আল কুরআন


সূরা আর-রাদ (আয়াত: 15)

সূরা আর-রাদ (আয়াত: 15)



হরকত ছাড়া:

ولله يسجد من في السماوات والأرض طوعا وكرها وظلالهم بالغدو والآصال ﴿١٥﴾




হরকত সহ:

وَ لِلّٰهِ یَسْجُدُ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ طَوْعًا وَّ کَرْهًا وَّ ظِلٰلُهُمْ بِالْغُدُوِّ وَ الْاٰصَالِ ﴿ٛ۱۵﴾




উচ্চারণ: ওয়ালিল্লা-হি ইয়াছজূদুমানফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদিতাও‘আওঁ ওয়াকারহাওঁ ওয়া জিলা-লুহুম বিল গুদুওবিওয়াল আ-সা-ল।(ছিজদাহ-২)




আল বায়ান: আর আল্লাহর জন্যই আসমানসমূহ ও যমীনের সবকিছু অনুগত ও বাধ্য হয়ে সিজদা করে এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের ছায়াগুলোও।[সাজদাহ]




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৫. আর আল্লাহর প্রতিই সিজদাবনত হয় আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায়(১) এবং তাদের ছায়াগুলোও সকাল ও সন্ধ্যায়(২)।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আসমানে আর যমীনে যা কিছু আছে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর প্রতি সাজদাহয় অবনত হয় আর তাদের ছায়াগুলোও। [সাজদাহ]




আহসানুল বায়ান: (১৫) আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হয় আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় এবং তাদের ছায়াগুলিও সকাল ও সন্ধ্যায়।[1] (সাজদাহ-২)



মুজিবুর রহমান: আল্লাহর প্রতি সাজদাহবনত হয় আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় এবং তাদের ছায়াগুলিও সকাল-সন্ধ্যায়। [সাজদাহ]



ফযলুর রহমান: আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা এবং তাদের ছায়াগুলো ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহকে সেজদা করে।সেজদা



মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে আছে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় এবং তাদের প্রতিচ্ছায়াও সকাল-সন্ধ্যায়।



জহুরুল হক: আর আল্লাহ্‌কেই সিজদা করে যারাই আছে মহাকাশ-মন্ডলে ও পৃথিবীতে -- স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়, আর তাদের ছায়াও সকালে ও সন্ধ্যায়।



Sahih International: And to Allah prostrates whoever is within the heavens and the earth, willingly or by compulsion, and their shadows [as well] in the mornings and the afternoons.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৫. আর আল্লাহর প্রতিই সিজদাবনত হয় আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায়(১) এবং তাদের ছায়াগুলোও সকাল ও সন্ধ্যায়(২)।


তাফসীর:

(১) সিজদা মানে আনুগত্য প্রকাশ করার জন্য ঝুঁকে পড়া, আদেশ পালন করা এবং পুরোপুরি মেনে নিয়ে মাথা নত করা। পৃথিবী ও আকাশের প্রত্যেকটি সৃষ্টি আল্লাহর আইনের অনুগত এবং তাঁর ইচ্ছার চুল পরিমাণও বিরোধিতা করতে পারে না -এ অর্থে তারা প্রত্যেকেই আল্লাহকে সিজদা করছে। মুমিন স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে তাঁর সামনে নত হয় কিন্তু কাফেরকে বাধ্য হয়ে নত হতে হয়। কারণ আল্লাহর প্রাকৃতিক আইনের বাইরে চলে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। আর তারা নিজেরা স্রষ্টার মুখাপেক্ষী এটা প্রমাণ করছে। [কুরতুবী]

(২) তাদের ছায়াগুলো নত হওয়া ও সিজদা করার মানে হচ্ছে, ছায়ার সকাল-সাঁঝে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ে সিজদা করা। এ এমন একটি আলামত যা থেকে বুঝা যায় যে, এসব জিনিস কারো হুকুমের অনুগত এবং কারোর নিয়ন্ত্রণাধীন। [কুরতুবী] মুফাসসিরগণ বলেন, সিজদাকারীদের কেউ ইচ্ছাকৃত আল্লাহর সিজদা করে আবার কেউ করে অনিচ্ছাকৃত কিন্তু তাদের ছায়াগুলো ঠিকই ইচ্ছাকৃতভাবে সিজদা করে। [বাগভী] মুজাহিদ বলেন, ঈমানদারের ছায়া ইচ্ছাকৃত সিজদা করে, আর সেও তা মেনে নিয়েছে। পক্ষান্তরে কাফেরের ছায়া ইচ্ছাকৃতভাবে সিজদা করে অথচ সে অপছন্দ করছে। [তাবারী] এ আয়াতের সমার্থে আরো এসেছে, “তারা কি লক্ষ্য করে না আল্লাহর সৃষ্ট বস্তুর প্রতি, যার ছায়া ডানে ও বামে ঢলে পড়ে আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হয়? [সূরা আন-নাহলঃ ৪৮]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৫) আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হয় আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় এবং তাদের ছায়াগুলিও সকাল ও সন্ধ্যায়।[1] (সাজদাহ-২)


তাফসীর:

[1] এতে আল্লাহর মহিমা ও ক্ষমতার কথা উল্লেখ হয়েছে যে, প্রত্যেক বস্তুর উপর তাঁর আধিপত্য রয়েছে এবং প্রত্যেক বস্তু তাঁর অধীন ও তাঁর সামনে সিজদাবনত। চাহে মুমিনদের ন্যায় স্বেচ্ছায় করুক বা মুশরিকদের ন্যায় অনিচ্ছায়। তাদের ছায়াও সকাল-সন্ধ্যায় সিজদা করে। যেমন তিনি অন্যত্র বলেন, ﴿أَوَ لَمْ يَرَوْاْ إِلَى مَا خَلَقَ اللهُ مِن شَيْءٍ يَتَفَيَّأُ ظِلاَلُهُ عَنِ الْيَمِينِ وَالْشَّمَآئِلِ سُجَّدًا لِله وَهُمْ دَاخِرُونَ﴾ অর্থাৎ, তারা কি লক্ষ্য করে না আল্লাহর সৃষ্ট বস্তুর প্রতি যার ছায়া বিনীতভাবে আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হয়ে ডানে ও বামে ঢলে পড়ে? (সূরা নাহল ৪৮) উক্ত সিজদার স্বরূপ কি? এটা মহান আল্লাহই ভাল জানেন। অথবা দ্বিতীয় অর্থ এর এই যে, কাফের সমেত সকল সৃষ্টি আল্লাহর আদেশাধীন, কারো তা লঙ্ঘন করার শক্তি নেই। আল্লাহ কাউকে সুস্থ করুন অথবা অসুস্থ, ধনী করুন অথবা কাঙ্গাল, জীবন দান করুন অথবা মৃত্যু। উক্ত সৃষ্টিমূলক নিয়মকে অমান্য করার শক্তি কোন কাফেরেরও নেই। ---

(এই আয়াত পাঠ করার পর সিজদা করা মুস্তাহাব। সিজদার আহকাম জানতে সূরা আ’রাফের শেষ আয়াতের টীকা দেখুন।)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৪-১৫ নং আয়াতের তাফসীর:



(لَھ۫ دَعْوَةُ الْحَقِّ....)



পূর্বের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার রুবুবিয়্যাহ তথা তিনি মানুষের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করেন যার ফলে মানুষ উপকৃত হয় এবং বিজলী দিয়ে মানুষের মাঝে ভয় ও আশা সঞ্চার করেন। অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করছেন যে, ভয় ও আশা সর্বাবস্থায় তাঁকেই ডাকতে হবে। কেননা তিনিই প্রত্যেকের ডাক শুনেন এবং কবুল করেন। তিনি ব্যতীত আর কেউ মানুষের ডাকে সাড়া দেন না এবং তা কবুলও করেন না।



(لَھ۫ دَعْوَةُ الْحَقِّ)



‘সত্যের আহ্বান তাঁরই প্রাপ্ত’ এর দু’টি অর্থ হতে পারে; ১. পূর্বে যা উল্লেখ করা হল অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাকেই ডাকা, তাঁকেই আহ্বান করা সত্য, অন্য বাতিল মা‘বূদদেরকে আহ্বান করা মিথ্যা। তারা মানুষের ডাকে সাড়া দিতে পারে না। ২. দা‘ওয়াতুল হক বা সত্যের আহ্বান বলতে সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যই করতে হবে, তাঁরই জন্য ইবাদত করা সঠিক বা তিনিই সত্য মা‘বূদ, বান্দার ইবাদত পাওয়ার যোগ্য তিনি ব্যতীত আর কেউ নয়। কেননা বিশ্বের মালিক, সৃষ্টিকর্তা ও পরিচালক তিনিই। সুতরাং ইবাদতও একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য, অন্য কারো নয়। ইবাদতের দু‘আ হোক আর কোন কিছু চাওয়ার জন্য দু‘আ হোক সব কিছু তাঁর কাছেই নিবেদন করতে হবে। অন্য কাউকে ডাকলে বা তার ইবাদত করলে তা বিশুদ্ধ হবে না। বরং তা র্শ্কি হবে। অতএব দু‘আসহ সকল ইবাদত তাঁরই উদ্দেশ্যে করতে হবে।



পরবর্তীতে যারা আল্লাহ তা‘আলাকে ব্যতীত অন্যকে ডাকে বা অন্যের ইবাদত করে তাদের দৃষ্টান্ত পেশ করছেন যে, তারা হল ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে দূর থেকে পানির দিকে দুই হাত বাড়িয়ে পানিকে বলে, তুই আমার মুখ পর্যন্ত চলে আয়। এটা স্পষ্ট কথা যে, পানি এমনই বস্তু যে, সে বুঝতেই পারে না, হাত প্রসারণকারী ব্যক্তির প্রয়োজন কী? আর সে এটাও জানে না, ঐ ব্যক্তি তাকে মুখ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার অনুরোধ করছে? এবং তার মধ্যে এই ক্ষমতাও নেই, সে নিজের স্থান থেকে চলে ঐ ব্যক্তির মুখ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। অনুরূপ এই মুশরিকরা যারা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কোন কিছুর কাছে সাহায্য কামনা করে অথবা অকল্যাণ দূর করার জন্য আহ্বান করে তারা না এটা জানে যে, তাদেরকে কেউ আহ্বান করছে এবং তার কী প্রয়োজন রয়েছে, আর না তাদের মধ্যে প্রয়োজন মেটানোর ক্ষমতা আছে।



বরং যারা ডাকে তারা নির্বোধ এবং যাদেরকে ডাকে তারাও নির্বোধ বা জ্ঞানহীন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বাণী:



(ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوْبُ)‏



“প্রার্থনাকারী আর যার কাছে প্রার্থনা করা হয় উভয়েই দুর্বল।” (সূরা হজ্ব ২২: ৭৩)



অতএব যারা আল্লাহ তা‘আলাকে ব্যতীত অন্যকে আহ্বান করে তারা দুনিয়া ও আখেরাতে কোনই উপকার লাভ করতে পারবে না। সুতরাং তাদেরকে আহ্বান করা সম্পূর্ণ অর্থহীন।



(وَلِلہِ یَسْجُدُ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ.....)

এতে আল্লাহ তা‘আলার মহিমা ও ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রত্যেক বস্তুর উপর তাঁর আধিপত্য রয়েছে এবং প্রত্যেক বস্তু তাঁরই অধীন ও তাঁরই সামনে সিজদারত। চাই তা মু’মিনদের ন্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা কাফিরদের ন্যায় অনিচ্ছাকৃতভাবে হোক। তাদের ছায়াও সকাল-সন্ধ্যায় সিজদা করে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(أَوَلَمْ يَرَوْا إِلٰي مَا خَلَقَ اللّٰهُ مِنْ شَيْءٍ يَّتَفَيَّأُ ظِلَالُه۫ عَنِ الْيَمِيْنِ وَالشَّمَآئِلِ سُجَّدًا لِّـلّٰهِ وَهُمْ دٰخِرُوْنَ)‏



“তারা কি লক্ষ্য করে না আল্লাহর সৃষ্ট বস্তুর প্রতি, যার ছায়া ডানে ও বামে ঢলে পড়ে আল্লাহর প্রতি বিনীতভাবে সাজদাবনত অবস্থায়?” (সূরা নাহল ১৬:৪৮)



ছায়া ও কাফেররা কিভাবে আল্লাহ তা‘আলাকে সিজদা করে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে: কেউ বলেছেন: আকাশ-জমিনে যা কিছু রয়েছে সব কিছু আল্লাহ তা‘আলার সিজদা করা (আম ও খাস) ব্যাপক ও সীমাবদ্ধ। মুমিন ও ফেরেশতারা আল্লাহ তা‘আলার সিজদা করে প্রকৃত সিজদা, তাহল মাটিতে কপাল রেখে সিজদা করা এবং তারা এ সিজদা করে আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য স্বীকারপূর্বক। আর কাফেররা সিজদা করে বাধ্য হয়ে অনিচ্ছায়। কাফের দ্বারা উদ্দেশ্য হল মুনাফিক। মুনাফিকরা প্রকৃতপক্ষে কাফের, বাহ্যিকভাবে যদিও ঈমানের কথা বলে। সুতরাং ব্যাপক ও সীমাবদ্ধ উভয়ভাবে আকাশ-জমিনে সবাই আল্লাহ তা‘আলাকে সিজদা করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللّٰهَ يَسْجُدُ لَه۫ مَنْ فِي السَّمٰوٰتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُوْمُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَآبُّ وَكَثِيْرٌ مِّنَ النَّاسِ ط وَكَثِيْرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُ)



“তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহকে সাজদাহ্ করে যা কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে ও পৃথিবীতে সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, পর্বতমালা, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং সাজ্দাহ্ করে মানুষের মধ্যে অনেকে? আবার অনেকের প্রতি অবধারিত হয়েছে শাস্তি।” (সূরা হাজ্জ ২২:১৮) সব কিছুর ছায়াও সকাল সন্ধ্যা স্ব-স্ব পদ্ধতিতে আল্লাহ তা‘আলার সিজদা করে থাকে।



এ আয়াত পাঠ করার পর সিজদা করা মুস্তাহাব, সিজদার হুকুম-আহকাম সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের শেষ আয়াতের টিকায় আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যাদেরকে ডাকা হয় তারা সকলেই নির্বোধ এবং যারা ডাকে তারাও। এমনকি তারা কোন প্রয়োজন মেটাতেও সক্ষম নয়।

২. দু‘আসহ সকল ইবাদতের হকদার একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।

৩. সাজদাহ করা একটি ইবাদত, তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাকেই করতে হবে, অন্যকে নয়, করলে তা শিরক হবে।

৪. আকাশ-জমিনের সব কিছু আল্লাহ তা‘আলার জন্য সিজদা করে তা সেচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: আল্লাহ তাআ’লা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও সাম্রাজ্যের বিরাটত্বের সংবাদ দিচ্ছেন যে, সমস্ত কিছু তাঁর সামনে বিনয়াবনত। তাঁর সামনে সবাই বিনয় ও নীচতা প্রকাশ করে। মু’মিনরা খুশী মনে এবং কাফিররা বাধ্য হয়ে তাঁর সামনে সিজদায় পতিত হয়। তাদের ছায়াগুলি সকাল সন্ধ্যায় তার সামনে ঝুঁকে পড়ে।

(আরবি) শব্দটি (আরবি) শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হচ্ছে দিনের শেষ ভাগ। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআ’লা বলেছেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তারা কি দেখে নাই যে, আল্লাহর সমস্ত সৃষ্ট বস্তুর ছায়া ডানে, বামে ঝুঁকে পড়ে তাঁকে সিজদা করে এবং নিজেদের অক্ষমতা প্রকাশ করে?” (১৬: ৪৮)।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।