আল কুরআন


সূরা আল-হিজর (আয়াত: 14)

সূরা আল-হিজর (আয়াত: 14)



হরকত ছাড়া:

ولو فتحنا عليهم بابا من السماء فظلوا فيه يعرجون ﴿١٤﴾




হরকত সহ:

وَ لَوْ فَتَحْنَا عَلَیْهِمْ بَابًا مِّنَ السَّمَآءِ فَظَلُّوْا فِیْهِ یَعْرُجُوْنَ ﴿ۙ۱۴﴾




উচ্চারণ: ওয়া লাও ফাতাহনা-‘আলাইহিম বা-বাম মিনাছছামাই ফাজাললূফীহি ইয়া‘রুজুন।




আল বায়ান: আর যদি আমি তাদের জন্য আসমানের কোন দরজা খুলে দিতাম, অতঃপর তারা তাতে আরোহণ করতে থাকত ।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৪. আর যদি আমরা তাদের জন্য আকাশের দরজা খুলে দেই অতঃপর তারা তাতে আরোহন করতে থাকে,




তাইসীরুল ক্বুরআন: যদি তাদের জন্য আকাশের দরজা খুলে দেয়া হত, আর তারা তাতে উঠতে থাকত,




আহসানুল বায়ান: (১৪) যদি তাদের জন্য আমি আকাশের কোন দুয়ার খুলে দিই এবং তারা তাতে চড়তেও থাকে।



মুজিবুর রহমান: যদি তাদের জন্য আমি আকাশের দরযা খুলে দিই এবং তারা সারাদিন তাতে আরোহণ করতে থাকে ।



ফযলুর রহমান: আর আমি যদি ওদের জন্য আসমানের (ঊর্ধ্বলোকের) কোন দরজা খুলে দেই এবং ওরা তাতে (দিনভর) আরোহণ করতে থাকে (আর সেখানকার সবকিছু দেখে আসে)



মুহিউদ্দিন খান: যদি আমি ওদের সামনে আকাশের কোন দরজাও খুলে দেই আর তাতে ওরা দিনভর আরোহণ ও করতে থাকে।



জহুরুল হক: আর যদি আমরা তাদের জন্য মহাকাশের দরজা খুলে দিই আর তাতে তারা আরোহণ করতে থাকে --



Sahih International: And [even] if We opened to them a gate from the heaven and they continued therein to ascend,



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৪. আর যদি আমরা তাদের জন্য আকাশের দরজা খুলে দেই অতঃপর তারা তাতে আরোহন করতে থাকে,


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৪) যদি তাদের জন্য আমি আকাশের কোন দুয়ার খুলে দিই এবং তারা তাতে চড়তেও থাকে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০-১৫ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে মূলত দুটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে ১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে, ২. প্রত্যেক জাতির কাছে রাসূল প্রেরণ করা হয়েছিল এবং সে জাতির অবাধ্য লোকেরা রাসূলদের সাথে যে আচরণ করেছে তার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। মক্কার কাফির-মুশরিকরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, পাগল, কবি, জ্যোতিষী ও জিন আক্রান্ত ইত্যাদি বলে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করতে লাগল তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! মানুষ তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। কারণ, তোমার পূর্ববর্তী নাবীদেরকেও অনুরূপভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং তাদেরকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করেছিল।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(يَا حَسْرَةً عَلَي الْعِبَادِ ج مَا يَأْتِيْهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ إِلَّا كَانُوْا بِه۪ يَسْتَهْزِئُوْنَ)



“আফসোস বান্দাদের জন্য! তাদের কাছে কখনও এমন কোন রাসূল আসেনি, যাকে নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করেনি।” (সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩০)



شِيَعِ শব্দটি شيعة এর বহুবচন। অর্থ দল, গোত্র, জাতি ইত্যাদি।



نَسْلُكُ অর্থ বদ্ধমূল করে দেয়া। অর্থাৎ এভাবেই আল্লাহ তা‘আলা অপরাধীদের অন্তরে আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করা ও নাবীদের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা বদ্ধমূল করে দিয়েছেন। এটা তাদের কর্মের ফল, কারণ তাদের কাছে কোন নাবী হিদায়াতের বাণী নিয়ে আগমন করলে তা গ্রহণ করার পরিবর্তে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করত। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন: যেমন পূর্ববর্তী জাতির অন্তরে রাসূলদের সাথে বিদ্রƒপ করা ও তাদের নিয়ে ঠাট্টা করা বদ্ধমূল করে দিয়েছিলাম তেমনি মক্কার মুশরিকদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দিয়েছি, ফলে তারা ঈমান আনবে না। সুতরাং পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে যে রীতি অতীত হয়ে গেছে তথা অবাধ্যতার পরিণামে শাস্তি দেয়া তেমনি তাদের ক্ষেত্রেও সে রীতি প্রযোজ্য হবে।



মক্কার মুশরিকরা অসংখ্য নিদর্শন ও মুজিযাহ দেখার পরেও ঈমান আনবে না, তারই একটি উপমা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি যদি আকাশের দরজা খুলে দিয়ে তাদেরকে উপরে ওঠার সুযোগ করে দিই, তাহলে তারা বলবে আমাদেরকে জাদু করা হয়েছে, আমাদের দৃষ্টিভ্রম করা হয়েছে। আমরা যা দেখছি তা বাস্তব নয়, কল্পনার জগতে রয়েছি। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তরকে পূর্ববর্তী অবাধ্য জাতির মত কুফরী, ভ্রষ্টতা ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা ইত্যাদি দিয়ে বদ্ধমূল করে দিয়েছেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সকল জাতির নিকটেই সতর্ককারীস্বরূপ রাসূল পাঠানো হয়েছে।

২. রাসূলদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা এবং সত্য বর্জন করা কাফিরদের পুরাতন অভ্যাস।

৩. সঠিক জিনিস জানার পর তা গ্রহণ করার ব্যাপারে ওযর-আপত্তি পেশ করা যাবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৪-১৫ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা তাদের অবাধ্যতা, হঠকারিতা এবং আত্মগর্বের খবর দিতে গিয়ে বলেন যে, যদি তাদের জন্যে আকাশের দরজা খুলে দেয়াও হয় এবং সেখানে তাদেরকে চড়িয়ে দেয়াও হয় তবুও তারা সত্যকে সত্য বলেস্বীকার করবে না। বরং তখনও তারা চীৎকার করে বলবে যে, তাদের ন্যরবন্দী করা হয়েছে, চক্ষুগুলি সম্মোহিত করা হয়েছে, যাদু করা হয়েছে, প্রতারিত করা হয়েছে এবং বোকা বানিয়ে দেয়া হয়েছে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।