সূরা আর-রাদ (আয়াত: 4)
হরকত ছাড়া:
وفي الأرض قطع متجاورات وجنات من أعناب وزرع ونخيل صنوان وغير صنوان يسقى بماء واحد ونفضل بعضها على بعض في الأكل إن في ذلك لآيات لقوم يعقلون ﴿٤﴾
হরকত সহ:
وَ فِی الْاَرْضِ قِطَعٌ مُّتَجٰوِرٰتٌ وَّ جَنّٰتٌ مِّنْ اَعْنَابٍ وَّ زَرْعٌ وَّ نَخِیْلٌ صِنْوَانٌ وَّ غَیْرُ صِنْوَانٍ یُّسْقٰی بِمَآءٍ وَّاحِدٍ ۟ وَ نُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلٰی بَعْضٍ فِی الْاُکُلِ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ ﴿۴﴾
উচ্চারণ: ওয়া ফিল আরদিকিতা‘উম মুতাজা-বিরা-তুওঁ ওয়া জান্না-তুম মিন আ‘না-বিওঁ ওয়া যার‘উওঁ ওয়া নাখীলুন সিনওয়া-নুওঁ ওয়া গাইরু সিনওয়া-নিইঁ ইউছকা- বিমাইওঁ ওয়াহিদিওঁ ওয়া নুফাদদিলুবা‘দাহা- ‘আলা-বা‘দিন ফিল উকুলি ইন্না ফী যালিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়া‘কিলূন।
আল বায়ান: আর যমীনে আছে পরস্পর পাশাপাশি ভূখন্ড, আঙ্গুর-বাগান, শস্যক্ষেত, খেজুর গাছ, যেগুলোর মধ্যে কিছু একই মূল থেকে উদগত আর কিছু ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে উদগত, যেগুলো একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়, আর আমি খাওয়ার ক্ষেত্রে একটিকে অপরটির তুলনায় উৎকৃষ্ট করে দেই, এতে নিদর্শন রয়েছে ঐ কওমের জন্য যারা বুঝে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪. আর যমীনে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখন্ড(১), আঙ্গুর বাগান, শস্যক্ষেত্র, একই মূল থেকে উদগত বা ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে উদগত খেজুর গাছ(২) যেগুলো একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়, আর স্বাদ-রূপের ক্ষেত্রে সেগুলোর কিছু সংখ্যককে আমরা কিছু সংখ্যকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি।(৩) নিশ্চয় বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন।(৪)
তাইসীরুল ক্বুরআন: যমীনে আছে বিভিন্ন ভূখন্ড যা পরস্পর সংলগ্ন, আছে আঙ্গুরের বাগান, শস্য ক্ষেত, খেজুর গাছ- একই মূল হতে উদ্গত আর একই মূল থেকে উদগত নয়- যদিও একই পানিতে সিক্ত। খাওয়ার স্বাদে এদের কতককে কতকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শনাবলী রয়েছে।
আহসানুল বায়ান: (৪) পৃথিবীতে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূ-খন্ড;[1] ওতে আছে আঙ্গুর-কানন, শস্যক্ষেত্র, একাধিক ফেঁকড়া-বিশিষ্ট অথবা ফেঁকড়াহীন খেজুর বৃক্ষ,[2] যা একই পানিতে সিঞ্চিত হয়ে থাকে। ফল হিসাবে ওগুলির কতককে কতকের উপর আমি উৎকৃষ্টতা দিয়ে থাকি,[3] অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন।
মুজিবুর রহমান: পৃথিবীতে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখন্ড; ওতে আছে আঙ্গুর-কানন, শষ্যক্ষেত, একাধিক শির বিশিষ্ট অথবা এক শির বিশিষ্ট খেজুর-বৃক্ষ, সিঞ্চিত একই পানিতে; এবং ফল হিসাবে ওগুলির কতককে কতকের উপর আমি শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি, অবশ্যই বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন।
ফযলুর রহমান: পৃথিবীতে পরস্পর সংলগ্ন ভূখণ্ড, আঙ্গুরের বাগান, শস্যক্ষেত্র এবং একাধিক মাথাবিশিষ্ট ও এক মাথাবিশিষ্ট খেজুরগাছ আছে যা একই পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়; তবে ফলের স্বাদে আমি এগুলোর কতককে কতকের চেয়ে উৎকৃষ্ট করে থাকি। এর মধ্যে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।
মুহিউদ্দিন খান: এবং যমিনে বিভিন্ন শস্য ক্ষেত্র রয়েছে-একটি অপরটির সাথে সংলগ্ন এবং আঙ্গুরের বাগান আছে আর শস্য ও খজ্জꦣ2497;র রয়েছে-একটির মূল অপরটির সাথে মিলিত এবং কতক মিলিত নয়। এগুলো কে একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়। আর আমি স্বাদে একটিকে অপরটির চাইতে উৎকৃষ্টতর করে দেই। এগুলোর মধ্যে নিদর্শণ রয়েছে তাদের জন্য যারা চিন্তা ভাবনা করে।
জহুরুল হক: আর পৃথিবীতে আছে পাশাপাশি মাঠ, আর আঙুরের বাগান ও শস্যক্ষেত্র ও খেজুরের গাছ -- ভিড় ক’রে ও ভিড় না ক’রে -- ওদের পানি দেওয়া হয় একই পানি। আর তাদের কতকটাকে কতকটার উপরে প্রাধান্য দিয়েছি আস্বাদনের ক্ষেত্রে। নিঃসন্দেহ এতে বিশিষ্ট নিদর্শন রয়েছে সেইসব লোকের জন্য যারা বুদ্ধি-বিবেচনা প্রয়োগ করে।
Sahih International: And within the land are neighboring plots and gardens of grapevines and crops and palm trees, [growing] several from a root or otherwise, watered with one water; but We make some of them exceed others in [quality of] fruit. Indeed in that are signs for a people who reason.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪. আর যমীনে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখন্ড(১), আঙ্গুর বাগান, শস্যক্ষেত্র, একই মূল থেকে উদগত বা ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে উদগত খেজুর গাছ(২) যেগুলো একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়, আর স্বাদ-রূপের ক্ষেত্রে সেগুলোর কিছু সংখ্যককে আমরা কিছু সংখ্যকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি।(৩) নিশ্চয় বোধশক্তি সম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন।(৪)
তাফসীর:
(১) এখানে আল্লাহ তা'আলা নতুন করে অন্য আরেক প্রকার নিদর্শন পেশ করছেন। [ফাতহুল কাদীর] অর্থাৎ সারা পৃথিবীকে তিনি একই ধরনের একটি ভূখণ্ড বানিয়ে রেখে দেননি। বরং তার মধ্যে সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য ভূখণ্ড, এ ভূখণ্ডগুলো পরস্পর সংলগ্ন থাকা সত্ত্বেও আকার-আকৃতি, রং, গঠন, উপাদান, বৈশিষ্ট, শক্তি ও যোগ্যতা এবং উৎপাদনে পরস্পরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। এ গুলোর কোনটি এমন যে, তাতে শস্য উৎপন্ন হয় আবার কোন কোনটি একেবারে অকেজো ভূমি যাতে কোন কিছুই উৎপন্ন হয়না অথচ এ দু'ধরনের ভূমিই পাশাপাশি অবস্থিত। [দেখুন, ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]
এ বিভিন্ন ভূখণ্ডের সৃষ্টি এবং তাদের মধ্যে নানা প্রকার বিভিন্নতার অস্তিত্ব এত বিপুল পরিমান জ্ঞান ও কল্যাণে পরিপূর্ণ যে, তা গণনা করে শেষ করা যেতে পারে না। এ ভুখণ্ড লাল, অপরটি সাদা, কোনটি হলুদ, কোনটি মিহি, অথচ সবগুলোই পাশাপাশি। প্রতিটি তার গুণ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আছে। এসব কিছুই প্রমাণ করছে যে, একজন ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন ক্ষমতাধর সত্তা রয়েছেন যিনি এগুলো করেছেন। তিনিই একমাত্র ইলাহ, তাঁর কোন শরীক নেই। তিনিই একমাত্র রব, তিনি ব্যতীত আর কোন রব নেই। [ইবন কাসীর] তাছাড়া কোন কোন ভূমি পাশাপাশি নয় অথচ তাদের মধ্যে একই ধরণের শক্তি, যোগ্যতা পাওয়া যায়। এখানে পাশাপাশি নয় এ কথাটি উহ্য থাকতে পারে। [ফাতহুল কাদীর]
(২) কিছু কিছু খেজুর গাছের মূল থেকে একটি খেজুর গাছ বের হয় আবার কিছু কিছুর মূল থেকে একাধিক গাছ বের হয়। [ফাতহুল কাদীর]
(৩) এ আয়াতে আল্লাহর তাওহীদ এবং তাঁর শক্তি ও জ্ঞানের নিদর্শনাবলী দেখানো ছাড়া আরো একটি সত্যের দিকেও সূক্ষ্ম ইশারা করা হয়েছে। এ সত্যটি হচ্ছে, আল্লাহ এ বিশ্ব-জাহানের কোথাও এক রকম অবস্থা রাখেননি। একই পৃথিবী কিন্তু এর ভূখণ্ডগুলোর প্রত্যেকের বর্ণ, আকৃতি ও বৈশিষ্ট্য আলাদা। একই জমি ও একই পানি, কিন্তু তা থেকে বিভিন্ন প্রকার ফল ও ফসল উৎপন্ন হচ্ছে। একই গাছ কিন্তু তার প্রত্যেকটি ফল একই জাতের হওয়া সত্বেও তাদের আকৃতি, আয়তন, স্বাদ, গন্ধ, রূপ ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা। একই মূল থেকে দুটি ভিন্ন গাছ বের হচ্ছে এবং তাদের প্রত্যেকেই নিজের একক বৈশিষ্টের অধিকারী। যে ব্যক্তি এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে সে অবশ্যই এতে একজন ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন সত্তার কার্য সক্রিয় আছে দেখতে পাবে। যিনি তার অসীম ক্ষমতায় এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি যেভাবে ইচ্ছা করেছেন সেভাবে সৃষ্টি করেছেন। এজন্যই আল্লাহ্ তাআলা সবশেষে বলেছেন যে, নিশ্চয় বোধশক্তি সম্পন্ন লোকদের জন্য এতে রয়েছে প্রচুর নিদর্শন। [ইবন কাসীর]
(৪) বলা হচ্ছে, এই যে পরস্পর পাশাপাশি দুটি ভূমিতে আল্লাহ তা'আলা বিভিন্ন প্রকার ফল-ফলাদি উৎপন্ন করেন, তন্মধ্যে একই ফল একই জমিতে একই পানি দ্বারা উৎপন্ন করি তারপরও সেটার স্বাদ দু'রকমের হয়। একটি মিষ্ট অপরটি টক। একটি অত্যন্ত উন্নতমানের অপরটি অনুন্নত পর্যায়ের। একটি চিত্তাকর্ষক অপরটি তেমন নয়। এসব কিছুতে কেউ চিন্তা, গবেষণা ও বিবেক খাটালে যে কেউ অবশ্যই মেনে নিতে বাধ্য হবে যে, এর বিভিন্নতার প্রকৃত কারণ এক মহান প্রজ্ঞাময় সত্তার শক্তি ছাড়া আর কিছু নয়। কেননা, সাধারণত: যে কারণে ফল-ফলাদিতে পার্থক্য সূচিত হয় তা দুটি। এক, উৎপন্নস্থানের ভিন্নতা, দুই পানির গড়মিল। কিন্তু যদি জমি ও পানি একই প্রকার হয়, তারপর যদি সেটাতে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা ও ফল পরিলক্ষিত হয় তবে বিবেকবান মাত্রই এটা বলতে বাধ্য হবে যে, এটা সেই অপার শক্তি ও আশ্চর্যজনক কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। [ফাতহুল কাদীর]
মুজাহিদ বলেন, এটা মূলত: আদম সন্তানদের জন্য একটি উদাহরণ, তাদের মধ্যে নেককার ও বদকার হয়েছে অথচ তাদের পিতা একজনই। হাসান বসরী বলেন, এ উদাহরণটি আল্লাহ তা'আলা আদম সন্তানদের হৃদয়ের জন্য পেশ করেছেন। কারণ, যমীন মহান আল্লাহর হাতে একটি কাদামাটির পিণ্ড ছিল। তিনি সেটাকে বিছিয়ে দিলেন, ফলে সেটা পরস্পর পাশাপাশি টুকরায় পরিণত হলো, তারপর তাতে আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলো, ফলে তা থেকে বের হলো, ফুল, গাছ ফল ও উদ্ভিদ। আর এ মাটির কোনটি হল খারাপ, লবনাক্ত ও অস্বচ্ছ। অথচ এগুলো সবই একই পানি দিয়ে সিক্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে মানুষও আদম আলাইহিস সালাম থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
অতঃপর আসমান থেকে তাদের জন্য স্মরণিকা (কিতাব) নাযিল হলো, কিছু অন্তর নরম হলো এবং বিনীত হলো, আর কিছু অন্তর কঠোর হলো এবং গাফেল হলো। হাসান বসরী বলেন, কুরআনের কাছে কেউ যখন বসে তখন সে সেখান থেকে বেশী বা কম কিছু না নিয়ে বের হয় না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, “আর আমরা নাযিল করি কুরআন, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু তা যালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।” [সূরা আল-ইসরাঃ ৮২] এতে অবশ্যই বিবেকবানদের জন্য প্রচুর নিদর্শন রয়েছে। [বাগভী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪) পৃথিবীতে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূ-খন্ড;[1] ওতে আছে আঙ্গুর-কানন, শস্যক্ষেত্র, একাধিক ফেঁকড়া-বিশিষ্ট অথবা ফেঁকড়াহীন খেজুর বৃক্ষ,[2] যা একই পানিতে সিঞ্চিত হয়ে থাকে। ফল হিসাবে ওগুলির কতককে কতকের উপর আমি উৎকৃষ্টতা দিয়ে থাকি,[3] অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন।
তাফসীর:
[1] مُتَجَاوِرَاتٌ এক অপরের নিকটবর্তী ও পাশাপাশি। অর্থাৎ, ভূখন্ডের একটি ক্ষেত্র শস্য-শ্যামল ও উর্বর, যা অত্যধিক ফসল উৎপন্ন করে। আর তারই পাশাপাশি অনুর্বর ভূমি রয়েছে যাতে কোন প্রকারের ফসল উৎপন্ন হয় না।
[2] صِنْوَانٌ এর একটি অর্থ মিলিত এবং غَيْرُ صِنْوَانٍএর অর্থ পৃথক পৃথক করা হয়েছে। দ্বিতীয় অর্থ এই যে, صِنْوَانٌ একটি বৃক্ষ যার শাখা ও ফেঁকড়া রয়েছে যেমন ডালিম, ডুমুর এবং কোন কোন খেজুর গাছ। আর غَيْرُ صِنْوَانٍ যা উক্ত প্রকারের নয় বরং একটিই কান্ড বিশিষ্ট (যেমনঃ খেজুর, তাল, সুপারী ইত্যাদি)।
[3] অর্থাৎ মাটিও এক, পানি ও আলো-বাতাসও এক; কিন্তু ফল ও শস্যাদি বিভিন্ন প্রকারের এবং স্বাদ ও আকার-প্রকারও এক অপর থেকে ভিন্ন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২-৪ নং আয়াতের তাফসীর:
অত্র আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পরিপূর্ণ ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি বিনা খুঁটিতে আকাশমণ্ডলী সুঊচ্চে স্থাপন করে রেখেছেন যা আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি। এটা কি আল্লাহ তা‘আলা র কুদরত ও ক্ষমতার ওপর প্রমাণ বহন করে না? অবশ্যই বহন করে।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(خَلَقَ السَّمٰوٰتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا وَأَلْقٰي فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيْدَ بِكُمْ)
“তিনি আসমান সৃষ্টি করেছেন স্তম্ভ ব্যতিরেকে, তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে সুউচ্চ পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে।” (সূরা লুকমান ৩১:১০)
সুতরাং এর দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার ক্ষমতা, বড়ত্ব ও মর্যাদা প্রতীয়মান হয়। কেননা, এরূপ খুঁটি বিহীন কোন কিছুকে শূন্যের উপর দাঁড় করিয়ে রাখা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তা কেবল মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা‘আলার দ্বারাই সম্ভব। এখানে تَرَوْنَهَا এর দু‘টো অর্থ গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রথমত, এর খুঁটি রয়েছে কিন্তু আমরা তা দেখতে পাই না। দ্বিতীয়ত হচ্ছে তাতে কোনই খুঁটি নেই। আর এই অর্থটিই কুরআনের আয়াতের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(وَيُمْسِكُ السَّمَا۬ءَ أَنْ تَقَعَ عَلَي الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِه۪)
“আর তিনিই আকাশকে স্থির রাখেন যাতে তা পতিত না হয় পৃথিবীর উপর তাঁর অনুমতি ব্যতীত।” (সূরা হজ্জ্ব ২২:৬৫)
এই আয়াতও প্রমাণ করে আকাশের কোন খুঁটি নেই।
( ثُمَّ اسْتَوٰی عَلَی الْعَرْشِ)
‘অতঃপর তিনি ‘আরশে সমুন্নত হলেন’ আল্লাহ তা‘আলা স্বসত্তায় আরশের উপর রয়েছেন, কিভাবে রয়েছেন তা তিনিই ভাল জানেন, এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা নিষেধ। তবে অবশ্যই প্রত্যেক মু’মিনকে বিশ্বাস করতে হবে আল্লাহ তা‘আলা আরশের উপর রয়েছেন। যেমন
আল্লাহ তা‘আলার অবস্থান সম্পর্কে ইমাম মালেক (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন:
الاستواء معلوم، والكَيْف مجهول، والإِيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة
আল্লাহ তা‘আলা আরশের উপর রয়েছেন তা জানা কথা, কিভাবে আছেন তা অজ্ঞাত, এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং কোন প্রশ্ন করা বিদ‘আত। (আযওয়াউল বায়ান ৭/২৯৫) এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফ এর ৫৪ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
(وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ)
‘সূর্য ও চন্দ্রকে (তোমাদের কল্যাণে) নিয়োজিত করেছেন’ অর্থাৎ সূর্য ও চন্দ্র মানুষের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন। সূর্যের আলো পেয়ে গাছ-পালা, তরুলতা, ফসল-ফলাদি ইত্যাদি জন্মাবে এবং সূর্য আলো দিয়ে দিনকে মানুষের কর্মের উপযোগী করে দিবে। আর চন্দ্রের স্নিগ্ধ আলো মানুষ উপভোগ করবে এবং দিন-তারিখ ও মাস গণনা করবে।
(کُلٌّ یَّجْرِیْ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی)
‘প্রত্যেকে নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত আবর্তন করে’ এর দুটো অর্থ হতে পারে: প্রথমত: প্রত্যেকে নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত চলবে বলতে কিয়ামত পর্যন্ত বুঝানো হয়েছে। যেমন
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَالشَّمْسُ تَجْرِيْ لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ط ذٰلِكَ تَقْدِيْرُ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِ)
“আর সূর্য নিজ কক্ষ পথে চলতে থাকে। (স্থির হওয়া সময় পর্যন্ত) এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।” (সূরা ইয়াছিন ৩৬:৩৮)
এখানে স্থির হওয়ার সময় বলতে কিয়ামতকে বুঝানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত চন্দ্র ও সূর্য উভয়েই নিজ নিজ কক্ষপথে আবর্তন করে। সূর্য নিজের চক্র এক বছরে এবং চন্দ্র এক মাসে পূর্ণ করে নেয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(وَالْقَمَرَ قَدَّرْنٰهُ مَنَازِلَ)
“আমি চন্দ্রের জন্য নির্ধারণ করেছি বিভিন্ন কক্ষপথ।” (ইয়াসীন ৩৬:৩৯)
এখানে শুধু চন্দ্র ও সূর্যের কথা উল্লেখ করার কারণ এই যে, এ দুটো গ্রহই সর্ববৃহৎ, আর এ দুটোই মানুষের চোখে পড়ে সহজেই। এ দুটো যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা র অধীনস্থ তাহলে আর যে সব ছোট ছোট গ্রহ রয়েছে সেগুলো তো আল্লাহ তা‘আলার হুকুম মেনে চলতে আরো বাধ্য। আর এরা যখন আল্লাহ তা‘আলার হুকুম মেনে চলে তখন এরা মা‘বূদ হতে পারে না। মা‘বূদ তো তিনিই যিনি এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন
(وَّالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُوْمَ مُسَخَّرٰتٍم بِأَمْرِه۪)
“আর সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি, যা তাঁরই আজ্ঞাধীন।” (সূরা আ‘রাফ ৭:৫৪)
যেহেতু এরা আল্লাহ তা‘আলার আজ্ঞাধীন তাই এদের ইবাদত বা উপাসনা করা যাবে না। কারণ উপাসনার যোগ্য সেই যে কারো হুকুম মেনে চলে না বরং সে অন্যকে হুকুম করে আর সবাই তাঁর হুকুম মেনে চলে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(لَا تَسْجُدُوْا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوْا لِلّٰهِ الَّذِيْ خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُوْنَ)
“তোমরা সূর্যকে সিজদা কর না, চন্দ্রকেও নয়; সিজদা কর আল্লাহকে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা তাঁরই ইবাদত কর।” (হা-মীম-সাজদাহ ৪১:৩৭)
অনেক লোক অজান্তেই এ চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্রের পূজা করে; যেমন নববর্ষের সূর্যকে বরণ করার জন্য সমুদ্রের উপকূলে গমন করে, সেদিন ভাল কিছু খায় ইত্যাদি। সেদিনে সূর্যকে বরণ করে নিলে এবং ভাল কিছু খেলে সারা বছর ভাল যাবে বলে মনে করা হয়। অথচ মানুষের ভাল-মন্দের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। তাই যদি কিছু করতেই হয় তাহলে সূর্যকে বরণ না করে নতুন বছরের শুরুতে আল্লাহ তা‘আলার কাছে চাওয়া উচিত, তিনি যেন সারা বছর ভালভাবে জীবন-যাপন করার তাওফীক দান করেন এবং বিগত বছরের অপরাধ স্বীকার করে আগামী বছরে তা সংশোধন করে নেয়ার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে বেশি বেশি ভাল কাজ করা সেই সাথে সূর্য পূজা-সহ সকল প্রকার শির্ক ও কুসংস্কার থেকে নিজেকে বিরত রাখা। এ বিষয়ে ইবরাহীম (عليه السلام) থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত যে, ইবরাহীম (عليه السلام) প্রথমে সঠিক মা‘বূদকে না চিনে চন্দ্র ও সূর্যকে মা‘বূদ মনে করেছিলেন কিন্তু সঠিক পথের সন্ধান পেয়ে সব বর্জন করে সকল কিছুর স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলার দিকে অভিমুখী হলেন এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা শুরু করলেন। এ সম্পর্কে সূরা আন‘আমের ৭৬-৭৯ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
(يُدَبِّرُ الْأَمْرَ) ‘তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন’ এর তাফসীর সূরা ইউনুস এর ৩ নং আয়াতে করা হয়েছে।
এতসব নিদর্শন বর্ণনা করার উদ্দেশ্য হল, যাতে করে মানুষ আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনে। কিয়ামত দিবসে তাঁর সাক্ষাৎকে স্বীকার করে ইত্যাদি।
আল্লাহ তা‘আলা ঊর্ধ্বজগতের বর্ণনা দেয়ার পর এখানে নিম্নজগতের বর্ণনা দিয়েছেন যে, তিনিই জমিনকে বিস্তৃত করেছেন দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সহকারে। مَدَّ অর্থ বিস্তৃত করা। অর্থাৎ আকাশ-জমিন মিলিত ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আলাদা করে পৃথিবীকে বিস্তৃত করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أَوَلَمْ يَرَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْآ أَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنٰهُمَا ط وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَا۬ءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ط أَفَلَا يُؤْمِنُوْنَ )
“যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম; এবং সমস্ত প্রাণী সৃষ্টি করলাম পানি হতে; তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?” (সূরা আম্বিয়া ২১:৩০)
উঁচু ও বিশাল পাহাড় তিনিই ভূ-পৃষ্ঠে স্থাপন করেছেন। নদী-নালা, সমুদ্র ও ঝর্ণার এমন ব্যবস্থাপনা রেখেছেন। যার দ্বারা মানুষ নিজেও উপকৃত হয় এবং ক্ষেত-খামারেও সেচন করে থাকে। এর ফলে জমিনে বিভিন্ন রং, বিভিন্ন স্বাদ ও আকারের ফল-ফলাদি উৎপন্ন হয়। এখানে (زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ) এর দু‘টো অর্থ হতে পারে। প্রথমত এর দ্বারা নর-মাদী দু‘টোই বানিয়েছেন এরকম অর্থ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমনটি আধুনিক বিজ্ঞানীরা সত্যায়ন করেছেন। আবার এর দ্বারা বিপরীতমুখী অর্থও গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন টক-মিষ্টি, ঠাণ্ডা-গরম, সুস্বাদু-বিস্বাদ, সাদা-কালো এই অর্থও গ্রহণ করা যেতে পারে।
তিনি দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন। এরা পর্যায়ক্রমে আসা-যাওয়া করছে একটির আগমন ঘটছে এবং অপরটির প্রস্থান। এই সবগুলোই প্রমাণ করছে যে, সারা বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি হচ্ছেন এক আল্লাহ তা‘আলা যিনি অদ্বিতীয় ও অংশীবিহীন। আর এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানী ও চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য। যদি কেউ এসব বিষয় নিয়ে সঠিকভাবে চিন্তা-ভাবনা করে তাহলে সে নিশ্চিত সু-পথ প্রাপ্ত হবে।
قِطَعٌ -(وَفِي الْأَرْضِ قِطَعٌ مُتَجَاوِرَاتٌ)
অর্থ ভূ-খণ্ড, আর مُتَجَاوِرَاتٌ অর্থ পাশাপাশি, প্রতিবেশি। অর্থাৎ পৃথিবীতে যে ভূ-খণ্ড রয়েছে তা পরস্পর সংলগ্ন, একে অপরের পাশাপাশি ও নিকটবর্তী। তা সত্ত্বেও সর্বত্র একই রকম ফলমূল উৎপন্ন হয় না। কিছু জায়গা আছে যেখান আঙ্গুর হয়, আবার কিছু জায়গা আছে যেখান আঙ্গুর হয় না। এক দেশের খেজুর, ধান ও অন্যান্য ফলাদি আরেক দেশে হয় না। অথচ একটি পৃথিবী, একই আকাশ থেকে একই প্রকার বৃষ্টি হয়। কোন জমি খুবই উর্বর আবার কোন জমি অনুর্বর, আবার কোনটি এমন যাতে কোন ফসলই উৎপন্ন হয় না। এগুলোতে নিদর্শন রয়েছে আল্লাহ তা‘আলাকে চেনার।
صِنْوَانٌ বলা হয় যার মূল একটি কিন্তু এর শাখা-প্রশাখা অনেকগুলো। যেমন, ডালিম, ডুমুর ইত্যাদি।
(وَغَيْرُ صِنْوَانٍ)
বলা হয় যার একটিই মূল থাকে এবং তাঁর থেকে কোন শাখা-প্রশাখা বের হয় না। যেমন তালগাছ, নারিকেল গাছ, খেজুর গাছ, সুপারি গাছ ইত্যাদি। সবগুলোর জন্য অর্থাৎ
صِنْوَانٌ ও وَغَيْرُ صِنْوَانٍ
এর জন্য একই পানি থেকে সেচ দেয়া হয় অর্থাৎ বর্ষার পানি এবং একই মাটি থেকে উৎপন্ন। অথচ স্বাদের দিক দিয়ে, ছোট-বড় হওয়ার দিক দিয়ে ফলের মধ্যে বড়ই পার্থক্য রয়েছে। এগুলো একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই করে থাকেন অন্য কেউ নয়।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আকাশের উচ্চতায় কোন খুঁটি প্রয়োজন হয়নি।
২. সূর্য-চন্দ্র প্রত্যেকের একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ রয়েছে।
৩. মৃত্যুর পর মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে।
৪. পৃথিবীতে যে সমস্ত পাহাড় রয়েছে তা জমিনের জন্য পেরেকস্বরূপ করা হয়েছে।
৫. প্রত্যেক প্রকারের ফল জোড়ায় জোড়ায় বিদ্যমান।
৬. একই মাটি থেকে একই পানির সিঞ্চনে বিভিন্ন প্রকারের ফল উৎপন্ন হয়।
৭. সকল কিছুর প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩-৪ নং আয়াতের তাফসীর
উর্ধ্বজগতের বর্ণনা দেয়ার পর আল্লাহ তাআ’লা এখানে নিম্ন জগতের বর্ণনা দিয়েছেন। যমীনকে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বিস্তৃত করে আল্লাহ তাআ’লাই এটাকে বিছিয়ে দিয়েছেন। এতে দৃঢ় পাহাড় তিনিই স্থাপন করেছেন। এতে নদ-নদী ও প্রস্রবণ তিনিই প্রবাহিত করেছেন। এর ফলে বিভিন্ন আকারের বিভিন্ন রং এর এবং বিভিন্ন স্বাদের ফল মূলের বৃক্ষাদি সিঞ্চিত হয়ে থাকে। জোড়ায় জোড়ায় ফলমূল তিনিই সৃষ্টি করেছেন। ওগুলির মধ্যে কোনটি মিষ্টি এবং কোনটি টক। দিবস ও রজনী পর্যায়ক্রমে আসা যাওয়া করছে। একটির আগমন ঘটছে এবং অপরটির প্রস্থান হচ্ছে। এইসব ব্যবস্থাপনা সেই ব্যাপক ক্ষমতাবান আল্লাহর দ্বারাই হচ্ছে। আল্লাহ তাআ’লার এইসব নিদর্শন, নিপুণতা এবং প্রমাণাদির উপর যে ব্যক্তি চিন্তাপূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে সে অবশ্যই সুপথ প্রাপ্ত হবে। যমীনের খণ্ডগুলি মিলিতভাবে রয়েছে। মহান আল্লাহর শক্তি দেখে বিস্মিত হতে হয় যে, পৃথিবীর এক খণ্ডে প্রচুর ফসল উৎপাদিত হয়, আবার আর একখণ্ডে কিছুই জন্মে না। কোন জায়গার মাটি লাল, কোন জায়গার মাটি সাদা, কোন মাটি কালো, কোনটি কংকরময়, কোনটা নরম, কোনটা শক্ত, কোনটা মিষ্টি, কোনটা তিক্ত, কোনটা বালুকাময় এবং কোনটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। মোট কথা, এটাও সৃষ্টিকর্তার মহা শক্তির নিদর্শন, যা বলে দিচ্ছে যে, কার্য্য সম্পাদনকারী, স্বেচ্ছাচারী এবং সারা বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি হচ্ছেন সেই একক, অদ্বিতীয় এবং অংশীবিহীন আল্লাহ। তিনিই হচ্ছেন সবকিছুরই সৃষ্টিকর্তা। তিনি ছাড়া অন্য কেউ মা'বুদ নেই এবং কোন প্রতিপালকও নেই।
(আরবি) শব্দদ্বয়কে যদি (আরবি) শব্দের উপর বা সংযোগ ধরা হয় তবে পেশ দিয়ে পড়তে হবে। আর যদি (আরবি) শব্দের উপর সংযোগ ধরা হয় তবে (আরবি) ধরে যের দিয়ে পড়তে হবে। ইমামদের দল দু’ভাবেই পড়েছেন। (আরবি) বলা হয় ঐ গাছকে যার কয়েকটি গুঁড়ি ও শাখা হয়। যেমন ডালিম ডুমুর, এবং কোন কোন খেজুর গাছ। (আরবি) বলা হয় ঐ গাছকে যা এইরূপ হয় না বরং যার একটি মাত্র গুঁড়ি থাকে। এর থেকেই চাচাকে (আরবি) বলা হয়। হাদীসেও এটা এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত উমারকে (রাঃ) বলেনঃ “তোমার কি জানা নেই যে, চাচা পিতার মতই।”
হযরত বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, একটি মূল অর্থাৎ একটি গুঁড়ির মধ্যে কয়েকটি শাখা বিশিষ্ট খেজুরের গাছ থাকে, আবার একটি গুঁড়িতে একটিই থাকে। এটাই হচ্ছে (আরবি) ও (আরবি)। অন্যান্য গুরুজনদেরও এটাই উক্তি। সবগুলির জন্যে একই পানি। অর্থাৎ বর্ষার পানি। অথচ স্বাদের দিক দিয়ে এবং ছোট ও বড় হওয়ার দিক থেকে ফলের মধ্যে বড়ই পার্থক্য রয়েছে। কোনটা মিষ্টি ও কোনটা টক। জামে তিরমিযীর হাদীসেও এই ব্যাখ্যা রয়েছে। মোট কথা, বিভিন্ন দিক দিয়ে পার্থক্য আছে। যেমন প্রকারে পার্থক্য, রকমে পার্থক্য, রং এ পার্থক্য, গন্ধে পার্থক্য, স্বাদে পার্থক্য, পাতায় পার্থক্য এবং তরুতাজায় পার্থক্য। কোনটা অতি মিষ্টি এবং কোনটা অতি তিক্ত। কোনটি খুবই সুস্বাদু, আবার কোনটি অত্যন্ত বিস্বাদ। রং-এও পার্থক্য রয়েছে। কোনটা লাল, কোনটা সাদা এবং কোনটা কালো। অনুরূপভাবে সতেজতার দিক দিয়েও পার্থক্য রয়েছে। অথচ খাদ্য হিসেবে সবই এক। ব্যাপক ক্ষমতাবান আল্লাহ তাআ’লার এগুলি অলৌকিক শক্তি। সুতরাং বোধশক্তি সম্পন্ন লোকের জন্যে এগুলি শিক্ষণীয় বিষয়। এগুলি স্বেচ্ছাচারী আল্লাহ তাআ’লার মহাশক্তির পরিচয় বহন করে এবং এটাই ঘোষণা করে যে, তিনি যা চান তাই হয়। জ্ঞানীদের জন্যে এই নিদর্শনগুলিই যথেষ্ট।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।