আল কুরআন


সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 104)

সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 104)



হরকত ছাড়া:

الذين ضل سعيهم في الحياة الدنيا وهم يحسبون أنهم يحسنون صنعا ﴿١٠٤﴾




হরকত সহ:

اَلَّذِیْنَ ضَلَّ سَعْیُهُمْ فِی الْحَیٰوۃِ الدُّنْیَا وَ هُمْ یَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ یُحْسِنُوْنَ صُنْعًا ﴿۱۰۴﴾




উচ্চারণ: আল্লাযীনা দাল্লা ছা‘ইউহুম ফিল হায়া-তিদদুনইয়া- ওয়াহুম ইয়াহছাবূনা আন্নাহুম ইউহছিনূনা সুন‘আ-।




আল বায়ান: দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করছে যে, তারা ভাল কাজই করছে’!




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৪. ওরাই তারা, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়, যদিও তারা মনে করে যে, তারা সৎকাজই করছে,




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা হল সে সব লোক দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা সাধনা ব্যর্থ হয়ে গেছে আর তারা নিজেরা মনে করছে যে, তারা সঠিক কাজই করছে।




আহসানুল বায়ান: (১০৪) ওরাই তারা, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পন্ড হয়, যদিও তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করছে।[1]



মুজিবুর রহমান: ওরাই তারা, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পন্ড হয়, যদিও তারা মনে করে যে, তারা সৎ কাজ করছে।



ফযলুর রহমান: (এরা তো তারাই) যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে বিফল হয়েছে; অথচ তারা মনে করে যে, তারা ভাল কাজই করছে।



মুহিউদ্দিন খান: তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে।



জহুরুল হক: এরাই তো এই দুনিয়ার জীবনে তাদের প্রচেষ্টা পন্ড করছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা তো বেশ ভালো উৎপাদন করছে।



Sahih International: [They are] those whose effort is lost in worldly life, while they think that they are doing well in work."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০৪. ওরাই তারা, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়, যদিও তারা মনে করে যে, তারা সৎকাজই করছে,


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০৪) ওরাই তারা, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পন্ড হয়, যদিও তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করছে।[1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, তাদের আমলগুলো এমন, যা আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় নয়, কিন্তু তাদের ধারণা যে তারা (আল্লাহর পছন্দনীয়) নেক আমলই করছে। এই আয়াতে কাদের কথা বলা হয়েছে? কেউ কেউ বলেন ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের, কেউ বলেন খাওয়ারিজ (রাজদ্রোহী) সম্প্রদায় ও অন্যান্য বিদআতীদের, কেউ বলেন মুশরিকদের। কিন্তু সঠিক কথা হল, এই আয়াতে ব্যাপকভাবে ঐ সমস্ত ব্যক্তি বা দলকে বুঝানো হয়েছে, যাদের মধ্যে উক্ত গুণাবলী বিদ্যমান। পরের আয়াতে এই ধরনের লোকেদের জন্য আরো কিছু শাস্তির কথা উল্লেখ করা হচ্ছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০০-১০৬ নং আয়াতের তাফসীর:



কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করবেন উক্ত আয়াতগুলোতে তারই বর্ণনা দেয়া হয়েছে। কিয়ামতের দিন জাহান্নামে প্রবেশ করার পূর্বেই জাহান্নামকে কাফির-মুশরিকদের সম্মুখে উপস্থিত করা হবে।



আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(وَيَوْمَ يُعْرَضُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا عَلَي النَّارِ)



“তারপর যখন কাফিরদেরকে জাহান্নামের সামনে নিয়ে দাঁড় করানো হবে।” (সূরা আহকাফ ৪৬: ২০)



কারণ দুনিয়াতে তাদের চোখ থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তা‘আলার যিকির তথা কুরআন থেকে আচ্ছাদিত ছিল। কুরআনের দিকে দৃষ্টিপাত করেনি। যা মন চেয়েছে তাই করেছে, কোন কিছুর ধার ধারেনি। ঈমানের পথ দেখায়, সংশোধন হওয়ার দিকে আহ্বান করে এমন কোন কথাও তারা শোনেনি। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা তাদের শাস্তি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেবেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(يُضٰعَفُ لَهُمُ الْعَذَابُ ط مَا كَانُوْا يَسْتَطِيْعُوْنَ السَّمْعَ وَمَا كَانُوْا يُبْصِرُوْنَ)‏



“তাদের শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে; তাদের শোনার সামর্থ্যও ছিল না এবং তারা দেখতেও পেত না।” (সূরা হূদ ১১:২০)



বরং উল্টো সর্বদা তারা খারাপ কাজে লিপ্ত ছিল। ইসলাম বিদ্বেষী ছিল, আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের নাম শুনতে পারত না।



حَسِبَ অর্থ ধারণা করা, অর্থাৎ যে সকল কাফিররা আমাকে বাদ দিয়ে আমার বান্দা তথা ফেরেশতা, ঈসা, উজাইর ও অন্যান্য ওলী-আওলিয়া যাদেরকে বিপদ থেকে মুক্তিদানকারী ও কল্যাণ আনয়ণকারী, আল্লাহ তা‘আলার কাছে পৌঁছার মাধ্যম, আখিরাতে তাদের জন্য সুপারিশকারী মনে করে ইবাদত করে থাকে তারা কি ভেবেছে তাদের ঐ সকল অভিভাবকরা তাদের উপকার করতে পারবে? কক্ষনো নয়, তাদের এ সকল ধারণা ভুল। বরং তারা তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে এবং তাদের শত্র“ হয়ে যাবে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوْا لَهُمْ أَعْدَا۬ءً وَّكَانُوْا بِعِبَادَتِهِمْ كٰفِرِيْنَ)‏



“(হাশরের ময়দানে) যখন সব মানুষকে একত্রিত করা হবে তখন তারা যাদেরকে ডাকত তারা তাদের দুশমন হয়ে যাবে এবং তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে।” (সূরা আহকাফ ৪৬:৬)



سَعي অর্থ: প্রচেষ্টা করা, ضَلَّ অর্থ: নষ্ট হয়ে যাওয়া। কুরআনে ضَلَّ শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে তার মধ্যে এটি একটি। (আযওয়াউল বায়ান) অর্থাৎ তারা দুনিয়াতে এমন আমল করার প্রচেষ্টা করেছে যা আল্লাহ তা‘আলার কাছে অপছন্দনীয়। ফলে তার প্রতিদান নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু তারা মনে করত যে, আমরা খুব ভাল আমল করছি। এরাই হবে আমলের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত। আল্লাহ তা‘আলা তাদের এ সকল আমল ওজনও করবেন না। বরং তা উড়িয়ে দেবেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَقَدِمْنَآ إِلٰي مَا عَمِلُوْا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنٰهُ هَبَا۬ءً مَّنْثُوْرًا)‏



“আমি তাদের কৃতকর্মের দিকে অগ্রসর হব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।” (সূরা ফুরকান ২৫:২৩)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(مَثَلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِرَبِّهِمْ أَعْمَالُهُمْ كَرَمَادِ نِاشْتَدَّتْ بِهِ الرِّيْحُ فِيْ يَوْمٍ عَاصِفٍ)



“যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাদের উপমা হচ্ছে তাদের কর্মসমূহ ছাইয়ের মত যা ঝড়ের দিনের বাতাস প্রচণ্ড বেগে উড়িয়ে নিয়ে যায়।” (সূরা ইবরাহীম ১৪:১৮)



মুসআব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম



(اَلَّذِيْنَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيٰوةِ الدُّنْيَا)



আয়াতে যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা হল “হারুরা” গ্রামের বাসীন্দা। তিনি বলেন: না, তারা হচ্ছে ইয়াহূদী ও খ্রিস্টান। কেননা, ইয়াহূদীরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিল এবং খ্রিস্টানরা জান্নাতকে অস্বীকার করত এবং বলত সেখানে কোন খাদ্য পানীয় নেই। আর হারুরী হল তারা যারা আল্লাহর সঙ্গে ওয়াদা করার পরও তা ভঙ্গ করেছিল, সা‘দ (রাঃ) তাদেরকে ফাসিক বলতেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৭২৮)



সঠিক কথা হল এরা কাফির, তারা বিশ্বাস করত তারা যে কুফরী করছে তা-ই সঠিক, এতেই আল্লাহ তা‘আলা সন্তুষ্ট।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. জাহান্নামকে কিয়ামতের দিন কাফিরদের সম্মুখে উপস্থিত করা হবে।

২. ভ্রান্ত মা‘বূদরা আল্লাহ তা‘আলার দরবারে তাদের ভক্তদের জন্য কোনই উপকার করতে পারবে না। বরং তারা তাদের শত্র“তে পরিণত হবে।

৩. জাহান্নাম এখনো তৈরী করা আছে।

৪. যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করবে তাদের সৎ আমল নষ্ট হয়ে যাবে।

৫. আল্লাহ তা‘আলা, তাঁর রাসূল এবং তাঁর বিধি-বিধান নিয়ে হাসি-তামাশা করা যাবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০৩-১০৬ নং আয়াতের তাফসীর:

হযরত মুসআব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আমি আমার পিতা অর্থাৎ হযরত সা'দ ইবনু আবি ওয়াক্কাসকে (রাঃ) আল্লাহ তাআলার (আরবী) এই উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, এর দ্বারা কি হারুরিয়্যা বা খারেজীদেরকে বুঝানো হয়েছে? তিনি উত্তরে বলেনঃ “না, বরং এর দ্বারা ইয়াহুদী ও খৃস্টানরা উদ্দেশ্য। ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহকে (সঃ) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। আর খৃস্টানরা জান্নাতকে অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে, সেখানে খাদ্য ও পানীয় কিছুই নেই। হাঁ তবে খারেজীরা আল্লাহর প্রতিশ্রুতিকে দৃঢ়তার পর ভঙ্গ করে দিয়েছে।` (এটা ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) হযরত সা'দ (রাঃ)। খারেজীদেরকে ফাসেক বলতেন। হযরত আলী (রাঃ) প্রভৃতি সাহাবীদের মতে এর দ্বারা খারেজীরাই উদ্দেশ্য। ভাবার্থ এই যে, এই আয়াত দ্বারা যেমন ইয়াহুদী ও খৃস্টানরা উদ্দেশ্য, অনুরূপভাবে খারেজীরাও এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা, আয়াতটি সাধারণ। যে কেউই আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও আনুগত্য ঐ পন্থায় করবে, যে পন্থা আল্লাহ তাআলার নিকট পছন্দনীয় নয়, তারা সবাই এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। যদিও তারা নিজেদের আমলে খুশী হয় এবং মনে করে নেয় যে, তারা আখেরাতের পাথেয় অনেক কিছু সংগ্রহ করে নিয়েছে এবং তাদের নেক আমল আল্লাহ তাআলার নিকট পছন্দনীয় ও তাদের সৎ আমলের বিনিময় তারা অবশ্যই লাভ করবে। কিন্তু তাদের এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তাদের আমল আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহনীয় নয়, বরং বর্জনীয়। তার ভুল ধারণাকারী লোক।

এটা মক্কায় অবতারিত আয়াত। আর এটা প্রকাশ্য কথা যে, মক্কায় অবতারিত আয়াতগুলি দ্বারা ইয়াহুদী ও খৃস্টানদেরকে সম্বোধন করা হয় নাই এবং তখন পর্যন্ত খারেজীদের তো কোন অস্তিত্বই ছিল না। সুতরাং ঐ গুরুজনদের উদ্দেশ্য এটাই যে, আয়াতের সাধারণ শব্দগুলি এদের সবাইকে এবং এদের মত অন্য যারা রয়েছে তাদের সবাইকে এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন সূরায়ে গাশিয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “বহু মুখমণ্ডল সেই দিন লাঞ্ছিত, কষ্টভোগী (এবং কষ্টভোগের দরুন) কাতর হবে। (তারা) দগ্ধকারী অগ্নিতে প্রবেশ করবে।” (৮৮:২-৪) আর এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সামনে বেড়ে গিয়ে আমি তাদের কৃত সমস্ত আমলকে বেকার ও মূল্যহীন করে দিবো।” (২৫:২৩) আর এক জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ ‘যারা কাফির, তাদের আমলসমূহ যেন একটি মরুভূমির মরিচিকা, পিপাসার্ত লোক যাকে পানি বলে মনে করে; শেষ পর্যন্ত যখন ওর নিকট পৌঁছে তখন ওকে কিছুই পায় না।” (২৪:৩৯)

এরা ঐ সব লোক যারা নিজেদের পন্থায় ইবাদত ও আমল তো করে এবং মনেও করে যে, তারা অনেক কিছু পূণ্যময় কাজ করলো এবং সেগুলো আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহণীয় ও পছন্দনীয়। কিন্তু তাদের ঐ আমলগুলো আল্লাহ তাআলার নির্দেশিত পন্থায় ছিল না এবং তাঁর রাসূলের (সঃ) নির্দেশ মুতাবেকও ছিল না বলে সেগুলো গ্রহণীয় হওয়ার পরিবর্তে বর্জনীয় হয়ে। গেলো এবং প্রিয় হওয়ার পরিবর্তে অপ্রিয় ও অপছন্দনীয় হয়ে গেলো। কেননা, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতো। আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর রাসূলের (সঃ) রিসালাতের সমস্ত প্রমাণ তাদের সামনে বিদ্যমান ছিল। কিন্তু তারা ওগুলি হতে চক্ষু বন্ধ করে নেয় এবং মেনে নেয়ার পরেও অমান্য করে। তাদের পুণ্যের পাল্লা সম্পূর্ণ শূন্য থাকবে।

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন একটি মোটা তাজা ও ভারী ওযনের লোককে আনয়ন করা হবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলার কাছে তার ওজন একটি মশার পাখার সমানও হবে না।` তারপর তিনি বলেনঃ “তোমরা ইচ্ছা করলে- (আরবী) এই আয়াতটি পাঠ করে নাও।` (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) মুসনাদে ইবনু আবি হাতিমের রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, খুব বেশী পানা হারকারী মোটা তাজা লোককে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার সামনে। হাজির করা হবে। কিন্ত তার ওজন শস্যের দানার সমানও হবে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই আয়াতটি পাঠ করেন।

মসনাদে বায়্যারে রয়েছে যে, একজন কুরায়েশী হুল্লা (লম্বা পোষাক বিশেষ) পরিধান করে অহংকার ভরে রাসুলুল্লাহর (সঃ) পার্শ্ব দিয়ে গমন করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত বুরাইদাকে (রাঃ) বলেনঃ “এই লোকটি ঐ লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদের আল্লাহ তাআলার নিকট কিয়ামতের দিন কোনই ওজন হবে না।” মারফু হাদীসের মত হযরত কা'বের (রাঃ) উক্তিও বর্ণিত আছে।

এটা হচ্ছে তাদের কুফরী, সত্যকে প্রত্যাখ্যান এবং আল্লাহর নিদর্শনাবলী ও তাঁর রাসূলদেরকে বিদ্রুপের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করারই প্রতিফল।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।