সূরা মারইয়াম (আয়াত: 13)
হরকত ছাড়া:
وحنانا من لدنا وزكاة وكان تقيا ﴿١٣﴾
হরকত সহ:
وَّ حَنَانًا مِّنْ لَّدُنَّا وَ زَکٰوۃً ؕ وَ کَانَ تَقِیًّا ﴿ۙ۱۳﴾
উচ্চারণ: ওয়াহানা-নাম মিল্লাদুন্না-ওয়াযাকা-তাও ওয়াকা-না তাকিইইয়া-।
আল বায়ান: আর আমার পক্ষ থেকে তাকে স্নেহ-মমতা ও পবিত্রতা দান করেছি এবং সে মুত্তাকী ছিল।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৩. এবং আমাদের কাছ থেকে হৃদয়ের কোমলতা(১) ও পবিত্ৰতা; আর তিনি ছিলেন মুত্তাকী।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর (দিয়েছিলাম) আমার পক্ষ থেকে দয়া-মায়া ও পবিত্রতা। সে ছিল আল্লাহভীরু ।
আহসানুল বায়ান: (১৩) এবং আমার নিকট হতে মমতা ও পবিত্রতা। [1] আর সে ছিল একজন সংযমশীল।
মুজিবুর রহমান: এবং আমার নিকট হতে হৃদয়ের কোমলতা ও পবিত্রতা; সে ছিল সাবধানী –
ফযলুর রহমান: এবং আমার পক্ষ থেকে (মানুষের প্রতি) সহানুভূতি ও পবিত্রতা (দিয়েছিলাম)। আর সে ছিল খোদাভীরু
মুহিউদ্দিন খান: এবং নিজের পক্ষ থেকে আগ্রহ ও পবিত্রতা দিয়েছি। সে ছিল পরহেযগার।
জহুরুল হক: আর আমাদের তরফ থেকে সহৃদয়তা ও পবিত্রতা। আর তিনি ছিলেন ধর্মপরায়ণ,
Sahih International: And affection from Us and purity, and he was fearing of Allah
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৩. এবং আমাদের কাছ থেকে হৃদয়ের কোমলতা(১) ও পবিত্ৰতা; আর তিনি ছিলেন মুত্তাকী।
তাফসীর:
(১) حنان শব্দটি মমতার প্রায় সমার্থক শব্দ। আল্লাহ তার জন্য মায়া-মমতা ঢেলে দিয়েছিলেন। আল্লাহও তাকে ভালবাসতেন। তিনিও আল্লাহর বান্দাদেরকে ভালবাসতেন। একজন মায়ের মনে নিজের সন্তানের জন্য যে চূড়ান্ত পর্যায়ের স্নেহশীলতা থাকে, যার ভিত্তিতে সে শিশুর কষ্টে অস্থির হয়ে পড়ে, আল্লাহর বান্দাদের জন্য ইয়াহইয়ার মনে এই ধরনের স্নেহ-মমতা সৃষ্টি হয়েছিল। [দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৩) এবং আমার নিকট হতে মমতা ও পবিত্রতা। [1] আর সে ছিল একজন সংযমশীল।
তাফসীর:
[1] حنان মমতা, দয়া। অর্থাৎ আমি তার অন্তরে পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি দয়া-মমতা করার প্রেরণা এবং কুপ্রবৃত্তি ও সমস্ত পাপ হতে পবিত্রতা দান করেছিলাম।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭-১৫ নং আয়াতের তাফসীর:
পূর্বের আয়াতগুলোতে যাকারিয়া (عليه السلام) এর সন্তান লাভের দু‘আর কথা তুলে ধরা হয়েছে। অত্র আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা যাকারিয়া (عليه السلام)-এর দু‘আ কবূল করে সন্তান দিলেন এমনকি সন্তানের নামও রেখে দিলেন যে, তার নাম হবে ইয়াহইয়া। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَنَادَتْهُ الْمَلٰ۬ئِكَةُ وَهُوَ قَآئِمٌ يُّصَلِّيْ فِي الْمِحْرَابِ لا أَنَّ اللّٰهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيٰي مُصَدِّقًاۭ بِكَلِمَةٍ مِّنَ اللّٰهِ وَسَيِّدًا وَّحَصُوْرًا وَّنَبِيًّا مِّنَ الصّٰلِحِيْن)
“অতঃপর ফেরেশতারা তাকে ডেকে বললেন: তখন তিনি মেহরাবে সালাতরত অবস্থায় ছিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়ার সুসংবাদ দিচ্ছেন। তিনি হবেন আল্লাহর বাণীর সত্যায়নকারী, নেতা, প্রবৃত্তি দমনকারী এবং পুণ্যবান নাবীদের একজন।” (সূরা আলি-ইমরান ৩:৩৮-৩৯)
سَمِيًّا অর্থাৎ এ নামে পূর্বে আমি আর কারো নামকরণ করিনি। যাকারিয়া (عليه السلام) সুসংবাদ পেয়ে বললেন: হে আমার পালনকর্তা! কেমন করে আমার পুত্র হবে, অথচ আমার স্ত্রী বন্ধ্যা এবং আমি বার্ধক্যে উপনীত হয়ে গেছি। সূরা আলি ইমরানের ৪০ নং আয়াতও এ কথা বলা হয়েছে।
عَاقِرًا বলা হয় যে নারী বার্ধক্যের কারণে সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম, আবার ঐ মহিলাকেও বলা হয়, যে প্রথম থেকেই বন্ধ্যা। এখানে বার্ধক্যের কারণে যে বন্ধ্যা তা-ই উদ্দেশ্য।
যাকারিয়া (عليه السلام) এর প্রশ্নের জবাবে ফেরেশতা বললেন, এভাবেই হবে। তোমার প্রভু বলে দিয়েছেন যে, এটা আমার জন্য খুবই সহজ। আমি তো ইতোপূর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি, যখন তুমি কিছুই ছিলে না। সুতরাং যে আল্লাহ তা‘আলা কিছু ছাড়াই মানুষ সৃষ্টি করতে পারেন তিনি বৃদ্ধ বয়সেও সন্তান দিতে পারবেন।
যাকারিয়া (عليه السلام) বললেন: হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একটি নিদর্শন প্রদান করুন। আল্লাহ তা‘আলা বললেন, তোমার নিদর্শন হচ্ছে, তুমি সুস্থাবস্থায় একটানা তিনদিন কারো সাথে কথা বলতে পারবে না। সূরা আলি ইমরানে বলা হয়েছে, ইশারা করা ছাড়া কথা বলতে পারবে না। অতঃপর তিনি কক্ষ থেকে বের হয়ে সম্প্রদায়ের নিকট আসলেন এবং তাদেরকে ইঙ্গিতে বললেন, সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করার জন্য। سَوِيًّا অর্থ: পূর্ণ সুস্থ, অর্থাৎ কথা বলতে সক্ষম এমন সুস্থাবস্থায় কথা বলতে পারবে না।
যাকারিয়া (عليه السلام) এর দু‘আ অনুযায়ী যখন ছেলে ইয়াহইয়া (عليه السلام)-কে পেলেন আর ইয়াহইয়া (عليه السلام)-বুঝেন-শুনেন এমন বয়সে উপনীত হলেন তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রতি ওয়াহী নাযিল করে বললেন, হে ইয়াহইয়া! দৃঢ়তার সাথে এ কিতাব ধারণ কর। (خُذِ الْكِتٰبَ بِقُوَّةٍ) অর্থাৎ তার ওপর আমল কর। কিতাব বলতে তাওরাতকে বা তাঁকে যে বিশেষ কিতাব দান করা হয়েছে তা বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার বিধি-বিধান সম্পর্কে প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্য দান করেছেন। তখন তিনি ছোট বয়সের ছিলেন।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহইয়া (عليه السلام) এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন;
(১) শৈশবেই প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে (২) তাঁকে নরম প্রকৃতি ও কোমলতা দান করেছেন, (৩) তিনি পূত-পবিত্র ছিলেন, (৪) তিনি অতীব তাক্বওয়াশীল, (৫) পিতা-মাতার প্রতি অনুগত এবং (৬) তিনি উদ্ধত ও অবাধ্য নন।
এছাড়াও সূরা আলি ইমরানে তাঁর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, (৭) তিনি সাক্ষ্য দিবেন আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, (৮) তিনি হবেন নেতা, (৯) তিনি নারীসঙ্গ মুক্ত হবেন, (১০) তিনি একজন সৎ কর্মশীল নাবী হবেন।
তাঁর উপরে শান্তি যেদিন তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন আর যেদিন তিনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং যেদিন তাঁকে জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে।
মানুষের তিনটি সময় কঠিন ও ভয়াবহ (১) যখন সে মায়ের গর্ভ থেকে পৃথিবীতে আসে, (২) যখন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, (৩) যখন কবর থেকে জীবিত করা হবে এবং নিজেকে কিয়ামতের দিন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি দেখবে। এ তিন সময়ই তাঁর জন্য থাকবে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে শান্তি।
অনেকে এ আয়াত থেকে দলীল গ্রহণ করে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্মোৎসব বা ঈদে মীলাদুন্নাবী উদ্যাপন করে থাকে। তারা বলে: আল্লাহ তা‘আলা জন্মদিনের জন্য সালাম শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তাই আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্মদিনে সালাম দেয়ার জন্য ঈদে মীলাদুন্নাবী পালন করে থাকি। তাদের এ দাবী ভিত্তিহীন। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় এরূপ কোনকিছুর প্রমাণ পাওয়া যায় না; এমনকি সাহাবী, তাবিঈদের যুগেও নয় যার অনুসরণ করা যায়। অতএব এগুলো স্পষ্ট বিদআত যা সর্বাবস্থায় বর্জনীয়। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে যাবতীয় বিদআতী কর্মকাণ্ড পরিহার করে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ মোতাবেক আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মানুষের সকল অভাব পূরণ করে থাকেন একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
২. আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে অস্তিত্বহীনতা থেকে সৃষ্টি করেছেন।
৩. সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করতে হবে।
৪. আল্লাহ তা‘আলার প্রতি দৃঢ় আস্থা ও সৎ আমল করে আহ্বান করলে তিনি আহ্বানে সাড়া দেন।
৫. ঈদে মীলাদুন্নাবী পালন করা কোন নেকীর কাজ নয়, যদি তা হত তাহলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবীগণ তা পালন করতেন। সুতরাং তা বর্জণীয় এবং পালন করা বিদ‘আত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১২-১৫ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলার শুভ সংবাদ অনুযায়ী হযরত যাকারিয়ার (আঃ) ঔরষে হযরত ইয়াহইয়া জন্ম গ্রহণ করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাওরাত শিক্ষা দেন যা তার উপর পাঠ করা হতো এবং যার হুকুম সমূহ সৎলোকেরা ও নবীগণ অন্যদের নিকট প্রচার করতেন। ঐ সময় তিনি ছোট বালক ছিলেন। এ জন্যেই মহান আল্লাহ তাঁর ঐ অসাধারণ নিয়ামতেরও বর্ণনা দিয়েছেন যে, তিনি হযরত যাকারিয়াকে (আঃ) সন্তানও দান করেন এবং তাঁকে বাল্যাব স্থাতেই আসমানী কিতাবের আলেমও বানিয়ে দেন। আর তাকে নির্দেশ দেনঃ “কিতাবকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ করো ও তা শিখে নাও।` আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ “সাথে সাথে আমি তাকে ঐ অল্প বয়সেই বোধসম্পন্ন জ্ঞান, শক্তি, দৃঢ়তা, বুদ্ধিমত্তা এবং সহনশীলতা দান করেছিলাম।” শৈশবেই তিনি সৎ কাজের প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং চেষ্টা ও আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর ইবাদত ও জনসেবার কাজে লেগে পড়েন। শিশুরা তাকে তাদের সাথে খেলতে ডাকতো। কিন্তু তিনি উত্তরে বলতেনঃ “আমাদেরকে খেলা করার জন্যে সৃষ্টি করা হয় নাই। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “হযরত যাকারিয়ার (আঃ) জন্যে হযরত ইয়াহইয়ার (আঃ) অস্তিত্ব ছিল আমার করুণার প্রতীক, যার উপর আমি ছাড়া আর কেউই সক্ষম নয়। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে এটাও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ “আল্লাহর কসম! (আরবী) এর ভাবার্থ কি তা আমার জানা নেই। অভিধানে এটা প্রেম,প্রীতি, করুণা ইত্যাদি অর্থে এসে থাকে। বাহ্যতঃ ভাবার্থ এটাই জানা যাচ্ছে তাকে প্রেম, প্রীতি, স্নেহ এবং পবিত্রতা দান করেছিলাম।`
হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জাহান্নামে একটি লোক এক হাজার বছর পর্যন্ত (আরবী) ও (আরবী) বলে ডাকতে থাকবে। (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে) হযরত ইয়াহ্ইয়া (আঃ) সর্বপ্রকারের ময়লা হতে, পাপ। হতে এবং নাফরমানী হতে তিনি মুক্ত ছিলেন। তাঁর জীবনের একমাত্র কাজ ছিল সৎ কার্যাবলী সম্পাদন। তিনি পাপকার্য ও আল্লাহর অবাধ্যাচরণ হতে বহু দূরে ছিলেন। সাথে সাথে তিনি পিতা-মাতার অনুগত ছিলেন এবং তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতেন। কখনো কোন কাজে তিনি পিতা-মাতার অবাধ্য হন নাই। কখনো তিনি তাঁদের কোন কথার বিরোধিতা করেন নাই। তারা যে কাজ করতে নিষেধ করতেন তা তিনি কখনো করতেন না। তাঁর মধ্যে কোন ঔদ্ধত্যপনা ও হঠকারিতা ছিল না। এই উত্তম গুণাবলী ও প্রশংসনীয় স্বভাবের কারণে তিনটি অবস্থায় আল্লাহ তাআলা তাঁকে শান্তি ও নিরাপত্তা দান করেছিলেন। অর্থাৎ জন্মের দিন, মৃত্যুর দিন এবং হাশরের দিন। এই তিনটি জায়গাই অতি ভয়াবহ ও অজানা। মায়ের পেট থেকে বের হওয়া মাত্রই একটি নতুন দুনিয়া দেখা যায় যা আজকের দুনিয়া হতে বিরাট ও সম্পূর্ণ পৃথকরূপে পরিলক্ষিত হয়। মৃত্যুর দিন ঐ মাখলুকের সাথে সম্বন্ধ হয়ে যায়। যাদের সাথে পার্থিব জীবনে কোনই সম্বন্ধ ছিল না। তাদেরকে কখনো দেখেও নাই। এইভাবে হাশরের দিন নিজেকে একটা বিরাট জন সমাবেশে দেখে মানুষ অত্যন্ত হতভম্ব ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়বে। কেননা, ওটাও একটা নতুন পরিবেশ। এই তিন ভয়াবহ সময়ে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবেন।
একটি মুরসাল হাদীসে রয়েছে যে, কিয়ামতের দিন সমস্ত লোক কিছু না কিছু গুনাহ নিয়ে যাবে, একমাত্র হযরত ইয়াহইয়া ছাড়া। হযরত কাতাদা’ (রাঃ) বলেন যে, হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) গুনাহ্ করা তো দূরের কথা, গুনা হর কখনো কোন ইচ্ছাও করেন নি। (এটা মারফু’রূপে এবং দুই সনদেও বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু দুটো সনদই দুর্বল। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন)
হযরত হাসান (রঃ) বলেন যে, হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) ও হযরত ঈসার (আঃ) পরস্পর সাক্ষাৎ হলে হযরত ঈসা (আঃ) হযরত ইয়াহইয়াকে (আঃ) বলেনঃ “আপনি আমার জন্যে ক্ষমা প্রার্থণা করুন! আপনি আমার চেয়ে উত্তম।` উত্তরে হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) বলেনঃ “আপনিই আমার চেয়ে উত্তম।” তখন হযরত ঈসা (আঃ) বলেনঃ “আমি তো নিজেই নিজের উপর সালাম বলেছি, আর আপনার উপর স্বয়ং আল্লাহ সালাম বলেছেন।” এখন এই দুই নবীর (আঃ) ফযীলত প্রকাশ হয়ে পড়লো।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।