সূরা আল-হিজর (আয়াত: 83)
হরকত ছাড়া:
فأخذتهم الصيحة مصبحين ﴿٨٣﴾
হরকত সহ:
فَاَخَذَتْهُمُ الصَّیْحَۃُ مُصْبِحِیْنَ ﴿ۙ۸۳﴾
উচ্চারণ: ফাআখাযাতহুমুসসাইহাতুমুসবিহীন।
আল বায়ান: কিন্তু ভোরে বিকট আওয়াজ তাদেরকে পাকড়াও করল।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৩. অতঃপর ভোরে বিকট চীৎকার তাদের পাকড়াও করল।
তাইসীরুল ক্বুরআন: অতঃপর এক সকালে প্রচন্ড ধ্বনি তাদের উপর আঘাত হানল।
আহসানুল বায়ান: (৮৩) অতঃপর প্রভাতকালে বিকট আওয়াজ তাদেরকে পাকড়াও করল। [1]
মুজিবুর রহমান: অতঃপর প্রভাতকালে মহানাদ তাদেরকে আঘাত করল।
ফযলুর রহমান: তারপর এক সকালে প্রচণ্ড এক আওয়াজ তাদেরকে পাকড়াও (আঘাত) করল।
মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর এক প্রত্যুষে তাদের উপর একটা শব্দ এসে আঘাত করল।
জহুরুল হক: কিন্তু প্রচন্ড আওয়াজ তাদের পাকড়াও করল সকালবেলায়।
Sahih International: But the shriek seized them at early morning.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮৩. অতঃপর ভোরে বিকট চীৎকার তাদের পাকড়াও করল।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮৩) অতঃপর প্রভাতকালে বিকট আওয়াজ তাদেরকে পাকড়াও করল। [1]
তাফসীর:
[1] সালেহ (আঃ) বললেন যে, তোমাদের উপর তিনদিন পর আল্লাহর আযাব আসবে। সুতরাং চতুর্থ দিনে তাদের উপর এই আযাব এসে পড়ল।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮০-৮৪ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে সালেহ (عليه السلام)-এর সম্প্রদায় সামূদ জাতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। الْحِجْرِ হল হিজায ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী এলাকার একটি জনবসতি। সালেহ (عليه السلام)-এর জাতি এ এলাকায় বসবাস করত। একজন রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা মানে সকল রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। এ জন্য বলা হয়েছে, তারা রাসূলগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। সালেহ (عليه السلام) তাদের কাছে এমন মু‘জিযাহ নিয়ে এসেছিলেন যা দ্বারা তাঁর সত্যবাদিতা তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে যায়।
যেমন তাদের দাবীনুযায়ী আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে দশমাস গর্ভবতী একটি উষ্ট্রী দেয়া হয়েছিল যা কঠিন প্রস্তর খন্ড থেকে বের হয়ে আসে। আল্লাহ তা‘আলার এ নিদর্শনের জন্য তাদের ওপর কিছু বিধি-নিষেধ জারী করে দেয়া হয়েছিল যে, উষ্ট্রীর পানি পান করার দিন তারা ঘাটে আসতে পারবে না, ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে উষ্ট্রীর গায়ে হাত দিতে পারবে না ইত্যাদি। কিন্তু তারা সব বিধান লংঘন করে উষ্ট্রীকে হত্যা করার চন্ত্রান্ত করে অবশেষে পা কেটে হত্যা করে ফেলে। ফলে তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি নেমে আসে। ভীষণ ভূমিকম্প এবং ওপর থেকে বিকট ও ভয়াবহ এক গর্জন দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করা হয়। ফলে তারা সবাই যার যার স্থানে একযোগে অধোমুখী হয়ে ভূতলশায়ী হল (সূরা আ‘রাফ ৭:৭৮, হূদ ১১:৬৭-৬৮) এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হল এমনভাবে, যেন তারা কোনদিন সেখানে বসবাস করেনি। এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৭৩-৭৯ নং আয়াতের আলোচনা করা হয়েছে। اٰمِنِيْنَ অর্থাৎ নির্ভয়ে পাহাড় কেটে কেটে প্রাসাদ নির্মাণ করত। নবম হিজরীতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাবূক যুদ্ধে যান তখন তাদের এ এলাকা দিয়ে পার হওয়ার সময় মাথায় কাপড় জড়িয়ে নিলেন, নিজের সওয়ারীর গতি বাড়িয়ে দিলেন এবং সাহাবীদেরকে বললেন: তোমরা কান্নারত অবস্থায় ও আল্লাহ তা‘আলার আযাবকে স্মরণ করে এ এলাকা অতিক্রম কর। (সহীহ বুখারী হা: ৪৩৩, সহীহ মুসলিম হা: ২২৮৫)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. প্রত্যেক জাতির অধিকাংশ লোকেরা নাবীদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল।
২. কোন ধ্বংসাবশেষপূর্ণ এলাকা দিয়ে অতিক্রমকালে আযাবের কথা স্মরণ করে ক্রন্দনরত অবস্থায় অতিক্রম করতে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮০-৮৪ নং আয়াতের তাফসীর
“আসহাবুল হি’ দ্বারা সামূদ সম্প্রদায়কে বুঝানো হয়েছে। যারা তাদের নবী হযরত সালেহকে (আঃ) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। এটা স্পষ্ট কথা যে, একজন নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারীরা যেন সমস্ত নবীকেই মিথ্যা প্রতিপন্নকারী। এ জন্যেই বলা হয়েছে, তারা রাসূলদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল। তাদের কাছে এমন মু'জিযা' এসে পড়ে যার দ্বারা হযরত সা'লেহের (আঃ) সত্যবাদিতা তাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। যেমন একটি কঠিন পাথরের পাহাড়ের মধ্য থেকে একটি উষ্ট্ৰী বের হওয়া, যা তাদের শহরে বিচরণ করতো। একদিন ওটা পানি পান করতো, আর পরের দিন ঐ শহরবাসীদের জন্তুগুলি পানি পান করতো। তথাপি ঐ লোকগুলি বাঁকা পথেই চলতে থাকে, এমনকি তারা ঐ উষ্ট্ৰীটিকে হত্যা করে ফেলে। ঐ সময় হযরত সালেহ (আঃ) তাদেরকে বলেনঃ “জেনে রেখো যে, তিন দিনের মধ্যেই তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি নেমে আসবে। এটা সম্পূর্ণরূপে সত্য ও সঠিক। ওয়াদা।”ঐ লোকগুলি তখনও আল্লাহর প্রদর্শিত পথের উপর নিজেদের অন্ধত্বকেই প্রাধান্য দেয়। তারা শুধু মাত্র নিজেদের শক্তি ও বাহাদুরী প্রদর্শন এবং গর্ব ও অহংকারের বশবর্তী হয়েই পাহাড় কেটে কেটে তাদের গৃহ নির্মাণ। করেছিল, প্রয়োজনের তাগিদে নয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাবুকে যাওয়ার পথে। যখন ঐ লোকদের বাসভূমি অতিক্রম করেন তখন তিনি মাথায় কাপড় বেঁধে নেন এবং স্বীয় সওয়ারীকে দ্রুত বেগে চালিত করেন। আর স্বীয় সহচরদেরকে বলেনঃ “যাদের উপর আল্লাহর শাস্তি অবতীর্ণ হয়েছিল তাদের বস্তিগুলি ক্রন্দনরত অবস্থায় অতিক্রম করো। কান্না না আসলেও কান্নার ভান করো। না জানি হয়তো তোমরাও ঐ শাস্তির শিকারে পরিণত হয়ে যাও না কি।”
যা হোক, শেষ পর্যন্ত ঠিক চতুর্থ দিনের সকালে আল্লাহর শাস্তি ভীষণ শব্দের রূপ নিয়ে তাদের উপর এসে পড়লো। ঐ সময় তাদের উপার্জিত। ধন-সম্পদ তাদের কোনই কাজে আসে নাই। যে সব শস্যক্ষেত্র ও ফলমূলের রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে এবং ওগুলিকে বৃদ্ধিকরণের উদ্দেশ্যে ঐ উষ্ট্ৰীটির পানি পান অপছন্দ করতঃ ওকে তারা হত্যা করে ফেলে ছিল তা সেই দিন নিষ্ফল প্রমাণিত হয়ে যায় এবং মহামহিমান্বিত আল্লাহর নির্দেশ কার্যকরী হয়েই পড়ে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।