আল কুরআন


সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 42)

সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 42)



হরকত ছাড়া:

الذين صبروا وعلى ربهم يتوكلون ﴿٤٢﴾




হরকত সহ:

الَّذِیْنَ صَبَرُوْا وَ عَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَکَّلُوْنَ ﴿۴۲﴾




উচ্চারণ: আল্লাযীনা সাবারূওয়া‘আলা-রাব্বিহিম ইয়া তাওয়াক্কালূন।




আল বায়ান: যারা সবর করেছে এবং তাদের রবের উপরই তাওয়াক্কুল করেছে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪২. যারা ধৈর্য ধারণ করে ও তাদের রবের উপর নির্ভর করে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: (আখেরাতের ঐ পুরস্কার তাদের জন্য) যারা ধৈর্যধারণ করে আর তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে।




আহসানুল বায়ান: (৪২) যারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং নিজেদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে।



মুজিবুর রহমান: তারা ধৈর্য ধারণ করে এবং তাদের রবের উপর নির্ভর করে।



ফযলুর রহমান: (এরা তারাই) যারা ধৈর্যধারণ করেছে এবং তাদের প্রভুর ওপর ভরসা করে।



মুহিউদ্দিন খান: যারা দৃঢ়পদ রয়েছে এবং তাদের পালনকর্তার উপর ভরসা করেছে।



জহুরুল হক: যারা অধ্যবসায় করে এবং তাদের প্রভুর উপরে নির্ভর করে।



Sahih International: [They are] those who endured patiently and upon their Lord relied.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪২. যারা ধৈর্য ধারণ করে ও তাদের রবের উপর নির্ভর করে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪২) যারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং নিজেদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪১-৪২ নং আয়াতের তাফসীর:



হিজরত অর্থ হল আল্লাহ তা‘আলার দীনের জন্য, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজ মাতৃভূমি, স্ত্রী-পরিবার, সন্তান সন্ততি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ছেড়ে এমন স্থানে চলে যাওয়া, যেখানে সহজেই আল্লাহ তা‘আলার দীন পালন করা যাবে। এ আয়াতে সকল মুহাজিরদের মহত্ত্ব বর্ণিত হয়েছে। এ আয়াতটি সকল মুহাজিরদের জন্য প্রযোজ্য। আবার এটিও হতে পারে, মক্কায় যেসকল মুসলিমরা বাস করতেন তারা স্বজাতির অত্যাচার উৎপীড়ন সহ্য করতে না পেরে হাবশায় হিজরত করেন। তাদের সংখ্যা মহিলাসহ এক শত বা তার কিছু বেশি ছিল। তাদের মধ্যে উসমান (রাঃ) ও তাঁর স্ত্রী নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা রুকাইয়া -ও ছিলেন।



যারা আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি হাসিলের লক্ষ্যে দীন ইসলাম পালনের উদ্দেশ্যে স্বদেশ ত্যাগ করবে তাদের জন্য দুটি প্রতিদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে (এক) দুনিয়াতে তাদেরকে রিযিক বৃদ্ধি ও সুন্দরভাবে জীবন যাপন করার সুযোগ করে দেবেন। (দুই) আখিরাতে তাদের জন্য যে প্রতিদান প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে তা আরো মহান।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(اَلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَهٰجَرُوْا وَجٰهَدُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ لا أَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللّٰهِ ط وَأُولٰ۬ئِكَ هُمُ الْفَا۬ئِزُوْنَ)‏



“যারা ঈমান আনে, হিজরত করে এবং নিজেদের সম্পদ ও নিজেদের জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা আল্লাহর নিকট মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ, আর তারাই সফলকাম।” (সূরা তাওবা ৯:২০)



সুতরাং যারা দীনের পথে চলতে গিয়ে ধৈর্য ধারণ করবে অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার আদেশ পালন, নিষেধ বর্জন ও তাকদীরের ভাল-মন্দের প্রতি ধৈর্য ধারণ করবে এবং সকল বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করবে তারাও উপরোক্ত প্রতিদানের অধিকারী হবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে উক্ত গুণাবলীর অধিকারী হওয়ার তাওফীক দান করুন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. হিজরতের সংজ্ঞা জানলাম।

২. যারা দীন রক্ষার্থে আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য হিজরত করবে তাদের প্রতিদান উভয় জগতেই রয়েছে।

৩. দীনের পথে ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর ওপর ভরসা করা মু’মিনদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪১-৪২ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা এখানে তাঁর পথে হিজরতকারীদর পুরস্কার সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মাতৃভূমি ছেড়ে, বন্ধু-বান্ধব ছেড়ে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে তাঁর পথে হিজরত করে, তাদের প্রতিদান হিসেবে ইহকালে ও পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে তাঁর পক্ষ থেকে মহা মর্যাদা ও সম্মান। খুব সম্ভব এই আয়াত দু'টি আবিসিনিয়ার হিজরতকারীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তাঁরা মক্কায় মুশরিকদের কঠিন উৎপীড়ন সহ্য করার পর আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন, যেন স্বাধীনভাবে আল্লাহর দ্বীনের উপর আমল করে যেতে পারেন। তাদের মধ্যে গণ্যমান্য লোকগণ হচ্ছেনঃ ১. হযরত উসামন ইবনু আফফান (রাঃ), ২. তার সাথে তাঁর স্ত্রী হযরত রুকিয়াহও (রাঃ) -ছিলেন যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহর (সঃ) কন্যা, ৩. হযরত জাফর ইবনু আবি তালিব (রাঃ) -যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহর (সঃ) চাচাতো ভাই এবং ৪.হযরত আবু সালমা ইবনু আবদিল আসাদ (রাঃ) প্রভৃতি। তাঁরা সংখ্যায় প্রায় ৮০ জন ছিলেন। তাঁরা সবাই ছিলেন চরম সত্যবাদী ও চরম সত্যবাদীনী। আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন এবং তাদেরকেও সন্তুষ্ট রাখুন।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা এইসব সত্যের সাধকদের সাথে ওয়াদা করছেন যে, তিনি তাঁদেরকে উত্তম জায়গা দান করবেন, যেমন মদীনা। আর তারা পবিত্র জীবিকা এবং দেশও বিনিময় হিসেবে প্রাপ্ত হবেন। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, যারা আল্লাহর ভয়ে যে জিনিস ছেড়ে যান, আল্লাহ তাদেরকে সেই জিনিস বা তার চেয়ে উত্তম জিনিস দান করে থাকেন। এই দরিদ্র মুহাজিরদের প্রতি লক্ষ্য করলেই দেখা যায় যে, মহান আল্লাহ তাদেরকে হাকিম ও বাদশাহ বানিয়ে দিয়েছিলেন এবং দুনিয়ায় তাঁদের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। এখনও আখেরাতের প্রতিদান ও পুরস্কার তো বাকী আছেই। সুতরাং যারা হিজরত থেকে সরে থাকে তারা যদি মুহাজিরদের পুরস্কার ও প্রতিদান সম্পর্কে অবহিত থাকতো তবে অবশ্যই তারা হিজরতের ব্যাপারে অগ্রগামী হতো।

আল্লাহ তাআলা হযরত উমার ফারুকের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন। তিনি যখন কোন মুহাজিরকে তাঁর গণীমত ইত্যাদির অংশ প্রদান করতেন তখন বলতেনঃ “গ্রহণ করুন! আল্লাহ আপনার এই মালে বরকত দিন! এটা তো আল্লাহ তাআলার দুনিয়ার অঙ্গীকার। পরকালের বিরাট প্রতিদান এখনো বাকী রয়েছে।” অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করেন। এই পবিত্র লোকদের আরো গুণাবলী বর্ণনা করা হচ্ছে যে, আল্লাহর পথে যে সব কষ্ট তাদের প্রতি আপতিত হয়েছে তা তারা সহ্য করেছেন আর তারা ভরসা করেছেন আল্লাহর উপর। এ কারণেই দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ। তাঁরা দু’হাতে লুটে নিয়েছেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।