আল কুরআন


সূরা মারইয়াম (আয়াত: 81)

সূরা মারইয়াম (আয়াত: 81)



হরকত ছাড়া:

واتخذوا من دون الله آلهة ليكونوا لهم عزا ﴿٨١﴾




হরকত সহ:

وَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اٰلِهَۃً لِّیَکُوْنُوْا لَهُمْ عِزًّا ﴿ۙ۸۱﴾




উচ্চারণ: ওয়াত্তাখাযূমিন দূনিল্লা-হি আ-লিহাতাল লিইয়াকূনূলাহুম ‘ইযযা-।




আল বায়ান: আর তারা আল্লাহ ছাড়া বহু ‘ইলাহ’ গ্রহণ করেছে, যাতে ওরা তাদের সাহায্যকারী হতে পারে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮১. আর তারা আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য বহু ইলাহ গ্ৰহণ করেছে, যাতে ওরা তাদের সহায় হয়;(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যান্য ইলাহ গ্রহণ করেছে যাতে তারা (অর্থাৎ ঐ কল্পিত মা‘বুদগুলো) তাদের জন্য পৃষ্ঠপোষক হয়।




আহসানুল বায়ান: (৮১) তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্যদেরকে গ্রহণ করেছে এই জন্য যে, যাতে তারা তাদের সম্মানের কারণ হয়।



মুজিবুর রহমান: তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেহকে মা‘বূদ রূপে গ্রহণ করে এ জন্য যে, যাতে তারা তাদের সহায় হয়।



ফযলুর রহমান: তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য গ্রহণ করেছে, যাতে তারা তাদের (সহায়ক) শক্তি হয়।



মুহিউদ্দিন খান: তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য ইলাহ গ্রহণ করেছে, যাতে তারা তাদের জন্যে সাহায্যকারী হয়।



জহুরুল হক: আর তারা আল্লাহ্‌কে ছেড়ে দিয়ে অন্য উপাস্য গ্রহণ করেছে যেন তারা তাদের জন্য হতে পারে এক সহায় সন্বল।



Sahih International: And they have taken besides Allah [false] deities that they would be for them [a source of] honor.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮১. আর তারা আল্লাহ্– ছাড়া অন্য বহু ইলাহ গ্ৰহণ করেছে, যাতে ওরা তাদের সহায় হয়;(১)


তাফসীর:

(১) মূলে عزًّا শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা এদের জন্য ইজ্জত ও মর্যাদার কারণ হবে। এর আরেক অর্থ হচ্ছে, শক্তিশালী ও যবরদস্ত হওয়া। উদ্দেশ্য সেগুলো তার ধারণা মতে তাকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করবে। কারও কারও নিকট এর অর্থ হচ্ছে, সহযোগী হওয়া। অথবা আখেরাতে সুপারিশকারী হওয়া। [ফাতহুল কাদীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮১) তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্যদেরকে গ্রহণ করেছে এই জন্য যে, যাতে তারা তাদের সম্মানের কারণ হয়।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮১-৮৭ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে বলা হচ্ছে, কাফির-মুশিরকরা আল্লাহ তা‘আলাকে ব্যতীত যাদের উপাসনা করে এ মনে করে যে, ঐ মা‘বূদরা তাদের সাহায্য করবে। যেমন সূরা যুমারের ৩ নং আয়াত ও সূরা ইউনুসের ১৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে তাদের এ ভ্রান্ত ধারণার জবাবে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তারা সাহায্য করার পরিবর্তে তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে এবং তারা তাদের শত্র“ হয়ে যাবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَّدْعُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَنْ لَّا يَسْتَجِيْبُ لَه۫ٓ إِلٰي يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَا۬ئِهِمْ غٰفِلُوْنَ، وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوْا لَهُمْ أَعْدَا۬ءً وَّكَانُوْا بِعِبَادَتِهِمْ كٰفِرِيْنَ) ‏



“সে ব্যক্তির চেয়ে বেশি গোমরাহ আর কে হতে পারে, যে আল্ল¬াহকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডাকে, যে কিয়ামতের দিন পর্যন্তও সাড়া দেবে না। বরং তারা তাদের আহ্বান সম্পর্কে গাফেল। (হাশরের ময়দানে) যখন সব মানুষকে একত্রিত করা হবে তখন তারা যাদেরকে ডাকত তারা তাদের দুশমন হয়ে যাবে এবং তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে ।”(সূরা আহকাফ ৪৬:৫-৬)



আর আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জাহান্নামের শাস্তি। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(‏نُمَتِّعُهُمْ قَلِيْلًا ثُمَّ نَضْطَرُّهُمْ إِلٰي عَذَابٍ غَلِيْظٍ)‏



“আমি অল্প সময়ের জন্য তাদেরকে সুখ-সম্ভোগ দেব, পুনরায় তাদেরকে বাধ্য করব কঠিন শাস্তি ভোগ করতে।” (সূরা লুক্বমান ৩১:২৪)



সেদিন কেউ কারো কোন উপকার করতে পারবে না এবং কেউ কারো জন্য কোন সুপারিশও করতে পারবে না। তবে আল্লাহ তা‘আলা যাকে অনুমতি দান করবেন সে ব্যতীত। সুতরাং সেদিন কোন ভ্রান্ত মা‘বূদ আল্লাহ তা‘আলার দরবারে কোন কিছুই করতে পারবে না। বরং তারা আরো ঐ ভক্তদের কথা তথায় অস্বীকার করবে। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত দুনিয়াতে ব্যক্তিপূজা পরিহার করে, কেবল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেখানো পদ্ধতিতে আল্লাহ তা‘আলার জন্য আমল করা। কোন ইমাম, ওলী-আওলীয়ার পথ নির্দেশ অনুসরণ করে ইবাদত করা যাবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সেদিন কেউ কারো কোন উপকার করতে পারবে না।

২. শয়তান মানুষের মন্দকর্ম সুন্দর করে দেখায় যার ফলে মানুষ ঐ মন্দ কর্মটিকে ভাল মনে করে করে থাকে। কিন্তু সে বুঝে না।

৩. মুত্তাকীদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তথায় সম্মানের সাথে উপস্থিত করবেন।

৪. জাহান্নামীরা সেখানে পিপাসার্ত হবে।

৫. তথায় কেউ আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ছাড়া কারো জন্য কোন শাফায়াত করতে পারবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮১-৮৪ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা কাফির ও মুশরিকদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন তারা ধারণা করছে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য যে সব মাবুদের তারা উপাসনা করছে তারা তাদের সহায়ক ও সাহায্যকারী হবে। কিন্তু এটা তাদের সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। তাদের পূর্ণ মুখাপেক্ষিতার দিন অর্থাৎ কিয়ামতের দিন তারা এদের উপাসনাকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে বসবে এবং তাদের শত্রু হয়ে যাবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তার চেয়ে বেশী পথভ্রষ্ট আর কে আছে যে আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যদেরকে আহবান করে; যারা কিয়ামতের দিন তার ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা তার আহবান থেকে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকবে। যখন লোকদেরকে একত্রিত করা হবে তখন উপাস্যরা উপাসকদের শত্রু হয়ে যাবে। এবং তাদের উপাসনাকে অস্বীকার করে বসবে।`

(আরবী) এর আর একটি কিরআত (আরবী) ও রয়েছে। সেই দিন এই কাফিররা নিজেরাও আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যদের ইবদিতকে অস্বীকার করবে। এই সব উপাস্য ও উপাসক জাহান্নামী হবে। তারা একে অপরের উপর লানত। করবে এবং পরস্পর একে অপরের উপর দোষারোপ করবে। সেইদিন তারা। পরস্পরে কঠিন ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে পড়বে। তাদের পরস্পরের সম্পর্ক সেই দিন ছিন্ন হয়ে যাবে। একে অপরের চরম শত্রুতে তারা পরিণত হবে। সাহায্য করা তো দূরের কথা, সেদিন তাদের মানবতাবোধও থাকবে না। উপাস্যরা উপাসকদের জন্যে এবং উপাসকরা উপাস্যদের জন্যে দুঃখ ও আফসোসের কারণ হবে।

মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আমি কাফিরদের জন্যে শয়তানদেরকে ছেড়ে রেখেছি? তারা সব সময় তাদেরকে মন্দকর্মে বিশেষভাবে প্রলুব্ধ করতে রয়েছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদেরকে উস্কানী দিতে আছে। তাদেরকে তারা বিদ্রোহী ও উদ্ধত করে তুলছে। যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেনঃ “যে ব্যক্তি দয়াময়ের যিকর হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার উপর শয়তানের আধিপত্য বিস্তার করি এবং সে। তার সঙ্গী হয়ে যায়।”

মহান আল্লাহ স্বীয় নবীকে (সঃ) বলেন :তুমি তাদের বিষয়ে তাড়াতাড়ি করো না এবং তাদের জন্যে বদ দুআ করো না। আমি ইচ্ছা করেই তাদেরকে অবকাশ দিয়ে রেখেছি। তাদের পাপকার্য বৃদ্ধি পেতে থাকুক। তাদেরকে পাকড়াও করার দিন ও কাল আমি গণনা করে রেখেছি। যখন ঐ নির্ধারিত কাল এসে যাবে, তখন আমি তাদেরকে পাকড়াও করবো এবং কঠিন শাস্তি দেবো। আমি যালিমদের কৃতকর্ম হতে উদাসীন নই। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যালিমরা যা করছে তার থেকে তুমি আল্লাহকে উদাসীন ও অমনোযোগী মনে করো না।” (১৪:৪২) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “অতএব কাফিরদেরকে অবকাশ দাও; তাদেরকে অবকাশ দাও কিছুকালের জন্যে।”(৮৬:১৭) আর এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি অবকাশ দিয়ে থাকি যাতে তাদের পাপ বৃদ্ধি পায়।` (৩:১৭৮) অন্যত্র বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি তাদেরকে অল্পদিনের জন্যে সুখ ভোগ করাবো, অতঃপর তাদেরকে ভীষণ শাস্তির দিকে আসতে বাধ্য করবো।” (৩১:২৪) আর এক স্থানে বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! তুমি বলে দাওঃ “তোমরা উপকার ও সুখভোগ করে নাও, তোমাদের প্রকৃত ঠিকানা জাহান্নামই বটে।` (১৪:৩০)

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি তো গণনা করছি তাদের নির্ধারিত কাল। অর্থাৎ আমি তাদের বছর, মাস, দিন এবং সময় গণনা করতে রয়েছি। নির্ধারিত সময় এসে গেলেই তাদের উপর শাস্তি এসে পড়বে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।