আল কুরআন


সূরা মারইয়াম (আয়াত: 61)

সূরা মারইয়াম (আয়াত: 61)



হরকত ছাড়া:

جنات عدن التي وعد الرحمن عباده بالغيب إنه كان وعده مأتيا ﴿٦١﴾




হরকত সহ:

جَنّٰتِ عَدْنِۣ الَّتِیْ وَعَدَ الرَّحْمٰنُ عِبَادَهٗ بِالْغَیْبِ ؕ اِنَّهٗ کَانَ وَعْدُهٗ مَاْتِیًّا ﴿۶۱﴾




উচ্চারণ: জান্না-তি ‘আদনি নিল্লাতী ওয়া আ‘দার রাহমা-নু‘ইবা-দাহূবিলগাইবি ইন্নাহূকা-না ওয়া‘দুহূমা’তিইইয়া-।




আল বায়ান: তা চিরস্থায়ী জান্নাত, যার ওয়াদা পরম করুণাময় তাঁর বান্দাদের দিয়েছেন গায়েবের সাথে। নিশ্চয় তাঁর ওয়াদাকৃত বিষয় অবশ্যম্ভাবী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬১. এটা স্থায়ী জান্নাত, যে গায়েবী প্রতিশ্রুতি দয়াময় তাঁর বান্দাদেরকে দিয়েছেন(১)। নিশ্চয় তার প্রতিশ্রুত বিষয় আসবেই।




তাইসীরুল ক্বুরআন: স্থায়ী জান্নাত, দয়াময় তাঁর বান্দাহ্কে যে অদৃশ্য বিষয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ হবে।




আহসানুল বায়ান: (৬১) সেই স্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি পরম দয়াময় নিজ দাসদেরকে অদৃশ্যভাবে দিয়েছেন; [1] নিশ্চয় তাঁর প্রতিশ্রুত বিষয় অবশ্যম্ভাবী।



মুজিবুর রহমান: এটা স্থায়ী জান্নাত, যে অদৃশ্য বিষয়ের প্রতিশ্রুতি দয়াময় তাঁর বান্দাদেরকে দিয়েছেন, তাঁর প্রতিশ্রুত বিষয় অবশ্যম্ভাবী।



ফযলুর রহমান: চিরস্থায়ী জান্নাতে, করুণাময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে অদৃশ্যে যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি তো সেই সত্তা যার প্রতিশ্রুতি অবশ্যম্ভাবী।



মুহিউদ্দিন খান: তাদের স্থায়ী বসবাস হবে যার ওয়াদা দয়াময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে অদৃশ্যভাবে দিয়েছেন। অবশ্যই তাঁর ওয়াদার তারা পৌঁছাবে।



জহুরুল হক: নন্দন কানন যা পরম করুণাময় তাঁর বান্দাদের জন্য ওয়াদা করেছেন অদৃশ্য জগতে। নিঃসন্দেহ তাঁর প্রতি‌শ্রুতি সদাসর্বদা এসেই থাকে।



Sahih International: [Therein are] gardens of perpetual residence which the Most Merciful has promised His servants in the unseen. Indeed, His promise has ever been coming.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬১. এটা স্থায়ী জান্নাত, যে গায়েবী প্রতিশ্রুতি দয়াময় তাঁর বান্দাদেরকে দিয়েছেন(১)। নিশ্চয় তার প্রতিশ্রুত বিষয় আসবেই।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ যার প্রতিশ্রুতি করুণাময় আল্লাহ তাদেরকে এমন অবস্থায় দিয়েছেন যখন ঐ জান্নাতসমূহ তাদের দৃষ্টির অগোচরে রয়েছে। সেটা একমাত্র গায়েবী ব্যাপার। [ইবন কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬১) সেই স্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি পরম দয়াময় নিজ দাসদেরকে অদৃশ্যভাবে দিয়েছেন; [1] নিশ্চয় তাঁর প্রতিশ্রুত বিষয় অবশ্যম্ভাবী।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, এটি তাদের ঈমান ও ইয়াক্বীনের দৃঢ়তা যে, তারা জান্নাত তো দেখেইনি বরং আল্লাহর অদৃশ্যভাবে দেওয়া প্রতিশ্রুতির উপর ভরসা করে জান্নাত পাওয়ার আশায় ঈমান ও আল্লাহ-ভীতির রাস্তা অবলম্বন করেছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৯-৬৩ নং আয়াতের তাফসীর:



প্রথম আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, এসকল নাবীদের যুগ অতীত হওয়ার পর এক সম্প্রদায় আসল যারা সৎ কাজের পরিবর্তে অসৎ কাজ করত। সালাত আদায় করত না এবং প্রবৃত্তির পূজা করত। তাদের জন্য রয়েছে মন্দ পরিণাম।



সালাত নষ্ট করার অর্থ সালাতকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা, অথবা সালাতে আহকাম-আরকান যথাযথভাবে আদায় না করা অথবা সালাত যথাসময়ে আদায় না করা।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَوَیْلٌ لِّلْمُصَلِّیْنَﭓﺫالَّذِیْنَ ھُمْ عَنْ صَلَاتِھِمْ سَاھُوْنَﭔﺫالَّذِیْنَ ھُمْ یُرَا۬ءُوْنَﭕﺫ)



“সুতরাং দুর্ভোগ সেসব মুসল্লীদের জন্য। যারা নিজেদের সালাতের ব্যাপারে উদাসীন থাকে। তারা যাবতীয় কাজ-কর্ম শুধু মানুষ দেখানোর জন্যই করে।” (সূরা মাউন ১০৭:৪-৭)



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হল কোন্ আমল উত্তম? তিনি বললেন:



الصَّلَاةُ لِأَوَّلِ وَقْتِهَا



সালাত প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা। (তিরমিয়ী হা: ১৭০, সহীহ)



তৎপরবর্তীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তবে যারা এসকল খারাপ কাজ ছেড়ে দিয়ে আল্লাহ তা‘আলার দিকে ফিরে আসবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সেখানে তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না। আর তারা তথায় কোন প্রকার বেহুদা কথাবার্তা শুনতে পাবে না। তথায় শুধু তারা শান্তিপূর্ণ বাণীই শুনে থাকবে। এ সম্পর্কে সূরা ইউনুসে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সালাত প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা সর্বোত্তম আমল।

২. খারাপ কাজের প্রতি লালসাপূর্ণ মনের অনুসরণ করাই হল প্রবৃত্তিপূজা করা।

৩. জান্নাতে শুধু শান্তিপূর্ণ বাক্য শুনতে পাওয়া যাবে, কোন বেহুদা কথাবার্তা সেখানে শুনতে পাওয়া যাবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬১-৬৩ নং আয়াতের তাফসীর:

গুনাহ হতে তাওবা কারীরা যে জান্নাতে প্রবেশ করবে তা হবে চিরস্থায়ী যার ভবিষ্যতের ওয়াদা তাদের প্রতিপালক তাদের সাথে করেছেন। ঐ জান্নাতকে তারা দেখে নাই। তবুও তারা ওর উপর ঈমান এনেছে ও ওটাকে বিশ্বাস করেছে। সত্য কথা এটাই যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য ও অটল। জান্নাত লাভ বাস্তব কথা। এই জান্নাত সামনে এসেই যাবে। আল্লাহ তাআলা ওয়াদা খেলাফও করবেন না এবং ওয়াদার পরিবর্তনও করবেন না। এই লোকদেরকে তথায় অবশ্যই পৌঁছানো হবে। (আরবী) এর অর্থ (আরবী) ও এসে থাকে। ভাবার্থ এটাওঃ আমরা যেখানেই যাই ওটা আমাদের কাছে এসেই পড়ে। যেমন বলা হয়ঃ আমার উপর পঞ্চাশ বছর এসেছে অথব্য আমি পঞ্চাশ বছরে পৌঁছেছি। দুটো বাক্যের অর্থ একই হয়ে থাকে। ঐ জান্নাতীদের কানে কোন বাজে কথা, অপছন্দনীয় কথা আসবে এটা অসম্ব। তাদের কানে শুধু শান্তির বাণীই পৌঁছবে। চতুর্দিক থেকে বিশেষ করে ফেরেশতাদের পবিত্র মুখ থেকে শান্তিপূর্ণ কথাই বের হবে এবং তা তাদের কানে গুঞ্জরিত হবে। যেমন সূরায়ে ওয়াকেআ’তে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সেথায় তারা শুনবে না কোন অসার অথবা পাপ বাক্য ‘সালাম’ আর ‘সালাম’ বাণী ব্যতীত।” (৫৬:২৫-২৬) এখানে এটা (আরবী) হয়েছে। সকাল ও সন্ধ্যায় উত্তম ও সুস্বাদু আহার্য বিনা কষ্টে ও পরিশ্রমে তাদের কাছে আসতে থাকবে। এটা মনে করা ঠিক হবে না যে, জান্নাতে দিন ও রাত হবে, বরং ঐ আলো বা জ্যোতি দেখে সময় চিনে নেবে যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত রয়েছে।

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “প্রথম যে দলটি জান্নাতে যাবে তাদের মুখমণ্ডল চৌদ্দ তারিখের চাদের মত উজ্জ্বল ও জ্যোতির্ময় হবে। সেখানে তাদের মুখে থুথুও আসবে না এবং নাকে শ্লেষ্মও আসবে না। তাদের পায়খানা ও প্রস্রাবের প্রয়োজন হবে না। তাদের পানপাত্র ও আসবাবপত্র গুলি হবে স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত। তাদের দেহের ঘর্ম হবে মিশক আম্বারের মত সুগন্ধময়। প্রত্যেক জান্নাতীর এমন দুটি স্ত্রী থাকবে যাদের পরিচ্ছন্ন পায়ের গোছা হতে হাড়ের মজ্জা বাইরে থেকে দেখা যাবে, ঐ বেহেশতীদের একে অপরের প্রতি কোন শত্রুতা থাকবে না, সবাই যেন একই হৃদয়ের লোক। তাদের মধ্যে কোন মতানৈক্য থাকবে না। সকাল সন্ধ্যায় তারা আল্লাহর তাসবীহ পাঠে রত থাকবে।` (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “শহীদ লোকেরা ঐ সময় জান্নাতের একটি নহরের ধারে জান্নাতের দরজার পার্শ্বে রক্তিম বর্ণের খিলান করা ছাদের নীচে অবস্থান করবে। তাদের কাছে সকাল সন্ধ্যায় আহার্য পৌঁছানো হবে।” (এ হাদীসটিও ইমাম আহমাদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)

তথাকার সকাল ও সন্ধ্যার কথা দুনিয়ার হিসেবে বলা হয়েছে। আসলে সেখানে রাত্রি হবেই না। বরং সদা আলো ও জ্যোতিই বিরাজ করবে। পর্দা পড়ে যাওয়া ও দরজা বন্ধ হওয়ার দ্বারা জান্নাতীরা সন্ধ্যা বুঝতে পারবে এবং অনুরূপভাবে সরে যাওয়া ও দরজা খুলে যাওয়া দ্বারা তারা সকাল জানতে পারবে। দর বন্ধ হওয়া ও খুলে যাওয়া জান্নাতীদের ইঙ্গিত ও নির্দেশক্রমেই। হবে। এই দরজগুলিও এতো পরিষ্কার ও ঝকঝকে হবে যে, বাইরের জিনিসগুলি ভিতর থেকে দেখা যাবে। দুনিয়ায় দিন রাত্রি ভোগ করা তাদের অভ্যাস ছিল বলে যে সময় তারা চাবে তাই পাবে। আরবের লোকেরা সকাল ও সন্ধ্যায় খাদ্য খেতে অভ্যস্ত ছিল বলেই জান্নাতীদের খাদ্য খাওয়ার ব্যাপারে সকাল ও সন্ধ্যার কথা বলা হয়েছে মাত্র। প্রকৃতপক্ষে তারা যা চাবে এবং যখন চাবে বক্ষ্যমান পেয়ে যাবে। যেমন একটি গারীব ও অস্বীকার্য হাদীসে রয়েছে যে, সকাল সন্ধ্যায় ঠিকানা নয়, বরং রিযক তো অসংখ্য এবং তা সব সময় বিদ্যমান থাকবে। আল্লাহর বন্ধুদের পার্শ্বে ঐ সময় এমন সব হ্র আগমন করবে যাদের মধ্যে নিম্নমানের হৃরেরা শুধুমাত্র যাফরান দ্বারা সৃষ্ট হবে। এই সব নিয়ামত বিশিষ্ট জান্নাতগুলি ঐ সব লোক পাবে যারা প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে আল্লাহর বাধ্য ও অনুগত, ক্রোধসম্বরণকারী এবং লোকদেরকে ক্ষমাকারী। যাদের গুণাবলী (আরবী) এর শুরুতে বর্ণিত। হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছেঃ তারাই ফিরদাউসের অধিকারী হবে যাতে তারা স্থায়ী হবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।