সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 108)
হরকত ছাড়া:
يومئذ يتبعون الداعي لا عوج له وخشعت الأصوات للرحمن فلا تسمع إلا همسا ﴿١٠٨﴾
হরকত সহ:
یَوْمَئِذٍ یَّتَّبِعُوْنَ الدَّاعِیَ لَا عِوَجَ لَهٗ ۚ وَ خَشَعَتِ الْاَصْوَاتُ لِلرَّحْمٰنِ فَلَا تَسْمَعُ اِلَّا هَمْسًا ﴿۱۰۸﴾
উচ্চারণ: ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াত্তাবি‘ঊনাদ্দা-‘ইয়া লা-‘ইওয়াজালাহূ ওয়াখাশা‘আতিল আসওয়া-তু লিররাহমা-নি ফালা-তাছমা‘উ ইল্লা-হামছা-।
আল বায়ান: সেদিন তারা আহবানকারীর (ফেরেশতার) অনুসরণ করবে। এর কোন এদিক সেদিক হবে না এবং পরম করুণাময়ের সামনে সকল আওয়াজ নিচু হয়ে যাবে। তাই মৃদু আওয়াজ ছাড়া তুমি কিছুই শুনতে পাবে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৮. সেদিন তারা আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে, এ ব্যাপারে এদিক ওদিক করতে পারবে না। আর দয়াময়ের সামনে সমস্ত শব্দ স্তব্ধ হয়ে যাবে; কাজেই মৃদু ধ্বনি(১) ছাড়া আপনি কিছুই শুনবেন না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: সেদিন তারা (সোজাসুজি) আহবানকারীর অনুসরণ করবে যার কথা এদিক ওদিক হবে না। দয়াময়ের সম্মুখে সেদিন যাবতীয় আওয়াজ স্তব্ধ হয়ে যাবে (এমনভাবে) যে মৃদু গুঞ্জন ছাড়া তুমি কিছুই শুনবে না।
আহসানুল বায়ান: (১০৮) সেই দিন ওরা আহবানকারীর অনুসরণ করবে,[1] এই ব্যাপারে (তাদের) কোন বক্রতা থাকবে না।[2] আর পরম দয়াময়ের নিকট সকল শব্দ স্তব্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং মৃদু পদধ্বনি ব্যতীত তুমি কিছুই শুনবে না। [3]
মুজিবুর রহমান: সেদিন তারা আহবানকারীর অনুসরণ করবে, এ ব্যাপারে এদিক ওদিক করতে পারবেনা; দয়াময়ের সামনে সব শব্দ স্তদ্ধ হয়ে যাবে; সুতরাং মৃদু পদধ্বনি ছাড়া তুমি কিছুই শুনতে পাবেনা।
ফযলুর রহমান: সেদিন মানুষেরা (আল্লাহর পক্ষ থেকে) আহবানকারীর কথামতো চলবে। তার কথার মোটেও এদিক-ওদিক করতে পারবে না। করুণাময় আল্লাহর ভয়ে সব শব্দ নিচু হয়ে যাবে। সুতরাং ফিসফিসানি ছাড়া তুমি আর কিছু শুনবে না।
মুহিউদ্দিন খান: সেই দিন তারা আহবানকারীর অনুসরণ করবে, যার কথা এদিক-সেদিক হবে না এবং দয়াময় আল্লাহর ভয়ে সব শব্দ ক্ষীণ হয়ে যাবে। সুতরাং মৃদু গুঞ্জন ব্যতীত তুমি কিছুই শুনবে না।
জহুরুল হক: সেইদিন তারা আহানকারীর অনুসরণ করবে, তাঁর মধ্যে কোনো আঁকানো-বাঁকানো নেই, আর গলার আওয়াজ হবে ক্ষীণ পরম করুণাময়ের সামনে, তারফলে তুমি মৃদু গুন ছাড়া আর কিছুই শুনবে না।
Sahih International: That Day, everyone will follow [the call of] the Caller [with] no deviation therefrom, and [all] voices will be stilled before the Most Merciful, so you will not hear except a whisper [of footsteps].
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১০৮. সেদিন তারা আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে, এ ব্যাপারে এদিক ওদিক করতে পারবে না। আর দয়াময়ের সামনে সমস্ত শব্দ স্তব্ধ হয়ে যাবে; কাজেই মৃদু ধ্বনি(১) ছাড়া আপনি কিছুই শুনবেন না।
তাফসীর:
(১) মূলে ‘হাম্স’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এ শব্দটি পায়ের আওয়াজ, চুপিচুপি কথা বলার আওয়াজ, আরো এ ধরনের হালকা আওয়াজের জন্য বলা হয়। এর অর্থ এ দাঁড়ায় যে, সেখানে চলাচলকারীদের পায়ের আওয়াজ, হাল্কা শব্দ ছাড়া কোন আওয়াজ শোনা যাবে না। [ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১০৮) সেই দিন ওরা আহবানকারীর অনুসরণ করবে,[1] এই ব্যাপারে (তাদের) কোন বক্রতা থাকবে না।[2] আর পরম দয়াময়ের নিকট সকল শব্দ স্তব্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং মৃদু পদধ্বনি ব্যতীত তুমি কিছুই শুনবে না। [3]
তাফসীর:
[1] যে দিন উঁচু-নিচু, পর্বত-উপত্যকা, আকাশ-ছোঁয়া অট্টালিকা, সব বরাবর ও সমতল হয়ে যাবে। সমুদ্র ও নদ-নদী শুকিয়ে যাবে, সমস্ত পৃথিবী সমতলভূমিতে পরিণত হবে। তারপর একজন আহবানকারীর শব্দ আসবে, যার পিছু পিছু সমস্ত লোক চলতে শুরু করবে।
[2] অর্থাৎ, সেই আহবানকারী থেকে এদিক-ওদিক হবে না।
[3] সম্পূর্ণ নিস্তব্ধতা বিরাজ করবে, মৃদু পদধ্বনি আর কানাকানি ছাড়া কিছুই শোনা যাবে না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০৫-১০৮ নং আয়াতের তাফসীর:
(وَيَسْأَلُوْنَكَ عَنِ الْجِبَالِ.... ) শানে নুযূল:
ইবুন জারীর থেকে বর্ণিত আছে যে, কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করত, হে মুহাম্মাদ! কিয়ামাতের দিন তোমার প্রতিপালক এ সমস্ত পাহাড়গুলোকে কী করবেন? এগুলো কি ধ্বংস করে দেবেন, না রেখে দেবেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা উক্ত আয়াত নাযিল করেন। (লুবাবুন নুকূল ফি আসবাবিন নুযূল, পৃ: ১৮১)
সেদিন পাহাড়সমূহ সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দেয়া হবে। তা পরিণত হবে মসৃণ সমতল ভূমিতে যাতে কোন প্রকার বক্রতা ও অসমতল থাকবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّوْرِ نَفْخَةٌ وَّاحِدَةٌ لا وَّحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَّاحِدَةً)
‘‘যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে একটি মাত্র ফুৎকার। আর পৃথিবী ও পর্বত মালাকে উত্তোলন করা হবে এবং একই ধাক্কায় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হবে।” (সূরা হাককাহ ৬৯:১৩-১৪)
আর সেদিন তারা শুধুমাত্র আহ্বানকারী ফেরেশতার অনুসরণ করবে। আহ্বানকারী তাদেরকে একত্রিত হওয়ার জন্য আহ্বান করবে। এ ব্যাপারে তারা কোন এদিক সেদিক করতে পারবে না। সকলেই সেদিন নিস্তব্ধ হয়ে যাবে, পদধ্বনি ছাড়া কিছুই শুনতে পাবে না।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَتَوَلَّ عَنْھُمْﺭ یَوْمَ یَدْعُ الدَّاعِ اِلٰی شَیْءٍ نُّکُرٍﭕﺫ خُشَّعًا اَبْصَارُھُمْ یَخْرُجُوْنَ مِنَ الْاَجْدَاثِ کَاَنَّھُمْ جَرَادٌ مُّنْتَشِرٌﭖﺫ مُّھْطِعِیْنَ اِلَی الدَّاعِﺚ یَقُوْلُ الْکٰفِرُوْنَ ھٰذَا یَوْمٌ عَسِرٌﭗ)
“অতএব তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর। যেদিন আহ্বানকারী (ইসরাফীল) আহ্বান করবে এক ভয়াবহ বস্তুর দিকে, অপমানে শঙ্কিত নয়নে সেদিন তারা কবরসমূহ হতে বের হবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের ন্যায়, তারা আহ্বানকারীর দিকে ছুটে আসবে। কাফিররা বলবে: কঠিন এই দিন।” (সূরা ক্বামার ৫৪:৬-৮)
সুতরাং সেদিন ক্ষমতা থাকবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার। সেদিন কেউ কিছুই করতে পারবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কিয়ামতের পূর্বে পাহাড়সমূহ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং পৃথিবী সমতল ভূমিতে পরিণত হবে।
২. আল্লাহ তা‘আলার সম্মুখে সকলে স্তব্ধ হয়ে যাবে, কেউ কিছু বলতে পারবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০৫-১০৮ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) বলছেনঃ তোমাকে জনগণ জিজ্ঞেস করছে যে, কিয়ামতের দিন এই পাহাড়গুলি বাকী থাকবে কি না? তুমি উত্তরে তাদেরকে বলে দাও আমার প্রতিপালক ওগুলিকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন। ওগুলি চলছে, ফিরছে বলে মনে হবে এবং শেষে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি ওকে পরিণত করবেন মসৃণ সমতল ময়দানে। (আরবী) শব্দের অর্থ হলো মসৃণ সমতল ময়দান এবং (আরবী) শব্দকে ওরই গুরত্বের জন্যে আনা হয়েছে। আবার (আরবী) এর অর্থ বর্ধন হীন যমীনও হয়। কিন্তু প্রথম অর্থটি উৎকৃষ্টতর। আর দ্বিতীয় অর্থটিও অপরিহার্য। না যমীনে কোন উপত্যকা থাকবে, না কোন টিলা থাকবে, না থাকবে, উঁচু-নীচু। এই ভীতিপ্রদ অবস্থার সাথে সাথেই এক শব্দকারী শব্দ করবে। সমস্ত সৃষ্টজীব ঐ শব্দের পিছনে ছুটবে। দৌড়তে দৌড়তে হুকুম অনুযায়ী একদিকে চলতে থাকবে। এদিক ওদিকও হবে না এবং বক্র পথেও চলবে না। হায়! দুনিয়ায় যদি এই ব্যবহার ও চলন থাকতো এবং আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলা হতো! কিন্তু সেই দিন এই ব্যবহার ও চালচলন কোন কাজে আসবে না। সেই দিন তো মানুষ আল্লাহ তাআলার হুকুম খুবই মান্যকারী হয়ে যাবে এবং হুকুমের সাথে সাথেই তা পালন করবে হাশরের মাঠ হবে অন্ধকার জায়গা। আকাশকে জড়িয়ে নেয়া হবে। নক্ষত্ররাজি ঝরে ঝরে পড়ে যাবে এবং সুর্য চন্দ্র নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আওয়াজ দাতার আওয়াজেই সব দাড়িয়ে যাবে। ঐ একই ময়দানে সমস্ত সৃষ্টজীব একত্রিত হবে। সেইদিন দয়াময় আল্লাহ তাআলার সামনে সকল শব্দ স্তব্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং মৃদু পদধ্বনি ছাড়া তুমি কিছুই শুনতে পাবে না। আল্লাহ তাআলার অনুমতি ক্রমে কোন কোন সময় কেউ কেউ কিছু বলবেও বটে। কিন্তু বলবে অত্যন্ত আদবের সাথে এবং চলবেও অত্যন্ত ভদ্রতার সাথে। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যেই দিন তারা আমার সামনে হাজির হবে সেই দিন কারো। ক্ষমতা ও সাহস হবে না যে, আমার অনুমতি ছাড়া মুখ খুলতে পারে। তাদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগ্য এবং কেউ হবে ভাগ্যবান।” (১১:১০৫)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।