আল কুরআন


সূরা আল-হিজর (আয়াত: 52)

সূরা আল-হিজর (আয়াত: 52)



হরকত ছাড়া:

إذ دخلوا عليه فقالوا سلاما قال إنا منكم وجلون ﴿٥٢﴾




হরকত সহ:

اِذْ دَخَلُوْا عَلَیْهِ فَقَالُوْا سَلٰمًا ؕ قَالَ اِنَّا مِنْکُمْ وَجِلُوْنَ ﴿۵۲﴾




উচ্চারণ: ইয দাখালূ‘আলাইহি ফাকা-লূছালা-মান কা-লা ইন্না-মিনকুম ওয়াজিলূন।




আল বায়ান: যখন তারা তার নিকট প্রবেশ করল, অতঃপর বলল, ‘সালাম’। সে বলল, ‘আমরা নিশ্চয় তোমাদের ব্যাপারে শঙ্কিত’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫২. যখন তারা তার কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, সালাম, তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় আমরা তোমাদের ব্যাপারে শংকিত।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা যখন তার কাছে উপস্থিত হল তখন তারা বলল, ‘তোমার প্রতি সালাম।’ তখন সে বলল, ‘তোমাদের দেখে আমরা শংকিত।’




আহসানুল বায়ান: (৫২) যখন তারা (ফিরিশতারা) তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ‘সালাম’, তখন সে বলেছিল, ‘আমরা তোমাদের আগমনে ভীত-সন্ত্রস্ত।’ [1]



মুজিবুর রহমান: যখন তারা তার নিকট উপস্থিত হয়ে বললঃ ‘সালাম’ তখন সে বলেছিলঃ আমরা তোমাদের আগমনে আতংকিত।



ফযলুর রহমান: যখন তারা তার কাছে (বাড়িতে) প্রবেশ করে বলল, “সালাম”। সে বলল, “আমরা তো আপনাদেরকে দেখে ভয় পাচ্ছি।”



মুহিউদ্দিন খান: যখন তারা তাঁর গৃহে আগমন করল এবং বললঃ সালাম। তিনি বললেনঃ আমরা তোমাদের ব্যাপারে ভীত।



জহুরুল হক: যখন তারা তাঁর কাছে হাজির হল তখন তারা বললে -- "সালাম"। তিনি বললেন -- "আমরা অবশ্য তোমাদের সন্বন্ধে ভয় করছি।"



Sahih International: When they entered upon him and said, "Peace." [Abraham] said, "Indeed, we are fearful of you."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫২. যখন তারা তার কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, সালাম, তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় আমরা তোমাদের ব্যাপারে শংকিত।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫২) যখন তারা (ফিরিশতারা) তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ‘সালাম’, তখন সে বলেছিল, ‘আমরা তোমাদের আগমনে ভীত-সন্ত্রস্ত।’ [1]


তাফসীর:

[1] ইবরাহীম (আঃ) ফিরিশতাগণ থেকে এই জন্যই ভয় পেয়েছিলেন, যেহেতু তাঁরা তাঁর পেশকৃত বাছুরের ভুনা গোশত ভক্ষণ করেননি। যেমন সূরা হূদে (৬৯-৭০ আয়াতে) বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। এর থেকে এ কথা পরিষ্কার যে আল্লাহর সম্মানিত রসূলগণও গায়বের খবর জানতেন না। যদি নবীগণ গায়েব জানতেন তাহলে ইবরাহীম (আঃ) বুঝতে পারতেন যে, আগত অতিথিগণ ফিরিশতা, যাঁদের জন্য খাবার প্রস্তুত করার প্রয়োজন নেই। কারণ ফিরিশতাগণ মানুষের মত পানাহারের মুখাপেক্ষী নন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫১-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে ইবরাহীম (عليه السلام) কে সন্তানের সুসংবাদ ও লুত (عليه السلام)-এর অবাধ্য সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার জন্য যখন আকাশ থেকে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়েছিল সে প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।



আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইবরাহীম (عليه السلام)-এর কাছে আগত মেহমানদের ঘটনা উম্মাতকে জানিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ মেহমানগণ ছিলেন ফেরেশতা, যারা মানুষের রূপ ধারণ করে সালাম দিয়ে ইবরাহীম (عليه السلام)-এর কাছে উপস্থিত হয়েছিল। যেমন সূরা হুদের ৬৯-৭০ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। ইবরাহীম (عليه السلام) সালামের জবাব দিলেন, মেহমানদের সম্মান করে বসতে দিলেন। তারপর বাছুরের ভুনা গোশতসহ খাবার নিয়ে আসলেন। কিন্তু তারা খাচ্ছেন না; তাই তাঁর মনে ভয় সঞ্চার হল এবং বললেন: “আমি তো আপনাদেরকে ভয় করছি”। অতঃপর তারা ইবরাহীম (عليه السلام)-কে বলল: আপনি ভয় করবেন না, আমরা আপনাকে একজন জ্ঞানী পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি। তিনি হলেন ইসহাক (عليه السلام) (সূরা হূদ ১১:৭২), তখন ইবরাহীম (عليه السلام) নিজের ও স্ত্রীর বার্ধক্যকে সামনে রেখে স্বীয় বিস্ময় দূরীকরণার্থে এবং ওয়াদাকে দৃঢ় করানোর লক্ষ্যে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন: এ বার্ধক্য অবস্থায়ও কি আমার সন্তান জন্ম লাভ করবে? ফেরেশতারা উত্তরে দৃঢ়তার সাথে ওয়াদার পুনরাবৃত্তি করেন আর তাঁকে নিরাশ না হতে উপদেশ দেন। কারণ নিরাশ হওয়া পথভ্রষ্ট লোকদের কাজ। তখন তিনি নিজের মনের বিশ্বাসকে প্রকাশ করতঃ বলেন: আমি নিরাশ হইনি। বরং আমি বিশ্বাস রাখি যে, আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা ওর চেয়েও বড় কাজের ক্ষমতা রাখেন। এ কথা থেকে পরিস্কার হয়ে যায় যে, আল্লাহ তা‘আলার সম্মানিত রাসূলগণ গায়েব জানতেন না। যদি গায়েব জানতেন তাহলে তাদের সামনে খাবার তুলে ধরতেন না। কারণ ফেরেশতারা খাবার খায় না।



উল্লেখ্য যে, আয়াতে ইবরাহীম (عليه السلام) যে পুত্রের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে তিনি হলেন ইসহাক। ইসহাক (عليه السلام) ইবরাহীম (عليه السلام)-এর প্রথমা স্ত্রী সারাহ-এর গর্ভজাত একমাত্র পুত্র। তিনি ছিলেন ইসমাঈল (عليه السلام)-এর চৌদ্দ বছরের ছোট। এই সময় সারাহর বয়স ছিল ৯০ এবং ইবরাহীম বয়স ছিল ১০০। এ সম্পর্কে সূরা যারিয়াতের ২৪-৩০ নং আয়াতেও আলোচনা রয়েছে।



ইবরাহীম (عليه السلام) ফেরেশতা কর্তৃক পুত্র সন্তানের সুসংবাদ পাওয়ার পর তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে কী উদ্দেশ্যে আপনাদের আগমন? তারা উত্তরে বলল: আমরা লূতের কওমের বস্তি উলটিয়ে দেয়ার জন্য এসেছি। কিন্তু লুতের পরিবার ছাড়া। পরিবার বলতে যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে। এদের মাঝে লূত (عليه السلام)-এর স্ত্রী শামিল নয়। কারণ সে ঈমান আনেনি। যখন ফেরেশতারা তরুণ সুদর্শন যুবকের রূপ ধারণ করে লূত (عليه السلام)-এর নিকট আগমন করল তখন তিনি বললেন: আমরা তো আপনাদেরকে চিনতে পারছি না।



সূরা যারিআতের ২৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে তিনি প্রথমে সালাম দিলেন তারপর উক্ত কথা বললেন। ফেরেশতাগণ গুপ্ত রহস্য প্রকাশ করে দিয়ে বলেন: যা আপনার কওম অস্বীকার করছিল এবং যার আগমন সম্পর্কে তারা সন্দেহ করত আমরা সে বিষয় ও অকাট্য হুকুম নিয়ে আগমন করেছি। অর্থাৎ আমরা আল্লাহ তা‘আলার আযাব নিয়ে এসেছি। بِالْحَقِّ বলতে আযাবকে বুঝানো হয়েছে।



তারপর ফেরেশতারা লূত (عليه السلام) কে বলল: আপনি রাতের যে কোন সময় আপনার পরিবার তথা মু’মিনদের নিয়ে এখান থেকে চলে যাবেন। আপনি তাদের পেছনে পেছনে চলবেন যাতে কোন মু’মিন বাদ না থেকে যায়। তবে সাবধান, তাদেরকে ধ্বংস করার সময় হয়তো চিৎকার আওয়াজ শোনা যাবে তখন কোনক্রমেই যেন আপনাদের কেউ পেছনের দিকে না তাকায়, যদি তাকায় তাহলে তাকেও আযাব গ্রাস করে নেবে।



লূত (عليه السلام) কে ওয়াহী করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, সকাল হওয়ার পূর্বেই তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়া হবে অথবা دَابِرَ এর অর্থ হল; সর্বশেষ মানুষ, যে অবশিষ্ট থাকবে। অর্থাৎ তাকেও সকাল পর্যন্ত ধ্বংস করে দেয়া হবে।



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ ط أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيْبٍ)



“নিশ্চয়ই প্রভাত তাদের জন্য নির্ধারিত সময়। প্রভাত কি নিকটবর্তী নয়?” (সূরা হূদ ১১:৮১)



ফেরেশতারা লূত (عليه السلام)-এর বাড়িতে জাতির ধ্বংসের ফায়সালা করছে, আর ওদিক থেকে এলাকাবাসী খুব আনন্দের সাথে লূত (عليه السلام)-এর বাড়ির দিকে আগমন করছে। কারণ তাঁর বাড়িতে সুদর্শন কয়েকজন যুবক আগমন করেছে, তাদের সাথে সমকামিতা করবে। তারা লূত (عليه السلام)-এর কাছে দাবী করল, ঐ সব যুবকদেরকে তাদের হাতে তুলে দিতে যাতে তারা অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করতে পারে। লূত (عليه السلام) তাদেরকে বুঝাতে চেষ্টা করলেন যে, তারা আমার মেহমান, কী করে তাদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দিতে পারি? এটা তো আমার জন্য অপমান ও লজ্জাজনক বিষয়। লূত (عليه السلام)-এর এসব কথা শুনে তারা বলল: হে লূত! এ সকল অপরিচিত যুবকদের সাথে তোমার কী সম্পর্ক? তুমি কেন তাদের পক্ষ অবলম্বন করছ? আমরা কি তোমাকে অপরিচিতদের পক্ষ অবলম্বন করতে নিষেধ করিনি? অথবা তাদেরকে অতিথি হিসেবে বাড়িতে আশ্রয় দিতে নিষেধ করিনি? এ কথা যখন হচ্ছিল তখনও লূত (عليه السلام) জানতেন না যে, আগত যুবকরা আল্লাহ তা‘আলার প্রেরিত ফেরেশতা। তখন লূত (عليه السلام) তাদেরকে আরো বুঝিয়ে বললেন: একান্তই যদি তোমরা কিছু করতে চাও তাহলে আমার কন্যাগণ রয়েছে তাদেরকে বিয়ে করে তোমাদের চাহিদা পূর্ণ করে নাও।



এখানে কন্যা বলতে নিজ জাতির মহিলাদেরকে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে নাবীর জীবনের শপথ করছেন; এতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আরো ফযীলত ও মর্যাদা প্রকাশ পেয়েছে। তবে অন্য কারো জন্য আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্যের নামে শপথ করা বৈধ নয়। আল্লাহ তা‘আলা হচ্ছেন একচ্ছত্র অধিপতি, তিনি যার ইচ্ছা শপথ করতে পারেন। তাঁকে কেউ বাধা দেয়ার নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: যেরূপ নেশাগ্রস্থ ব্যক্তি নেশা করার ফলে জ্ঞানশূন্য হয়ে যায় এবং ভাল-মন্দ কিছু বুঝে না, অনুরূপ এরাও কুকর্মের নেশায় এমনভাবে বিভোর ছিল যে, লূত (عليه السلام)-এর এমন যুক্তিগ্রাহ্য ও নৈতিকতাপূর্ণ কথা তাদের বুঝে আসল না।



ইবনু আব্বস (রাঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘আলা তাঁর যতগুলো মাখলূক সৃষ্টি করেছেন তন্মধ্যে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান আর কাউকে করেননি। আল্লাহ তা‘আলা একমাত্র তাঁর জীবনেরই শপথ করেছেন অন্য কারো জীবনের শপথ করেননি। এসব আলোচনা সূরা হূদে বিস্তারিতভাবে করা হয়েছে।



এসব বুঝ দেয়ার পরেও যখন তারা অবাধ্য হল তখন সূর্য উদয়ের সাথে সাথে বিকট আওয়াজ আসল, কেউ বলেছেন এটা জিবরীল (عليه السلام)-এর আওয়াজ। তাদের জনপদকে উল্টিয়ে ওপর-নীচ করে দেয়া হয়েছে। বলা হয়, তাদের জনপদকে শুন্যে তোলা হয়, তারপর সেখান থেকে উল্টিয়ে পৃথিবীতে ফেলে দেয়া হয়। এভাবে ওপরকে নীচ আর নীচকে উপর করে ধ্বংস করে দেয়া হয়। এও বলা হয় যে, তাদের ঘরের ছাদসহ তাদেরকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়। তারপর তাদের ওপর এক বিশেষ ধরনের পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ হয়। এভাবে তাদেরকে তিন প্রকার আযাব দিয়ে পৃথিবীর মানুষের জন্য এক নিদর্শন বানিয়ে দেয়া হয়।



مُتَوَسِّمِيْنَ বলা হয় গভীরভাবে সমীক্ষা ও চিন্তা-ভাবনাকারীদেরকে। এদের জন্য এ ঘটনায় শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।



(لَبِسَبِيْلٍ مُّقِيْمٍ)



অর্থাৎ তাদের জনপদের ধ্বংসাবশেষ চলাচলের সাধারণ রাস্তার ধারে। লূত- সম্প্রদায়ের জনপদ মদীনা হতে সিরিয়া যাওয়ার পথে পড়ে। প্রত্যেক যাতায়াতকারীকে তাদের জনপদ দিয়ে যেতে হয়। তাদের মোট পাঁচটি জনবসতি ছিল, যথা- স্বা‘বাহ, সা‘ওয়াহ, আমুরাহ, দূমা ও সাদুম। সাদুম ছিল সবচেয়ে বড় এবং একেই রাজধানী বা সবগুলোর কেন্দ্রস্থল মনে করা হত। বলা হয় যে, জিবরীল (عليه السلام) নিজ বাহুতে ঐ সকল জনপদকে নিয়ে আকাশে চড়েন, এমনকি আসমানবাসীগণ তাদের কুকুর ও মোরগের আওয়াজ শুনতে পান। তারপর সে জনপদকে উল্টে দিয়ে নিক্ষেপ করা হয়।



প্রতত্নতাত্ত্বিক আবিস্কার ও খননকার্য থেকে এ তত্ত্ব বেরিয়ে এসেছে যে, এ শহরটি ইসরাঈল ও জর্ডানের সীমান্তবর্তী এলাকায় মৃত সাগরের তীরে অবস্থিত। ওল্ড টেস্টামেন্টে এ শহরের নাম সুডুম (ঝঙউঙগ) ।



এ সম্পর্কে আমরা সূরা হূদের ৬৯ নং আয়াত থেকে শুরু করে ৮৩ নং আয়াত পর্যন্ত আলোচনা করেছি।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ইবরাহীম (عليه السلام) একজন উত্তম মেজবান ছিলেন, অপরিচিত লোকদের সাথেও উত্তমভাবে মেহমানদারী করতেন।

২. কারো কাছে দেখা করার পূর্বে সালাম দেয়া উচিত যেমন ফেরেশতারা নাবীদের বাড়িতে আগমন করলে দিতেন।

৩. আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে বৃদ্ধ বয়সেও সন্তান দিতে পারেন, তাই সন্তানসহ যে কোন চাওয়া কেবল আল্লাহ তা‘আলার কাছেই চাইতে হবে।

৪. আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে নিরাশ হওয়া কবীরা গুনাহ ।

৫. পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম লূত (عليه السلام)-এর জাতি সমকামিতায় লিপ্ত হয়, ফলে তাদের ওপর যে মর্মাান্তিক শাস্তি নেমে আসে তা জানতে পারলাম।

৬. একজন মানুষ ভাল হলে তার পরিবারের সবাই ভাল নাও হতে পারে, যেমন লূত (عليه السلام) একজন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিন্তু তাঁর স্ত্রী ঈমান আনেনি।

৭. পূর্ববর্তী অবাধ্য জাতির বিবরণ তুলে ধরার কারণ হল যাতে তাদের থেকে আমরা শিক্ষা নিয়ে সতর্ক হই।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫১-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) বলছেনঃ “হে মুহাম্মদ (সঃ)! তুমি তাদেরকে ইবরাহীমের (আঃ) অতিথিদের সম্পর্কে খবর দিয়ে দাও।' (আরবি) শব্দটিকে একবচন ও বহুবচন উভয়ের উপরই প্রয়োগ করা হয়, যেমন (আরবি) ও (আরবি) শব্দদ্বয়। এই অতিথিগণ ছিলেন ফেরেস্তা, যারা মানুষের রূপধরে সালাম করতঃ হযরত ইব্রাহীমের (আঃ) নিকট হাযির হয়েছিলেন। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁদের জন্যে গো-বৎস যবাহ করেন এবং গোশত ভেজে তাঁদের সামনে পেশ করেন। কিন্তু যখন তিনি দেখেন যে, তাঁরা হাত বাড়াচ্ছেন না তখন তাঁর মনে ভয়ের সঞ্চার হয় এবং বলেনঃ “আমি তো আপনাদেরকে ভয় করছি।” ফেরেশতাগণ তখন তাঁকে নিরাপত্তা দান করে বলেনঃ “আপনার ভয়ের কোন কারণ নেই।” অতঃপর তারা তাকে হযরত ইসহাকের (আঃ) জন্ম লাভের শুভ সংবাদ দান করেন। যেমন সূরায়ে হুদে বর্ণিত হয়েছে। তখন তিনি তাঁর নিজের ও তাঁর স্ত্রীর বার্ধক্যকে সামনে রেখে স্বীয় বিস্ময় দূরীকরণার্থে এবং ওয়াদাকে দৃঢ় করানোর লক্ষ্যে তাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “এই (বার্ধক্যের) অবস্থায়ও কি আমার সন্তান জন্মগ্রহণ করবে।” ফেরেশতাগণ উত্তরে দৃঢ়তার সাথে ওয়াদার পুনরাবৃত্তি করেন আর তাঁকে নিরাশ না হওয়ার উপদেশ দেন। তখন তিনি নিজের মনের বিশ্বাসকে প্রকাশ করতঃ বলেনঃ “আমি নিরাশ হই নাই। বরং আমি বিশ্বাস রাখি যে, আমার প্রতিপালক আল্লাহ এর চেয়েও বড় কাজের ক্ষমতা রাখেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।