সূরা আল-হিজর (আয়াত: 9)
হরকত ছাড়া:
إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون ﴿٩﴾
হরকত সহ:
اِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّکْرَ وَ اِنَّا لَهٗ لَحٰفِظُوْنَ ﴿۹﴾
উচ্চারণ: ইন্না-নাহনুনাযযালনাযযি করা ওয়া ইন্না-লাহূলাহা-ফিজূ ন।
আল বায়ান: নিশ্চয় আমি কুরআন* নাযিল করেছি, আর আমিই তার হেফাযতকারী।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯. নিশ্চয় আমরাই কুরআন নাযিল করেছি এবং আমরা অবশ্যই তার সংরক্ষক।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: নিশ্চয় আমিই কুরআন নাযিল করেছি আর অবশ্যই আমি তার সংরক্ষক।
আহসানুল বায়ান: (৯) নিশ্চয় আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই ওর সংরক্ষক।[1]
মুজিবুর রহমান: আমিই জিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই উহার সংরক্ষক।
ফযলুর রহমান: আমিই কোরআন নাযিল করেছি এবং অবশ্যই আমি তা সংরক্ষণ করব।
মুহিউদ্দিন খান: আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ আমরা নিজেই স্মারকগ্রন্থ অবতারণ করেছি, আর আমরাই তো এর সংরক্ষণকারী।
Sahih International: Indeed, it is We who sent down the Qur'an and indeed, We will be its guardian.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৯. নিশ্চয় আমরাই কুরআন নাযিল করেছি এবং আমরা অবশ্যই তার সংরক্ষক।(১)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ এই বাণী, যার বাহক সম্পর্কে তোমরা খারাপ মন্তব্য করছ, আল্লাহ নিজেই তা অবতীর্ণ করেছেন। তিনি একে কোন প্রকার বাড়তি বা কমতি, পরিবর্তন বা পরিবর্ধন হওয়া থেকে হেফাযত করবেন। অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন, “বাতিল এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না—সামনে থেকেও না, পিছন থেকেও না। এটা প্রজ্ঞাময়, স্বপ্রশংসিতের কাছ থেকে নাযিলকৃত।” [সূরা ফুসসিলাত: ৪২] আরও বলেছেন, “নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করাবার দায়িত্ব আমাদেরই। কাজেই যখন আমরা তা পাঠ করি আপনি সে পাঠের অনুসরণ করুন, তারপর তার বর্ণনার দায়িত্ব নিশ্চিতভাবে আমাদেরই।” [সূরা আল-কিয়ামাহঃ ১৭–১৯]। সুতরাং একে বিকৃত বা এর মধ্যে পরিবর্তন সাধন করার সুযোগও তোমরা কেউ কোনদিন পাবে না। আল্লাহ্ তাআলা স্বয়ং এর হেফাযত করার কারণে শক্ররা হাজারো চেষ্টা সত্বেও এর মধ্যে কোন পরিবর্তন আনতে পারেনি।
রিসালাত আমলের পর আজ চৌদ্দশ’ বছর অতীত হয়ে গেছে। দ্বীনি ব্যাপারাদীতে মুসলিমদের ক্রটি ও অমনোযোগিতা সত্বেও কুরআনুল কারীম মুখস্ত করার ধারা বিশ্বের সর্বত্র পূর্ববৎ অব্যাহত রয়েছে। প্রতি যুগেই লাখো লাখো বরং কোটি কোটি মুসলিম যুবক-বৃদ্ধ এবং বালক ও বালিকা এমন বিদ্যমান থাকা, যাদের বক্ষ-পাজরে আগাগোড়া কুরআন সংরক্ষিত রয়েছে। কোন বড় থেকে বড় আলেমের সাধ্য নেই যে, এক অক্ষর ভুল পাঠ করে। তৎক্ষনাৎ বালক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে অনেক লোক তার ভুল ধরে ফেলবে।
প্রখ্যাত আলেম সুফিয়ান ইবন ওয়াইনা এর কারণ বর্ণনা করে বলেন, কুরআনুল কারীম যেখানে তাওরাত ও ইঞ্জলের আলোচনা করেছে, সেখানে বলেছেঃ (بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ) [সূরা আল-মায়েদাঃ ৪৪] অর্থাৎ ইয়াহুদী ও নাসারাদেরকে আল্লাহর গ্রন্থ তাওরাত ও ইঞ্জলের হেফাযতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এ কারণেই যখন ইয়াহুদী ও নাসারাগণ হেফাযতের কর্তব্য পালন করেনি, তখন এ গ্রন্থদ্বয় বিকৃত ও পরিবর্তিত হয়ে বিনষ্ট হয়ে গেল। পক্ষান্তরে কুরআনুল কারীম সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ (وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ) অর্থাৎ “আমিই এর সংরক্ষক” [সূরা আল-হিজরঃ ৯]। সুতরাং এটি কখনও অসংরক্ষিত হওয়ার সুযোগ নেই। কুরতুবী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৯) নিশ্চয় আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই ওর সংরক্ষক।[1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ কুরআনে অবৈধ হস্তক্ষেপ, বিকৃতি সাধন ও পরিবর্তন-পরিবর্ধন হতে রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। অতএব কুরআন সেইভাবেই আজও সুরক্ষিত আছে, যেভাবে তা অবতীর্ণ হয়েছিল। ভ্রষ্ট ফির্কাগুলো নিজ নিজ আকীদার সর্মথনে কুরআনের আয়াতের আর্থিক বিকৃতি ঘটিয়েছে এবং আজও ঘটাচ্ছে। তবে শাব্দিক বিকৃতি ও পরিবর্তন হতে তা এখনও সুরক্ষিত। এ ছাড়াও সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত একটি দল আর্থিক বিকৃতির পর্দা ছিঁড়ে ফেলার জন্য সর্বকালেই বিদ্যমান, যারা তাদের আকীদার ও তাদের ভুল দলীল-প্রমাণাদির অসারতা প্রমাণ করেছেন এবং আজও তাঁরা সেই কাজে সচেষ্ট। তাছাড়া কুরআনকে এখানে যিকর (উপদেশ) বলে ব্যক্ত করা হয়েছে, যাতে বুঝা যায় যে, নবী (সাঃ)-এর স্বর্ণোজ্জ্বল জীবনাদর্শ ও তাঁর অমিয় বাণীকে সুরক্ষিত করে কুরআন কারীমের বিশ্ববাসীর জন্য উপদেশ হওয়ার দিকটাকে কিয়ামত পর্যন্ত সুরক্ষিত করা হয়েছে। অতএব কুরআন কারীম ও নবী (সাঃ)-এর জীবনাদর্শ দ্বারা বিশ্ববাসীকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার পথ সর্বকালের জন্য খোলা রয়েছে। উক্ত মর্যাদা ও সুরক্ষার বৈশিষ্ট্য পূর্বের কোন নবী বা কিতাবকে দেওয়া হয়নি।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬-৯ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা এখানে কাফির মুশকিরদের কুফরী, অবাধ্যতা, ঔদ্ধত্যপনা, অহংকার এবং হঠকারীতার সংবাদ দিচ্ছেন যে, তারা বিদ্রƒপ করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতো: এই সে মুহাম্মাদ! যার ওপর কুরআন নাযিল হওয়ার কথা দাবী করে, আমরা তাকে পাগল মনে করি।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(قَالَ إِنَّ رَسُوْلَكُمُ الَّذِيْ أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُوْنٌ)
“ফির‘আউন বলল: ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রাসূল নিশ্চয়ই পাগল।’’ (সূরা শু‘আরা ২৬:২৭)
সুতরাং এ পাগলের কথায় আমাদের বাপ-দাদার ধর্ম বর্জন করব না। তুমি যদি সত্যিকার রাসূল হও তাহলে ফেরেশতা নিয়ে আসো না কেন? তারা এসে আমাদের কাছে তোমার সত্যবাদিতার বর্ণনা দেবে। যেমন ফির‘আউন বলেছিল:
(فَلَوْلَآ أُلْقِيَ عَلَيْهِ أَسْوِرَةٌ مِّنْ ذَهَبٍ أَوْ جَا۬ءَ مَعَهُ الْمَلٰٓئِكَةُ مُقْتَرِنِيْنَ )
“(তিনি যদি নাবী হতেন তবে) মূসাকে কেন দেয়া হল না স্বর্ণবালা অথবা তার সাথে কেন আসল না ফেরেশতারা দলবদ্ধভাবে।” (সূরা যুখরুফ ৪৩:৫৩)
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَقَالَ الَّذِيْنَ لَا يَرْجُوْنَ لِقَا۬ءَنَا لَوْلَآ أُنْزِلَ عَلَيْنَا الْمَلٰ۬ئِكَةُ أَوْ نَرٰي رَبَّنَا ط لَقَدِ اسْتَكْبَرُوْا فِيْٓ أَنْفُسِهِمْ وَعَتَوْا عُتُوًّا كَبِيْرًا)
“যারা আমার সাক্ষাৎ কামনা করে না তারা বলে: ‘আমাদের নিকট ফেরেশ্তা অবতীর্ণ করা হয় না কেন? অথবা আমরা আমাদের প্রতিপালককে প্রত্যক্ষ করি না কেন?’ তারা তো তাদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে এবং তারা সীমালংঘন করেছে গুরুতরভাবে।” (সূরা ফুরকান ২৫:২১)
তাদের কথার প্রত্যুত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَا صَاحِبُكُمْ بِمَجْنُوْنٍ)
“এবং তোমাদের সাথী (মুহাম্মদ) পাগল নয়।” (সূরা আত-তাকবীর ৮১:২২)
আর আমি যথাযথ কারণ ছাড়া ফেরেশতা প্রেরণ করি না। অর্থাৎ যখন আমার ইচ্ছা ও হিকমত অনুযায়ী কোন জাতির ওপর আযাব পাঠানোর প্রয়োজন হয় তখন আমি ফেরেশতা প্রেরণ করি। যেদিন তারা ফেরেশতাদেরকে প্রত্যক্ষ করবে সেদিন তাদের জন্য কোন কল্যাণ থাকবে না।
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(وَقَالُوْا لَوْلَآ أُنْزِلَ عَلَيْهِ مَلَكٌ ط وَلَوْ أَنْزَلْنَا مَلَكًا لَّقُضِيَ الْأَمْرُ ثُمَّ لَا يُنْظَرُوْنَ)
“তারা বলে, ‘তার নিকট কোন ফেরেশতা কেন প্রেরিত হয় না? যদি আমি ফেরেশতা প্রেরণ করতাম তা হলে চূড়ান্ত ফায়সালাই হয়ে যেত আর তাদেরকে কোন (তাওবার) অবকাশ দেয়া হত না।” (সূরা আন‘আম ৬:৮)
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(يَوْمَ يَرَوْنَ الْمَلٰٓئِكَةَ لَا بُشْرٰي يَوْمَئِذٍ لِّلْمُجْرِمِيْن)
“যেদিন তারা ফেরেশতাদেরকে প্রত্যক্ষ করবে সেদিন অপরাধীদের জন্য সুসংবাদ থাকবে না।” (সূরা ফুরকান ২৫:২২)
অতএব তারা যতই ছলচাতুরী করে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার করতে ইচ্ছা করুক তাতে তারা পার পাবে না, তাদেরকে কুফর ও অবাধ্যতার কারণে পাকড়াও করা হবে।
الذِّكْرَ দ্বারা উদ্দেশ্য হল ওয়াহী, ওয়াহী মাতলূ (কুরআন)। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা কুরআন নাযিল করেছেন এবং তা সকল প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন, বিকৃতি সাধন তথা অবৈধ হস্তক্ষেপ থেকে সংরক্ষণ করবেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَاِنَّھ۫ لَکِتٰبٌ عَزِیْزٌﭸﺫ لَّا یَاْتِیْھِ الْبَاطِلُ مِنْۭ بَیْنِ یَدَیْھِ وَلَا مِنْ خَلْفِھ۪ﺚ تَنْزِیْلٌ مِّنْ حَکِیْمٍ حَمِیْدٍﭹ)
“এটা অবশ্যই এক মহিমাময় গ্রন্থ। কোন মিথ্যা এতে অনুপ্রবেশ করবে না অগ্র হতেও নয়, পশ্চাত হতেও নয়। এটা প্রজ্ঞাবান, প্রশংসনীয় আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।” (সূরা হা-মীম সাজদাহ ৪১:৪১-৪২)
সুতরাং যে সকল শিয়া ও ভ্রান্ত ফিরকার লোকেরা বলে থাকে কুরআন তার নাযিলকালের অবস্থার মত নেই, বিকৃত হয়েছে। কুরআন ছিল ৬০ পারা, আছে ৩০ পারা, বাকী ৩০ পারা কোথায় গেল? কিছু কিছু সুফীরাও এরূপ কথা বলে থাকে, তাদের এসব কথা ভিত্তিহীন। কারণ স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন।
আল্লাহ তা‘আলা যুগে যুগে অসংখ্য মুসলিম বিদ্বান প্রেরণ করেছেন যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসকে মুখস্ত, শিক্ষা ও প্রচার করে সংরক্ষণ করেছেন এবং যাতে ইসলাম ও মুসলিমদের শত্র“দের বানানো কোন কথা প্রবেশ না করতে পারে সে জন্য ছাত্রদেরকে সতর্ক করে গেছেন যে, অমুক এরূপ দোষে দুষ্ট তার হাদীস নেয়া যাবে না। তাই যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে হাদীস তৈরি করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল তারা চিহ্নিত, তাদের কোন কথা গ্রহণ করার পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেন:
(يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْآ إِنْ جَا۬ءَكُمْ فَاسِقٌۭ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوْا)
“ওহে যারা ঈমান এনেছ! যদি কোন ফাসিক লোক তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসে তাহলে এর সত্যতা যাচাই করে নাও।” (সূরা হুজুরাত ৪৯:৬)
কুরআন অক্ষরে অক্ষরে সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ তা‘আলা নিয়েছেন এবং হাদীসের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনের মতো অক্ষরে অক্ষরে সংরক্ষণের দায়িত্ব না নিলেও যুগে যুগে তার একনিষ্ঠ বান্দাদের মাধ্যমে তাকে এর শত্র“দের হাত থেকে হেফাযত করবেন এবং তার দ্বীনকে কালিমা মুক্ত করবেন, কাফির-বেঈমান ও মুশরিকরা তা ধ্বংস করার করার জন্য যতই চেষ্টা করুক না কেন। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে তাঁর মনোনীত দ্বীন পরিপূর্ণভাবে পালন করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কাফিররা অস্বীকার করত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পাগল বলে নবুওয়াতকে মানত না।
২. আল্লাহ তা‘আলা উপযুক্ত দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়াতে ফেরেশতা অবতীর্ণ করেন।
৩. শাস্তি আসার পর কেউ রেহাই পাবে না।
৪. প্রত্যেকের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ সময়ের পূর্বে কেউ মৃত্যুবরণ করবেনা এবং পরেও করবে না।
৫. কুরআন ও হাদীসে কেউ পরিবর্তন, বিকৃতি ও অসৎ উদ্দেশ্যে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৬-৯ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা এখানে কাফিরদের কুফরী, অবাধ্যতা, ঔদ্ধত্যপনা, অহংকার এবং হঠকারিতার সংবাদ দিচ্ছেন যে, তারা বিদ্রুপ করে রাসূলুল্লাহকে (সঃ) বলতোঃ ‘হে সেই ব্যক্তি যে তার উপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার দাবী করছে অর্থাৎ-হে মুহাম্মদ (সঃ)! আমরা তো দেখছি যে, তুমি একটা আস্ত পাগল, তাই তুমি আমাদেরকে তোমার অনুসরণ করার জন্যে আহ্বান করছে। এবং আমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছ যে, আমরা যেন আমাদের বাপদাদা ও পূর্ব পুরুষদের ধর্ম পরিত্যাগ করি। যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকো তবে আমাদের কাছে ফেরেস্তাদেরকে আনয়ন করছো না কেন? তাহলে তারা এসে আমাদের কাছে তোমার সত্যবাদিতার বর্ণনা দেবে?’ ফিরাউনও যেমন বলেছিলঃ (আরবি) অর্থাৎ “তার উপর সোনার কংকন কেন নিক্ষেপ করা হয়নি, অথবা ফেরেশতারা তার সাথে মিলিত হয়ে কেন আসেনি?” (৪৩:৫৩) অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “যারা আমার সাক্ষাৎ কামনা করে না তারা। বলেঃ “আমাদের নিকট ফেরেস্তা অবতীর্ণ করা হয় না কেন? অথবা আমরা আমাদের প্রতিপালককে প্রত্যক্ষ করি না কেন? তারা তাদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে এবং তারা সীমালংঘন করেছে গুরুতর রূপে।
যেদিন তারা ফেরেশতাদেরকে প্রত্যক্ষ করবে সেদিন অপরাধীদের জন্যে সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবেঃ “রক্ষা কর, রক্ষা কর।” অনুরূপ অত্র আয়াতে বলেনঃ “আমি ফেরেশতাদেরকে যথার্থ কারণ ব্যতীত প্রেরণ করি না; ফেরেস্তারা হাযির হলে তারা অবকাশ পাবে না।”
মহান আল্লাহ বলেনঃ “এই যিকর অর্থাৎ কুরআন কারীম আমি অবতীর্ণ করেছি, আর এর সংরক্ষণের দায়িত্বশীল আমিই। আমিই এটাকে সর্বক্ষণের জন্যে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হতে রক্ষা করবো। কেউ কেউ বলেন যে, এর। সর্বনামটি নবীর (সঃ) দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়েছে। অর্থাৎ কুরআন আল্লাহ কর্তৃকই অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং নবীর (সঃ) রক্ষক তিনিই। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ) আল্লাহ তোমাকে মানুষের উৎপীড়ন থেকে রক্ষা করবেন।” (৫:৬৭) তবে প্রথম অর্থটিই সঠিকতর। রচনা ভংগীও এটাকেই প্রাধান্য দেয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।