আল কুরআন


সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 40)

সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 40)



হরকত ছাড়া:

أفأصفاكم ربكم بالبنين واتخذ من الملائكة إناثا إنكم لتقولون قولا عظيما ﴿٤٠﴾




হরকত সহ:

اَفَاَصْفٰىکُمْ رَبُّکُمْ بِالْبَنِیْنَ وَ اتَّخَذَ مِنَ الْمَلٰٓئِکَۃِ اِنَاثًا ؕ اِنَّکُمْ لَتَقُوْلُوْنَ قَوْلًا عَظِیْمًا ﴿۴۰﴾




উচ্চারণ: আফাআসফা-কুম রাব্বুকুম বিলবানীনা ওয়াত্তাখাযা মিনাল মালাইকাতি ইনা-ছান ইন্নাকুম লাতাকূলূনা কাওলান ‘আজীমা-।




আল বায়ান: তোমাদের রব কি পুত্র সন্তানের জন্য তোমাদেরকে বাছাই করেছেন এবং তিনি ফেরেশতাদের থেকে কন্যা গ্রহণ করেছেন? নিশ্চয় তোমরা সাংঘাতিক কথা বলে থাক।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪০. তোমাদের রব কি তোমাদেরকে পুত্র সন্তানের জন্য নির্বাচিত করেছেন এবং তিনি নিজে কি ফিরিশতাদেরকে কন্যারুপে গ্রহন করেছেন? তমরা তো নিশ্চয় ভয়ানক কথা বলে থাক।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাহলে কি (হে কাফিরগণ!) তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালক সন্তান নির্বাচিত করেছেন, আর নিজের জন্য ফেরেশতাদের মধ্য হতে কন্যা গ্রহণ করেছেন? বাস্তবিকই তোমরা বড় ভয়ানক কথা বলছো।




আহসানুল বায়ান: (৪০) তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদেরকে পুত্র সন্তানের জন্য নির্বাচিত করেছেন এবং তিনি নিজে ফিরিশতাদেরকে কন্যারূপে গ্রহণ করেছেন? তোমরা তো নিশ্চয়ই বিরাট কথা বলে থাকো।



মুজিবুর রহমান: তোমাদের রাব্ব কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি নিজে (ফেরেশতাদের) কন্যা রূপে গ্রহণ করেছেন? তোমরাতো নিশ্চয়ই ভয়ানক কথা বলে থাক।



ফযলুর রহমান: তোমাদের প্রভু কি পুত্র গ্রহণের জন্য তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং তিনি নিজে ফেরেশতাদের মধ্য থেকে কন্যা গ্রহণ করেছেন? নিশ্চয়ই তোমরা একটা গুরুতর কথা বলছ।



মুহিউদ্দিন খান: তোমাদের পালনকর্তা কি তোমাদের জন্যে পুত্র সন্তান নির্ধারিত করেছেন এবং নিজের জন্যে ফেরেশতাদেরকে কন্যারূপে গ্রহণ করেছেন? নিশ্চয় তোমরা গুরুতর গর্হিত কথাবার্তা বলছ।



জহুরুল হক: তবে কি তোমাদের প্রভু তোমাদেরে ভূষিত করেছেন পুত্রসন্তানদের দিয়ে, এবং তিনি নিয়েছেন ফিরিশ্‌তাদের থেকে কন্যাসব? নিঃসন্দেহ তোমরা তো বলছ এক ভয়ানক কথা!



Sahih International: Then, has your Lord chosen you for [having] sons and taken from among the angels daughters? Indeed, you say a grave saying.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪০. তোমাদের রব কি তোমাদেরকে পুত্র সন্তানের জন্য নির্বাচিত করেছেন এবং তিনি নিজে কি ফিরিশতাদেরকে কন্যারুপে গ্রহন করেছেন? তমরা তো নিশ্চয় ভয়ানক কথা বলে থাক।(১)


তাফসীর:

১. এ আয়াতের সমার্থে আরো আয়াত পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এসেছে। যেমন, সূরা মারইয়ামঃ ৮৮–৯৫] এ আয়াতে কাফের মুশরিকদের মারাত্মক ভুল ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা সাব্যস্ত করেছে, এতে করে তারা তিনটি ভুল করেছে। এক. আল্লাহর বান্দাদেরকে মেয়ে বানিয়ে নিয়েছে। দুই. তাদেরকে আল্লাহর মেয়ে হওয়ার দাবী করেছে। তিন. তারপর তাদের ইবাদতও করেছে। তাই আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াতে তাদের সমস্ত অযৌক্তিক ও মিথ্যা দাবী ও কর্মকাণ্ডকে খণ্ডন করে বলছেন, তোমরা কিভাবে এটা মনে করছ যে, যাবতীয় পুরুষ সন্তান তোমাদের জন্য রেখে তিনি তাঁর নিজের জন্য মেয়ে সন্তানগুলোকে নির্ধারণ করেছেন? তোমরা তো এক মারাত্মক কথা বলছি। নিজেদের জন্য অপছন্দ করে আল্লাহর জন্য তা সাব্যস্ত করা কি যুলুম নয়?


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪০) তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদেরকে পুত্র সন্তানের জন্য নির্বাচিত করেছেন এবং তিনি নিজে ফিরিশতাদেরকে কন্যারূপে গ্রহণ করেছেন? তোমরা তো নিশ্চয়ই বিরাট কথা বলে থাকো।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪০-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর:



যারা বলে ফেরেশতারা আল্লাহ তা‘আলার কন্যা সন্তান তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা কঠিন ধমক দিয়ে বলছেন: আমি কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান চয়ণ করে দিয়েছি আর নিজের জন্য কন্যা সন্তান বেছে নিয়েছি? কক্ষনো হতে পারে না, বরং এটা আল্লাহ তা‘আলার প্রতি বড় মিথ্যা অপবাদ। কারণ আল্লাহ তা‘আলা সন্তান গ্রহণ করার ইচ্ছা থাকলে যে কোন মাখলুক থেকে নিতে পারতেন যেমন সূরা যুমারের ৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে।



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنْثٰي -‏ تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيْزٰي)‏



“তবে কি তোমাদের জন্য পুত্র, আর তাঁর জন্য কন্যা সন্তান? এই প্রকার বন্টন তো অসঙ্গত। ” (সূরা নাজম ৫৩:২১-২২)



এ সম্পর্কে সূরা নাহল এর ৫৭-৫৯ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তিনি এ কুরআনে সকল প্রকার বিধি-বিধান, দৃষ্টান্ত, নসীহত বর্ণনা করেছেন। যাতে মানুষ বুঝতে ও উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু তারা কুফরী ও শির্কের মধ্যে এমনভাবে ডুবে আছে যে, তারা সত্যের নিকটবর্তী হওয়ার পরিবর্তে তা থেকে আরো দূরে সরে গেছে। যার ফলে এসমস্ত দৃষ্টান্ত তাদের অন্তরকে আল্লাহ তা‘আলার একত্ববাদের প্রতি উৎসাহিত করে না।



(قُلْ لَّوْ كَانَ مَعَه۫ٓ اٰلِهَةٌ.... )



এর অর্থ এমন যে, যদি একাধিক উপাস্য থাকত তাহলে একজন বাদশাহ যেমন অন্য বাদশার উপর বিজয়ী হওয়ার জন্য সৈন্যদল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে অনুরূপ দ্বিতীয় প্রভুও বিজয়ী হওয়ার জন্য আল্লাহ তা‘আলার বিরুদ্ধে পথ খুঁেজ বেড়াত। কিন্তু তা হয়নি। মুশরিকরা যার উপাসনা করে তারা যদি সত্যিই মা‘বূদ হত তাহলে তা-ই করত। এতে প্রমাণিত হয় যে, তাদের এ সমস্ত মা‘বূদ সকলই ভ্রান্ত। আর ইবাদত পাওয়ার একমাত্র হকদার আল্লাহ তা‘আলা। সুতরাং মুশরিকরা যা বলে থাকে তা থেকে আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র ও মহান।



যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(مَا اتَّخَذَ اللہُ مِنْ وَّلَدٍ وَّمَا کَانَ مَعَھ۫ مِنْ اِلٰھٍ اِذًا لَّذَھَبَ کُلُّ اِلٰھٍۭ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُھُمْ عَلٰی بَعْضٍﺚ سُبْحٰنَ اللہِ عَمَّا یَصِفُوْنَﮪﺫعٰلِمِ الْغَیْبِ وَالشَّھَادَةِ فَتَعٰلٰی عَمَّا یُشْرِکُوْنَﮫﺟ)‏



“আল্লাহ কোন সন্ত‎ান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অপর কোন ইলাহ্ নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক মা‘বূদ স্বীয় সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের উপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বলে তা হতে আল্লাহ পবিত্র! তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তারা যাকে তাঁর সাথে শরীক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে।” (সূরা মু’মিনুন ২৩:৯১-৯২)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(لَوْ كَانَ فِيْهِمَآ اٰلِهَةٌ إِلَّا اللّٰهُ لَفَسَدَتَا ج فَسُبْحَانَ اللّٰهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُوْنَ)



“যদি আল্লাহ ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে বহু ইলাহ্ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে তা হতে ‘আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র, মহান।” (সূরা আম্বিয়া ২১:২২)



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, সৃষ্টিকুলের সবকিছুই তার তাসবীহ পাঠ করে যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّا سَخَّرْنَا الْجِبَالَ مَعَه۫ يُسَبِّحْنَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِشْرَاقِ‏)‏



“আমি পাহাড়গুলোকে অনুগত করে দিয়েছিলাম, তার সাথে তারা সকাল-সন্ধ্যায় আমার তাসবীহ পাঠ করত।” (সূরা স্ব-দ ৩৮:১৮)



সুতরাং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব স্বীয় পদ্ধতিতে আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করে। বর্ণিত আছে, সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে খাবার খাওয়ার সময় খাবার থেকে তাসবীহ পড়ার ধ্বনি শুনেছেন। (সহীহ বুখারী হা: ৩৫৭৯)



অন্য বর্ণনায় এসেছে পিঁপড়াও আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করে। (সহীহ বুখারী হা: ৩০১৯)



অনুরূপ খেজুর গাছের যে গুড়িতে দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুৎবা দিতেন সে গুড়ির কান্নার আওয়াজ তিনি শুনতে পেয়েছেন। মক্কার একটি পাথর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম দিত যা সহীহ মুসলিমের ১৭৮২ নং হাদীসে রয়েছে। অতএব সব কিছু আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করে কিন্তু আমরা তাদের তাসবীহ বুঝতে পারি না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলা কোন সন্তান গ্রহণ করেন না।

২. কুরআনে প্রত্যেক জিনিসের বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

৩. আরশের অধিপতি একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই, অন্য কেউ নয়।

৪. জড় পদার্থও একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই তাসবীহ পাঠ করে।

৫. ফেরেশতারা আল্লাহ তা‘আলার কন্যা নয় বরং তারাও আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যশীল বান্দা।

৬. একাধিক প্রভু থাকলে আকাশ-জমিন ধ্বংস হয়ে যেত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: আল্লাহ তাআলা অভিশপ্ত মুশরিকদের কথা খণ্ডন করছেন। তিনি তাদেরকে সম্বোধন করে বলেছেনঃ এটা তোমরা খুব চমৎকার বন্টনই করলে যে, পুত্র তোমাদের আর কন্যা আল্লাহর! যাদেরকে তোমরা নিজেরা অপছন্দ কর, এমনকি জীবন্ত কবর দিতেও দ্বিধাবোধ কর না, তাদেরকেই আল্লাহর জন্যে স্থির করছো! অন্যান্য আয়াত সমূহেও তাদের এই ইতরামির বর্ণনা দেয়া হয়েছে যে, তারা বলেঃ আল্লাহর রহমানের সন্তান রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটা তাদের অত্যন্ত জঘন্য উক্তি। খুব সম্ভব, তাদের এই উক্তির কারণে আকাশ ফেটে পড়বে, যমিন ধ্বসে যাবে এবং পাহাড় পর্বত ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে যে, আল্লাহ রহমানের সন্তান রয়েছে। অথচ তিনি এর থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। এটা তার জন্যে মোটেই শোভনীয় নয়। যমিন ও আসমানের সমস্ত সৃষ্টজীব তারই দাস। সবই তাঁর গণনার মধ্যে রয়েছে। কিয়ামতের দিন এক এক করে সবকেই তাঁর সামনে পেশ করা হবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।