আল কুরআন


সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 84)

সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 84)



হরকত ছাড়া:

قل كل يعمل على شاكلته فربكم أعلم بمن هو أهدى سبيلا ﴿٨٤﴾




হরকত সহ:

قُلْ کُلٌّ یَّعْمَلُ عَلٰی شَاکِلَتِهٖ ؕ فَرَبُّکُمْ اَعْلَمُ بِمَنْ هُوَ اَهْدٰی سَبِیْلًا ﴿۸۴﴾




উচ্চারণ: কুল কুল্লুইঁ ইয়া‘মালু‘আলা-শা-কিলাতিহী ফারাব্বুকুম আ‘লামুবিমান হুওয়া আহদাছাবীলা-।




আল বায়ান: বল, ‘প্রত্যেকেই আমল করে থাকে নিজ পদ্ধতি অনুযায়ী এবং তোমার রব অধিক অবগত আছেন কে সর্বাধিক নির্ভুল পথে’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৪. বলুন প্রত্যেকেই নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী কাজ করে থাকে এবং আপনার রব সম্যক অবগত আছেন চলার পথে কে সবচেয়ে নির্ভুল।




তাইসীরুল ক্বুরআন: বল, ‘প্রত্যেকেই স্বীয় রীতি-পন্থা অনুযায়ী কাজ করে। এখন তোমার রববই ভাল জানেন কে চলার পথে অধিকতর সঠিক পথে আছে।




আহসানুল বায়ান: (৮৪) বল, ‘প্রত্যেকেই নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী কাজ করে থাকে। অতঃপর যে পরিপূর্ণরূপে সৎপথপ্রাপ্ত তার সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালক সম্যক্ অবগত আছেন।’ [1]



মুজিবুর রহমান: বলঃ প্রত্যেকে তার নিজ নিজ রীতি অনুসারে কাজ করে। কিন্তু তোমার রাব্ব ভাল করে জানেন, কে সর্বাপেক্ষা নির্ভুল পথে আছে।



ফযলুর রহমান: বল, “প্রত্যেকেই নিজের স্বভাব অনুযায়ী কাজ করে; তবে কার পথ সঠিকতর, তোমার প্রভুই তা ভাল জানেন।”



মুহিউদ্দিন খান: বলুনঃ প্রত্যেকেই নিজ রীতি অনুযায়ী কাজ করে। অতঃপর আপনার পালনকর্তা বিশেষ রূপে জানেন, কে সর্বাপেক্ষা নির্ভূল পথে আছে।



জহুরুল হক: বলো -- "প্রত্যেকে কাজ করে চলে আপন ধরনে।" কিন্তু তোমাদের প্রভু ভাল জানেন কে হচ্ছে পথে চালিত।



Sahih International: Say, "Each works according to his manner, but your Lord is most knowing of who is best guided in way."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮৪. বলুন প্রত্যেকেই নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী কাজ করে থাকে এবং আপনার রব সম্যক অবগত আছেন চলার পথে কে সবচেয়ে নির্ভুল।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮৪) বল, ‘প্রত্যেকেই নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী কাজ করে থাকে। অতঃপর যে পরিপূর্ণরূপে সৎপথপ্রাপ্ত তার সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালক সম্যক্ অবগত আছেন।’ [1]


তাফসীর:

[1] এতে রয়েছে মুশরিকদের জন্য ধমক ও তিরস্কার। আর সূরা হূদের ১২১-১২২ নং আয়াতের যে অর্থ, এরও সেই একই অর্থ।  وَقُلْ لِلَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ اعْمَلُوا عَلَى مَكَانَتِكُمْ إِنَّا عَامِلُونَ  আর شَاكِلَةٌ এর অর্থ, নিয়ত, দ্বীন, তরীকা, অভ্যাস, স্বভাব, প্রকৃতি ইত্যাদি। কেউ কেউ বলেন যে, এতে রয়েছে কাফেরদের নিন্দার এবং মু’মিনদের প্রশংসার দিক। কারণ, এর অর্থ হল, প্রত্যেক মানুষ তার স্বভাবগত অভ্যাস অনুযায়ী এমন কাজ করে, যার উপর গড়ে উঠে তার আখলাক-চরিত্র।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮২-৮৯ নং আয়াতের তাফসীর:



মু’মিনদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা কুরআনকে শিফা বা আরোগ্য লাভের মাধ্যম ও রহমতস্বরূপ নাযিল করেছেন। এটা শুধু মু’মিনদের জন্য সীমাবদ্ধ, কোন কাফির বা মুশরিক তা পাবে না। যেমন সূরা তাওবার ১২৪-১২৫ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কুরআন দুপ্রকার চিকিৎসাই দিয়ে থাকে (১) অন্তরের ব্যাধির চিকিৎসা যাদের অন্তরে সংশয়-সন্দেহ, নিফাকী, অজ্ঞতা ও খারাপ কাজের প্রতি লালসা রয়েছে কুরআন তাদের যথার্থ চিকিৎসা দিয়েছে। একজন ব্যক্তি কুরআনের এ চিকিৎসা যথাযথভাবে গ্রহণ করলে অন্তরের ব্যাধি ভাল হয়ে যাবে। (২) শারীরিক চিকিৎসা যেমন কুরআন দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করা। এ ব্যাপারে সে প্রসিদ্ধ ঘটনা উল্লেখ্য যেখানে সাহাবীরা সূরা ফাতিহার মাধ্যমে ঝাড়-ফুঁক দিয়ে সাপেকাটা ব্যক্তির চিকিৎসা করেছিলেন। ফলে সে ব্যক্তি সুস্থ হয়েছিল এবং তারা সে কাজের বিনিময়ে এক পাল বকরী নিয়েছিলেন। সূরা ফাতিহার ফযীলতে তা বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত ইমাম ইবনু কাইয়্যিম (عليه السلام)-এর একটি কিতাব রয়েছে “তিব্বুন নাবাবী”। এ সম্পর্কে সূরা ইউনুসের ৫৭ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে। তবে কুরআনের তাবিজ বানিয়ে গলায় ঝুলিয়ে রাখলে আরোগ্য লাভ করা যাবে না। এতে আরোগ্য হলেও তা হবে শয়তানের আরোগ্য, কুরআনের আরোগ্য নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাবীজ ব্যবহার করা শিরক বলে উল্লেখ করেছেন। সেখানে কুরআনের তাবীজ আর অন্য তাবীজের মাঝে পার্থক্য উল্লেখ করেননি। (মুসনাদ আহমাদ হা: ১৭৪২২, সহীহ)



কিন্তু যারা কাফির-মুশরিক তাদের জন্য কুরআন ক্ষতিই নিয়ে আসে। দুনিয়াতেও তাদের ক্ষতি আখিরাতেও তাদের ক্ষতি।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মানুষের একটি বদ অভ্যাসের কথা উল্লেখ করছেন যে, যদি মানুষকে কল্যাণ দান করা হয়, যেমন কোন সম্পদ বা মূল্যবান কিছু দেয়া হয় তখন সে খুবই অহংকারী হয়ে পড়ে এবং আল্লাহ তা‘আলাকে ভুলে যেয়ে নিজের আত্মগরীমা প্রকাশ করে। আবার যখন অমঙ্গল স্পর্শ করে তখন সে নিরাশ হয়ে যায়।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(وَإِذَآ أَذَقْنَا النَّاسَ رَحْمَةً فَرِحُوْا بِهَا ط وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌۭ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيْهِمْ إِذَا هُمْ يَقْنَطُوْنَ)‏



“আর যখন মানুষকে রহমতের স্বাদ ভোগ করাই, তখন তারা তাতে আনন্দিত হয়, আর যদি তাদের কাজ-কর্মের দরুন তাদের ওপর কোন বিপদ আসে, তবে তখনই তারা নিরাশ হয়ে পড়ে।” (সূরা রূম ৩০:৩৬)



এ সম্পর্কে সূরা ইউনুসের ১২ এবং সূরা হুদের ৯ ও ১০ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



شاكلة মুজাহিদ বলেন: এর অর্থ স্বভাব; কাতদাহ বলেন: নিয়ত, মুকাতিল বলেন: প্রকৃতি। এছাড়াও অনেক অর্থ রয়েছে তবে সবগুলোর অর্থই কাছাকাছি। যার মোট কথা হল: প্রত্যেক মানুষ তার প্রকৃতি, স্বভাব ও অবস্থানুপাতে আমল করে। যদি সে সৎ ও স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী হয় তাহলে তার আমলগুলো আল্লাহ তা‘আলার জন্য হয়, আর যদি বদস্বভাব ও খারাপ প্রকৃতির হয় তাহলে তার আমলগুলো সেরূপ হয়ে যায়। এখানে মু’মিনদের প্রশংসা ও কাফিরদের তিরস্কার করা হয়েছে। এরূপ আলোচনা সূরা হূদ এর ১২১-১২২ নং আয়াতে করা হয়েছে।



(وَيَسْئَلُوْنَكَ عَنِ الرُّوْحِ.... ) শানে নুযূল:



আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনার জমির ওপর দিয়ে চলছিলেন। তাঁর হাতে ছিল একটি লাঠি। আমি তাঁর সঙ্গী ছিলাম। ইয়াহূদীদের একটি দল তাঁকে দেখে পরস্পর বলাবলি করে: এস, আমরা তাঁকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করি।” কেউ বলে যে, ঠিক আছে আবার কেউ কেউ বলে: তিনি হয়ত এমন উত্তর দেবেন যা তোমাদের বিপরীত হবে। সুতরাং যেতে দাও, প্রশ্ন করার দরকার নেই। শেষ পর্যন্ত তারা এসে প্রশ্ন করল, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন লাঠির ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমি বুঝে নিলাম যে, তাঁর ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে। আমি নীরবে দাঁড়িয়ে গেলাম। তখন সে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (মুসনাদ আহমাদ হা: ৩৬৮৮, সনদ সহীহ)



(وَمَآ أُوْتِيْتُمْ مِّنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيْلًا)



আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তিনি মানুষকে খুবই সামান্য পরিমাণ জ্ঞান দান করেছেন। আর এই জ্ঞান আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞানের তুলনায় খুবই নগণ্য। সুতরাং এই ‘রূহ’ সম্পর্কে একমাত্র তিনিই ভাল জানেন। তিনি শুধু মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই রূহ কেবল তাঁর একটি নির্দেশ। এ সম্পর্কে আর কিছুই তাদেরকে অবগত করাননি। এ সম্পর্কে সকল জ্ঞান তাঁরই নিকট। তাঁর জ্ঞান অপরিমেয়।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(قُلْ لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمٰتِ رَبِّيْ لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَنْ تَنْفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّيْ وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِه۪ مَدَدًا)‏



“বল:‎ ‘আমার প্রতিপালকের কথা লিপিবদ্ধ করার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়, তবে আমার প্রতিপালকের কথা শেষ হবার পূর্বেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে আমরা এটার সাহায্যার্থে অনুরূপ আরও সমুদ্র আনলেও। (সূরা কাহফ ১৮:১০৯)



এরূপ সূরা লুকমানের ২৭ নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। অতএব রূহ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার নিকট।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর ক্ষমতাবলে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর যে ওয়াহী করেছেন তা তিনি ছিনিয়ে নিতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি। এটি কেবল তাঁর রহমত ও অনুগ্রহ।



তারপর আল্লাহ তা‘আলা এ কুরআনের ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করে বলেন: সকল জিন এবং মানুষ মিলিত হয়েও যদি চেষ্টা করে তারপরও এ রকম একটি গ্রন্থ আনয়ন করতে পারবে না। মক্কার মুশরিকরা অনেক চেষ্টা করেছিল এরূপ কথা বানানোর জন্য কিন্তু তারা নিজেরা বানিয়ে নিজেরাই পছন্দ করেনি। সুতরাং এতে কুরআনের মর্যাদা এবং নির্ভুলতার প্রমাণ বহন করে, কুরআন আসমানী কিতাব; কোন গণক, জ্যোতিষী বা কবির কথা নয় তাও প্রমাণিত হয় এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুআতের সত্যতার প্রমাণ মেলে। এ সম্পর্কে পূর্বে সূরা বাকারার ২৩ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তিনি এই কুরআনে সর্বপ্রকার উপমা পেশ করেছেন। যার সম্পর্কে অত্র সূরার ৪১ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কুরআন মু’মিনদের জন্য চিকিৎসা ও রহমতস্বরূপ।

২. সুখের পর দুঃখ আসলে তাতে নিরাশ হওয়া যাবে না।

৩. প্রত্যেককে তার কাজ অনুপাতে ফলাফল দেয়া হবে।

৪. রূহ আল্লাহ তা‘আলার একটি নির্দেশ, তার প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহ তা‘আলার কাছে।

৫. মানুষের জ্ঞান আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞানের তুলনায় খুবই নগণ্য।

৬. কুরআনে সকল জিনিসের বর্ণনা বিদ্যমান।

৭. কুরআন দ্বারা শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে ঝাড়-ফুঁক করা যাবে, কিন্তু তাবীজ ব্যবহার করা যাবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮৩-৮৪ নং আয়াতের তাফসীর

ভাল ও মন্দ কল্যাণ ও অকল্যাণের ব্যাপারে মানুষের যে অভ্যাস রয়েছে, কুরআন কারীমের এই আয়াতে তারই বর্ণনা দেয়া হয়েছে। মানুষের অভ্যাস এই যে, সে মাল, দৈহিক সুস্থতা, বিজয়, জীবিকা, সাহায্য, পৃষ্ঠপোষকতা, স্বচ্ছলতা এবং সুখ শান্তি পেলেই চক্ষু ফিরিয়ে নেয় এবং আল্লাহ হতে দূরে সরে পড়ে। দেখে মনে হয় যেন সে কখনো বিপদে পড়ে নাই বা পড়বেও না।

পক্ষান্তরে যখন তার উপর কষ্ট ও বিপদ-আপদ এসে পড়ে তখন সে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হয়ে পড়ে এবং মনে করে যে, সে আর কখনো কল্যাণ, মুক্তি ও সুখ-শান্তি লাভ করবেই না। কুরআন কারীমের অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যখন আমি মানুষকে আমার করুণার স্বাদ গ্রহণ করাই, অতঃপর তা তার থেকে টেনে নিই, তখন সে নিরাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়। আর যদি তাকে বিপদ-আপদ স্পর্শ করার পর আমি তাকে নিয়ামতের স্বাদ গ্রহণ করাই, তখন সে বলেঃ বিপদ-আপদ আমা থেকে দূর হয়ে গেছে, তখন সে আনন্দিত ও অহংকারী হয়ে পড়ে। কিন্তু যারা ধৈর্য ধারণ করে ও সৎ কার্যাবলী সম্পাদন করে তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।” (১১:৯-১১)

আল্লাহ পাক বলেনঃ প্রত্যেকেই নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী কাজ করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে চলার পথে কে সর্বাপেক্ষা নির্ভুল তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। এতে মুশরিকদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। তারা যে নীতির উপর কাজ করে যাচ্ছে এবং ওটাকেই সঠিক মনে করছে, কিন্তু এটা যে, সঠিক পন্থা নয় তা তারা আল্লাহ তাআলার কাছে গিয়ে জানতে পারবে। তারা যে পথে রয়েছে। তা যে কত বড় বিপজ্জনক পথ তা সেইদিন তারা বুঝতে পারবে। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “হে নবী (সঃ)! তুমি বেঈমানদেরকে বলে দাওঃ আচ্ছা ঠিক আছে, তোমরা নিজের জায়গায় কাজ করে যাও (শেষ পর্যন্ত)।” প্রতিদানের সময় এটা নয়, এটা হবে কিয়ামতের দিন। সেই দিনই হবে পাপ ও পূণ্যের পার্থক্য। ঐদিন সবাই নিজনিজ কৃতকর্মের প্রতিদান পেয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলার কাছে কোন কিছুই গোপন নেই।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।