আল কুরআন


সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 98)

সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 98)



হরকত ছাড়া:

ذلك جزاؤهم بأنهم كفروا بآياتنا وقالوا أئذا كنا عظاما ورفاتا أئنا لمبعوثون خلقا جديدا ﴿٩٨﴾




হরকত সহ:

ذٰلِکَ جَزَآؤُهُمْ بِاَنَّهُمْ کَفَرُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ قَالُوْۤاءَ اِذَا کُنَّا عِظَامًا وَّ رُفَاتًاءَ اِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ خَلْقًا جَدِیْدًا ﴿۹۸﴾




উচ্চারণ: যা-লিকা জাযাউহুম বিআন্নাহুম কাফারূবিআ-য়া-তিনা- ওয়াকা-লূ আইযা- কুন্না‘ইজা-মাওঁ ওয়া রুফা-তান আইন্না-লামাব‘ঊছূনা খালকান জাদীদা-।




আল বায়ান: এটাই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, ‘আমরা যখন হাড্ডি ও ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাব, তখন আমরা কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুজ্জীবিত হব’?




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৮. এটাই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা আমাদের নিদর্শন অস্বীকার করেছিল ও বলেছিল, ‘অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হলেও আমরা কি নূতন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হব?(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: এটাই তাদের প্রতিফল, কেননা তারা আমার নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল আর বলেছিল, ‘যখন আমরা হাড্ডি ও চূর্ণ ধূলায় পরিণত হব তখনও কি আমাদেরকে নতুন এক সৃষ্টির আকারে আবার উঠানো হবে?’




আহসানুল বায়ান: (৯৮) এটাই তাদের প্রতিফল। কারণ তারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করেছিল ও বলেছিল, ‘আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হলেও কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হব?’ [1]



মুজিবুর রহমান: এটাই তাদের প্রতিফল, কারণ তারা আমার নিদর্শন অস্বীকার করেছিল ও বলেছিলঃ আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ বিচূর্ণ হলেও কি নতুন সৃষ্টি রূপে পুনরুত্থিত হব?



ফযলুর রহমান: এটাই তাদের প্রতিফল; কারণ তারা আমার নিদর্শন অস্বীকার করেছিল আর বলেছিল, “হাড়গোড় ও ধ্বংসাবশেষ হয়ে যাবার পরও কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টিরূপে উঠানো হবে?”



মুহিউদ্দিন খান: এটাই তাদের শাস্তি। কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছেঃ আমরা যখন অস্থিতে পরিণত ও চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি আমরা নতুনভাবে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব?



জহুরুল হক: এই হচ্ছে তাদের প্রতিদান কেননা তারা আমাদের নিদের্শাবলী অস্বীকার করেছিল এবং বলেছিল -- "কী! আমরা যখন হাড়-ও ধুলোকণা হয়ে যাব তখন কি আমরা সত্যই পুনরুত্থিত হব নতুন সৃষ্টিরূপে?"



Sahih International: That is their recompense because they disbelieved in Our verses and said, "When we are bones and crumbled particles, will we [truly] be resurrected [in] a new creation?"



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯৮. এটাই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা আমাদের নিদর্শন অস্বীকার করেছিল ও বলেছিল, ‘অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হলেও আমরা কি নূতন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হব?(১)


তাফসীর:

(১) এ আয়াতের ব্যাখ্যা জানার জন্য এ সূরারই ৪৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দেখুন।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯৮) এটাই তাদের প্রতিফল। কারণ তারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করেছিল ও বলেছিল, ‘আমরা অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হলেও কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হব?’ [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, জাহান্নামের এই আযাব তাদেরকে এই জন্য দেওয়া হবে যে, তারা আমার নাযিলকৃত আয়াতসমূহকে সত্য বলে স্বীকার করেনি এবং বিশ্বজাহানে ছড়িয়ে থাকা নিদর্শনাবলীর ব্যাপারে চিন্তা-গবেষণা করেনি। যার কারণে তারা কিয়ামত সংঘটিত ও মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হওয়াকে অসম্ভব মনে করেছিল এবং বলেছিল যে, অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর আমরা আবার নতুনভাবে কি করে সৃজিত হতে পারি?


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯৭-৯৯ নং আয়াতের তাফসীর:



(دُوْنِه۪..... وَمَنْ يَّهْدِ اللّٰهُ)



এখানে আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা দিচ্ছেন যে, হিদায়াত দানের মালিক একমাত্র তিনিই, তিনি যাকে হিদায়াত দেন সেই হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কোন অলী-আওলিয়া, গাউস-কুতুব, পীর-ফকীর এমনকি নাবী-রাসূলগণও হিদায়াত দিতে পারে না। তার জ্বলন্ত প্রমাণ হল আবূ তালেব, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচা। যিনি রাসূলের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে কাফিরদের প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু মৃত্যুকালে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাচার মুখ থেকে একবারও কালেমা পাঠ করাতে পারলেন না। তার শেষ বিদায় হল বাপ-দাদার ধর্মের ওপর। (সহীহ বুখারী হা: ১৩৬০)



এ প্রকার হিদায়াত হল



(هداية التوفيق)



হিদায়াতুত তাওফীক:



সরল সঠিক পথের দিশা দান করতঃ তার ওপর মজবুত ও অটুট থাকার তাওফীক দান করা, যা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কেউ দিতে পারে না।



সুতরাং সঠিক পথ পাওয়ার জন্য আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করতে হবে, শুধু বাপ-দাদার দোহাই দিলে হবে না। এ সম্পর্কে সূরা হূদ এর ১১৮ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



(وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ.... )



উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করেন যে, কাফির-মুশরিকরা যেমনিভাবে দুনিয়াতে সত্য গ্রহণ করার ব্যাপারে অন্ধ, বোবা ও বধির ছিল আখিরাতেও আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে অনুরূপ অবস্থায় তাদের মুখের ওপর ভর দিয়ে উঠাবেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(اَلَّذِيْنَ يُحْشَرُوْنَ عَلٰي وُجُوْهِهِمْ إِلٰي جَهَنَّمَ لا أُولٰٓئِكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَّأَضَلُّ سَبِيْلًا) ‏



“যাদেরকে মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায় জাহান্নামের দিকে একত্র করা হবে, তারা অবস্থানের দিক দিয়ে অতি নিকৃষ্ট এবং অধিক পথভ্রষ্ট।”(সূরা ফুরক্বান ২৫:৩৪)



হাদীসে এসেছে, আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহ তা‘আলার নবী কিয়ামতের দিন কিভাবে কাফিরদেরকে তাদের চেহারার ওপর ভর দিয়ে উঠানো হবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যিনি দুনিয়াতে দু’ পায়ের ওপর ভর দিয়ে চলার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি কি কিয়ামতের দিন মুখের ওপর ভর দিয়ে উঠাতে সক্ষম নন?” কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, হ্যাঁ, আমার প্রতিপালকের শপথ তিনি তাতে সক্ষম। (সহীহ বুখারী হা: ৪৭৬০, সহীহ মুসলিম হা: ২৮০৬)



অতএব কিয়ামতের দিন কাফির-মুশরিকদেরকে তাদের মুখের ওপর ভর দিয়ে উল্টো অবস্থায় আল্লাহ তা‘আলা হাশরের ময়দানে উপস্থিত করবেন। আর তারা তথায় কোন প্রকার শান্তি লাভ করবে না।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করছেন যে, অস্বীকারকারীদের নিকট এটি একটি আশ্চর্যজনক বিষয় যে, মানুষ মৃত্যুর পর যখন মাটিতে পরিণত হবে তখন তাকে আবার জীবিত করা হবে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(وَلَئِنْ قُلْتَ إِنَّكُمْ مَّبْعُوْثُوْنَ مِنْۭ بَعْدِ الْمَوْتِ لَيَقُوْلَنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْآ إِنْ هٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ مُّبِيْنٌ) ‏



“তুমি যদি বল:‎ ‘মৃত্যুর পর তোমরা অবশ্যই উত্থিত হবে’, কাফিররা নিশ্চয়ই বলবে, ‘এটা তো সুস্পষ্ট জাদু।’’ (সূরা হূদ ১১:৭)



আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে বলেন: ‘তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে ক্ষমতাবান?’ সুতরাং তারা কেন অস্বীকার করছে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি বা জীবিত করতে পারবেন না? এদেরকে সৃষ্টি করা আকাশ-জমিন সৃষ্টি করার চেয়ে অধিক সহজ।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَخَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ وَلٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ)‏



“মানব সৃজন অপেক্ষা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি অবশ্যই অনেক বড় কাজ; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা জানে না।” (সূরা মু’মিন ৪০:৫৭)



সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম যেমনিভাবে তিনি আকাশ, জমিন ও তাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. হেদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, অন্য কেউ নয়।

২. মৃত্যুর পর আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে পুনরায় জীবিত করবেন।

৩. সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, অন্য কেউ নয়।

৪. মানুষকে দুনিয়াতে একটি নির্দিষ্ট কালের জন্য পাঠানো হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯৮-৯৯ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ অস্বীকারকারীদের যে শাস্তির বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তারা ওরই যোগ্য ছিল। তারা আমার দলীল প্রমাণাদিকে মিথ্যা মনে করতো এবং পরিষ্কারভাবে বলতোঃ আমরা পচা অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরেও কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত হবো? এটাতো আমাদের জ্ঞানে ধরে না। তাদের এই প্রশ্নের জবাবে মহামহিমান্বিত আল্লাহ একটি দলীল এই পেশ করেছেন যে, বিরাট আসমানকে বিনা নমুনাতেই প্রথমবার সৃষ্টি করতে পেরেছেন, যার প্রবল ক্ষমতা এই উচ্চ ও প্রশস্ত এবং কঠিন মাখলুককে সৃষ্টি করতে অপারগ হয় নাই, তিনি কি তোমাদেরকে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে অপারগ হয়ে যাবেন? আসমান ও যমীন সৃষ্টি করা তোমাদের সৃষ্টি অপেক্ষা অনেক কঠিন ছিল। এগুলি সৃষ্টি করতে তিনি যখন ক্লান্ত ও অপারগ হন নাই, তিনি মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করতে অপারগ হয়ে যাবেন? আসমান ও যমীনের যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনি কি মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? অবশ্যই তিনি সক্ষম। তিনি মহাস্রষ্টা, অতিশয় জ্ঞানী। যখন তিনি কোন বস্তুকে (সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করেন, তখন তার দস্তুর এই যে, তিনি এ বস্তুকে বলেনঃ হয়ে যা, তেমনি তা হয়ে যায়। বস্তুর অস্তিত্বের জন্যে তার হুকুমই যথেষ্ট। কিয়ামতের দিন তিনি মানুষকে দ্বিতীয় বার নতুন ভাবে সৃষ্টি অবশ্যই করবেন। তিনি তাদেরকে কবর হতে বের করার ও পুনরুজ্জীবিত করার সময় নির্ধারণ করে রেখেছেন। এ সময় এগুলো সবই হয়ে যাবে। এখানে কিছুটা বিলম্বের কারণ হচ্ছে শুধু ঐ সময়কে পুর্ণ করা। বড়ই আফসোসের বিষয় এই যে, এতো স্পষ্ট ও প্রকাশমান দলীলের পরেও মানুষ কুফরী ও ভ্রান্তিকে পরিত্যাগ করে না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।