আল কুরআন


সূরা ইবরাহীম (আয়াত: 43)

সূরা ইবরাহীম (আয়াত: 43)



হরকত ছাড়া:

مهطعين مقنعي رءوسهم لا يرتد إليهم طرفهم وأفئدتهم هواء ﴿٤٣﴾




হরকত সহ:

مُهْطِعِیْنَ مُقْنِعِیْ رُءُوْسِهِمْ لَا یَرْتَدُّ اِلَیْهِمْ طَرْفُهُمْ ۚ وَ اَفْـِٕدَتُهُمْ هَوَآءٌ ﴿ؕ۴۳﴾




উচ্চারণ: মুহতি‘ঈনা মুকনি‘ঈ রুউছিহিম লা-ইয়ারতাদ্দুইলাইহিম তারফুহুম ওয়া আফইদাতুহুম হাওয়াউ।




আল বায়ান: তারা মাথা তুলে দৌড়াতে থাকবে, তাদের দৃষ্টি নিজদের দিকে ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৩. ভীত-বিহ্বল চিত্তে উপরের দিকে তাকিয়ে তারা ছুটোছুটি করবে, নিজেদের প্রতি তাদের দৃষ্টি ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে উদাস।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: আতঙ্কিত হয়ে মাথা তুলে পালাতে থাকবে, দৃষ্টি তাদের নিজেদের পানে ফিরে আসবে না, আর তাদের দিল উড়ে যাবে।




আহসানুল বায়ান: (৪৩) ভীত-বিহব্বল চিত্তে আকাশের দিকে চেয়ে তারা ছুটাছুটি করবে[1] নিজেদের প্রতি তাদের দৃষ্টি ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে (জ্ঞান) শূন্য। [2]



মুজিবুর রহমান: ভীতি বিহবল চিত্তে (আকাশের দিকে চেয়ে) ছুটাছুটি করবে। নিজেদের প্রতি তাদের দৃষ্টি ফিরবেনা এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য।



ফযলুর রহমান: (ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়) নিজেদের মাথা ঊর্ধ্বমুখী করে তারা ছুটোছুটি করতে থাকবে। তাদের দৃষ্টি নিজেদের দিকে ফিরবে না (তারা নিজেদের দিকে তাকাবেও না)। আর (প্রচণ্ড ভয়ে) তাদের অন্তর থাকবে (কোন কিছু ভাববার শক্তি থেকে) একেবারে শূন্য।



মুহিউদ্দিন খান: তারা মস্তক উপরে তুলে ভীত-বিহবল চিত্তে দৌড়াতে থাকবে। তাদের দিকে তাদের দৃষ্টি ফিরে আসবে না এবং তাদের অন্তর উড়ে যাবে।



জহুরুল হক: ছুটে চলেছে তাদের মাথা খাড়া করে, তাদের দৃষ্টি তাদের নিজেদের দিকেও ফিরছে না, আর তাদের চিত্ত হয়েছে ফাঁকা।



Sahih International: Racing ahead, their heads raised up, their glance does not come back to them, and their hearts are void.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৩. ভীত-বিহ্বল চিত্তে উপরের দিকে তাকিয়ে তারা ছুটোছুটি করবে, নিজেদের প্রতি তাদের দৃষ্টি ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে উদাস।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ সেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হয়ে থাকবে। (مُهْطِعِينَ مُقْنِعِي رُءُوسِهِمْ) অর্থাৎ লজ্জা, ভয় ও বিস্ময়ের কারণে মস্তক উপরে তুলে প্রাণপণ দৌড়াতে থাকবে। (لَا يَرْتَدُّ إِلَيْهِمْ طَرْفُهُمْ) অর্থাৎ অপলক নেত্রে চেয়ে থাকবে। (وَأَفْئِدَتُهُمْ هَوَاءٌ) অর্থাৎ ভয়ে তাদের অন্তর শূন্য, উদাস ও ব্যাকুল হবে। [কুরতুবী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৩) ভীত-বিহব্বল চিত্তে আকাশের দিকে চেয়ে তারা ছুটাছুটি করবে[1] নিজেদের প্রতি তাদের দৃষ্টি ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে (জ্ঞান) শূন্য। [2]


তাফসীর:

[1] مُهْطِعِيْنَ দ্রুত ছুটাছুটি করতে থাকবে। তিনি অন্যত্র বলেন, ﴿مُّهْطِعِينَ إِلَى الدَّاعِ﴾ অর্থাৎ, আহবানকারীর দিকে দৌড়বে। (সূরা ক্বামার : ৮) مُقْنِعِيْ رُءُوسِهِمْ ভয়-বিহব্বলতায় তাদের মাথা উপর দিকে উঠে থাকবে।

[2] যে ভয়াবহতা দর্শন তারা করবে এবং নিজেদের ব্যাপারে যে চিন্তা-ভাবনা ও ভয়-ভীতি হবে, তার কারণে তাদের চক্ষু ক্ষণেকের জন্যও নীচু হবে না এবং প্রচন্ড ভয়ের কারণে তাদের হৃদয় ভগ্ন ও শূন্য থাকবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪২-৪৩ নং আয়াতের তাফসীর:



অনেকে মনে করতে পারে দুনিয়াতে কাফির, মুশরিক ও জালিমরা মানুষের ওপর এত অত্যাচার, অবিচার করছে তারপরেও তারা সুখ-সাচ্ছন্দে আছে, তারাই দুনিয়াতে ক্ষমতাসীন ইত্যাদি। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে আল্লাহ তা‘আলা সকল মানুষকে অবগত করছেন যে, তিনি জালিম কাফিরদের সকল কাজ সম্পর্কে জ্ঞাত আছেন। তারা কী করছে, না করছে সব তাঁর জ্ঞানায়ত্ত্বে। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে অবকাশ দিয়েছেন সেদিন পর্যন্ত যেদিন তাদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। অর্থাৎ কিয়ামতের ভয়াবহতা দেখে তাদের চোখের পলক পড়বে না, এত কঠিন অবস্থা হবে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةٌ أَبْصَارُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا)



“যখন সত্য প্রতিশ্রুতির সময় ঘনিয়ে আসবে তখন অকস্মাৎ কাফিরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে।” (সূরা আম্বিয়া ২১:৯৭)



(مُهْطِعِيْنَ) অর্থ ছোটাছুটি করা, দৌড়াদৌড়ি করা। অর্থাৎ এ সকল জালিমরা কবর থেকে উঠে আল্লাহ তা‘আলার ডাকে সাড়া দিয়ে হাশরের ময়দানের দিকে দ্রুত দৌড়াবে। তাদের দৃষ্টি থাকবে উপরের দিকে। ভয়ে তাদের চোখ নিচের দিকে নামবে না এবং অন্তর জ্ঞানশূন্য হয়ে যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(مُّهْطِعِيْنَ إِلَي الدَّاعِ)



“তারা আহ্বানকারীর দিকে ছুটে আসবে।” (সূরা ক্বমার ৫৪:৮)



জালিম কাফিরদের অবস্থা খুবই ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। সেদিন তাদের অন্তর ভয়ে জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়বে। ভয় ও আতঙ্ক ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মানুষকে অপরাধের কারণে তাৎক্ষণিক শাস্তি না দেয়ার অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ তা‘আলা তার সম্পর্কে জানেন না, বরং এটা তাদের জন্য অবকাশ দেয়া মাত্র।

২. মানুষ দ্রুতগতিতে কবর থেকে বের হয়ে সামনের দিকে ছুটে যাবে এবং তারা হবে অত্যন্ত ভীত-বিহ্বল।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪২-৪৩ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “কেউ যেন এটা মনে না করে যে, যারা অসৎকর্ম করে তাদের কর্ম সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা উদাসীন, তিনি কোন খবর রাখেন, এজন্যেই তারা দুনিয়ায় সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। এ ধারণা মোটেই ঠিক নয়। বরং আল্লাহ তাআলা এক একজনের এক এক মুহূর্তের ভালমন্দ কাজ সম্পর্কে পুর্ণ ওয়াকিফহাল। তিনি ইচ্ছা করেই তাদেরকে অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, উদ্দেশ্য এই যে, হয় তারা দুষ্কর্ম হতে বিরত থাকবে, না হয় তাদের পাপের বোঝা আরো ভারী হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত কিয়ামতের দিন এসে যাবে, যেই দিনের ভয়াবহতায় তাদের চক্ষুগুলিহয়ে যাবে স্থির ও বিস্ফারিত, ভীত বিহ্বল চিত্তে দৃষ্টি উপরের দিকে উঠিয়ে তারা আহ্বানকারীর শব্দের দিকে ছুটাছুটি করবে।” এখানে আল্লাহ তাআলা মানুষের কবর হতে পুনরুত্থিত হওয়া ও হাশরের মাঠে দাঁড়াবার জন্যে তাড়াহুড়া করার অবস্থা বর্ণনা করছেন।

এ দিন তারা সরাসরি ঐ দিকেই দৌড় দেবে এবং সবাই সেদিন সম্পূর্ণরূপে অনুগত হয়ে যাবে। সেখানে হাজিরহওয়ার জন্যে তারা ব্যাকুল হয়ে ফিরবে। চক্ষ তাদের নীচের দিকে ঝুঁকবে না। ভয় ও ত্রাসের কারণে তাদের চোখে পলক পড়বে না। অন্তরের অবস্থা এমন হবে যে, যেন তা উড়ে যাচ্ছে এবং শূন্য পড়ে আছে। ভয় ও আতংক ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। প্রাণ হয়ে পড়বে কণ্ঠাগত। ভীষণ ভয়ের কারণে তা নিজ স্থান থেকে সরে পড়বে এবং অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে যাবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।