সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 116)
হরকত ছাড়া:
وإذ قلنا للملائكة اسجدوا لآدم فسجدوا إلا إبليس أبى ﴿١١٦﴾
হরকত সহ:
وَ اِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓئِکَۃِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِیْسَ ؕ اَبٰی ﴿۱۱۶﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইযকুলনা-লিলমালাইকাতিছ জু দূলিআ-দামা ফছাজাদূ ইল্লাইবলীছা আবা-।
আল বায়ান: আর স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘তোমরা আদমকে সিজদা কর,’ তখন ইবলীস ছাড়া সকলেই সিজদা করল; সে অমান্য করল।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১৬. আর স্মরণ করুন(১), যখন আমরা ফিরিশতাগণকে বললাম, তোমরা আদমের প্রতি সিজদা কর, তখন ইবলীস ছাড়া সবাই সিজদা করল; সে অমান্য করল।
তাইসীরুল ক্বুরআন: স্মরণ কর, যখন ফেরেশতাগণকে বলেছিলাম, ‘তোমরা আদামকে সেজদা কর,’ তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সেজদা করল, সে অমান্য করল।
আহসানুল বায়ান: (১১৬) (স্মরণ কর,) যখন আমি ফিরিশতাগণকে বললাম, ‘তোমরা আদমকে সিজদাহ কর’, তখন ইবলীস ব্যতীত সকলেই সিজদাহ করল; সে অমান্য করল।
মুজিবুর রহমান: স্মরণ কর, যখন আমি মালাইকাগণকে বললামঃ আদমের প্রতি সাজদাহবনত হও, তখন ইবলীস ছাড়া সবাই সাজদাহ করল; সে অমান্য করল।
ফযলুর রহমান: (স্মরণ করো) যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, “তোমরা আদমকে সেজদা করো (আদমের সম্মানে মাথানত করো)।” তখন তারা সেজদা করেছিল; কিন্তু ইবলীস করেনি; সে (সেজদা করতে) অস্বীকার করল।
মুহিউদ্দিন খান: যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ তোমরা আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদা করল। সে অমান্য করল।
জহুরুল হক: আর আমরা যখন ফিরিশ্তাদের বললাম -- "আদমকে সিজদা করো", তখন তারা সিজদা করল, কিন্তু ইবলিস করল না, সে অমান্য করল।
Sahih International: And [mention] when We said to the angels, "Prostrate to Adam," and they prostrated, except Iblees; he refused.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১১৬. আর স্মরণ করুন(১), যখন আমরা ফিরিশতাগণকে বললাম, তোমরা আদমের প্রতি সিজদা কর, তখন ইবলীস ছাড়া সবাই সিজদা করল; সে অমান্য করল।
তাফসীর:
(১) এখান থেকে আদম ‘আলাইহিস সালাম-এর কাহিনী শুরু করা হয়েছে। এতে উম্মতে মুহাম্মদীকে হুশিয়ার করা উদ্দেশ্য যে, শয়তান মানব জাতির আদি শত্রু। সে সর্বপ্রথম তোমাদের আদি পিতা-মাতার সাথে শক্ৰতা সাধন করেছে এবং নানা রকমের কৌশল, বাহানা ও শুভেচ্ছামূলক পরামর্শের জাল বিস্তার করে তাদেরকে পদস্খলিত করে দিয়েছে। এর ফলেই তাদের উদ্দেশ্যে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতরণের নির্দেশ জারী হয় এবং জান্নাতের পোষাক ছিনিয়ে নেয়া হয়। তাই শয়তানী কুমন্ত্রণা থেকে মানব মাত্রেরই নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়। শয়তানী প্ররোচনা ও অপকৌশল থেকে আত্মরক্ষার জন্য প্রত্যেকেরই যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১১৬) (স্মরণ কর,) যখন আমি ফিরিশতাগণকে বললাম, ‘তোমরা আদমকে সিজদাহ কর’, তখন ইবলীস ব্যতীত সকলেই সিজদাহ করল; সে অমান্য করল।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১১৫-১২৩ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে আদম (عليه السلام)-কে আল্লাহ তা‘আলা যে ওসিয়ত ও নির্দেশ দিয়েছিলেন, শয়তান যেভাবে তাঁকে কুমন্ত্রণা দিয়ে জান্নাত থেকে তার পদস্খলন ঘটিয়েছিল তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
(وَلَقَدْ عَهِدْنَآ)
অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা আদম (عليه السلام)-কে নির্দেশ করেছিলেন জান্নাতের ঐ নির্দিষ্ট গাছের কাছে যাবে না। যেমন সূরা বাকারার ৩৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে। আদম (عليه السلام) নির্দেশ মেনে নিয়েছিলেন এবং তা পালন করার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা ভুলে যান এবং নিষিদ্ধ গাছের ফল উভয়ে খেয়ে নেন। ফলে যা হওয়ার হয়ে গেল।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহ তা‘আলা সে সময়ের কথা স্মরণ করতে বললেন যখন তিনি স্বহস্তে আদম (عليه السلام)-কে পূর্ণরূপে সৃষ্টি করে সকল কিছুর নাম শিক্ষা দিলেন এবং অন্যান্য সকলের উপর ফযীলত দিলেন তখন সকল ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন তাঁকে সিজদা করার জন্য; সকলেই সিজদা করেছে কিন্তু ইবলীস সিজদা করতে অবাধ্য হয়। এ সম্পর্কে সূরা বাকারার ৩৪ নং, সূরা আ‘রাফের ১১ নং এবং সূরা হিজরে আলোচনা করা হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আদম (عليه السلام)-কে সতর্ক করে দিলেন যে, এ ইবলীস তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্র“, অতএব কোনক্রমেই যেন তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকো।
فَتَشْقٰی অর্থ কষ্ট, পরিশ্রম ইত্যাদি। অর্থাৎ জান্নাতে খাওয়া, পান করা, পরা ও থাকার জন্য কোন পরিশ্রম করতে হয় না। কিন্তু যদি শয়তানের প্ররোচনায় জান্নাত থেকে বের হও তাহলে থাকা, খাওয়া ও পরার জন্য কষ্ট পরিশ্রম করতে হবে। এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় যে, কষ্ট ও পরিশ্রমের কথা শুধু আদম (عليه السلام)-কে সম্বোধন করে বলা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী উভয়কে বলা হয়নি। অথচ নিষিদ্ধ কাজ হতে উভয়কে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। এর কারণ হল প্রথমত: মূল সম্বোধনযোগ্য আদমই ছিলেন। দ্বিতীয়ত: পরিশ্রম ও কষ্ট করে মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করার দায়িত্ব কেবল পুরুষের, নারীর নয়। আল্লাহ তা‘আলা নারীদেরকে এ মেহনত ও পরিশ্রম থেকে বাঁচিয়ে “ঘরের রানী” র মর্যাদা দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমানে সেই আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত সম্মানকে দাসত্বের বেড়ি মনে করা হ্েচ্ছ। যার থেকে মুক্তি লাভের জন্য ব্যাকুল হয়ে আন্দোলন করছে। শয়তানের প্ররোচনা কত প্রভাবশালী, আর এসব নারীরা কতই না নির্বোধ।
তারপর জান্নাতে যে সকল নিয়মত দান করেছেন তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
ইবলীস শয়তান তাদেরকে জান্নাতে চিরস্থায়ী বসবাসের প্ররোচনা দিয়ে গাছের ফল খাওয়াতে সক্ষম হল। এমনকি যাতে বিশ্বাস করতে কোন দ্বিধা না হয় সেজন্য সে শপথ করে বলেছিল, আমি তোামদের কল্যাণকামী। ফল খাওয়ার সাথে সাথে জান্নাতী পোশাক খুলে গেল। এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ২২ নং আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ
এ সম্পর্কে সূরা বাকারাহ ও সূরা আ‘রাফে আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং যে শয়তান আদি পিতা-মাতা আদম ও হাওয়া (عليه السلام)-কে প্ররোচনা দিয়ে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে তার থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে। আমরা যেন তার প্ররোচনায় পড়ে জাহান্নামের দিকে পা না বাড়াই। বিশেষ করে নারীদেরকে শয়তান সহজেই প্ররোচিত করতে সক্ষম হয়, তাদেরকে প্ররোচিত করে সমাজে অনেক অশালীন কার্যকলাপ করে থাকে। তাই নারীদের বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া আবশ্যক। সে জন্য আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(یٰبَنِیْٓ اٰدَمَ لَا یَفْتِنَنَّکُمُ الشَّیْطٰنُ کَمَآ اَخْرَجَ اَبَوَیْکُمْ مِّنَ الْجَنَّةِ یَنْزِعُ عَنْھُمَا لِبَاسَھُمَا لِیُرِیَھُمَا سَوْاٰتِھِمَاﺚ اِنَّھ۫ یَرٰٿکُمْ ھُوَ وَقَبِیْلُھ۫ مِنْ حَیْثُ لَا تَرَوْنَھُمْﺚ اِنَّا جَعَلْنَا الشَّیٰطِیْنَ اَوْلِیَا۬ئَ لِلَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ)
“হে বানী আদম! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই ধোঁকায় না ফেলে- যেভাবে তোমাদের পিতা-মাতাকে (আদম-হাওয়া) সে জান্নাত হতে বহিষ্কার করেছিল, তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখানোর জন্য বিবস্ত্র করেছিল। সে নিজে এবং তার দল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে যে, তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। যারা ঈমান আনে না, শয়তানকে আমি তাদের অভিভাবক করেছি।” (সূরা আ‘রাফ ৭:২৭)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্র“, তাই তার থেকে সর্বদা সাবধান থাকতে হবে।
২. জান্নাতে মানুষ ক্ষুধার্ত হবে না, নগ্ন হবে না, পিপাসিত হবে না এবং রৌদ্রেক্লিষ্টও হবে না।
৩. অপরাধ করার পর ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১১৫-১২২ নং আয়াতের তাফসীর:
হযরত ইবুন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ইনসান’কে (মানুষকে) ইনসান বলার কারণ এই যে, তাকে সর্বপ্রথম যে হুকুম দেয়া হয়েছিল তা সে ভুলে গিয়েছিল। হযরত মুজাহিদ (রঃ) ও হযরত হাসান (রঃ) বলেন যে, ঐ হুকুম হযরত আদম (আঃ) ভুলে গিয়েছিলেন। এরপর হযরত আদমের (আঃ) মর্যাদার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। সূরায়ে বাকারা সূরায়ে আরাফ, সূরায়ে হিজর এবং সূরায়ে কাফে শয়তানের (হযরত আদমকে আঃ) সিজদা না করার ঘটনার পূর্ণ তাফসীর গত হয়েছে। সূরায়ে (আরবী) এও এর বর্ণনা আসবে ইনশা আল্লাহ। এ সব সূরায় হযরত আদমের (আঃ) জন্মবৃত্তান্ত, অতঃপর তার আভিজাত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশার্থে ফেরেশতাদেরকে তাঁর প্রতি সিজদাবনত। হওয়ার নির্দেশ দান এবং ইবলীসের গোপন শত্রুতা প্রকাশ ইত্যাদির বর্ণনা রয়েছে। সে অহংকার করতঃ আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অমান্য করে। ঐ সময় হযরত আদমকে বুঝানো হয়ঃ “দেখো, এই শয়তান তোমার ও তোমার স্ত্রী। হযরত হাওয়ার (আঃ) শত্রু। সে যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে, অন্যথায় তোমরা বঞ্চিত হয়ে জান্নাত হতে বহিষ্কৃত হবে এবং কঠিন বিপদে পড়ে যাবে। তোমাদেরকে জীবিকা অন্বেষণে মাথা ঘামাতে হবে। এখানে তো তোমরা বিনা পরিশ্রমে ও বিনা কষ্টে জীবিকা প্রাপ্ত হচ্ছে। এখানে যে তোমরা ক্ষুধার্ত থাকবে এটা অসদ্ধ এবং উলঙ্গ থাকবে এটাও অসম্ভ। এই ভিতরের ও বাইরের কষ্ট হতে এখানে বেঁচে আছ। আর এখানে না তোমরা আভ্যন্তরীণ ভাবে পিপাসার তীব্রতায় শাস্তি পাচ্ছ, না বাহ্যিকভাবে রৌদ্রের প্রখরতায় শাস্তি পাচ্ছ। যদি শয়তান তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করে ফেলে তবে তোমাদের থেকে এই আরাম ও শান্তি ছিনিয়ে নেয়া হবে এবং তোমরা বিভিন্ন ধরনের বিপদাপদে ও কষ্টের সম্মুখীন হয়ে পড়বে।” কিন্তু শেষে তারা শয়তানের ফাদে পড়েই যান। সে তাদেরকে শপথ করে বলেঃ “আমি তোমাদের শুভাকাংখী।” পূর্বেই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বলে দিয়েছিলেনঃ “তোমরা জান্নাতের সব গাছেরই ফল খেতে থাকো। কিন্তু সাবধান! এই গাছটির নিকটেও যেয়ো না। কিন্তু শয়তান তাঁদেরকে মিষ্টি কথায় এমন ভাবে ভুলিয়ে দেয় যে, শেষ পর্যন্ত তারা ঐ নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে ফেলেন। সে প্রতারণা করে তাদেরকে বলেঃ “যে এই গাছের ফল খেয়ে নেয় সেই এখানেই চিরকাল অবস্থান করে।”
সত্যবাদী ও সত্যায়িত রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেনঃ “জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ রয়েছে, যার ছায়ায় আরোহী একশ’ বছর চলতে থাকবে, তথাপি তা শেষ হবে না। ঐ বৃক্ষের নাম হলো ‘শাজারাতুল খুলদ।' (এই হাদীস আবুদ দাউদ তায়ালেসী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
তারা দুজন ঐ নিষিদ্ধ গাছটির ফল খাওয়া মাত্রই তাদের পরিধেয় পোশাক খসে পড়ে ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গ উলঙ্গ হয়ে যায় এবং লজ্জাস্থান প্রকাশ হয়ে পড়ে।
হযরত উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা হযরত আদমকে (অঃ) গোধূম বর্ণ, দীর্ঘ দেহ এবং ঘন চুল বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেছিলেন। দেহ খেজুরের গাছের সমান দীর্ঘ ছিল। নিষিদ্ধ গাছের ফল যেমনই খেয়েছেন তেমনই পরিধেয় পোশাক ছিনিয়ে নিয়েছেন। লজ্জাস্থানের দিকে নযর পড়া মাত্রই শরমে এদিক ওদিক লুকাতে থাকেন। একটি গাছে চুল জড়িয়ে পড়ে। তাড়াতাড়ি চুল ছুটাবার চেষ্টা করলেন আল্লাহ তাআলা ডাক দিয়ে বলেনঃ “হে আদম (আঃ)! আমা হতে পালিয়ে যাচ্ছ?” আল্লাহর কালাম শুনে অত্যন্ত আদবের সাথে আরজ করেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! লজ্জায় আমি মাথা লুকাবার চেষ্টা করছি। আচ্ছা বলুন তো, তাওবা করার পরেওকি জান্নাতে প্রবেশাধিকার লাভ করতে পারবো?” উত্তরে বলা হয়ঃ “হা।” “অতঃপর আদম (আঃ) তার প্রতিপালকের নিকট হতে কিছু বানী প্রাপ্ত হলেন আল্লাহ তাআলার এই উক্তির ভাবার্থ এটাই। (এ হাদীসটি মুসনাদে আবি হাতিমে বর্ণিত হয়েছে। তবে এ রিওয়াইয়াতটি মুনকাতা বা ছেদ কাটা। এর মারফু হওয়ার ব্যাপারে সমালোচনা হয়েছে)
যখন হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ) হতে পোশাক ছিনিয়ে নেয়া হয় তখন তারা জান্নাতের বৃক্ষপত্র দ্বারা নিজেদের দেহকে আবৃত করতে থাকেন। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ডুমুর জাতীয় গাছের পাতা দ্বারা তারা নিজেদের লজ্জা স্থান আবৃত করেন। আল্লাহ তাআলার নাফরমানীর কারণে তারা সঠিক পথ হতে সরে পড়েন। কিন্তু অবশেষে মহান আল্লাহ তাদেরকে সুপথ প্রদর্শন করেন। তিনি তাদের তওবা কবুল করে নেন এবং নিজের বিশিষ্ট বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “হযরত মূসা (আঃ) ও হযরত আদমের (আঃ) মধ্যে পরস্পর বাক্যালাপ হয়। হযরত মূসা (আঃ) বলেনঃ “আপনি তো আপনার পাপের কারণে সমস্ত মানুষকে জান্নাত হতে বের করেছেন এবং তাদেরকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন?” উত্তরে হযরত আদম (আঃ) তাঁকে বলেনঃ “হে মূসা (আঃ)! আল্লাহ তাআলা আপনাকে স্বীয় রিসালাত ও কালাম দ্বারা বিশিষ্ট মর্যাদা দান করেছেন। আপনি আমাকে এমন কাজের সাথে দোষারোপ করছেন যা আল্লাহ তাআলা আমার জন্মের পূর্বেই আমার ভাগ্যে লিখে রেখেছিলেন?` অতএব, হযরত আদম (আঃ) হযরত মূসার (আঃ) অভিযোগ খণ্ডন করে বিজয়ী হলেন। (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) স্বীয় 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)
অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, হযরত মূসা (আঃ) হযরত আদমকে (আঃ) বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা আপনাকে নিজের হাতে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার মধ্যে নিজের রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। আর আপনার সামনে তিনি তার ফেরেশতামণ্ডলীকে সিজদা করিয়েছেন। অতঃপর তিনি আপনাকে জান্নাতে। স্থান দিয়েছিলেন। তারপর আপনার পাপের কারণে মানব জাতিকে তিনি যমীনে নামিয়ে দিয়েছেন?` জবাবে হযরত আদম (আঃ) তাঁকে বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা আপনাকে স্বীয় রিসালাত ও কালামের মাধ্যমে মনোনীত করেছেন। আর আপনাকে তিনি ঐ ফলক দান করেছেন যাতে সব জিনিসেরই বর্ণনা রয়েছে এবং তিনি আপনার সাথে গোপনীয়ভাবে কথা বলে আপনাকে নিজের নৈকট্য দান করেছেন। আচ্ছা বলুন তো, আল্লাহ তাআলা আমার জন্মের কতদিন পূর্বে তাওরাত লিখেছিলেন?` উত্তরে হযরত মূসা (আঃ) বলেনঃ চল্লিশ বছর পূর্বে।” তখন হযরত আদম (আঃ) তাকে প্রশ্ন করেনঃ “আদম (আঃ) তার প্রতিপালকের হুকুম অমান্য করলো, ফলে সে ভ্রমে পতিত হলো একথা কি আপনি তাওরাতে লিপিবদ্ধ পেয়েছেন?” জবাবে হযরত মূসা (আঃ) বলেনঃ “হা হযরত আদম (আঃ) তখন হযরত মূসাকে (আঃ) বলেনঃ “তাহলে আপনি কেন আমাকে এমন কাজের জন্যে দোষারোপ করছেন যা আল্লাহ তাআলা আমার জন্মেরও চল্লিশ বছর পূর্বে আমার ভাগ্যে লিখে দিয়েছিলেন?” সুতরাং এই বিতর্কে হযরত আদম (আঃ) হযরত মূসার (আঃ)। উপর বিজীয় হন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।