আল কুরআন


সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 77)

সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 77)



হরকত ছাড়া:

سنة من قد أرسلنا قبلك من رسلنا ولا تجد لسنتنا تحويلا ﴿٧٧﴾




হরকত সহ:

سُنَّۃَ مَنْ قَدْ اَرْسَلْنَا قَبْلَکَ مِنْ رُّسُلِنَا وَ لَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِیْلًا ﴿۷۷﴾




উচ্চারণ: ছুন্নাতা মান কাদ আরছালনা-কাবলাকা মিররুছুলিনা-ওয়ালা-তাজিদুলিছুন্নাতিনা-তাহবীলা।




আল বায়ান: তাদের নিয়ম অনুসারে যাদেরকে আমি আমার রাসূলদের মধ্যে তোমার পূর্বে পাঠিয়েছিলাম এবং তুমি আমার নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৭. আমাদের রাসূলদের মধ্যে আপনার আগে যাদেরকে পাঠিয়েছিলাম তাদের ক্ষেত্রেও ছিল এরূপ নিয়ম এবং আপনি আমাদের নিয়মের কোন পরিবর্ত পাবেন না।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমার পূর্বে আমি আমার যে সব রসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের ক্ষেত্রে এটাই ছিল নিয়ম আর তুমি আমার নিয়মের কোন পরিবর্তন দেখতে পাবে না।




আহসানুল বায়ান: (৭৭) আমার রসূলদের মধ্যে তোমার পূর্বে যাদেরকে আমি পাঠিয়েছিলাম, তাদের ক্ষেত্রেও ছিল অনুরূপ নিয়ম। [1] আর তুমি আমার নিয়মের কোন পরিবর্তন পাবে না। [2]



মুজিবুর রহমান: আমার রাসূলদের মধ্যে তোমার পূর্বে যাদেরকে আমি পাঠিয়েছিলাম তাদের ক্ষেত্রেও ছিল এরূপ নিয়ম এবং তুমি আমার নিয়মের কোন পরিবর্তন দেখতে পাবেনা।



ফযলুর রহমান: তোমার পূর্বে আমি যেসব রসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের ক্ষেত্রেও এ নিয়মই ছিল। তুমি আমার নিয়মের কোন পরিবর্তন পাবে না।



মুহিউদ্দিন খান: আপনার পূর্বে আমি যত রসূল প্রেরণ করেছি, তাদের ক্ষেত্রেও এরূপ নিয়ম ছিল। আপনি আমার নিয়মের কোন ব্যতিক্রম পাবেন না।



জহুরুল হক: এটিই রীতি তোমার আগে আমাদের রসূলদের মধ্যের যাদের আমরা পাঠিয়েছিলাম তাঁদের সন্বন্ধে, আর আমাদের রীতির কোনো পরিবর্তন তুমি পাবে না।



Sahih International: [That is Our] established way for those We had sent before you of Our messengers; and you will not find in Our way any alteration.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭৭. আমাদের রাসূলদের মধ্যে আপনার আগে যাদেরকে পাঠিয়েছিলাম তাদের ক্ষেত্রেও ছিল এরূপ নিয়ম এবং আপনি আমাদের নিয়মের কোন পরিবর্ত পাবেন না।(১)


তাফসীর:

১. সকল নবীর ব্যাপারে। আল্লাহ এ একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। অর্থাৎ যে জাতি তাদেরকে হত্যা ও দেশান্তরী করেছে, তারপর সে আর বেশীদিন স্বস্থানে অবস্থান করতে পারেনি। এরপর হয় আল্লাহর আযাব তাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। যদি আল্লাহর রাসূল তাদের জন্য রহমতস্বরূপ না আসতেন তবে তাদের উপর এমন আযাব আসত যার মোকাবিলা করা তাদের কারও পক্ষে সম্ভব হতো না। [ইবন কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭৭) আমার রসূলদের মধ্যে তোমার পূর্বে যাদেরকে আমি পাঠিয়েছিলাম, তাদের ক্ষেত্রেও ছিল অনুরূপ নিয়ম। [1] আর তুমি আমার নিয়মের কোন পরিবর্তন পাবে না। [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, এই নিয়ম পূর্ব থেকেই চলে আসছে। তোমার পূর্ববর্তী রসূলদের ক্ষেত্রেও এই নিয়মই প্রয়োগ করা হয়েছে। যখন তাঁদের সম্প্রদায়রা তাঁদেরকে তাঁদের দেশ থেকে বের করে দিল অথবা বের হতে বাধ্য করল, তখন সেই জাতিরাও আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা পায়নি।

[2] সুতরাং মক্কাবাসীদের সাথেও এটাই হয়েছে। রসূল (সাঃ)-এর হিজরতের দেড় বছর পরেই বদর প্রান্তে তারা শিক্ষামূলক লাঞ্ছনা ও পরাজয়ের শিকার হয় এবং ছয় বছর পর হিজরী ৮ম সনে মক্কাই বিজয় হয়ে যায়। আর এই লাঞ্ছনা ও পরাজয়ের পর তাদের আর মাথা তোলার মত কোন ক্ষমতা থাকল না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭৬-৭৭ নং আয়াতে তাফসীর:



এখানে মক্কা থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বহিষ্কার করার জন্য কুরাইশরা যে ষড়যন্ত্র করেছিল সে কথাই বলা হয়েছে এবং আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন যে, যদি তারা তোমাকে তাদের পরিকল্পনা অনুপাতে বের করে দিত তাহলে তাদের অবস্থা ঐ রকমই হত যেমন পূর্ববর্তী রাসূলদেরকে তাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার ফলে ঐ সম্প্রদায়ের হয়েছিল। এতে কোন প্রকার পরিবর্তন হত না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ভাল/সৎ লোকদেরকে গ্রাম বা এলাকা থেকে বের করে দেয়া যাবে না, দিলে সকলের প্রতি শাস্তি নেমে আসবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭৬-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর

বর্ণিত আছে যে, ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহকে (সঃ) বলেছিলঃ “আপনার শাম দেশে (সিরিয়ায়) চলে যাওয়া উচিত। ওটাই হচ্ছে নবীদের দেশ। আপনার উচিত এই মদীনার শহরকে ছেড়ে দেয়া।” ঐ সময় এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। একথাও বলা হয়েছে যে, তাবুকের ব্যাপারে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। ইয়াহুদীরা যে তাঁকে বলেছিলঃ “আপনার শাম দেশে চলে যাওয়া উচিত। কেননা, ওটাই হচ্ছে নবীদের বাসভূমি ও হাশরের যমীন। আপনি যদি সত্য নবী হন তবে সেখানে চলে যান। কিছুকাল তিনি তাদের এই কথাকে সত্য মনে করেই ছিলেন। তাবুকের যুদ্ধ দ্বারা তাঁর নিয়ত এটাই ছিল। কিন্তু তাঁবুকে পৌঁছার সাথে সাথেই সূরায়ে বাণী ইসরাঈলের এই আয়াতগুলি অবতীর্ণ হয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) মদীনায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আর বলেনঃ “মৃত্যু পর্যন্ত তোমাকে এই মদীনাতেই থাকতে হবে এবং এখান থেকেই দ্বিতীয়বার উঠতে হবে।” কিন্তু এর সনদ ও সমালোচনা মুক্ত নয়। আর এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে, এই ঘটনাটি সঠিক নয়। (কিন্তু এটা দুর্বল উক্তি। কেননা, এইটি মক্কী আয়াত। আর মদীনা নবীর (সঃ) বাসভূমি পরে হয়েছিল)

তাঁবুকের যুদ্ধ ইয়াহুদীদের উপরোক্ত কথা বলার কারণে সংঘটিত হয় নাই; বরং আল্লাহ তাআলার নির্দেশ বিদ্যমান রয়েছে। তিনি বলেছেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমরা তোমাদের আশে পাশের কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা কর।” (৯:১২৩) অন্য আয়াতে রয়েছেঃ “যারা আল্লাহর উপর এবং কিয়ামতের উপর বিশ্বাস করে না এবং তাঁর রাসূলের হারামকৃত জিনিসকে হারাম মনে করে না ও সত্যকে কবুল করে না এইরূপ আহলে কিতাবের বিরুদ্ধে তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ কর, যে পর্যন্ত না তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জিযিয়াকর দিতে সম্মত হয়। এই যুদ্ধের আরো কারণ ছিল এই যে, যে সব সাহাবী (রাঃ) মূতার যুদ্ধে শহীদ হয়ে ছিলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁদের প্রতিশোধ গ্রহণের ইচ্ছা করেছিলেন। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। যদি উপরোক্ত ঘটনা সঠিক হয় তবে ওরই উপর ঐ হাদীসকে স্থাপন করা হবে যাতে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “মক্কা, মদীনা ও সিরিয়ায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। ওয়ালীদ (রঃ) তো এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন যে, সিরিয়া দ্বারা বায়তুল মুকাদ্দাসকে বুঝানো হয়ে থাকে। তাহলে সিরিয়া দ্বারা তাবুককে বুঝাবে না কেন? এরূপ বুঝানো তো সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার ও সঠিক। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।

একটি উক্তি এও আছে যে, এর দ্বারা কাফিরদের এ সংকল্পকে বুঝানো হয়েছে, যে সংকল্প তারা মক্কা হতে রাসূলুল্লাহকে (সঃ) তাড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে করেছিল। আর এটা হয়েছিলও বটে। যখন তারা তাঁকে মক্কা থেকে বিদায় করে দেয়, তারপর তারাও সেখানে বেশী দিন অতিবাহিত করতে পারে নাই। ইতিমধ্যেই আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহকে (সঃ) তাদের উপর জয়যুক্ত করেন। মাত্র দেড় বছর পরেই বিনা প্রস্তুতি ও ঘোষণাতেই আকস্মিকভাবে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়ে যায় এবং তাতে কাফিরদের ও কুফরীর মাজা ভেঙ্গে পড়ে। তাদের শরীফ ও নেতৃস্থানীয় লোকেরা কচুকাটা হয়। তাদের শান শওকত মাটির সাথে মিশে যায়। তাদের বড় বড় নেতারা বন্দী হয় তাই, মহান আল্লাহ বলেনঃ এই অভ্যাস প্রথম যুগ থেকেই চলে আসছে। পূর্ববর্তী রাসূলদের সাথেও এইরূপ ব্যবহার করা হয়েছিল যে, কাফিররা যখন তাদেরকে ত্যক্ত বিরক্ত করে এবং দেশান্তর করে দেয় তখন তারাও রক্ষা পায় নাই। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করে দেন। তবে আমাদের রাসূল (সঃ) ছিলেন রহমত ও করুণার রাসূল, ফলে কোন সাধারণ আসমানী আযাব ঐ কাফিরদের উপর আসে নাই। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “(হে নবী (সঃ)! আল্লাহ এরূপ নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকা। অবস্থায় তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন।” (৮:৩৩)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।