সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 95)
হরকত ছাড়া:
قال ما مكني فيه ربي خير فأعينوني بقوة أجعل بينكم وبينهم ردما ﴿٩٥﴾
হরকত সহ:
قَالَ مَا مَکَّنِّیْ فِیْهِ رَبِّیْ خَیْرٌ فَاَعِیْنُوْنِیْ بِقُوَّۃٍ اَجْعَلْ بَیْنَکُمْ وَ بَیْنَهُمْ رَدْمًا ﴿ۙ۹۵﴾
উচ্চারণ: কা-লা মা-মাকান্নী ফীহি রাববী খাইরুন ফাআ‘ঈনূনী বিকুওওয়াতিন আজ‘আল বাইনাকুম ওয়া বাইনাহুম রাদমা-।
আল বায়ান: সে বলল, ‘আমার রব আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, সেটাই উত্তম। সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মাঝখানে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৫. সে বলল, আমার রব। আমাকে যে সামৰ্থ্য দিয়েছেন, তা-ই উৎকৃষ্ট। কাজেই তোমরা আমাকে শ্রম দ্বারা সাহায্য কর, আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে এক মজবুত প্রাচীর গড়ে দেব(১)।
তাইসীরুল ক্বুরআন: সে বলল, ‘আমাকে আমার প্রতিপালক যা দিয়েছেন তা-ই যথেষ্ট, কাজেই তোমরা আমাকে শক্তি-শ্রম দিয়ে সাহায্য কর, আমি তোমাদের ও তাদের মাঝে এক সুদৃঢ় প্রাচীর গড়ে দেব।
আহসানুল বায়ান: (৯৫) সে বলল, ‘আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তাই উৎকৃষ্ট; সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দ্বারা সাহায্য কর, [1] আমি তোমাদের ও তাদের মাঝে এক সুদৃঢ় প্রাচীর গড়ে দেব।
মুজিবুর রহমান: সে বললঃ আমার রাব্ব আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তা’ই উৎকৃষ্ট; সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দ্বারা সাহায্য কর, আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যস্থলে এক মাযবূত প্রাচীর গড়ে দিব।
ফযলুর রহমান: সে বলল, “আমার প্রভু আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন (তোমাদের করপ্রদানের চেয়ে) তাই ভাল। অতএব, তোমরা আমাকে শক্তি (জনবল) দিয়ে সাহায্য করো, আমি তোমাদের ও তাদের মাঝে একটি সুদৃঢ় বাধা (মজবুত প্রাচীর) তৈরী করে দেব।”
মুহিউদ্দিন খান: তিনি বললেনঃ আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থ?2470;িয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব।
জহুরুল হক: তিনি বললেন -- "আমার প্রভু যাতে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তা আরো উৎকৃষ্ট, সুতরাং তোমরা আমাকে কায়িক-শ্রম দিয়ে সাহায্য কর, আমি তোমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে এক মজবুত দেয়াল তৈরি করে দেব।
Sahih International: He said, "That in which my Lord has established me is better [than what you offer], but assist me with strength; I will make between you and them a dam.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৯৫. সে বলল, আমার রব। আমাকে যে সামৰ্থ্য দিয়েছেন, তা-ই উৎকৃষ্ট। কাজেই তোমরা আমাকে শ্রম দ্বারা সাহায্য কর, আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে এক মজবুত প্রাচীর গড়ে দেব(১)।
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ আল্লাহ দেশের যে অর্থভাণ্ডার আমার হাতে তুলে দিয়েছেন এবং যে ক্ষমতা আমাকে দিয়েছেন তা এ কাজ সম্পাদনের জন্য যথেষ্ট। তবে শারীরিক শ্রম দিয়ে ও নির্মান যন্ত্র তোমাদের আমাকে সাহায্য করতে হবে। [ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৯৫) সে বলল, ‘আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তাই উৎকৃষ্ট; সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দ্বারা সাহায্য কর, [1] আমি তোমাদের ও তাদের মাঝে এক সুদৃঢ় প্রাচীর গড়ে দেব।
তাফসীর:
[1] ‘শ্রম দ্বারা সাহায্য কর’ অর্থঃ তোমরা আমাকে নির্মাণ কাজে ব্যবহার্য সামগ্রী ও শ্রমিক দিয়ে সাহায্য কর।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮৩-৯৯ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা বাদশা ‘যুল-কারনাইন’ এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। যার সম্পর্কে ইয়াহূদীদের কথামত মক্কার কুরাইশরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করেছিল। সে দ্বিতীয় জিজ্ঞেসার উত্তর এটি। যুল-কারনাইন এর শাব্দিক অর্থ হল দু’ শিংবিশিষ্ট। তাঁর নাম করণের কারণ হল তাঁর মাথায় প্রকৃতপক্ষে দুটি শিং ছিল। কিংবা তিনি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছে সূর্যের শিং বা কিরণ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। কেউ কেউ বলেছেন: তাঁর মাথায় শিঙের মত চুলের দুটি ঝুটি ছিল। তার প্রকৃত নাম নিয়েও মতামত পাওয়া যায়। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: তার নাম হল আব্দুল্লাহ বিন যহহাক বিন মা‘আদ, আবার বলা হয়-আবদুল্লাহ বিন কিনান বিন আজাদ ইত্যাদি। তিনি একজন ন্যায়পরায়ণ বাদশা, সৎ মু’মিন ব্যক্তি ছিলেন। (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ২/১০২-১০৬)
সংক্ষিপ্ত ঘটনা:
‘যুল-কারনাইন’ একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ বাদশা ছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে পৃথিবীতে রাজত্ব ও কর্তৃত্ব দান করেছিলেন এবং তাঁকে ক্ষমতা দিয়েছিলেন যে, তুমি যেখানে খুশি সেখানে ভ্রমণ করতে পারবে। তিনি পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যদেশসমূহ জয় করেছিলেন। এসব দেশে তিনি সুবিচার ও ইনসাফের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে তাঁকে লক্ষ্য অর্জনের জন্য সকল প্রকার সাজ-সরঞ্জাম দান করা হয়েছিল। একদা একটি পথ ধরে চলতে লাগলেন, চলতে চলতে এক পর্যায়ে সূর্যের অস্তগমন স্থানে পৌছে গেলেন। অর্থাৎ পশ্চিম প্রান্তে, যার পরে কোন জনবসতি ছিল না। সেখানে তিনি দেখলেন যে, সূর্য কর্দমাক্ত গরম পানিতে অস্ত যাচ্ছে এবং তিনি সেখানে একটি সম্প্রদায়ের সাথে সাক্ষাত লাভ করলেন। আর তারা ছিল কুফরী আকীদা পোষণকারী সম্প্রদায়। তখন আল্লাহ তা‘আলা যুল-কারনাইনকে বললেন: হে যুল-কারনাইন! তুমি চাইলে তাদেরকে শাস্তি দিতে পার অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার।
তখন যুল-কারনাইন তাদেরকে বললেন, যে কেউ সীমালঙ্ঘন করবে তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হয়েও কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। আর যে ঈমান আনবে ও সৎকর্ম করবে তাদের জন্য থাকবে কল্যাণ ও শান্তি। আর তাদের প্রতি নম্র ব্যবহার করা হবে।
অতঃপর তিনি অন্য একটি পথ ধরে চলতে লাগলেন। চলতে চলতে এক পর্যায়ে পৌঁছে গেলেন সূর্যোদয় স্থলে অর্থাৎ পূর্বপ্রান্তে। সেখানে গিয়ে একটি সম্প্রদায়ের সাথে সাক্ষাত লাভ করলেন যাদের জন্য সূর্যের তাপ থেকে আত্মরক্ষা করার মত কোন অন্তরাল সৃষ্টি করা হয়নি। আর এ ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।
অতঃপর অন্য একটি পথ ধরে চলতে লাগলেন। চলতে চলতে এক পর্যায়ে দু’ পর্বত প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থলে পৌঁছে গেলেন এবং সেখানে একটি সম্প্রদায়ের সাথে সাক্ষাত হল যারা তার কথা কিছুই বুঝতে পারছিল না, তারা তাঁকে ইয়া’জূজ ও মা’জূজ এর কষ্ট দেয়ার কথা জানাল এবং তারা যে জমিনে ফিতনা-ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে সে কথাও জানাল আর তাকে কর দিতে চাইল এ শর্তে যে, সে ইয়া’জূজ ও মা’জূজ এবং ঐ সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি প্রাচীর তৈরী করে দেবে যাতে ইয়া’জূজ ও মা’জূজ তাদেরকে আর কষ্ট দিতে না পারে ও জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। তাদের এ দাবী শুনে যুল-কারনাইন তাদের থেকে কর নিতে রাজি হননি বরং এ প্রাচীর নির্মাণ করার জন্য তাদের সাহায্য কামনা করলেন এবং তাদেরকে বললেন, তারা যেন লৌহপিণ্ডসমূহ নিয়ে আসে। লৌহপিণ্ডসমূহ দু’ পর্বতের মধ্যবর্তী শূন্যস্থানে রাখার পর যখন তা দু’ পর্বতের সমান হল তখন তাদেরকে বললেন, হাঁপর গরম করার জন্য। অবশেষে যখন তা আগুনে উত্তপ্ত হয়ে গলে গেল তখন তাদেরকে তামা নিয়ে আসার জন্য বললেন এবং যুল-কারনাইন ঐ গলিত তামা ঐ লোহার প্রাচীরের ওপর ঢেলে দিলেন। এরপর ইয়া’জূজ ও মা’জূজ আর এ প্রাচীর ছেদ করতে পারেনি। এ ইয়া’জূজ ও মা’জূজ এখনো ঐ প্রাচীরে বন্দী অবস্থায় রয়েছে। তারা প্রাচীর ভাঙ্গতে পারেনি। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার ওয়াদা যখন বাস্তবায়িত হয়ে যাবে তখন তারা এ প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলবে এবং পৃথিবীতে এসে পূর্বের মতই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
(قُلْ سَأَتْلُوْا عَلَيْكُمْ مِّنْهُ ذِكْرًا)
এখানে প্রণিধানযোগ্য বিষয় যে, কুরআন ذكره সংক্ষিপ্ত শব্দ ছেড়ে مِّنْهُ ذِكْرًا বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ দুটি শব্দের মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, কুরআন যুল-কারনাইন এর আদ্যোপান্ত কাহিনী বর্ণনা করবে না বরং তার আলোচনার একাংশ উল্লেখ করবে।
سبب এর প্রকৃত অর্থ মাধ্যম, উপকরণ, যার দ্বারা লক্ষ্য অর্জন করা যায়। এখানে অর্থ হল আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে এমন কিছু মাধ্যম ও উপকরণ দান করেছেন যার দ্বারা তিনি দেশসমূহ জয় করেছেন। শত্র“দের অহংকার মাটিতে মিশিয়ে দেন এবং অত্যাচারী বাদশাকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলেন।
(أَتْبَعَ سَبَبًا) অর্থাৎ তাঁকে যে সকল উপকরণ দান করা হয়েছিল তা তিনি কাজে লাগান।
عين অর্থ ঝরনা বা সমুদ্র, حمئة অর্থ কর্দম বা কাদা। অর্থাৎ যুল-কারনাইন দেশের পর দেশ জয় করে যখন পশ্চিম প্রান্তে শেষ জনপদে পৌঁছে গেলেন। সেখানে কাদাময় পানির ঝরণা বা সমুদ্র ছিল যেটা নিচে থেকে কালো মনে হচ্ছিল। তার মনে হল যেন সূর্য ঐ পানিতে অস্ত যাচ্ছে। সমুদ্র-তীর থেকে দূরে সূর্যাস্ত স্থলে পানি ব্যতীত আর কিছু দেখা যায় না। সেখানে যারা সূর্যাস্ত প্রত্যক্ষ করবে তাদের মনে হবে যে সূর্য সমুদ্রেই অস্ত যাচ্ছে অথচ সূর্য মহাকাশে স্বস্থানেই অবস্থান করে।
(قُلْنَا يَذَا الْقَرْنَيْنِ)
‘আমি বললাম, ‘হে যুল-কারনাইন!’ আল্লাহ তা‘আলার এ নির্দেশ দ্বারা প্রমাণ হয় তিনি নাবী ছিলেন।
(بَيْنَ السَّدَّيْنِ)
যে বস্তু কোন কিছুর জন্য বাধা হয়ে যায় তাকে سد বলা হয়। তা প্রাচীর হোক কিংবা পাহাড় হোক, কৃত্রিম হোক আর প্রাকৃতিক হোক। এখানে السَّدَّيْنِ বলতে দু’ পাহাড় বুঝানো হয়েছে। এগুলো ইয়া’জূজ মা’জূজের পথে বাধা ছিল। কিন্তু উভয়ের মধ্যবর্তী গিরিপথ দিয়ে এসে তারা আক্রমন চালাত। যুলকারনাইন এ গিরিপথটি বন্ধ করে দেন।
زبر শব্দটি زبرة এর বহুবচন। এর অর্থ পাত। এখানে লৌহখণ্ড বুঝানো হয়েছে। গিরিপথ বন্ধ করার জন্য নির্মিতব্য প্রাচীর ইট-পাথরের পরিবর্তে লোহার পাত ব্যবহার করেছেন।
قطرا শব্দের অর্থ ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরানো তামা, আলকাতরার প্রলেপ দেয়া। ق এর হরকত পরিবর্তনের কারণে অর্থেরও পরিবর্তন হয়। এখানে গলিত তামা বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ লোহার পাতকে খুব গরম করে এর ওপর গলিত তামা ঢেলে দেয়ায় সে পাহাড়ী রাস্তার মাঝের প্রাচীর এত মজুবত হয়েছিল যে, ইয়া’জূজ-মা’জূজের পক্ষে তা ভেঙ্গে আসা অসম্ভব হয়ে গেল।
ইয়া’জূজ ও মা’জূজের বিবরণ:
ইয়া’জূজ ও মা’জূজ মূলত মানুষ। তারা আদম ও হাওয়ারই সন্তান। সাহাবী আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: ইয়া’জূজ ও মা’জূজ হচ্ছে আদম (عليه السلام)-এর সন্তান। তাদেরকে যদি সাধারণ মানব সমাজে ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে তারা ওদের স্বাভাবিক জীবন যাপন বিনষ্ট করে দেবে। তাদের কেউ মরবে না যতক্ষণ না তার সন্তান-সন্ততি এক হাজার বা তার বেশিতে পৌঁছে। (মিনহাতুল মা‘বূদ ফী তারবীবি মুসনাদিত তায়ালিসী ২/২১৯.)
তাদের গঠন প্রকৃতি: তাদের গঠন বর্ণনা দিয়ে যে সকল হাদীস বর্ণিত হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, তাদেরকে দেখতে মোঘল তুর্কীদের মতো মনে হবে। তাদের চোখ হবে ছোট। নাক হবে ছোট ও চ্যাপটা। চুল হবে লাল-সাদা মিশ্রিত হলুদ বর্ণের। তাদের চেহারা যেন চামড়া মোড়ানো ঢালের ন্যায় তথা চওড়া ও ঝুলে পড়া গণ্ডদেশবিশিষ্ট। (নিহায়া/আল ফিতান ওয়াল মালাহিম ১/১৫৩.)
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) ইবনু হারমালাহ থেকে তিনি তাঁর খালা থেকে বর্ণনা করেন, তাঁর খালা বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর খুৎবায় বলেন, তোমরা বলছ যে, কোন শত্র“ নেই, অথচ তোমরা ইয়া’জূজ ও মা’জূজ আসা পর্যন্ত শত্র“র মোকাবেলা করেই যাবে। যাদের চেহারা হবে প্রশস্ত। চোখ হবে ছোট, চুল হবে লাল-সাদা মিশ্রিত হলুদ বর্ণের। তারা প্রত্যেক উঁচু জায়গা থেকে দ্রুত নিচে পদার্পন করবে। তাদের চেহারা যেন চামড়া মোড়ানো ঢালের ন্যায় তথা চওড়া ও ঝুলে পড়া গণ্ডদেশবিশিষ্ট। (আহমাদ হা: ২২৩৩১.)
ইয়াজূজ ও মা’জূজের আবির্ভাবের প্রমাণসমূহ:
শেষ যুগে ইয়া’জূজ ও মা’জূজের আবির্ভাব কিয়ামতের বড় বড় আলামতগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। তাদের আবির্ভাবের ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহয় প্রমাণ রয়েছে। যেমন উক্ত আয়াতগুলোতে রয়েছে।
ইয়া’জূজ ও মা’জূজ সংক্রান্ত হাদীসের সংখ্যা অনেক, যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে চলে যাবে।
সাহাবী আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যে রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইসরা তথা মিরাজ হয় সে রাতে তিনি ইবরাহীম, মূসা ও ঈসা (عليه السلام)-এর সাথে সাক্ষাত করেন। তাঁরা সবাই তখন পরস্পর কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তাঁরা উক্ত আলোচনার জন্য ঈসা (عليه السلام) কে আবেদন করলে তিনি দাজ্জালের হত্যার ব্যাপারে আলোচনা করার পর বলেন: এরপর মানুষ তাদের নিজ নিজ শহরে চলে যাবে। তখন হঠাৎ তাদের সম্মুখীন হবে ইয়া’জূজ ও মা’জূজ। তারা প্রত্যেক উঁচু জায়গা থেকে নিচের দিকে দ্রুত অবতরণ করবে। তারা কোন পানির পাশ দিয়ে যেতে না যেতেই তা পান করে নিঃশেষ করে ফেলবে এবং কোন বস্তুর পাশ দিয়ে যেতে না যেতেই তা ধ্বংস করে দেবে। তখন মানুষেরা আমার নিকট আশ্রয় নিলে আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আ করব। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে মেরে ফেলবেন। তখন পুরো পৃথিবী তাদের দুর্গন্ধে গন্ধময় হয়ে যাবে। পুনরায় তারা আবারো আমার নিকট আশ্রয় নেবে। তখন আমি তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আ করলে আকাশ ভারী বৃষ্টি বর্ষণ করবে। অতঃপর বৃষ্টির পানি তাদের শরীরগুলোকে স্থল ভাগ থেকে ভাসিয়ে নিয়ে নদীতে নিক্ষেপ করবে। (আহমাদ ৪/১৮৯-১৯০, হাকিম ৪/৪৮৮-৪৮৯)
ইয়া’জূজ মা’জূজের প্রাচীর:
যুল-কারনাইন বাদশা উক্ত প্রাচীর নির্মাণ করেন। যাতে ইয়া’জূজ-মা’জূজ ও তাদের প্রতিবেশির মাঝে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় যারা যুল-কারনাইনের কাছে সাহায্য কামনা করছিল। যেমন আয়াতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে উক্ত প্রাচীরের সঠিক স্থান এখনো কেউ নির্ণয় করতে পারেনি। কতক রাজা-বাদশা ও ঐতিহাসিকগণ সে স্থানের পরিচয় দিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল আব্বাসীয় খলীফা ওয়াসিক (মৃত্যু ২৩২ হি:) কতক আমীরদেরকে সৈন্যদলসহ সে প্রাচীর দেখার জন্য প্রেরণ করেছেন যাতে তার কাছে সে প্রাচীরের বর্ণনা দিতে পারে। তারা এক দেশ থেকে অন্য দেশে, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পৌঁছল এমনকি সে প্রাচীর পর্যন্ত পৌঁছে গেল। তারা দেখতে পেলো, সে প্রাচীরটি লোহা ও পিতল দিয়ে নির্মিত। তারা আরো উল্লেখ করলেন যে, সেখানে একটি বিরাট দরজা প্রত্যক্ষ করেছেন, তাতে বড় বড় কয়েকটি তালা রয়েছে। তারা আরো দেখতে পেলেন, একটি দুর্গে দুধ ও মধুর অবশিষ্টাংশ রয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী বাদশার পক্ষ থেকে একজন পাহারাদার নিযুক্ত রয়েছে, যিনি সুউচ্চ ও সুঠাম দেহের অধিকারী যা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ও তার সমান হবে না। তারপর তারা দেশে ফিরে আসলেন, তাদের ভ্রমণ ৬০ দিনের অধিক ছিল এবং তারা আরো অনেক ভয়ংকর ও আশ্চর্যজনক জিনিস দেখলেন।
ইমাম ইবনু কাসীর (রহঃ) এ ঘটনা তার স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তবে তার কোন সনদ উল্লেখ করেননি। আল্লাহ তা‘আলাই তার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে ভাল জানেন। (তাফসীর ইবনে কাসীর ৫/১৯৩.)
অনেকে মনে করেন ইয়া’জূজ ও মা’জূজের আর্বিভাব হয়ে গেছে। মূলত তাদের আর্বিভাব এখনো হয়নি। কিয়ামতের আলামতস্বরূপ যে ইয়া’জূজ ও মা’জূজ আগমন করবে তারা শেষ যুগে আসবে। কারণ সহীহ হাদীস প্রমাণ করে তাদের আগমন ঈসা (عليه السلام)-এর অবতরণের পর হবে। তিনিই তাদের প্রতি বদদু‘আ করবেন, ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ধ্বংস করবেন। তারপর তাদেরকে সাগরে নিক্ষেপ করবেন এবং মানুষ ও জমিনকে তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের প্রামাণিক স্বীকৃতি পেলাম। কারণ তিনি কুরাইশদের তৃতীয় জিজ্ঞাসার উত্তর দিলেন আল্লাহ তা‘আলা ওয়াহীর দ্বারা জানিয়ে দেয়ার মাধ্যমে।
২. প্রকৃত বিষয় জানার জন্য জ্ঞানীরা উপকরণ গ্রহণ করতে পারেন।
৩. শাসকদের উচিত ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র আল্লাহ তা‘আলার বিধানানুযায়ী পরিচালনা করা।
৪. যে সকল বাদশা সারা পৃথিবী শাসন করেছেন তাদের মধ্যে যুল-কারনাইন অন্যতম।
৫. শ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেয়া শরীয়তসম্মত।
৬. ইয়া’জূজ ও মা’জূজের অস্তিত্ব রয়েছে, এখনো তারা প্রাচীরের মধ্যে আবব্ধ।
৭. ইয়া’জূজ ও মা’জূজের আর্বিভাব কিয়ামতের আলামত, তারা প্রাচীর থেকে বের হয়ে দুনিয়াতে ফাসাদ সৃষ্টি করবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৯২-৯৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিতে গিয়ে বলেন যে, যুলকারনাইন পূর্ব দিকে সফর শেষ করে একপথ ধরে চলতে থাকেন। চলতে চলতে দেখতে পান যে, দু'টি পাহাড় পরস্পর মিলিতভাবে রয়েছে কিন্তু ঐ পাহাড় দ্বয়ের মাঝে একটি ঘাঁটি রয়েছে, যেখান দিয়ে ইয়াজুজ ও মাজুজ বের হয়ে তুর্কীদের উপর ধ্বংসাত্মক ক্রিয়াকলাপ চালিয়ে থাকে। তারা তাদেরকে হত্যা করে, তাদের বাগান ও ক্ষেত খামার নষ্ট করে, শিশুদেরকেও মেরে ফেলে এবং সবদিক দিয়েই তাদের সর্বনাশ সাধন করে। ইয়াজুজ মাজুজও মানুষ, যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহ হযরত আদমকে (আঃ) বলবেনঃ “হে আদম (আঃ) !” তিনি তখন বলবেনঃ “লাব্বায়কা ওয়া সা’দাইকা (এই তো আমি হাযির আছি)। আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ “আগুনের অংশ পৃথক কর।”তিনি বলবেনঃ “কতটা অংশ পৃথক করবো?” জবাবে মহান আল্লাহ বলবেনঃ “প্রতি হাযার হতে নয়শ’ নিরানব্বই জনকে পৃথক কর (অর্থাৎ হাযারের মধ্যে নয়শ’ নিরানব্বই জন জাহান্নামী এবং একজন জান্নাতী)।”
এটা ঐ সময় হবে যখন শিশু বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “তোমাদের মধ্যে দুটি দল এমন রয়েছে যে, তারা যার মধ্যে থাকবে তাকে বেশী করে দিবে। অর্থাৎ ইয়াজুজ ও মাজুজ।” ইমাম নওয়াভী (রঃ) সহীহ মুসলিমের শরাহতে এক অতি বিস্ময়কর কথা লিখেছেন যে, হযরত আদমের (আঃ) বিশেষ শুক্রের (বীর্যের কয়েক ফোঁটা যা মাটিতে পড়েছিল তা থেকেই ইয়াজুজমাজুজকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ঐ শুক্রের সাথে হযরত হাওয়ার (আঃ) শুক্র মিশ্রিত হয় নাই। কিন্তু এটা স্মরণ রাখার যোগ্য যে, এই উক্তিটি খুবই গরীব বা দুর্বল। এর উপর আলী (জ্ঞান সম্পর্কীয়) ও নকলী (শরীয়ত সম্পৰ্কীয়) কোনই দলীল নেই। আহলে কিতাব হতে এরূপ কথা এসেছে যা মানার যোগ্য মোটেই নয়। তারা এ ধরণের কথা নিজেরাই বানিয়ে নিয়ে থাকে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
হযরত সুমরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “হযরত নূহের (আঃ) তিনটি পুত্র ছিল। সাম, হা’ম এবং ইয়াফিস। সমস্ত আরব সা’মের বংশধর। সমস্ত হাবশী হা’মের বংশধর। সমস্ত তূর্কী ইয়াফিসের বংশধর।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদের (রঃ) মুসনাদে বর্ণিত হয়েছে)
কোন কোন আলেমের উক্তি এই যে, ইয়াজুজ-মাজুজ তূর্কীদের পূর্ব পুরুষ ইয়াফিসের সন্তানদেরই অন্তর্ভুক্ত। তাদেরকে তুর্কী বলার কারণ এই যে, তাদের ফাসাদ ও দুষ্টামির কারণে তাদেরকে মানুষের জনবসতির পিছনে পাহাড়ের আড়ালে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।
ইমাম ইবনু জারীর (রঃ) যুলকারনাইনের সফর সম্পর্কে, ঐ প্রাচীর নির্মাণ সম্পর্কে এবং ইয়াজুজ-মাজুজের দেহাকৃতি ও কান ইত্যাদি সম্পর্কে ওহাব ইবন মনাবাহ (রঃ) হতে একটি অতিলম্বা চওড়া ঘটনা স্বীয় তাফসীরে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ওটা বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক হওয়া ছাড়াও বিশুদ্ধতা হতে বহু দূরে রয়েছে। মুসনাদে ইবনু আবি হাতিমেও এ ধরনের বহু ঘটনা উল্লিখিত হয়েছে। কিন্তু ঐ গুলিও গারীব ও বেঠিক। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
যুলকারনাইন যখন পর্বত প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থলে পৌঁছলেন তখন তিনি তথায় এমন এক সম্প্রদায়কে পেলেন যারা দুনিয়ার অন্যান্য লোকদের হতে বহু দূরে অবস্থান করার কারণে এবং তাদের একটা নির্দিষ্ট ভাষা হওয়ার কারণে অন্যদের ভাষা প্রায়ই বুঝতে পারতো না। ঐ লোকগুলি যুলকারনাইনের শক্তি সামর্থ এবং জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পেয়ে তার নিকট আবেদন জানিয়ে বলেঃ “যদি আপনি সম্মত হন তবে আমরা কর হিসেবে আপনার জন্যে বহু মালধন ও আসবাবপত্র জমা করবো এবং এর বিনিময়ে আপনি ঐ পর্বত দ্বয়ের মধ্যবর্তী ঘাটিকে কোন সুদৃঢ় প্রাচীর দ্বারা বন্ধ করে দিবেন, যাতে আমরা ঐ বিবাদ ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের প্রতি দিনের অত্যাচার হতে নিষ্কৃতি লাভ করতে পারি। তাদের একথার জবাবে হযরত যুলকারনাইন বললেনঃ “তোমাদের মাল ধনের আমার কোনই প্রয়োজন নেই। আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দান করেছেন তা তোমাদের ধন দৌলত অপেক্ষা বহুগুণে উত্তম ও উৎকৃষ্ট।` যেমন হযরত সুলাইমান (আঃ) সাবা দেশের রানীর দূতদেরকে বলেছিলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা কি আমাকে ধন সম্পদ দ্বারা সাহায্য করতে চাও? আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা হতে শ্রেষ্ঠ।” (২৭:৩৬) অতঃপর যুলকারনাইন ঐ লোকদেরকে বললেনঃ “তোমরা আমাকে তোমাদের দৈহিক শক্তি ও শ্রম দ্বারা সাহায্য কর। তাহলে আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যস্থলে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর গড়ে দিচ্ছি।” (আরবী) শব্দটি (আরবী) শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো খণ্ড। যুলকারনাইন তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা আমার নিকট লৌহখণ্ডসমূহ নিয়ে এসো।” তখন তারা তার কাছে ওগুলি আনয়ন করলো। তখন তিনি প্রাচীর নির্মাণ কার্যে লেগে। পড়লেন। ওটা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে এমন হলো যে, সমস্ত জায়গাকে ঘিরে ফেললো এবং পর্বত শিখর পর্যন্ত পৌঁছে গেল। প্রাচীরটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও পুরুত্বের বর্ণনায় বিভিন্ন উক্তি রয়েছে। যখন প্রাচীরটির নির্মাণকার্য সমাপ্ত হয়ে গেল তখন তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিলেনঃ “এখন তোমরা এই প্রাচীরের চতুষ্পর্শ্বে আগুন জ্বালিয়ে দাও এবং হাঁপরে দম দিয়ে থাকো।” যখন ওটা অগ্নিবৎ উত্তপ্ত ' হলো তখন তিনি তাদেরকে বললেনঃ “এখন তোমরা গলিত তাম্র আনয়ন কর এবং ওর চতুর্দিকে সম্পূর্ণরূপে বহিয়ে দাও।` এ কাজও করা হলো। সুতরাং ঠাণ্ডা হওয়ার পর প্রাচীরটি অত্যন্ত মযবুত হয়ে গেল। প্রাচীরটি দেখে মনে হলো যেন তা রেখা যুক্ত চাদর।
বর্ণিত আছে যে, একজন সাহাবী (রাঃ) রাসূলুল্লাহর (সঃ) খিদমতে আর করেনঃ “আমি ঐ প্রাচীরটি দেখেছি। তাঁর এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে প্রশ্ন করেনঃ “ওটা কিরূপ?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “যেন তা রেখাযুক্ত চাদর, যাতে লাল ও কালো রেখা রয়েছে।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “তুমি ঠিকই বলেছো।”। (এ হাদীসটি ইমাম ইবনু জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ রিওয়াইয়াতটি মুরসাল)
খলীফা ওয়াসিক স্বীয় খিলাফত কালে তার কোন এক আমীর বা সভাষদকে এক সেনাবাহিনী ও বহু সাজ-সরঞ্জামসহ এই উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন যে, তারা যেন ঐ প্রাচীরটি দেখে এসে তাঁর নিকট ওর বর্ণনা দেন ঐ সেনাবাহিনী দুই বছরেরও অধিক কাল সফর করেন এবং তাঁরা ঐ প্রাচীরের নিকট পৌঁছে যান। তারা দেখতে পান যে, প্রাচীরটি লৌহ ও তাম্র দ্বারা নির্মিত। তাতে একটি বিরাট দর রয়েছে এবং তাতে একটি বৃহৎ তালা লাগানো আছে। প্রাচীরটির নির্মাণ কার্য শেষ করার পর যে মসল্লা অবশিষ্ট ছিল তা একটি বুরুজে রক্ষিত আছে। সেখানে প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে। প্রাচীর অত্যন্ত উচ্চ। যথাসাধ্য চেষ্টা করেও ওর উপরে আরোহন করা সম্ভম্বপর নয়। ওর সাথে মিলিত পাহাডগুলি দু”দিক দিয়ে বরাবর চলে গিয়ে তারা আরো বহু বিস্ময়কর জিনিস অবলোকন করেন এবং ফিরে এসে খলীফার নিকট সব বিবরণ বর্ণনা করেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।