আল কুরআন


সূরা ইবরাহীম (আয়াত: 20)

সূরা ইবরাহীম (আয়াত: 20)



হরকত ছাড়া:

وما ذلك على الله بعزيز ﴿٢٠﴾




হরকত সহ:

وَّ مَا ذٰلِکَ عَلَی اللّٰهِ بِعَزِیْزٍ ﴿۲۰﴾




উচ্চারণ: ওয়ামা-যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি বি’আযীয।




আল বায়ান: আর এটা আল্লাহর জন্য মোটেই কঠিন নয়।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২০. আর এটা আল্লাহর জন্য আদৌ কঠিন নয়।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: এটা আল্লাহর জন্য কঠিন কিছু নয়।




আহসানুল বায়ান: (২০) আর এটা আল্লাহর জন্য আদৌ কঠিন নয়। [1]



মুজিবুর রহমান: আর এটা আল্লাহর জন্য আদৌ কঠিন নয়।



ফযলুর রহমান: এটা আল্লাহর জন্য কঠিন কিছু নয়।



মুহিউদ্দিন খান: এটা আল্লাহর পক্ষে মোটেই কঠিন নয়।



জহুরুল হক: আর এটি আল্লাহ্‌র জন্যে কঠিন নয়।



Sahih International: And that is not difficult for Allah.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২০. আর এটা আল্লাহর জন্য আদৌ কঠিন নয়।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ তোমাদেরকে ধ্বংস করে সেখানে অন্যদের প্রতিষ্ঠিত করা তার জন্য কোন ব্যাপারই নয়। কোন বড় ব্যাপার নয় আবার কোন অসম্ভব ব্যাপার নয়। বরং এটা তার জন্য সহজ। যদি তোমরা তাঁর নির্দেশ অমান্য কর, তখন তিনি তোমাদেরকে ধ্বংস করে তোমাদের স্থলে অন্য কাউকে প্রতিস্থাপন করবেন। [ইবন কাসীর] অন্যত্র আল্লাহ বলেনঃ “হে মানুষ! তোমরা তো আল্লাহর মুখাপেক্ষী; কিন্তু আল্লাহ, তিনি অভাবমুক্ত, প্রশংসার যোগ্য। তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে অপসৃত করতে পারেন এবং এক নূতন সৃষ্টি নিয়ে আসতে পারেন।” [সূরা ফাতিরঃ ১৫–১৭] “যদি তোমরা বিমুখ হও, তিনি অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলবর্তী করবেন, তারা তোমাদের মত হবে না।” [সূরা মুহাম্মাদঃ ৩৮] “হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ দ্বীন থেকে ফিরে গেলে নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনবেন যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং যারা তাকে ভালবাসবে।” |সূরা আল-মায়িদাহঃ ৫৪] “হে মানুষ। তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে অপসারিত করতে ও অপরকে আনতে পারেন; আল্লাহ তা করতে সম্পূর্ণ সক্ষম [সূরা আন-নিসাঃ ১৩৩]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২০) আর এটা আল্লাহর জন্য আদৌ কঠিন নয়। [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, তোমরা যদি অবাধ্যতা হতে বিরত না হও, তাহলে মহান আল্লাহ এটা করতে সক্ষম যে, তোমাদেরকে ধ্বংস করে দিয়ে তোমাদের স্থলে নতুন সৃষ্টিকুল সৃষ্টি করবেন। উক্ত বিষয়টিই মহান আল্লাহ সূরা ফাতির ১৫-১৭, সূরা মুহাম্মাদ ৩৮, সূরা মাইদা ৫৪ এবং সূরা নিসার ১৩৩নং আয়াতে বর্ণনা করেছেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৯-২০ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে মূলত আল্লাহ তা‘আলার ক্ষমতা ও বড়ত্ব তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের মনে করা উচিত নয় যে, আমরা অনেক কিছু হয়ে গেছি। বরং তাদের স্মরণ রাখা উচিত আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ধ্বংস করে অন্য জাতিকে নিয়ে আসতে সক্ষম। বিশাল উচ্চ আকাশ, বিস্তৃত জমিন যদি আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি করতে পারেন যা তারা দেখতে পাচ্ছে তাহলে কি তিনি তাদেরকে ধ্বংস করে অন্য জাতি নিয়ে আসতে সক্ষম নন? অবশ্যই সক্ষম, সুতরাং বুঝা দরকার, আল্লাহ তা‘আলার অসংখ্য সৃষ্টির মাঝে তারা একটা ছোট্ট সৃষ্টি মাত্র। তাদেরকে ধ্বংস করে যদি অন্য কোন জাতি নিয়ে আসেন তাহলে তারা তাদের মত হবে না।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ لا ثُمَّ لَا يَكُوْنُوْآ أَمْثَالَكُمْ)



“যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে রাখ তাহলে আল্লাহ তোমাদের বদলে অন্য কাওমকে নিয়ে আসবেন। আর তারা তোমাদের মত হবে না।” (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:৩৮)



অনুরূপ তিনি মানব জাতিকে দ্বিতীয় বার হিসাব-নিকাশের জন্য সৃষ্টি করতে সক্ষম।



আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللّٰهَ الَّذِيْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلٰٓي أَنْ يُّحْيِيَ الْمَوْتٰيط بَلٰٓي إِنَّه۫ عَلٰي كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ)



“তারা কি এটুকুও বোঝে না, যে আল্লাহ জমিন ও আসমান সৃষ্টি করলেন এবং এগুলো সৃষ্টি করতে তিনি ক্লান্ত হননি, সেই আল্লাহ মৃত্যুকে অবশ্যই জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন। কেন নয়? নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর শক্তিশালী।” (সূরা আহক্বাফ ৪৬:৩৩)



সুতরাং যে আল্লাহ তা‘আলা বিশাল আকাশ-জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আল্লাহ তা‘আলা যেমনিভাবে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন সে আল্লাহ তা‘আলা পুনরায় তাদের সৃষ্টি করতে সক্ষম।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরায় জীবিত করা হবে।

২. আল্লাহ তা‘আলার বিধানের অবাধ্য হওয়া যাবে না।

৩. রব হিসেবেও আল্লাহ তা‘আলাকেই মানতে হবে, অন্যকে নয়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৯-২০ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ কিয়ামতের দিন দ্বিতীয় বার সৃষ্টি করতে আমি সক্ষম। আমি যখন আকাশ ও যমীন সৃষ্টি করেছি তখন মানুষকে সৃষ্টি করা আমার কাছে মোটেই কঠিন নয়। আকাশের উচ্চতা, প্রশস্ততা, বিরাটত্ব, অতঃপর তাতে স্থির ও চলমান নক্ষত্ররাজি আর এই যমীন, পর্বতরাজি, বন জঙ্গল, গাছ-পালা এবং জীবজন্তু সবই তাঁর সৃষ্ট। যিনি এগুলো সৃষ্টি করতে অপারগ হননি, তিনি কি মৃতদেরকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন না? অবশ্যই এতে ক্ষমতাবান। মহান আল্লাহ বলেনঃ “মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্র বিন্দু হতে? অথচ পরে সে হয়ে পড়ে প্রকাশ্য বিত কিারী আর সে আমার সম্বন্ধে উপমা রচনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে যায়। বলেঃ অস্থিতে প্রাণ সঞ্চার করবে কে যখন তা পচে গলে যাবে? বলঃ “ওর মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনিই যিনি এটা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত। তিনি তোমাদের জন্যে সবুজ বৃক্ষ হতে অগ্নি উৎপাদন করেন এবং তোমরা তা দ্বারা প্রজ্জ্বলিত কর।”

যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি ওগুলির অনুরূপ সৃষ্টি করতে সমর্থ নন? হ্যা, নিশ্চয়ই তিনি মহা স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। তাঁর ব্যাপার শুধু এই যে, তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন ওকে তিনি বলেনঃ ‘হও। ফলে তা হয়ে যায়।

“অতএব পবিত্র ও মহান তিনি যাঁর হস্তে প্রত্যেক বিষয়ের সার্বভৌম ক্ষমতা এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।”

আল্লাহ পাক বলেনঃ “তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের অস্তিত্ব বিলোপ করতে পারেন এবং এক নতুন সৃষ্টি অস্তিত্ব আনতে পারেন। আর এটা আল্লাহর জন্যে মোটেই কঠিন নয়। তোমরা যদি তার বিরুদ্ধাচরণ কর তবে এরূপই হবে।” যেমন তিনি আর এক জায়গায় বলেছেনঃ “হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত এবং তিনি হচ্ছেন অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে সরিয়ে দিবেন এবং তোমাদের স্থলে) নতুন সৃষ্টি আনয়ন করবেন এবং আল্লাহর কাছে এটা মোটেই কঠিন নয়।” অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ “যদি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন কর তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য কওম আনয়ন করবেন, যারা তোমাদের মত হবে।” তিনি আরো বলেনঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের মধ্যে যে মুরতাদ বা ধর্মত্যাগী হয়ে যাবে (তবে তার জেনে রাখা উচিত যে,), সত্বই আল্লাহ এমন কওম আনয়ন করবেন। যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালবাসবে।” আর এক জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে সরিয়ে দিবেন এবং অন্যদেরকে আনায়ন করবেন এবং আল্লাহ এর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।