সূরা আল-হিজর (আয়াত: 17)
হরকত ছাড়া:
وحفظناها من كل شيطان رجيم ﴿١٧﴾
হরকত সহ:
وَ حَفِظْنٰهَا مِنْ کُلِّ شَیْطٰنٍ رَّجِیْمٍ ﴿ۙ۱۷﴾
উচ্চারণ: ওয়া হাফিজনা-হা-মিন কুল্লি শাইতা-নির রাজীম।
আল বায়ান: আর আমি তাকে সুরক্ষিত করেছি প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৭. এবং প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান হতে আমরা সেগুলোকে সুরক্ষিত করেছি;
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়ত্বান থেকে সেগুলোকে সুরক্ষিত করে দিয়েছি।
আহসানুল বায়ান: (১৭) প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান হতে আমি ওকে নিরাপদ রেখেছি। [1]
মুজিবুর রহমান: প্রত্যেক অভিশপ্ত শাইতান হতে আমি ওকে রক্ষা করি।
ফযলুর রহমান: আর প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে তাকে হেফাজত করেছি।
মুহিউদ্দিন খান: আমি আকাশকে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছি।
জহুরুল হক: আর আমরা তাকে রক্ষা করি প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তানের থেকে, --
Sahih International: And We have protected it from every devil expelled [from the mercy of Allah]
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৭. এবং প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান হতে আমরা সেগুলোকে সুরক্ষিত করেছি;
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৭) প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান হতে আমি ওকে নিরাপদ রেখেছি। [1]
তাফসীর:
[1] رجيم শব্দটি مرجوم এর অর্থে ব্যবহার হয়েছে। رجم (রজম) এর অর্থ পাথর ছুঁড়ে মারা। শয়তানকে ‘রাজীম’ এই জন্য বলা হয় যে, সে যখন আকাশের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তাকে আকাশ থেকে জ্বলন্ত শিখা (উল্কা) ছুঁড়ে মারা হয়। রাজীম অভিশপ্ত ও বিতাড়িত অর্থেও ব্যবহার হয়। কারণ যাকে পাথর ছুঁড়ে মারা হয় তাকে চতুর্দিক থেকে অভিসম্পাত করা হয়। এখানে মহান আল্লাহ এ কথাই বলেছেন যে, আমি আকাশকে প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান হতে রক্ষা করে থাকি ঐ সকল গ্রহ-নক্ষত্র দ্বারা, যা আঘাত হেনে শয়তানকে পালাতে বাধ্য করে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৬-২০ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, তিনি আকাশে বুরূজ সৃষ্টি করেছেন। যেমন অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(تَبَارَكَ الَّذِيْ جَعَلَ فِي السَّمَا۬ءِ بُرُوْجًا)
“বরকতময় তিনি যিনি নভোমণ্ডলে সৃষ্টি করেছেন তারকা-রাশিচক্র।” (সূরা ফুরকান ২৫:৬১)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(وَالسَّمَا۬ءِ ذَاتِ الْبُرُوْجِ)
“শপথ বুরূজ (তারকা-রাশিচক্র)-বিশিষ্ট আকাশের।” (সূরা বুরূজ ৮৫:১)
بُرُوْجً শব্দটি برج এর বহুবচন, অর্থ প্রকাশ হওয়া। এখান থেকে تبرج এর উৎপত্তি; যার অর্থ মহিলাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করা। এখানে বুরূজ দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা নিয়ে বিদ্বানদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন: আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রকে বুরূজ বলা হয়েছে, কারণ সেগুলো বড় উঁচুতে প্রকাশমান। কেউ বলেছেন: بُرُوْجً বলতে সূর্য, চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহের কক্ষপথসমূহকে বুঝানো হয়েছে যা তাদের জন্য নির্দিষ্ট। এ ছাড়াও অনেক মতামত রয়েছে, তবে আল্লামা সা‘দী (রহঃ) বলেছেন: উক্ত আয়াতে ‘বুরূজ’ দ্বারা উদ্দেশ্য তারকারাজী এবং বড় বড় নিদর্শনাবলী। যার দ্বারা মানুষ অন্ধকারে জলে-স্থলে পথের সন্ধান পায়। (তাফসীর সা‘দী, অত্র আয়াতের তাফসীর)
আর আল্লাহ তা‘আলা তারকারাজি দ্বারা আকাশকে সুশোভিত করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَا۬ءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيْحَ)
“আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করেছি প্রদীপমালা (তারকারাজী) দ্বারা।” (সূরা মুলক ৬৭:৫)
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَا۬ءَ الدُّنْيَا بِزِيْنَةِ نِالْكَوَاكِبِ)
“নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীর আকাশকে সুসজ্জিত করেছি নক্ষত্রমালার সৌন্দর্য দিয়ে।” (সূরা স্ব-ফ্ফত ৩৭:৬)
এ ছাড়াও আকাশে তারকা সৃষ্টি করার দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে একটি পরের আয়াতে বলা হয়েছে, তা হল যখন শয়তান কোন কথা চুরি করার জন্য আকাশে আসতে চায়, তখন তারকা উল্কাপিণ্ডস্বরূপ তাদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয়। যেমন ১৮ নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। আরেকটি হল সমুদ্রে পথ চলার নিদর্শনস্বরূপ। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَعَلٰمٰتٍ ط وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُوْنَ )
“এবং পথ নির্ণায়ক চিহ“সমূহও। আর তারা নক্ষত্রের সাহায্যেও পথের নির্দেশ পায়।” (সূরা নাহল ১৬:১৬)
সুতরাং, তারকার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা আকাশকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করেছেন। رَّجِيْمٍ শব্দটি رجوم ব্যবহার হয়েছে। رجم পাথর ছুঁড়ে মারা। অর্থাৎ যখনই শয়তান আকাশের কোন কথা শোনার জন্য যায় তখনই তাদের দিকে উল্কা ছুঁড়ে মারা হয়।
হাদীসে এসেছে যখন আল্লাহ তা‘আলা আকাশে কোন কিছুর ফায়সালা করেন, তখন তা শুনে ফেরেশতাগণ অক্ষমতা ও দুর্বলতা প্রকাশস্বরূপ ডানা নাড়াতে শুরু করে যেন কোন লোহার শিকল দ্বারা পাথরের উপর প্রহার করা হচ্ছে। অতঃপর যখন তাদের মন থেকে আল্লাহ তা‘আলার ভয় কিছুটা কমে আসে তখন তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করে তোমাদের প্রভু কী বলেছেন? তারা বলে: তিনি যা বলেছেন সত্য বলেছেন এবং তিনি সুমহান ও সুউচ্চ। তারপর সে ফায়সালার কথা ঊর্ধ্ব থেকে নিম্ন আসমান পর্যন্ত ফেরেশতাগণ পরস্পর শোনাশুনি করে। এ সময় শয়তানরাও তা শোনার জন্য চুপি চুপি গিয়ে কান পাতে এবং তারাও একে অপরের একটু দূরে থেকে তা শোনার চেষ্টা করে এবং কেউ কেউ একটু-আধটু শব্দ শুনে ফেলে ও পরে তা কোন গণকের কানে পৌঁছে দেয়। গণক সে কথার সাথে আরোও একশত মিথ্যা কথা মিলিয়ে মানুষের কাছে বর্ণনা করে। (সহীহ বুখারী, সূরা হিজর-এর তাফসীর)
তৎপরবর্তীতে আল্লাহ তা‘আলা জমিনের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তিনি তাকে বিস্তৃত করেছেন, সমতল করে দিয়েছেন, তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, যাতে জমিন নড়াচড়া না করতে পারে। (যেমন সূরা লুকমানের ১০ নং, সূরা নাহলের ১৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে)
مَّوْزُوْنٍ শব্দটি معلوم অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অথবা এর অর্থ পরিমিত বা প্রয়োজন মত। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা জমিন থেকে পরিমিতভাবে প্রত্যেক বস্তু উদ্গত করেন। আর আল্লাহ তা‘আলা এ জমিন থেকে আমাদেরকে রিযিক দান করেন এবং যে সমস্ত জীব-জন্তু ও দাস-দাসী দ্বারা আমরা উপকার হাসিল করি তাদের এবং যে সমস্ত চতুষ্পদ জন্তু আমরা বাহন হিসেবে ব্যবহার করি তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা রিযিক দান করেন। সমস্ত কিছুর রিযিক দাতা কেবল তিনিই। তিনি ব্যতীত দ্বিতীয় আর কেউ নেই।
সুতরাং যে আল্লাহ তা‘আলা এতসব নেয়ামত দান করেছেন সে আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করা উচিত এবং তাঁর দিকেই আমাদের অভিমুখী হওয়া উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আকাশকে নক্ষত্ররাজি দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে।
২. শয়তানরা যখন আকাশে আরোহন করে আল্লাহ তা‘আলার সিদ্ধান্তের কথা শুনতে যায় তখন তাদের দিকে উল্কা নিক্ষেপ করা হয়।
৩. আকাশকে বিতাড়িত শয়তান থেকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তারা আকাশে পৌঁছাতে পারে না।
৪. শয়তানরা সিদ্ধান্তের কোন কথা শোনার পর তা গণকের কানে এনে দেয়। যার ফলে গণকের কোন কোন কথা সত্য বলে প্রমাণিত হয়।
৫. রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
৬. আল্লাহ তা‘আলা জমিনে পাহাড় স্থাপন করেছেন জমিনকে স্থির রাখার জন্য।
৭. জমিন গুটানো অবস্থায় ছিল পরে আল্লাহ তা‘আলা তাকে বিস্তৃত করেছেন (যা বর্তমানে বিগব্যাঙ থিওরী বলে পরিচিত) ইত্যাদি।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৬-২০ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, এই উঁচু আকাশকে তিনিই সৃষ্টি করেছেন যা স্থিতিশীল রয়েছে এবং আবর্তনকারী নক্ষত্ররাজি দ্বারা সৌন্দর্যমণ্ডিত রয়েছে। যে কেউই এটাকে চিন্তা ও গবেষণার দৃষ্টিতে দেখবে সেই মহা শক্তিশালী আল্লাহর বহু বিস্ময়কর কাজ এবং শিক্ষণীয় বহু নিদর্শন দেখতে পাবে। বুরূজ’ দ্বারা এখানে নক্ষত্ররাজিকে বুঝানো হয়েছে। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “কত মহান তিনি যিনি নভোমণ্ডলে সৃষ্টি করেছেন তারকারাজি এবং তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ ও জ্যোতিময় চন্দ্র।” (২৫:৬৯) আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, এর দ্বারা সূর্য ও চন্দ্রের মযিলকে বুঝানো হয়েছে। আতিয়্যা’ (রঃ) বলেন, বুরূজ হচ্ছে ঐ স্থানসমূহ যেখানে প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে, যেখান থেকে দুষ্ট ও অবাধ্য শয়তানদেরকে প্রহার করা হয়, যাতে তারা ঊর্ধ্ব জগতের কোন কথা শুনতে না পারে। যে সামনে বেড়ে যায় তার দিকে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড বেগে ধাবিত হয়। কখনো তো নিম্নবর্তীর কানে ঐ কথা পৌছিয়ে দেয়ার পূর্বেই তাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। কোন কোন সময় এর বিপরীতও হয়ে থাকে। যেমন এই আয়াতের তাফসীরে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “যখন আল্লাহ তাআলা আকাশে কোন বিষয় সম্পর্কে ফায়সালা করেন তখন ফেরেশতামণ্ডলী অত্যন্ত বিনয়ের সাথে নিজেদের ডানা ঝুঁকাতে থাকেন, যেন তা পাথরের উপর যিঞ্জীর। অতঃপর যখন তাঁদের অন্তর প্রশান্ত হয়ে যায় তখন তারা (পরম্পর) বলাবলি করেনঃ “তোমাদের প্রতিপালক কি বলেছেন?” উত্তরে বলা হয়ঃ “তিনি যা বলেছেন সত্য বলেছেন এবং তিনি হচ্ছেন সর্বোচ্চ ও মহান।” ফেরেশতাদের কথাগুলি গুপ্তভাবে শুনবার উদ্দেশ্যে জ্বিনরা উপরে উঠে যায় এবং এইভাবে তারা একের উপর এক থাকে। হাদীস বর্ণনাকারী হযরত সাফওয়ান (রাঃ) তাঁর হাতের ইশারায় এইভাবে বলেন যে, ডান হাতের অঙ্গুলীগুলি প্রশস্ত করে একটিকে অপরটির উপর রেখে দেন। ঐ শ্রবণকারী জ্বিনটির কাজতো কখনো কখনো ঐ জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড খতম করে দেয় তার নীচের সঙ্গীর কানে সেই কথা পৌছানোর পূর্বেই। তৎক্ষণাৎ সে জুলে-পুড়ে যায়। আবার কোন কোন সময়। এমনও হয় যে, সে তার পরবর্তীকে এবং তার পরবর্তী তার পরবতীকে ক্রমান্বয়ে পৌঁছে থাকে এবং এইভাবে ঐ কথা যমীন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অতঃপর তা গণক ও যাদুকরদের কানে এসে পড়ে। তারপর তারা এর সাথে শতটা মিথ্যা কথা জুড়ে দিয়ে জনগণের মধ্যে প্রচার করে। যখন তাদের কারো দু'একটি কথা যা ঘটনাক্রমে আকাশ থেকে তার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, সঠিকরূপে প্রকাশিত হয় তখন লোকদের মধ্যে তার বুদ্ধি ও জ্ঞান গরিমার আলোচনা হতে থাকে। তারা বলাবলি করেঃ “দেখো, অমুক লোক অমুক দিন এই কথা বলেছিল, তা সম্পূর্ণ সঠিক ও সত্যরূপে প্রকাশিত হয়েছে।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) স্বীয় সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)
এরপর আল্লাহ তাআলা যমীনের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তিনিই ওকে সৃষ্টি করেছেন, সম্প্রসারিত করেছেন, ওতে পাহাড় পর্বত বানিয়েছেন, বন-জঙ্গল ও মাঠ-ময়দান প্রতিষ্ঠিত করেছেন, ক্ষেতখামার ও বাগ-বাগিচা তৈরী করেছেন। এবং সমস্ত বস্তুকে সুপরিমিত ভাবে সৃষ্টি করেছেন। এগুলো হচ্ছেহাট-বাজারের সৌন্দর্য এবং মানবমণ্ডলীর জন্যে সুদৃশ্য।
মহান আল্লাহ বলেনঃ “যমীনে আমি নানা প্রকারের জীবিকার ব্যবস্থা করেছি। আর আমি ঐ সবগুলোও সৃষ্টি করেছি যাদের জীবিকার ব্যবস্থা তোমরা কর না, বরং আমিই করি। অর্থাৎ চতুষ্পদ জন্তু, দাস দাসী ইত্যাদি। সুতরাং আমি বিভিন্ন প্রকারের জিনিস, নানা প্রকারের উপকরণ এবং হরেক রকমের শান্তি ও আরামের ব্যবস্থা তোমাদের জন্যে করেছি। আমি তোমাদেরকে আয় উপার্জনের পন্থা শিখিয়েছি। জন্তুগুলিকে আমি তোমাদের সেবায় নিয়োজিত রেখেছি। তোমরা ওগুলির গোশত ভক্ষণ করে থাকো এবং পিঠে সওয়ারও হয়ে থাকো। তোমাদের সুখ শান্তির প্রতি লক্ষ্য রেখে আমি তোমাদের জন্যে দাস দাসীরও ব্যবস্থা করেছি। এদের জীবিকার ভার কিন্তু তোমাদের উপর ন্যস্ত নেই। বরং তাদের রুজী দাতাও আমি। আমি বিশ্বজগতের সবারই আহার্যদাতা। তাহলে একটু চিন্তা করে দেখো তো, লাভ ও উপকার ভোগ করছো তোমরা, আর আহার্য দিচ্ছি আমি। অতএব, তিনি (আল্লাহ) কতই না মহান।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।