আল কুরআন


সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 101)

সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 101)



হরকত ছাড়া:

الذين كانت أعينهم في غطاء عن ذكري وكانوا لا يستطيعون سمعا ﴿١٠١﴾




হরকত সহ:

الَّذِیْنَ کَانَتْ اَعْیُنُهُمْ فِیْ غِطَـآءٍ عَنْ ذِکْرِیْ وَ کَانُوْا لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ سَمْعًا ﴿۱۰۱﴾




উচ্চারণ: আল্লাযীনা কা-নাত আ‘ইউনুহুম ফী গিতাইন ‘আন যিকরী ওয়া কা-নূলা-ইয়াছতাতী‘ঊনা ছাম‘আ-।




আল বায়ান: আমার স্মরণ থেকে যাদের চোখ ছিল আবরণে ঢাকা এবং যারা শুনতেও ছিল অক্ষম।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০১. যাদের চোখ ছিল অন্ধ আমার নিদর্শনের প্রতি এবং যারা শুনতেও ছিল অক্ষম।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমার স্মরণ থেকে যাদের চক্ষু ছিল আবরণে ঢাকা আর তারা শুনতেও সক্ষম ছিল না।




আহসানুল বায়ান: (১০১) যাদের চক্ষু ছিল আমার স্মরণ (কুরআন)এর ব্যাপারে অন্ধ এবং যারা শুনতেও ছিল অপারগ।



মুজিবুর রহমান: যাদের চক্ষু ছিল অন্ধ, আমার নিদর্শনের প্রতি এবং যারা শুনতেও ছিল অপারগ।



ফযলুর রহমান: (তাদের সামনে) যাদের চোখের ওপর একধরনের আবরণ থাকায় তারা আমার স্মারকগ্রন্থ (কোরআন) দেখতে পায় না এবং (কিছু) শুনতেও পায় না।



মুহিউদ্দিন খান: যাদের চক্ষুসমূহের উপর পর্দা ছিল আমার স্মরণ থেকে এবং যারা শুনতেও সক্ষম ছিল না।



জহুরুল হক: যাদের চোখ ছিল আমার স্মারক সন্বন্ধে পর্দার আড়ালে আর যারা শুনতেও ছিল অপারগ।



Sahih International: Those whose eyes had been within a cover [removed] from My remembrance, and they were not able to hear.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০১. যাদের চোখ ছিল অন্ধ আমার নিদর্শনের প্রতি এবং যারা শুনতেও ছিল অক্ষম।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০১) যাদের চক্ষু ছিল আমার স্মরণ (কুরআন)এর ব্যাপারে অন্ধ এবং যারা শুনতেও ছিল অপারগ।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০০-১০৬ নং আয়াতের তাফসীর:



কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করবেন উক্ত আয়াতগুলোতে তারই বর্ণনা দেয়া হয়েছে। কিয়ামতের দিন জাহান্নামে প্রবেশ করার পূর্বেই জাহান্নামকে কাফির-মুশরিকদের সম্মুখে উপস্থিত করা হবে।



আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(وَيَوْمَ يُعْرَضُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا عَلَي النَّارِ)



“তারপর যখন কাফিরদেরকে জাহান্নামের সামনে নিয়ে দাঁড় করানো হবে।” (সূরা আহকাফ ৪৬: ২০)



কারণ দুনিয়াতে তাদের চোখ থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তা‘আলার যিকির তথা কুরআন থেকে আচ্ছাদিত ছিল। কুরআনের দিকে দৃষ্টিপাত করেনি। যা মন চেয়েছে তাই করেছে, কোন কিছুর ধার ধারেনি। ঈমানের পথ দেখায়, সংশোধন হওয়ার দিকে আহ্বান করে এমন কোন কথাও তারা শোনেনি। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা তাদের শাস্তি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেবেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(يُضٰعَفُ لَهُمُ الْعَذَابُ ط مَا كَانُوْا يَسْتَطِيْعُوْنَ السَّمْعَ وَمَا كَانُوْا يُبْصِرُوْنَ)‏



“তাদের শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে; তাদের শোনার সামর্থ্যও ছিল না এবং তারা দেখতেও পেত না।” (সূরা হূদ ১১:২০)



বরং উল্টো সর্বদা তারা খারাপ কাজে লিপ্ত ছিল। ইসলাম বিদ্বেষী ছিল, আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের নাম শুনতে পারত না।



حَسِبَ অর্থ ধারণা করা, অর্থাৎ যে সকল কাফিররা আমাকে বাদ দিয়ে আমার বান্দা তথা ফেরেশতা, ঈসা, উজাইর ও অন্যান্য ওলী-আওলিয়া যাদেরকে বিপদ থেকে মুক্তিদানকারী ও কল্যাণ আনয়ণকারী, আল্লাহ তা‘আলার কাছে পৌঁছার মাধ্যম, আখিরাতে তাদের জন্য সুপারিশকারী মনে করে ইবাদত করে থাকে তারা কি ভেবেছে তাদের ঐ সকল অভিভাবকরা তাদের উপকার করতে পারবে? কক্ষনো নয়, তাদের এ সকল ধারণা ভুল। বরং তারা তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে এবং তাদের শত্র“ হয়ে যাবে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوْا لَهُمْ أَعْدَا۬ءً وَّكَانُوْا بِعِبَادَتِهِمْ كٰفِرِيْنَ)‏



“(হাশরের ময়দানে) যখন সব মানুষকে একত্রিত করা হবে তখন তারা যাদেরকে ডাকত তারা তাদের দুশমন হয়ে যাবে এবং তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে।” (সূরা আহকাফ ৪৬:৬)



سَعي অর্থ: প্রচেষ্টা করা, ضَلَّ অর্থ: নষ্ট হয়ে যাওয়া। কুরআনে ضَلَّ শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে তার মধ্যে এটি একটি। (আযওয়াউল বায়ান) অর্থাৎ তারা দুনিয়াতে এমন আমল করার প্রচেষ্টা করেছে যা আল্লাহ তা‘আলার কাছে অপছন্দনীয়। ফলে তার প্রতিদান নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু তারা মনে করত যে, আমরা খুব ভাল আমল করছি। এরাই হবে আমলের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত। আল্লাহ তা‘আলা তাদের এ সকল আমল ওজনও করবেন না। বরং তা উড়িয়ে দেবেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَقَدِمْنَآ إِلٰي مَا عَمِلُوْا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنٰهُ هَبَا۬ءً مَّنْثُوْرًا)‏



“আমি তাদের কৃতকর্মের দিকে অগ্রসর হব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।” (সূরা ফুরকান ২৫:২৩)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(مَثَلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِرَبِّهِمْ أَعْمَالُهُمْ كَرَمَادِ نِاشْتَدَّتْ بِهِ الرِّيْحُ فِيْ يَوْمٍ عَاصِفٍ)



“যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাদের উপমা হচ্ছে তাদের কর্মসমূহ ছাইয়ের মত যা ঝড়ের দিনের বাতাস প্রচণ্ড বেগে উড়িয়ে নিয়ে যায়।” (সূরা ইবরাহীম ১৪:১৮)



মুসআব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম



(اَلَّذِيْنَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيٰوةِ الدُّنْيَا)



আয়াতে যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা হল “হারুরা” গ্রামের বাসীন্দা। তিনি বলেন: না, তারা হচ্ছে ইয়াহূদী ও খ্রিস্টান। কেননা, ইয়াহূদীরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিল এবং খ্রিস্টানরা জান্নাতকে অস্বীকার করত এবং বলত সেখানে কোন খাদ্য পানীয় নেই। আর হারুরী হল তারা যারা আল্লাহর সঙ্গে ওয়াদা করার পরও তা ভঙ্গ করেছিল, সা‘দ (রাঃ) তাদেরকে ফাসিক বলতেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৭২৮)



সঠিক কথা হল এরা কাফির, তারা বিশ্বাস করত তারা যে কুফরী করছে তা-ই সঠিক, এতেই আল্লাহ তা‘আলা সন্তুষ্ট।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. জাহান্নামকে কিয়ামতের দিন কাফিরদের সম্মুখে উপস্থিত করা হবে।

২. ভ্রান্ত মা‘বূদরা আল্লাহ তা‘আলার দরবারে তাদের ভক্তদের জন্য কোনই উপকার করতে পারবে না। বরং তারা তাদের শত্র“তে পরিণত হবে।

৩. জাহান্নাম এখনো তৈরী করা আছে।

৪. যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করবে তাদের সৎ আমল নষ্ট হয়ে যাবে।

৫. আল্লাহ তা‘আলা, তাঁর রাসূল এবং তাঁর বিধি-বিধান নিয়ে হাসি-তামাশা করা যাবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০০-১০২ নং আয়াতের তাফসীর:

কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কাফিরদের ব্যাপারে কি করবেন এখানে তিনি তারই খবর দিচ্ছেন যে, তারা জাহান্নামে যাওয়ার পূর্বেই জাহান্নাম এবং ওর শাস্তি অবলোকন করবে। তাদেরকে ঐ জাহান্নামের মধ্যে প্রবিষ্ট করা হবেই এই বিশ্বাস রেখে ওর মধ্যে প্রবেশ করার পূর্বেই তারা চরমভাবে ভীত সন্ত্রস্ত থাকবে।

হযরত ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে হেঁচড়িয়ে টেনে আনা হবে। ওর সত্তর হাজার লাগাম হবে। প্রত্যেকটি লাগামের উপর সত্তর হাজার করে ফেরেশতা থাকবে।

এই কাফিররা পার্থিব সারা জীবনে নিজেদের চক্ষু ও কর্ণকে বেকার করে রেখেছে। না তারা সত্যকে দেখেছে ও শুনেছে এবং না আমল করেছে। তারা শয়তানের সঙ্গী হয়েছে এবং রহমানের (আল্লাহর) স্মরণ থেকে উদাসীন রয়েছে। তারা মনে করে নিয়েছে যে, তাদের বাতিল মা'বূদরাই তাদের পুরো মাত্রায় উপকার করবে। আর তাদের সমস্ত বিপদ-আপদ দূর করে দেবে। এটা কিন্তু তাদের সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বরং তারা তাদের ইবাদতকেও অস্বীকার করে বসবে। সেইদিন (কিয়ামতের দিন) তারা তাদের শত্রু হয়ে যাবে। এই কাফিরদের বাসস্থান তো জাহান্নাম। এই জাহান্নাম এখনও প্রস্তুত রয়েছে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।