঘুমে আমার স্মরণ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও স্মরণ হওয়ার সাথে সাথেই সালাত আদায় কর। যেমন হাদীসে এসেছে: যদি তোমাদের কেউ সালাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে যায় তাহলে যখনই স্মরণ হবে তখনই সালাত আদায় করে নেবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ‘আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর’। (সহীহ বুখারী হা: ৫৯৭, সহীহ মুূসলিম হা: ৬৯৭)
তারপর মহান আল্লাহ বলেন: কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, আমি এটা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফলাফল লাভ করতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস করে না এবং নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সে যেন তোমাকে (কিয়ামত বিষয়ে সতর্ক থাকা হতে) নিবৃত্ত না করে। তাহলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে। মূসা (عليه السلام)-কে ঈমানের মূলনীতির বর্ণনা দেয়ার পর কয়েকটি মু’জিযাহর বর্ণনা দিচ্ছেন যাতে তাঁর অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।
(هِيَ عَصَايَ) মূসা (عليه السلام)-এর হাতে কী ছিল তা আল্লাহ তা‘আলা ভাল করেই জানেন, তারপরেও জিজ্ঞেস আকারে বলার কারণ হল মূসা (عليه السلام) যেন আল্লাহ তা‘আলার কথা মনযোগসহ শুনেন আর তাঁর প্রতি আল্লাহ তা‘আলা যে নেয়ামত দান করেছেন তার গুরুত্ব তুলে ধরা। মূসা (عليه السلام) ছাগল চরাতেন, ফলে এমন একটি মু’জিযাহ দেয়া হল যা তাঁর ব্যক্তিগত কাজেও উপকারে আসে। তিনি এ লাঠির ওপর প্রয়োজনে ভর দিতেন এবং ছাগলের খাবার পাতা পেড়ে দিতেন। আল্লাহ তা‘আলা মূসা (عليه السلام)-কে কেবল জিজ্ঞেস করেছেন তোমার হাতে কী? কিন্তু মূসা (عليه السلام) এত উত্তর দিলেন কেন! কারণ হল তিনি আল্লাহ তা‘আলার সাথে কথা বলার একটি সুযোগ পেলেন, যে কেউ বড়দের সাথে কথা বলতে ভালবাসে। তাই তিনি এ সুযোগে আল্লাহ তা‘আলার সাথে অনেক কথা বলে নিলেন।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে নির্দেশ প্রদান করে বলেন: তুমি তোমার হাত বগলে রাখ। তারপর দেখবে তা বের হয়ে আসবে উজ্জ্বল ও নির্মল আলো হয়ে, অন্য একটি নিদর্শনরূপে। এটা এজন্য যে, আমি তোমাকে আমার বড় বড় নির্দশনাবলীর কিছু অংশ দেখাতে চাই। এটা ছিল মূসা (عليه السلام)-কে দেয়া দ্বিতীয় মু‘জিযাহ।
মূসা (عليه السلام)-কে নবুওয়াত ও মু‘জিযাহ প্রদান করার পর আল্লাহ তা‘আলা দাওয়াতী কাজের নির্দেশ দিয়ে ফির‘আউনের কাছে প্রেরণ করলেন। طَغٰي অর্থ সীমালঙ্ঘন করা, অর্থাৎ ফির‘আউন বানী-ইসরাঈলদেরকে দাসে পরিণত করত, নানাভাবে নির্যাতন করত, পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করত এবং কন্যাদেরকে জীবিত রাখত। এভাবে সে জমিনে সীমালংঘন করত।
মূসা (عليه السلام)-এর মুখে জড়তা ছিল, ভালভাবে কথা বলতে পারতেন না। তাই আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করলেন: হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ উন্মোচন করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন, আমার মুখের জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। আর আমার পরিবারের মধ্য থেকে আমার ভাই হারূনকে আমার সাহায্যকারী নিযুক্ত করে দিন। তার মাধ্যমে আমার শক্তিকে আরো বাড়িয়ে দিন। আর তাকে নবুওয়াত দিয়ে আমার দাওয়াতী কর্মে অংশীদার করুন। যাতে আমরা বেশি বেশি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করতে পারি এবং অধিক পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি। হারূন (عليه السلام) মূসা (عليه السلام) থেকে তিন অথবা চার বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন এবং তিন বছর পূর্বেই মারা যান। মূসা (عليه السلام) যখন হারূন (عليه السلام)-এর জন্য দু‘আ করেন তখন তিনি মিসরে ছিলেন। (কুরতুবী)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে: যখন মূসা (عليه السلام) ফির‘আউনের বাড়িতে ছিলেন তখন একদা ফির‘আউনের মুখে মূসা (عليه السلام) চড় মারেন এবং তার দাড়ি ধরে টান মারেন। ফলে ফির‘আউন রাগান্বিত হয়ে আসিয়াকে বলে: সে আমার শত্র“, জল্লাদদেরকে ডেকে আন, তাকে মেরে ফেলব। আসিয়া বলল: সে তো একটি ছোট বাচ্চা, এর অপরাধের কারণে পাকড়াও করবেন? সে তো ভাল-মন্দ বুঝে না। তারপর পরীক্ষা করার জন্য একটি পাত্রে জ্বলন্ত অঙ্গার অপর পাত্রে মণিমুক্তা নিয়ে আসা হল। মূসা (عليه السلام) মণিমুক্তায় হাত দিতে গেলে জিবরীল (عليه السلام) হাত ধরে ফেলেন, হাতটি নিয়ে আগুনের অঙ্গারে রাখেন, মূসা (عليه السلام) তা থেকে অঙ্গার তুলে মুখে নিয়ে নেন ফলে হাত ও মুখ পুড়ে যায়। এভাবে তিনি তোতলা হয়ে যান। (কুরতুবী)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মূসা (عليه السلام) ও হারূন (عليه السلام)-এর নবুওয়াতের সত্যতা ও তাঁদেরকে দেয়া কয়েকটি মু’জিযাহর বিবরণ জানতে পারলাম।
২. দাওয়াতী কাজে অন্যের সহযোগিতা নেয়া যাবে।
৩. কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় গোপন রাখার হিকমত জানলাম।
৪. ঘুম বা অজান্তে সালাতের সময়-ক্ষণ চলে গেলে স্মরণ হলেই সালাত আদায় করে নিবে।
৫. মুখে জড়তা বা ভাব প্রকাশে সমস্যা হলে এবং জ্ঞান বৃদ্ধির দু‘আ হল
رَبِّ اشْرَحْ لِیْ صَدْرِیْﭨﺫوَیَسِّرْ لِیْٓ اَمْرِیْﭩﺫوَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِّسَانِیْﭪﺫیَفْقَھُوْا قَوْلِیْ
এবং এ দু‘আ বেশি বেশি পড়তে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৭-২১ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে হযরত মূসার (আঃ) একটি খুবই বড় ওস্পষ্ট মু'জিযার বর্ণনা। দেয়া হচ্ছে, যা আল্লাহর ক্ষমতা ছাড়া অসম্ভম্ব এবং যা নবী ছাড়া অন্যের হাতেও সন্ত্র নয়। তূর পাহাড়ের উপর তাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছেঃ “হে মূসা (আঃ)! তোমার ডান হাতে ওটা কি? হযরত মূসার (আঃ) ভয়-ভীতি দূর করার জন্যেই তাঁকে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল। একথাও বলা হয়েছে যে, এটা ছিল আলোচনা মূলক প্রশ্ন। অর্থাৎ তোমার হাতে লাঠিই আছে। এটা যে কি তা তুমি ভালরূপেই জান। এখন এটা যা হতে যাচ্ছে তা তুমি দেখে নাও।
এই প্রশ্নের জবাবে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ (আঃ) বলেনঃ ‘এটা আমার লাঠি। এর উপর আমি ভর দিয়ে দাড়াই। অর্থাৎ চলার সময় এটা আমার একটা আশ্রয় স্থলরূপে কাজে লাগে। এর দ্বারা আমি আমার বকরীর জন্যে গাছ হতে পাতা ঝরিয়ে থাকি।' এরূপ লাঠিতে কিছু লোহা লাগানো হয়ে থাকে। এর ফলে গাছের পাতা ও ফল সহজে ঝরানো যায় এবং লাঠি ভেঙ্গেও যায় না। তিনি বললেন যে, এই লাঠি দ্বারা তিনি আরো অনেক উপকার লাভ করে থাকেন। এই উপকার সমূহের বর্ণনায় কতকগুলি লোক একথাও বলেছেন যে, ঐ লাঠিটিই রাত্রি কালে উজ্জল প্রদীপরূপে কাজ করতো। দিনের বেলায় যখন হযরত মূসা (আঃ) ঘুমিয়ে পড়তেন তখন ঐ লাঠিটিই তার বকরীগুলির রাখালী করতো। কোন জায়গায় ছায়া না থাকলে তিনি লাঠি মাটিতে গেড়ে দিতেন, তখন ওটা তাঁবুর মত তাঁকে ছায়া করতো, ইত্যাদি বহু উপকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এগুলো বানী ইসরাঈলের বানানো কাহিনী। তা না হলে ঐ লাঠিকে সাপ হতে দেখে। হযরত মূসা (আঃ) এতো ভয় পাবেন কেন? উনি তো লাঠিটির বিস্ময়কর কাজ পূর্ব হতেই দেখে আসছিলেন। কারো কারো উক্তি এই যে, প্রকৃতপক্ষে ওটা ছিল হযরত আদমের (আঃ) লাঠি। কেউ কেউ বলেন যে, লাঠিটি কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে দাব্বাতুল আরদ রূপে প্রকাশিত হবে। বলা হয়েছে যে, ওটার নাম ছিল মাশা। এ সব উক্তির সত্যতা কতটুকু তা আল্লাহ তাআলাই জানেন। হযরত মূসাকে (আঃ) তাঁর লাঠিটির লাঠি হওয়ার কথা জানিয়ে দিয়ে তাকে সতর্ক করতঃ বলেনঃ “ওটাকে যমীনের উপর নিক্ষেপ কর।” যমীনে নিক্ষিপ্ত হওয়া মাত্র লাঠিটি বিরাট অজগর সাপে পরিণত হয় এবং এদিক ওদিক চলতে শুরু করে দেয়। ইতিপূর্বে এতো ভয়াবহ অজগর সাপ কেউ কখনোদেখে নাই। সাপটির অবস্থা তো এই ছিল যে, সামনে একটি গাছ পড়লেই তা সে খেয়ে ফেলে। পথে বড় পাথর পড়লে তা গ্রাস করে নেয়। এ অবস্থা দেখা মাত্রই হযরত মূসা (আঃ) পিছন ফিরে পালাতে শুরু করেন। শব্দ আসেঃ “হে মূসা (আঃ) ! ওটা ধরে নাও।” কিন্তু তার সাহস। হয় না। আবার আওয়াজ আসেঃ “হে মূসা (আঃ)! ভয় করো না, ধরে ফেলো।” তখন তাঁর সংশয় থেকে যায়। তৃতীয়বার বলা হয়ঃ “তুমি আমার নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। এবার তিনি হাত বাড়িয়ে ওকে ধরে নেন।
বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলার নির্দেশের সাথে সাথেই হযরত মূসা (আঃ) লাঠিটি মাটিতে ফেলে দেন। তারপর তার দৃষ্টি এদিক ওদিক চলে যায়। অতঃপর দেখেন যে, লাঠির পরিবর্তে একটি ভয়াবহ অজগর সাপ রয়ে গেছে এবং তা এমনভাবে চলা ফেরা করছে যে, যেন কাউকে খুঁজছে। বড় বড় পাথরকে সে খেয়ে ফেলছে এবং আকাশচুম্বী বড় বড় গাছকেও গ্রাস করে নিচ্ছে। ওর চক্ষু দুটি আগুনের অঙ্গারের মত জ্বল জ্বল করছে। ওটা এতো ভয়াবহ অজগর যে, হযরত মূসা (আঃ) ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পিছন ফিরে পালিয়ে যেতে শুরু করেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলার সাথে কথা বলার বিষয়টি স্মরণ হয়ে তিনি থমকে দাড়ান। ওখানেই শব্দ আছেঃ “হে মূসা (আঃ)! ফিরে গিয়ে যেখানে ছিলে সেখানেই এসে যাও।` তিনি ফিরে আসেন, কিন্তু অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা নিদের্শ দেনঃ “তুমি ওটা তোমার ডান হাত দ্বারা ধরে নাও এবং ভয় করো না। আমি ওকে ওর আসল অবস্থায় ফিরিয়ে দেবো।” ঐ সময় হযরত মূসা (আঃ) পশমের কম্বল গায়ে জড়িয়ে ছিলেন। ওটাকে তিনি ঐ কম্বলখানা হাতে জড়িয়ে ঐ ভয়াবহ সাপটিকে ধরার ইচ্ছা করেন। তখন ফেরেশতা তাঁকে বলেনঃ “হে মূসা (আঃ)! যদি আল্লাহ তাআলা সাপটিকে দংশন করার হুকুম দেন তবে কি এই কম্বল আপনাকে রক্ষা করতে পারবে?” তিনি জবাবে বলেনঃ “কখনো নয়। কিন্তু আমার দুর্বলতার কারণেই এ কাজ আমার দ্বারা হতে যাচ্ছিল। আমাকে খুবই দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে।” অতঃপর তিনি কম্বল সরিয়ে দিয়ে সাহসিকতার সাথে সাপটির মাথা ধরে নেন। তৎক্ষণাৎ সাপটি আবার লাঠিতে পরিণত হয়ে যায়, যেমন পূর্বে ছিল। যখন তিনি পাহাড়ের মাটির উপর উঠছিলেন এবং তাঁর হাতে লাঠিটি ছিল,যার উপর তিনি ভর করে দাঁড়িয়েছিলেন ঐ অবস্থাতেই তিনি লাঠিটিকে পূর্বে দেখেছিলেন। ঐ অবস্থাতেই ওটা তার হাতে লাঠির আকারে বিদ্যমান ছিল।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।