আল কুরআন


সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 45)

সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 45)



হরকত ছাড়া:

وإذا قرأت القرآن جعلنا بينك وبين الذين لا يؤمنون بالآخرة حجابا مستورا ﴿٤٥﴾




হরকত সহ:

وَ اِذَا قَرَاْتَ الْقُرْاٰنَ جَعَلْنَا بَیْنَکَ وَ بَیْنَ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَۃِ حِجَابًا مَّسْتُوْرًا ﴿ۙ۴۵﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইযা-কারা’তাল কুরআ-না জা‘আলনা-বাইনাকা ওয়া বাইনাল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি হিজা-বাম মাছতূরা-।




আল বায়ান: আর তুমি যখন কুরআন পড় তখন তোমার ও যারা আখিরাতে ঈমান আনে না তাদের মধ্যে আমি এক অদৃশ্য পর্দা দিয়ে দেই।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৫. আর আপনি যখন কুরআন পাঠ করেন তখন আমরা আপনার ও যারা আখিরাতের উপর ঈমান রাখে না তাদের মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন পর্দা রেখে দেই।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তুমি যখন কুরআন পাঠ কর তখন আমি তোমার আর যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না তাদের মাঝে একটা অদৃশ্য পর্দা স্থাপন ক’রে দিয়েছি।




আহসানুল বায়ান: (৪৫) তুমি যখন কুরআন পাঠ কর, তখন তোমার ও যারা পরলোকে বিশ্বাস করে না, তাদের মধ্যে এক আবরক পর্দা করে দিই। [1]



মুজিবুর রহমান: তুমি যখন কুরআন পাঠ কর তখন তোমার ও যারা পরলোকে বিশ্বাস করেনা তাদের মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন পর্দা টেনে দিই।



ফযলুর রহমান: তুমি যখন কোরআন পাঠ করো তখন আমি তোমার মধ্যে ও যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের মধ্যে একটি প্রচ্ছন্ন পর্দা স্থাপন করি (যাতে তারা শুনতে না পায়)।



মুহিউদ্দিন খান: যখন আপনি কোরআন পাঠ করেন, তখন আমি আপনার মধ্যে ও পরকালে অবিশ্বাসীদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন পর্দা ফেলে দেই।



জহুরুল হক: আর যখন তুমি কুরআন পাঠ কর তখন তোমার মধ্যে ও যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের মধ্যে আমরা স্থাপন করি এক অদৃশ্য পর্দা।



Sahih International: And when you recite the Qur'an, We put between you and those who do not believe in the Hereafter a concealed partition.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৫. আর আপনি যখন কুরআন পাঠ করেন তখন আমরা আপনার ও যারা আখিরাতের উপর ঈমান রাখে না তাদের মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন পর্দা রেখে দেই।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৫) তুমি যখন কুরআন পাঠ কর, তখন তোমার ও যারা পরলোকে বিশ্বাস করে না, তাদের মধ্যে এক আবরক পর্দা করে দিই। [1]


তাফসীর:

[1] مَسْتُوْرٌ অর্থ হল سَاتِر (আবরক বা অন্তরাল) অথবা مستور عن الأبصار (চোখের অন্তরালে) তাই তারা তা দেখে না। এ ছাড়াও তাদের ও হিদায়াতের মধ্যে রয়েছে অন্তরায়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৫-৪৮ নং আয়াতের তাফসীর:



কাফির, মুশরিকরা কী কারণে সত্য পথ গ্রহণ করতে পারে না সে সম্পর্কে উক্ত আয়াতগুলোতে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে বলেন যে, যখন তুমি কুরআন পাঠ কর তখন তোমার ও তাদের মাঝে পর্দা তৈরি করে দেই, ফলে তারা কুরআন শোনলেও বুঝতে ও উপলব্ধি করতে পারে না। আর সেজন্যই তারা সঠিক পথ লাভ করতে পারে না।



এখানে مستور শব্দটি ساتر এর অর্থে ব্যবহৃত। এ পর্দা যদিও দেখা যায় না কিন্তু হিদায়াত গ্রহণের মধ্যে ও তাদের মধ্যে আড়াল সৃষ্টি হয়।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَقَالُوْا قُلُوْبُنَا فِيْٓ أَكِنَّةٍ مِّمَّا تَدْعُوْنَآ إِلَيْهِ وَفِيْٓ اٰذَانِنَا وَقْرٌ وَّمِنْمبَيْنِنَا وَبَيْنِكَ حِجَابٌ فَاعْمَلْ إِنَّنَا عَامِلُوْنَ‏)‏



“তারা বলেঃ তুমি যার প্রতি আমাদেরকে আহ্বান করছ সে বিষয়ে আমাদের অন্তর আবরণে আচ্ছাদিত, কর্ণে আছে বধিরতা এবং তোমার ও আমাদের মধ্যে আছে অন্তরায়; সুতরাং তুমি তোমার কাজ কর এবং আমরা আমাদের কাজ করি।” (সূরা হা-মীম সিজদাহ ৪১:৫)



আর এই সকল কারণে তারা সঠিক কথা শোনার পরও তা তাদের কাছে সঠিক বলে মনে হয় না। আর তারা সঠিক পথের অনুসরণ করতে পারে না। তারা তা থেকে পশ্চাদনুসরণ করে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِذَا ذُكِرَ اللّٰهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوْبُ الَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ ج وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِيْنَ مِنْ دُوْنِه۪ٓ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُوْنَ)



“এক আল্লাহর কথা বলা হলে যারা আখিরাতকে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর ঘৃণায় ভরে যায় এবং যখন আল্লাহর পরিবর্তে (তাদের দেবতাগুলোর) উল্লেখ করা হয় তারা আনন্দিত হয়ে যায়।” (সূরা যুমার ৩৯:৪৫)



মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কুরআন পাঠ করত তখন তারা তা চুপিসারে কান পেতে শ্রবণ করত, আর এ কথা শ্রবণ করে বিভিন্ন ধরনের কথা-বার্তা বানিয়ে তাঁর ওপর আরোপ করত। কখনো বলত জাদুকর, কখনো জাদুগ্রস্থ, কখনো উন্মাদ এবং কখনো জ্যোতিষী বলে আখ্যায়িত করত। তাদের এ সমস্ত কথা যে মিথ্যা তা তাদের কথার মাধ্যমেই বুঝা যায়। কারণ তারা তাদের মতের ওপর সঠিক ছিল না বলেই ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন কথা বলত। এ সকল চিন্তা-ভাবনা তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করাতে বাধা দিত। সুতরাং ভাল কথা সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে না শুনলে কোন কাজে আসবে না, বরং তা গ্রহণের নিয়তে শুনতে হবে, তাহলেই উপকৃত হওয়া যাবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. যারা সত্য জানার ও মানার জন্য কুরআন ও হাদীস শোনে না তাদের মাঝে ও কুরআনের মাঝে আল্লাহ তা‘আলা পর্দা তৈরি করে দেন।

২. সঠিক কথা জানতে পারলে মেনে নেয়া আবশ্যক, অন্যথায় পরিণতি ভাল হবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৫-৪৬ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ কুরআন পাঠের সময় তাদের অন্তরে পর্দা পড়ে যায়। কাজেই কুরআন তাদের অন্তরে মোটেই ক্রিয়াশীল হয় না। ঐ পর্দা তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এখানে (আরবি) শব্দটি (আরবি) এর অর্থবোধক। যেমন (আরবি) ও (আরবি) যথাক্রমে (আরবি) এবং (আরবি) এর অর্থবোধক। এ পর্দা যদিও বাহ্যতঃ দেখা যায় না, কিন্তু হিদায়াতের মধ্যে ও তাদের মধ্যে আল্লাহ তাআ’লী পৃথককারী হয়ে যান।

মুসনাদে আবি ইয়ালা মুসিলীর মধ্যে বর্ণিত আছে যে, যখন (আরবি) সূরাটি অবতীর্ণ হয় তখন (আবু লাহাবের স্ত্রী) উম্মে জামীল একটি তীক্ষ্ণ পাথর হাতে নিয়ে এই নিন্দিত ব্যক্তিকে আমরা মানবো না’ একথা চীৎকার করে বলতে বলতে আসে। সে আরো বলেঃ তার দ্বীন আমাদের কাছে পছন্দনীয় নয়। আমরা তার ফরমানের বিরোধী। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) বসে ছিলেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) তাঁর পাশেই ছিলেন। তিনি তাঁকে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! সে তো আসছে! আপনাকে দেখে ফেলবে?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “নিশ্চিন্ত থাকো। সে আমাকে দেখতে পাবে না।” অতঃপর তিনি তার থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ শুরু করে দেন। এই আয়াতটিই তিনি পাঠ করেন। সে এসে হযরত আবু বকরকে (রাঃ) জিজ্ঞেস করেঃ “আমি শুনেছি যে, তোমাদের নবী (সঃ) নাকি আমার দুনমি করেছে?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “না, না। কা’বার প্রতিপালকের শপথ! তিনি তোমার কোন দুর্নাম বা নিন্দা করেন নাই।” সে সমস্ত কুরায়েশ জানে যে, আমি তাদের নেতার কন্যা’ একথা বলতে বলতে ফিরে গেল। (আরবি) শব্দটি (আরবি) শব্দের বহুবচন। ঐ পর্দা তাদের অন্তরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, যার কারণে তারা কুরআন বুঝতে পারে না। তাদের কানে বধিরতা রয়েছে, যার কারণে তারা তা এমনভাবে শুনতে পায় না যাতে তাদের উপকার হয়।

মহান আল্লাহ স্বীয় নবীকে (সঃ) বলছেনঃ হে নবী (সঃ)! যখন তুমি কুরআনের এ অংশ পাঠ কর যাতে আল্লাহর একত্বের বর্ণনা রয়েছে তখন তারা পলাতে শুরু করে। (আরবি) শব্দটি (আরবি) শব্দের বহুবচন , যেমন (আরবি) শব্দের বহু বচন এসে থাকে। আবার এও হতে পারে যে, এটা ক্রিয়া ছাড়াই ধাতুমূল রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।

যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ “একক আল্লাহর বর্ণনায় বেঈমান লোকদের মন বিরক্ত হয়ে ওঠে।” মুসলমানদের “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠ মুশরিকদের মন বিষিয়ে তোলে। ইবলীস এবং তাঁর সেনাবাহিনী এতে খুবই বিরক্ত হতো ও এটাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করতো। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল তাদের বিপরীত। তিনি চান তার এই কালেমাকে সমুন্নত করতঃ এটাকে চতুর্দিকে ছড়িয়ে দিতে। এটা এমন একটি কালেমা যে, এর উক্তিকারী সফলকাম হয় এবং এর উপর আমলকারী সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। দেখো, এই উপদ্বীপের অবস্থা তোমাদের চোখের সামনে রয়েছে, এখান থেকে ওখান পর্যন্ত এই পবিত্র কালেমা ছড়িয়ে পড়েছে। একথাও বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা শয়তানদের পলায়নকে বুঝানো হয়েছে। একথাও সঠিকই বটে যে, আল্লাহ তাআলার যিকর হতে, আযান হতে এবং কুরআন পাঠ হতে শয়তান পলায়ন করে থাকে। কিন্তু এই আয়াতের এই তাফসীর করা গারাবাত বা দুর্বলতা মুক্ত নয়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।