সূরা আল-হিজর (আয়াত: 78)
হরকত ছাড়া:
وإن كان أصحاب الأيكة لظالمين ﴿٧٨﴾
হরকত সহ:
وَ اِنْ کَانَ اَصْحٰبُ الْاَیْکَۃِ لَظٰلِمِیْنَ ﴿ۙ۷۸﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইন কা-না আছহা-বুল আইকাতি লাজা-লিমীন।
আল বায়ান: আর নিশ্চয় আইকার* অধিবাসীরা ছিল যালিম।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৮. আর আইকা'বাসীরা(১)ও তো ছিল সীমালংঘনকারী,
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর আয়কাহবাসীরাও অবশ্যই যালিম ছিল।
আহসানুল বায়ান: (৭৮) আর আয়কাবাসীরাও তো ছিল সীমালংঘনকারী। [1]
মুজিবুর রহমান: আর ‘আয়কা’বাসীরাওতো ছিল সীমা লংঘনকারী।
ফযলুর রহমান: আর আইকার অধিবাসীরা (শোয়াইবের সম্প্রদায়) অবশ্যই জালেম ছিল।
মুহিউদ্দিন খান: নিশ্চয় গহীন বনের অধিবাসীরা পাপী ছিল।
জহুরুল হক: আর আসহাবুল আইকাহ্ অবশ্যই ছিল অন্যায়াচারী।
Sahih International: And the companions of the thicket were [also] wrongdoers.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৮. আর আইকা’বাসীরা(১)ও তো ছিল সীমালংঘনকারী,
তাফসীর:
(১) আইকাবাসীগণ শু'আইব আলাইহিস সালামের উম্মত। তাদের প্রকৃত পরিচয় কি তা পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা আস-শু'আরাতে তাদের কর্মকাণ্ড ও তাদের উপর আপতিত আযাবের বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। [সূরা আস-শু'আরাঃ ১৭৬–১৯১]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৮) আর আয়কাবাসীরাও তো ছিল সীমালংঘনকারী। [1]
তাফসীর:
[1] أيكة ঘন গাছপালাকে বলা হয়। এ জনপদে ঘন গাছপালা ছিল বলে তার বাসিন্দাদেরকে আয়কাবাসী বলা হয়েছে। এ থেকে শুআইব (আঃ)-এর জাতিকে বুঝানো হয়েছে। তাঁর নবুঅতের সময়কাল লূত (আঃ)-এর পর এবং তাঁর এলাকা ছিল হিজায ও সিরিয়ার মাঝে লূত-সম্প্রদায়ের জনপদের সন্নিকটে; যাকে মাদয়্যান বলা হয়। এটি ছিল ইবরাহীমের পুত্রের বা পৌত্রের নাম, যাঁর নামে সেই এলাকার নামকরণ হয়। তাদের পাপ ছিল, তারা আল্লাহর সাথে শিরক করত, রাহাজানি তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। আর ওজনে কম দেওয়া ছিল তাদের মজ্জাগত ব্যাপার। মেঘের ছায়ারূপে তাদের উপর আযাব এলো। তারপর এক বিকট শব্দ ও ভূমিকম্প এসে তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিল।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭৮-৭৯ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতে ‘আইকা’ (الْأَيْكَةِ) জনপদ দ্বারা শুয়াইব (عليه السلام)-এর সম্প্রদায়কে বুঝানো হয়েছে। الْأَيْكَةِ শব্দের অর্থ ঘন গাছ-পালা। এটা বলার কারণ হল, এই অবাধ্য জাতি প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ট হয়ে নিজেদের বসতি ছেড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সেখানেই ধ্বংস করে দেন। এটাও বলা হয় যে, উক্ত জঙ্গলে ‘আইকা’ বলে একটা গাছকে তারা পূজা করত। যার আশপাশ জঙ্গল বেষ্টিত ছিল।
শু‘আইব (عليه السلام) লূত (عليه السلام)-এর পর নবুওয়াত পেয়েছিলেন। লূত (عليه السلام)-এর অবাধ্য জাতি ধ্বংসের অনতিকাল পরে তাঁকে নবুওয়াত দিয়ে মাদইয়ানবাসীদের হিদায়াতের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। মাদইয়ান হল লূত সাগরের নিকটবর্তী সিরিয়া ও হিজাযের সীমান্তবর্তী একটি জনপদের নাম। যা অদ্যাবধি পূর্ব জর্ডানের সামুদ্রিক বন্দর ‘মো‘আন’ (معان ) এর অদূরে বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলার গযবে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রধান ছয়টি প্রাচীন জাতির মধ্যে ৫ম জাতি হল ‘আহলে মাদইয়ান’। এটি ছিল ইবরাহীম (عليه السلام)-এর পৌত্রের নাম, যার নামে এ এলাকার নামকরণ করা হয়। তাদের পাপ ছিল তারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করত, রাহাজানি করত, লোকদেরকে ওজনে কম দিত এবং নিজেরা মানুষের নিকট থেকে নেয়ার সময় বেশি নিত। তাদের এই সীমালংঘনের কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছেন। এমনকি তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
(لَبِإِمَامٍ مُّبِيْنٍ)
প্রকাশ্য পথ বলতে জনসাধারণের জন্য রাস্তা, যে রাস্তা দিয়ে লোকজন দিবারাত্রি যাওয়া-আসা করে। উভয় শহর বলতে লূত সম্প্রদায়ের শহর ও শুআইব (عليه السلام)-এর জাতির বসতি মাদইয়ানকে বুঝানো হয়েছে। এ দু’ শহর পাশাপাশি অবস্থিত। এদের সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৮৫-৯৩ ও হূদের ৮৪-৯৫ নং আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. ওজনে কম-বেশি করা যাবে না।
২. নাবী-রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করা যাবে না।
৩. নাবী-রাসূলগণের দাওয়াতকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৮-৭৯ নং আয়াতের তাফসীর
“আসহাবে আয়কা’ দ্বারা হযরত শু’আইবের (আঃ) কওমকে বুঝানো হয়েছে। “আয়কা' বলা হয় গাছের ঝাড়কে। শিরক, ও কুফরী ছাড়াও তাদের অত্যাচারমূলক কাজ ছিল এই যে, তারা লুণ্ঠন করতো এবং মাপে ও ওজনে কম করতো। তাদের বস্তিটি হযরত লুতের (আঃ) কওমের বস্তির নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল। তাদের যুগটিও ছিল নূতীয়দের যুগের নিকটতম যুগ। তাঁদের দুষ্কর্ম এবং অবাধ্যতার কারণে তাদের উপরও আল্লাহর শাস্তি নেমে এসেছিল। এই উভয় বস্তিই লোক চলাচলের পথে অবস্থিত ছিল। হযরত শুআইব (আঃ) স্বীয় কওমকে ভয় প্রদর্শন করতে গিয়ে বলেছিলেনঃ “তের (আঃ) কওমের যুগ তো তোমাদের যুগ হতে বেশী দূরের যুগ নয়।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।