আল কুরআন


সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 104)

সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 104)



হরকত ছাড়া:

نحن أعلم بما يقولون إذ يقول أمثلهم طريقة إن لبثتم إلا يوما ﴿١٠٤﴾




হরকত সহ:

نَحْنُ اَعْلَمُ بِمَا یَقُوْلُوْنَ اِذْ یَقُوْلُ اَمْثَلُهُمْ طَرِیْقَۃً اِنْ لَّبِثْتُمْ اِلَّا یَوْمًا ﴿۱۰۴﴾




উচ্চারণ: নাহনুআ‘লামুবিমা-ইয়াকূ লূনা ইযইয়াকূ লুআমছালুহুম তারীকাতান ইল লাবিছতুম ইল্লা-ইয়াওমা-।




আল বায়ান: আমি ভালভাবেই জানি তারা কী বলবে, তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত সৎপথে ছিল যে লোকটি সে বলবে, ‘তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে’!




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৪. আমরা ভালভাবেই জানি তারা কি বলবে, তাদের মধ্যে যে অপেক্ষাকৃত উত্তম পথে ছিল (বিবেকবান ব্যক্তি) সে বলবে, তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি ভালভাবেই জানি তারা যা বলে। তাদের মধ্যে যে উত্তম পথের অনুসারী সে বলবে, ‘তোমরা একদিনের বেশি অবস্থান করনি।’




আহসানুল বায়ান: (১০৪) ওরা কি বলবে তা আমি ভাল জানি। ওদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশী উত্তম পথের অনুসারী[1] বলবে, ‘তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে।’



মুজিবুর রহমান: তারা কি বলবে তা আমি ভাল জানি। তাদের মধ্যে যে অপেক্ষাকৃত সৎ পথে ছিল সে বলবেঃ তোমরা এক দিনের বেশি অবস্থান করনি।



ফযলুর রহমান: তারা কি বলবে আমি তা খুব ভাল করে জানি, যখন তাদের মধ্যে উৎকৃষ্টতর জীবনপদ্ধতির অনুসারী ব্যক্তি বলবে, তোমরা একদিনের বেশি অবস্থান করনি।



মুহিউদ্দিন খান: তারা কি বলে তা আমি ভালোভাবে জানি। তাদের মধ্যে যে, অপেক্ষাকৃত উত্তম পথের অনুসারী সে বলবেঃ তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে।



জহুরুল হক: আমরা ভাল জানি কি তারা বলাবলি করে যখন তাদের মধ্যে চালচলনে দক্ষ ব্যক্তি বলবেন -- "তোমরা তো একদিন মাত্র অবস্থান করেছিলে।"



Sahih International: We are most knowing of what they say when the best of them in manner will say, "You remained not but one day."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০৪. আমরা ভালভাবেই জানি তারা কি বলবে, তাদের মধ্যে যে অপেক্ষাকৃত উত্তম পথে ছিল (বিবেকবান ব্যক্তি) সে বলবে, তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০৪) ওরা কি বলবে তা আমি ভাল জানি। ওদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশী উত্তম পথের অনুসারী[1] বলবে, ‘তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে।’


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ সবার থেকে বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী। অর্থাৎ, দুনিয়ার জীবন তাদের কাছে কয়েক দিন বরং কয়েক ঘন্টা বলে মনে হবে। যেমন অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেছেন,{وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يُقْسِمُ الْمُجْرِمُونَ مَا لَبِثُوا غَيْرَ سَاعَةٍ} যে দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে, তারা দুনিয়াতে মুহূর্তকালের বেশী অবস্থান করেনি। (সূরা রূমঃ ৫৫) এই বিষয়টি আরো বিভিন্ন জায়গায় বর্ণনা করা হয়েছে; যেমন সূরা ফাতিরঃ ৩৭, সূরা মু’মিনূনঃ ১১২-১১৪, সূরা নাযিআতঃ ৪৬ ইত্যাদি। উদ্দেশ্য হল, অস্থায়ী জীবনকে যেন স্থায়ী জীবনের উপর প্রাধান্য না দেওয়া হয়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০২-১০৪ নং আয়াতে তাফসীর:



الصُّوْرِ অর্থ শিংগা, অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার আদেশে যে শিংগায় ফুৎকার দেয়ার জন্য ইসরাফিল (عليه السلام) অপেক্ষমান রয়েছে সেই শিংগা। যখন আদেশ দেয়া হবে তখনই শিংগায় ফুঁ দেবেন। প্রথম ফুঁৎকারে জীবিত সবাই মারা যাবে, দ্বিতীয় ফুঁৎকারে কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর তৃতীয় ফুৎকারে সবাই জীবিত হয়ে হাশরের ময়দানে সমবেত হবে। এখানে তৃতীয় ফুঁৎকার উদ্দেশ্য। কেউ কেউ বলেছেন, ফুঁৎকার মাত্র দুটি হবে। এ সম্পর্কে সূরা আন‘আমের ৭৩ নং আয়াতসহ বিভিন্ন স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।



زُرْقًا অর্থাৎ কাফিরদের চক্ষু ও রঙ বিবর্ণ অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে। আর তারা ভীষণভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়ার কারণে একজন অপর জনের সাথে চুপি চুপি বলবে, তোমরা দুনিয়াতে মাত্র দশ দিন অবস্থান করেছো। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:





(وَيَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ يُقْسِمُ الْمُجْرِمُوْنَ ৫ لا مَا لَبِثُوْا غَيْرَ سَاعَةٍ ط كَذٰلِكَ كَانُوْا يُؤْفَكُوْنَ)



“যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন পাপীরা শপথ করে বলবে যে, তারা মুহূর্তকালের বেশি অবস্থান করেনি। এভাবেই তাদেরকে উল্টা দিকে পরিচালিত করা হত। ” (সূরা রূম ৩০:৫৫)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(قَالَ كَمْ لَبِثْتُمْ فِي الْأَرْضِ عَدَدَ سِنِيْنَ ‏ قَالُوْا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ فَسْئَلِ الْعَادِّيْنَ ‏ قَالَ إِنْ لَّبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيْلًا لَّوْ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ‏)‏



“আল্লাহ বলবেন: ‘তোমরা পৃথিবীতে কত বৎসর অবস্থান করেছিলে?’ তারা বলবে, ‘আমরা অবস্থান করেছিলাম একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ; তুমি না হয় গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস কর।’ তিনি বলবেন: ‘তোমরা অল্প কালই অবস্থান করেছিলে, যদি তোমরা জানতে!” (সূরা মু’মিনূন ২৩:১১২-১১৪)



আর প্রকৃতপক্ষে দুনিয়ার জীবন আখিরাতের তুলনায় এরূপই অর্থাৎ অতি অল্পকালের কিন্তু মানুষ দুনিয়াতে তা মনে রাখে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সিঙ্গায় ফুৎকার দেয়ার জন্য ইসরাফিল (عليه السلام) প্রস্তুত, আল্লাহ নির্দেশ দিলেই ফুঁ দেবেন।

২. কিয়ামতের ভয়াবহতা দেখে অপরাধীদের চোখ ও রঙ পরিবর্তন হয়ে যাবে।

৩. দুনিয়ার জীবন আখিরাতের তুলনায় অতি অল্প সময়ের এবং খুবই নগণ্য।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০২-১০৪ নং আয়াতের তাফসীর:

হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহকে (সঃ) জিজ্ঞেস করা হয় সূর’ বা শিংগা কি জিনিস?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “ওটা এমন একটা শিংগা যাতে ফুৎকার দেয়া হবে। ওর বেড় হবে আসমান ও যমীনের সমান। হযরত ইসরাফীল (আঃ) তাতে ফু দিবেন।” অন্য একটি রিওয়াইয়াতে অেিছ যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমি কিরূপে শান্তি লাভ করবো? অথচ শিংগায় ফুৎকারদানকারী শিংগায় মুখ লাগিয়ে কপাল ঝুঁকিয়ে রয়েছেন এবং আল্লাহর হুকুমের শুধু অপেক্ষায় রয়েছেন। জনগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) ! তাহলে আমরা পাঠ করবো কি?” জবাবে তিনি বললেনঃ “তোমরা পড়তে থাকোঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমাদের জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মকর্তা, আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করেছি।”

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ সেই দিন আমি অপরাধীদের দৃষ্টিহীন অব স্থায় সমবেত করবো। তারা তাদের পরস্পরের মধ্যে চুপি চুপি বলাবলি করবেঃ আমরা দুনিয়ায় মাত্র দশ দিন অর্থাৎ অতি অল্প সময় অবস্থান করেছি। আমি তাদের ঐ গোপন কথাবার্তাও সম্যক অবগত আছি। তাদের মধ্যে যে অপেক্ষাকৃত সৎপথে ছিল সে বলবেঃ আমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলাম। মোট কথা, কাফিরদের কাছে দুনিয়ার জীবন অতি অল্প সময় বলে মনে হবে। ঐ সময় তারা শপথ করে করে বলবেঃ “আমরা তো দুনিয়ায় শুধু এক ঘন্টাকাল কাটিয়েছি। অন্য এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি কি তোমাদেরকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করার মত বয়স প্রদান করেছিলাম না? তোমাদের কাছে তো ভয় প্রদর্শকও এসেছিল?” (৩৫:৩৭)

আর এক জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তোমরা যমীনে কতকাল অব স্থান করেছিলে? (উত্তরে) তারা বলবেঃ “একদিন বা একদিনের কিছু অংশ (আমরা অবস্থান করেছিলাম। আসলে আখেরাতের তুলনায় দুনিয়া এরূপই বটে। কিন্তু তোমরা যদি এটা জানতে বা বুঝতে তবে এই অস্থায়ী জগতকে ঐ স্থায়ী জগতের উপর কখনো প্রাধান্য দিতে না, বরং এই দুনিয়াতেই তোমরা আখেরাতের পূজি সংগ্রহ করে নিতে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।