সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 10)
হরকত ছাড়া:
إذ رأى نارا فقال لأهله امكثوا إني آنست نارا لعلي آتيكم منها بقبس أو أجد على النار هدى ﴿١٠﴾
হরকত সহ:
اِذْ رَاٰ نَارًا فَقَالَ لِاَهْلِهِ امْکُثُوْۤا اِنِّیْۤ اٰنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّیْۤ اٰتِیْکُمْ مِّنْهَا بِقَبَسٍ اَوْ اَجِدُ عَلَی النَّارِ هُدًی ﴿۱۰﴾
উচ্চারণ: ইযরাআ-না-রান ফাকা-লা লিআহলিহিম কুছূ দ্মইন্নীআ-নাছতুনা-রাল লা‘আললীআতীকুম মিনহা-বিকাবাছিন আও আজিদু‘আলান না-রি হুদা-।
আল বায়ান: যখন সে আগুন দেখল, তখন নিজ পরিবারকে বলল, ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখতে পেয়েছি, আশা করি আমি তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু জ্বলন্ত আঙ্গার নিয়ে আসতে পারব অথবা আগুনের নিকট পথনির্দেশ পাব।’
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০. তিনি যখন আগুন দেখলেন তখন তাঁর পরিবারবর্গকে বললেন, তোমরা অপেক্ষা কর, আমি তো আগুন দেখেছি। সম্ভবত আমি তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু জ্বলন্ত অঙ্গার আনতে পারব অথবা আমি আগুনের কাছে ধারে কোন পথনির্দেশ পাব।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: যখন সে আগুন দেখল (মাদ্ইয়ান থেকে মিসর যাবার পথে), তখন সে তার পরিবারবর্গকে বলল, ‘তোমরা এখানে অবস্থান কর, আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবতঃ আমি তাত্থেকে তোমাদের জন্য কিছু জ্বলন্ত আগুন আনতে পারব কিংবা আগুনের নিকট পথের সন্ধান পাব।
আহসানুল বায়ান: (১০) সে যখন আগুন দেখল, তখন তার পরিবারবর্গকে বলল, ‘তোমরা এখানে অবস্থান কর। আমি আগুন দেখেছি; সম্ভবতঃ আমি তোমাদের জন্য তা হতে কিছু জ্বলন্ত অঙ্গার আনতে পারব অথবা ওর নিকট কোন পথ প্রদর্শক পাব।’ [1]
মুজিবুর রহমান: সে যখন আগুন দেখল তখন তার পরিবারবর্গকে বললঃ তোমরা এখানে থাক আমি আগুন দেখেছি; সম্ভবতঃ আমি তোমাদের জন্য তা হতে কিছু জ্বলন্ত অঙ্গার আনতে পারবো অথবা ওর নিকটে কোন পথ প্রদর্শক পাব।
ফযলুর রহমান: যখন সে আগুন দেখল তখন তার পরিবারবর্গকে বলল, “তোমরা এখানে অবস্থান করো, আমি একটা আগুন দেখতে পেয়েছি। আমি হয়তো তা থেকে তোমাদের জন্য একটু আগুন সংগ্রহ করে আনতে পারব নতুবা ঐ আগুনের কাছে গিয়ে কোন পথের সন্ধান পাব।”
মুহিউদ্দিন খান: তিনি যখন আগুন দেখলেন, তখন পরিবারবর্গকে বললেনঃ তোমরা এখানে অবস্থান কর আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু আগুন জালিয়ে আনতে পারব অথবা আগুনে পৌছে পথের সন্ধান পাব।
জহুরুল হক: স্মরণ করো! তিনি দেখতে পেলেন একটি আগুন, তাই তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে বললেন -- "দাঁড়াও, আমি নিঃসন্দেহ একটি আগুন দেখছি, সম্ভবতঃ তোমাদের জন্য সেখান থেকে আমি জ্বলন্ত আঙটা আনতে পারব অথবা আগুনের কাছ থেকে কোনো পথনির্দেশ পেয়ে যাব।"
Sahih International: When he saw a fire and said to his family, "Stay here; indeed, I have perceived a fire; perhaps I can bring you a torch or find at the fire some guidance."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১০. তিনি যখন আগুন দেখলেন তখন তাঁর পরিবারবর্গকে বললেন, তোমরা অপেক্ষা কর, আমি তো আগুন দেখেছি। সম্ভবত আমি তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু জ্বলন্ত অঙ্গার আনতে পারব অথবা আমি আগুনের কাছে ধারে কোন পথনির্দেশ পাব।(১)
তাফসীর:
(১) মনে হচ্ছে তখন সময়টা ছিল শীতকালের একটি রাত। খুব অন্ধকার একটি রাত। [কুরতুবী] মুসা আলাইহিস সালাম সিনাই উপদ্বীপের দক্ষিণ এলাকা অতিক্রম করছিলেন। দূর থেকে একটি আগুন দেখে তিনি মনে করেছিলেন সেখান থেকে কিছু আগুন পাওয়া যাবে যার সাহায্যে পরিবারের লোকজনদের সারারাত গরম রাখার ব্যবস্থা হবে অথবা কমপক্ষে সামনের দিকে অগ্রসর হবার পথের সন্ধান পাওয়া যাবে। এখানে এসেছে যে, তিনি পরিবারকে বলেছিলেন যে, আমি যাচ্ছি যাতে আমি জুলন্ত অঙ্গর আনতে পারি। অন্য আয়াতে এসেছে, একখণ্ড জ্বলন্ত কাঠ আনতে পারি যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার। [সূরা আল-কাসাস: ২৯]
এর দ্বারা বোঝা গেল যে, রাতটি ছিল প্রচণ্ড শীতের। তারপর বলেছেন যে, অথবা আমি পথের সন্ধান পাব। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, তিনি পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন। যখন আগুন দেখলেন, তখন ভাবলেন, যদি কাউকে পথ দেখানোর মত নাও পাই, সেখান থেকে আগুন নিয়ে আসতে পারব। [ইবন কাসীর] তিনি দুনিয়ার পথের সন্ধান পাওয়ার কথা চিন্তা করেছিলেন আর পেয়ে গেলেন সেখানে আখেরাতের পথ।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১০) সে যখন আগুন দেখল, তখন তার পরিবারবর্গকে বলল, ‘তোমরা এখানে অবস্থান কর। আমি আগুন দেখেছি; সম্ভবতঃ আমি তোমাদের জন্য তা হতে কিছু জ্বলন্ত অঙ্গার আনতে পারব অথবা ওর নিকট কোন পথ প্রদর্শক পাব।’ [1]
তাফসীর:
[1] এ ঘটনা ঐ সময়কার যখন হযরত মূসা (আঃ) মাদয়্যান হতে আপন স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে (একটি মতানুসারে যিনি শুআইব (আঃ)-এর কন্যা ছিলেন) নিজের মাতার নিকট ফিরে যাচ্ছিলেন। রাত্রি ছিল অন্ধকার এবং রাস্তাও ছিল অজানা। কোন কোন ব্যাখ্যাতার কথানুসারে স্ত্রীর প্রসবের সময় ছিল আসন্ন এবং তাঁর জন্য আগুনের প্রয়োজন ছিল। কিংবা শীতের কারণে তাপ তথা আগুনের প্রয়োজন বোধ হয়। এমতাবস্থায় দূর হতে তাঁরা আগুনের শিখা দেখতে পান। পরিবারকে অর্থাৎ স্ত্রীকে, (কেউ কেউ বলেন, সঙ্গে চাকর ও শিশুও সঙ্গে ছিল, যার কারণে বহুবচন শব্দ ব্যবহূত হয়েছে।) বললেন, ‘তোমরা এখানে অপেক্ষা কর। আমি আশা করি সেখান হতে আগুন সংগ্রহ করব অথবা কমসে কম সেখান হতে পথের সন্ধান পাব।’
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৯-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে মূসা (عليه السلام) মাদইয়ানে দশ বছর অবস্থান করার পর যখন মিসরের উদ্দেশ্যে সস্ত্রীক ফিরে আসছিলেন তখন পথিমধ্যে আল্লাহ তা‘আলার সাথে তাঁর কথোপকথন, রিসালাত প্রাপ্তি ও সংশ্লিষ্ট ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যার সারসংক্ষেপ হলো
মূসা (عليه السلام) সস্ত্রীক মাদইয়ান থেকে আসতে পথিমধ্যে রাত হয়ে গেল, রাস্তাও ছিল অজানা, রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিলেন না, হয়তো কোন দিক নির্দেশনা পেলে রাস্তা পেতেন। কেউ কেউ বলেছেন, স্ত্রীর প্রসবের সময় ছিল আসন্ন, শীতও ছিল কনকনে। সব মিলিয়ে আগুনের প্রয়োজন। যখন তুর পাহাড়ের কাছে আসলেন তখন আগুন দেখতে পেলেন, পরিবারকে বললেন: তোমরা এখানে অবস্থান কর, আমি ঐখানে আগুন দেখতে পাচ্ছি, আগুন নিয়ে আসলে হয়তো শীত কাটানো যাবে অথবা একটা পথ খুঁজে পাব। অতঃপর যখন তিনি ঐ আগুনের নিকট পৌঁছলেন, তখন আওয়াজ এল, হে মূসা! আমিই তোমার পালনকর্তা। অতএব তুমি তোমার জুতো খুলে ফেল। কারণ তুমি পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় রয়েছ। আওয়াজটি এসেছিল গাছের আড়াল থেকে, যেমন সূরা ক্বাসাসের ৩০ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। জুতো খোলার নির্দেশ এ জন্য দেয়া হয়েছে যে, এতে বিনয় বেশি প্রকাশ পাবে এবং অধিক সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
আর আমি তোমাকে রাসূল হিসেবে মনোনীত করেছি। অতএব তোমাকে যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোন। আমিই আল্লাহ তা‘আলা। আমি ব্যতীত আর কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই। অতএব একমাত্র আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর।
(وَأَقِمِ الصَّلٰوةَ لِذِكْرِيْ)
‘আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর’ প্রথমে ব্যাপকভাবে ইবাদতের নির্দেশ দেয়ার পর বিশেষভাবে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেয়া হল কেন অথচ ইবাদতের মাঝে সালাত শামিল? কারণ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করার যত ইবাদত রয়েছে বা আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য হাসিল করার যত ইবাদত রয়েছে সকল ইবাদতের মাঝে সালাত সর্বোত্তম পন্থা। তাছাড়া এভাবে ব্যক্ত করে সালাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
(لِذِكْرِيْ) এর একটি অর্থ হল- আমার স্মরণার্থে, অর্থাৎ আমার স্মরণার্থে সালাত আদায় কর। কেননা আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করার প্রধান মাধ্যম হল সালাত।
দ্বিতীয় অর্থ হল যখনই আমার কথা স্মরণ হবে তখনই সালাত আদায় কর। অর্থাৎ যদি কোন সময় উদাসীনতায় বা ভুলে অথবা ঘুমে আমার স্মরণ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও স্মরণ হওয়ার সাথে সাথেই সালাত আদায় কর। যেমন হাদীসে এসেছে: যদি তোমাদের কেউ সালাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে যায় তাহলে যখনই স্মরণ হবে তখনই সালাত আদায় করে নেবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ‘আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর’। (সহীহ বুখারী হা: ৫৯৭, সহীহ মুূসলিম হা: ৬৯৭)
তারপর মহান আল্লাহ বলেন: কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, আমি এটা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফলাফল লাভ করতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস করে না এবং নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সে যেন তোমাকে (কিয়ামত বিষয়ে সতর্ক থাকা হতে) নিবৃত্ত না করে। তাহলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে। মূসা (عليه السلام)-কে ঈমানের মূলনীতির বর্ণনা দেয়ার পর কয়েকটি মু’জিযাহর বর্ণনা দিচ্ছেন যাতে তাঁর অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।
(هِيَ عَصَايَ) মূসা (عليه السلام)-এর হাতে কী ছিল তা আল্লাহ তা‘আলা ভাল করেই জানেন, তারপরেও জিজ্ঞেস আকারে বলার কারণ হল মূসা (عليه السلام) যেন আল্লাহ তা‘আলার কথা মনযোগসহ শুনেন আর তাঁর প্রতি আল্লাহ তা‘আলা যে নেয়ামত দান করেছেন তার গুরুত্ব তুলে ধরা। মূসা (عليه السلام) ছাগল চরাতেন, ফলে এমন একটি মু’জিযাহ দেয়া হল যা তাঁর ব্যক্তিগত কাজেও উপকারে আসে। তিনি এ লাঠির ওপর প্রয়োজনে ভর দিতেন এবং ছাগলের খাবার পাতা পেড়ে দিতেন। আল্লাহ তা‘আলা মূসা (عليه السلام)-কে কেবল জিজ্ঞেস করেছেন তোমার হাতে কী? কিন্তু মূসা (عليه السلام) এত উত্তর দিলেন কেন! কারণ হল তিনি আল্লাহ তা‘আলার সাথে কথা বলার একটি সুযোগ পেলেন, যে কেউ বড়দের সাথে কথা বলতে ভালবাসে। তাই তিনি এ সুযোগে আল্লাহ তা‘আলার সাথে অনেক কথা বলে নিলেন।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে নির্দেশ প্রদান করে বলেন: তুমি তোমার হাত বগলে রাখ। তারপর দেখবে তা বের হয়ে আসবে উজ্জ্বল ও নির্মল আলো হয়ে, অন্য একটি নিদর্শনরূপে। এটা এজন্য যে, আমি তোমাকে আমার বড় বড় নির্দশনাবলীর কিছু অংশ দেখাতে চাই। এটা ছিল মূসা (عليه السلام)-কে দেয়া দ্বিতীয় মু‘জিযাহ।
মূসা (عليه السلام)-কে নবুওয়াত ও মু‘জিযাহ প্রদান করার পর আল্লাহ তা‘আলা দাওয়াতী কাজের নির্দেশ দিয়ে ফির‘আউনের কাছে প্রেরণ করলেন। طَغٰي অর্থ সীমালঙ্ঘন করা, অর্থাৎ ফির‘আউন বানী-ইসরাঈলদেরকে দাসে পরিণত করত, নানাভাবে নির্যাতন করত, পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করত এবং কন্যাদেরকে জীবিত রাখত। এভাবে সে জমিনে সীমালংঘন করত।
মূসা (عليه السلام)-এর মুখে জড়তা ছিল, ভালভাবে কথা বলতে পারতেন না। তাই আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করলেন: হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ উন্মোচন করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন, আমার মুখের জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। আর আমার পরিবারের মধ্য থেকে আমার ভাই হারূনকে আমার সাহায্যকারী নিযুক্ত করে দিন। তার মাধ্যমে আমার শক্তিকে আরো বাড়িয়ে দিন। আর তাকে নবুওয়াত দিয়ে আমার দাওয়াতী কর্মে অংশীদার করুন। যাতে আমরা বেশি বেশি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করতে পারি এবং অধিক পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি। হারূন (عليه السلام) মূসা (عليه السلام) থেকে তিন অথবা চার বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন এবং তিন বছর পূর্বেই মারা যান। মূসা (عليه السلام) যখন হারূন (عليه السلام)-এর জন্য দু‘আ করেন তখন তিনি মিসরে ছিলেন। (কুরতুবী)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে: যখন মূসা (عليه السلام) ফির‘আউনের বাড়িতে ছিলেন তখন একদা ফির‘আউনের মুখে মূসা (عليه السلام) চড় মারেন এবং তার দাড়ি ধরে টান মারেন। ফলে ফির‘আউন রাগান্বিত হয়ে আসিয়াকে বলে: সে আমার শত্র“, জল্লাদদেরকে ডেকে আন, তাকে মেরে ফেলব। আসিয়া বলল: সে তো একটি ছোট বাচ্চা, এর অপরাধের কারণে পাকড়াও করবেন? সে তো ভাল-মন্দ বুঝে না। তারপর পরীক্ষা করার জন্য একটি পাত্রে জ্বলন্ত অঙ্গার অপর পাত্রে মণিমুক্তা নিয়ে আসা হল। মূসা (عليه السلام) মণিমুক্তায় হাত দিতে গেলে জিবরীল (عليه السلام) হাত ধরে ফেলেন, হাতটি নিয়ে আগুনের অঙ্গারে রাখেন, মূসা (عليه السلام) তা থেকে অঙ্গার তুলে মুখে নিয়ে নেন ফলে হাত ও মুখ পুড়ে যায়। এভাবে তিনি তোতলা হয়ে যান। (কুরতুবী)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মূসা (عليه السلام) ও হারূন (عليه السلام)-এর নবুওয়াতের সত্যতা ও তাঁদেরকে দেয়া কয়েকটি মু’জিযাহর বিবরণ জানতে পারলাম।
২. দাওয়াতী কাজে অন্যের সহযোগিতা নেয়া যাবে।
৩. কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় গোপন রাখার হিকমত জানলাম।
৪. ঘুম বা অজান্তে সালাতের সময়-ক্ষণ চলে গেলে স্মরণ হলেই সালাত আদায় করে নিবে।
৫. মুখে জড়তা বা ভাব প্রকাশে সমস্যা হলে এবং জ্ঞান বৃদ্ধির দু‘আ হল
رَبِّ اشْرَحْ لِیْ صَدْرِیْﭨﺫوَیَسِّرْ لِیْٓ اَمْرِیْﭩﺫوَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِّسَانِیْﭪﺫیَفْقَھُوْا قَوْلِیْ
এবং এ দু‘আ বেশি বেশি পড়তে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৯-১০ নং আয়াতের তাফসীর:
এখান থেকে হযরত মূসার (আঃ) ঘটনা শুরু হচ্ছে। এটা হলো ঐ সময়ের ঘটনা যখন তিনি সেই সময়কাল পূর্ণ করেছিলেন যা তার মধ্যে তার শ্বশুর (হযরত শুআইব (আঃ) এর মধ্যে চুক্তি হয়েছিল। তিনি তার পরিবারবর্গকে সঙ্গে নিয়ে দশ বছরেরও বেশী সময়ের পরে নিজের দেশ মিসর অভিমুখে রওয়ানা হয়েছিলেন। শীতের রাত্রি ছিল এবং তাঁরা পথও ভুলে গিয়েছিলেন। তারা পাহাড়ের ঘাটির মাঝে ছিলেন। অন্ধকার ছেয়ে গিয়েছিল। আকাশে মেঘও ছিল। তিনি চকমকি পাথরের দ্বারা আগুন বের করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কিছুতেই আগুন বের হলো না। তিনি এদিক ওদিক দৃষ্টিপাত করলেন। ডানদিকের পাহাড়ের উপর তিনি কিছু আগুন দেখতে পেলেন। তখন তিনি তার স্ত্রীকে বললেনঃ “আমি যাচ্ছি এবং আগুনের কিছু অঙ্গার নিয়ে আসছি, যাতে তুমি আগুন পোহাতে পার এবং কিছু আলোরও কাজ দিতে পারে। আর এরও সম্ভাবনা আছে যে, সেখানে কেনি মানুষকে পাওয়া যাবে যে আমাদেরকে পথ বাতলিয়ে দেবে। মোট কথা, পথের ঠিকানা অথবা আগুন পাওয়া যাবেই।`
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।