সূরা ইউসুফ (আয়াত: 104)
হরকত ছাড়া:
وما تسألهم عليه من أجر إن هو إلا ذكر للعالمين ﴿١٠٤﴾
হরকত সহ:
وَ مَا تَسْـَٔلُهُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ؕ اِنْ هُوَ اِلَّا ذِکْرٌ لِّلْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۰۴﴾
উচ্চারণ: ওয়ামা তাছআলুহুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন হুওয়া ইল্লা-যিকরুল লিল‘আ-লামীন।
আল বায়ান: আর তুমি এর উপর তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও না, এ তো (কুরআন) সমগ্র সৃষ্টির জন্য উপদেশমাত্র।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৪. আর আপনি তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক দাবি করছেন না। এ (কুরআন) তো সৃষ্টিকুলের জন্য উপদেশ ছাড়া কিছু নয়।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তুমি তার জন্য তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছ না, এটা তো বিশ্বজগতের সকলের জন্য উপদেশ মাত্র।
আহসানুল বায়ান: (১০৪) আর তুমি তো তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক দাবী করছ না,[1] এ (কুরআন) তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া কিছু নয়। [2]
মুজিবুর রহমান: আর তুমিতো তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক দাবী করছোনা, এটাতো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া কিছু নয়।
ফযলুর রহমান: তুমি তো তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাচ্ছ না। এটা সারা বিশ্ববাসীর জন্য এক উপদেশ বৈ নয়।
মুহিউদ্দিন খান: আপনি এর জন্যে তাদের কাছে কোন বিনিময় চান না। এটা তো সারা বিশ্বের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।
জহুরুল হক: আর তুমি এর জন্য তাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইছ না। এ তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ব্যতীত নয়।
Sahih International: And you do not ask of them for it any payment. It is not except a reminder to the worlds.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১০৪. আর আপনি তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক দাবি করছেন না। এ (কুরআন) তো সৃষ্টিকুলের জন্য উপদেশ ছাড়া কিছু নয়।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১০৪) আর তুমি তো তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক দাবী করছ না,[1] এ (কুরআন) তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া কিছু নয়। [2]
তাফসীর:
[1] যাতে তাদের সংশয় সৃষ্টি হয় যে, নবুঅতের দাবি তো শুধু ধন সঞ্চয় করার বাহানা।
[2] যেন মানুষ এর দ্বারা হিদায়াত গ্রহণ করে এবং নিজ ইহ-পরকাল সাজিয়ে নেয়। এখন বিশ্ববাসী যদি এ থেকে বিমুখ হয় এবং হিদায়াত গ্রহণ না করে, তাহলে ত্রুটি তাদের এবং সেটা তাদের দুর্ভাগ্য। কুরআন তো বাস্তবে বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াত ও নসীহতই নিয়ে এসেছে। (পারস্য কবি বলেন,) ‘চামচিকা যদি দিনের বেলায় না দেখে, তাহলে সূর্যের দোষ কি?
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০২-১০৭ নং আয়াতের তাফসীর:
ذٰلِكَ অর্থাৎ ইউসুফ (عليه السلام) এর জীবনের এসব ঘটনাসহ যা কিছু উল্লেখ করা হল সব গায়েবের বিষয়। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগ থেকে হাজার বছরের আগের কথা। এসব জানা নিরক্ষর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পক্ষে কক্ষনো সম্ভব নয়, তা তাছাড়া তিনি তখন উপস্থিত ছিলেন না অর্থাৎ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগ ও ইউসুফ (عليه السلام) এর যুগ এক নয়। তাঁকে জানানো হয়েছে ওয়াহীর মাধ্যমে। সুতরাং এতে প্রমাণিত হয়, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গায়েব জানেন না। তিনি যদি গায়েব জানতেন তাহলে তা ওয়াহীর মাধ্যমে জানানোর কোন প্রয়োজন ছিল না। এ সম্পর্কে সূরা আলি ইমরানের ৭ ও ৪৪ নং আয়াত, সূরা কাসাসের ৪৫-৪৬ নং আয়াত এবং সূরা সাদের ৬৯-৭০ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
(وَمَآ أَكْثَرُ النَّاسِ) অর্থাৎ পূর্ববর্তী জাতির বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ, কিয়ামতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্কীকরণ এবং উপস্থিত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেও অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনবে না। সুতরাং অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনুক তা একজন নাবীর আশা করে লাভ নেই। কারণ পূর্বেই আল্লাহ তা‘আলা জানেন অধিকাংশ মানুষ ঈমান বর্জন করবে, শয়তানের দলে শামিল হবে। তবে মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান জানানো অব্যাহত রাখতে হবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَقَلِيْلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُوْرُ)
“আর আমার কৃতজ্ঞ বান্দার সংখ্যা কম” (সূরা সাবা ৩৪:১৩)
(وَمَا تَسْئَلُهُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْر)
অর্থাৎ হে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! তোমার কাজের বিনিময়ে যদি কোন পারিশ্রমিক চাইতে তাহলে তারা সন্দেহ করত যে, হয়তো সম্পদের লোভে সে নতুন পথের দিকে দাওয়াত দিচ্ছে। এ কুরআন নাযিল করা হয়েছে এ জন্য যে, মানুষ এ থেকে হিদায়াত গ্রহণ করবে, সঠিক পথ চিনবে ও উপকৃত হবে। কিন্তু যাদের স্বচ্ছ অন্তর নেই তারা হিদায়াত নিতে পারবে না।
(وَكَأَيِّنْ مِّنْ اٰيَةٍ)
অর্থাৎ আল্লাহর তাওহীদ তথা একত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে এমন কত নিদর্শন রয়েছে, মানুষ সকাল-সন্ধ্যা তা প্রত্যক্ষ করে কিন্তু তা অনুধাবন করে না এবং অনুধাবন করার চেষ্টাও করে না। মানুষ প্রতিদিন দেখছে সূর্য পূর্ব দিকে উঠে, পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। কিন্তু কোনদিন চিন্তা করল না, এ সূর্য কে উদিত করছে, কে অস্ত করাচ্ছে? তিনি কত জন, কত শক্তির মালিক? ইত্যাদি নিয়ে একটু চিন্তা করলে আল্লাহকে চিনতে পারা যাবে এবং নিজের ভেতর থেকেই তাঁর কাছে আত্মসর্ম্পণ চলে আসবে।
(وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللّٰهِ)
অর্থাৎ বিশ্বাস করে আল্লাহ তা‘আলা রয়েছেন কিন্তু ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন মা‘বূদের ইবাদত করে। যেমন মক্কার মুশরিকরা বিশ্বাস করত তাদের হায়াত-মউত, আকাশ-জমিন, বৃষ্টি দান এমনকি বিপদ থেকে উদ্ধারের মালিক একমাত্র আল্লাহ, কিন্তু ইবাদত করত লাত, উযযা, মানাতসহ শত শত প্রতিমার। যার কারণে তারা তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর প্রতি (তথা সকল কিছুর মালিক ও স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা) বিশ্বাস থাকলেও আখিরাতে নাজাত পাবে না, কারণ ইবাদত করেছে আল্লাহ ছাড়া অন্যের। এভাবে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন মূর্তি, প্রতিমা, বৃক্ষ, নক্ষত্র, কবর, মাযার ও তাগুত ইত্যাদির ইবাদত করার মাধ্যমে মুশরিক হয়ে যাচ্ছে অথচ আবার মুসলিম দাবি করে। এভাবে একজন ব্যক্তি মুসলিম হতে পারে না এবং হলেও মুসলিম থাকবে না। প্রকৃত মুসলিম হতে হলে অবশ্যই তাওহীদ ও শির্ক সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতঃ সর্বদা আকীদাহ ও আমলে তাওহীদের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(قَدْ کَانَتْ لَکُمْ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِیْٓ اِبْرٰھِیْمَ وَالَّذِیْنَ مَعَھ۫ﺆ اِذْ قَالُوْا لِقَوْمِھِمْ اِنَّا بُرَءٰ۬ؤُا مِنْکُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللہِﺑ کَفَرْنَا بِکُمْ وَبَدَا بَیْنَنَا وَبَیْنَکُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَا۬ئُ اَبَدًا حَتّٰی تُؤْمِنُوْا بِاللہِ وَحْدَھ۫ٓ)
“তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ; তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল: তোমাদের সঙ্গে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত কর তার সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই; আমরা তোমাদেরকে প্রত্যাখ্যান করি। তোমাদের ও আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হল শত্র“তা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান না আন।” (সূরা মুমতাহিনা ৬০:৪)
সুতরাং ঈমান হল সকল ভ্রান্ত মা‘বূদ, তাগুত ও তাদের অনুসারীদেরকে বর্জন করা এবং এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে অটল থাকা।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সংখ্যা গরিষ্ঠতা সত্যের মাপকাঠি নয়, বরং সত্যের মাপকাঠি হল হক, যদিও তার পক্ষে একজন থাকে।
২. রব (প্রতিপালক) হিসেবে যেমন আল্লাহ তা‘আলাকে মানা হয় মা‘বূদ (একমাত্র ইবাদতের যোগ্য) হিসেবেও অনুরূপভাবে আল্লাহ তা‘আলাকে মানতে হবে। অন্যথায় নাজাত পাওয়া যাবে না।
৩. যারা অবিশ্বাসী বা কাফির, মুশরিক ও মুনাফিক এ অবস্থায় মৃত্যবরণ করে তারা আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি থেকে কখনও রক্ষা পাবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০২-১০৪ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআ’লা হযরত ইউসুফের (আঃ) সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করার পর, কি ভাবে ভ্রাতাগণ তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করে, কিভাবে তার জীবন নাশের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাআ’লা এর পর তাঁকে কিভাবে রক্ষা করেন এবং কি ভাবে তাকে উন্নতির উচ্চতর শিখরে আরোহণ করিয়ে দেন, স্বীয় নবীকে (সঃ) বলছেনঃ “এটা এবং এ ধরণের আরো বহু অদৃশ্যের ঘটনা আমার পক্ষ থেকে তোমার কাছে বর্ণনা করা হয়ে থাকে; যাতে মানুষ তার থেকে উপদেশ গ্রহণ করে এবং তোমার বিরুদ্ধবাদীদেরও চক্ষু খুলে যায়। আর যাতে তাদের উপর আমার দলীল প্রমাণ কায়েম হয়ে যায়। যখন ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতারা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল এবং কূপে নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছিল, তখন তুমি সেখানে উপস্থিত ছিলে না। আমি তোমাকে ওয়াহীর মাধ্যমে জানালাম বলেই তুমি জানতে পারলে।” যেমন হযরত মরিয়মের (আঃ) ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ “এটা অদৃশ্য বিষয়ের সংবাদ যা আমি তোমাকে ঐশী বাণী দ্বারা অবহিত করছি। মরিয়মের (আঃ) তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তাদের মধ্যে কে গ্রহণ করবে এর জন্য যখন তারা তাদের কলমগুলি নিক্ষেপ করছিল তুমি তখন তাদের নিকট ছিলে না এবং তারা যখন বাদানুবাদ করছিল তখনও তুমি তাদের কাছে ছিলে না।” হযরত মুসার (আঃ) ঘটনা প্রসঙ্গেও মহান আল্লাহ বলেনঃ “ (হে নবী সঃ!) ‘জানেবে গারবিয়্যে’ যখন আমি মুসাকে (আঃ) আমার কথা বুঝাচ্ছিলাম তখন তুমি সেখানে বিদ্যমান ছিলে না।” আর এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ “মাদইয়ানবাসীর কার্যাবলীও তোমার কাছে গোপন ছিল (শেষ পর্যন্ত)।” আল্লাহ তাআ’লা আরো বলেনঃ ‘মালায়ে আ’লার পারস্পরিক আলোচনার সময়ও তুমি তথায় বিদ্যমান ছিলে না। এই সব আমার পক্ষ হতে ওয়াহীর মাধ্যমে তোমাকে জানানো হয়েছে। এ হচ্ছে তোমার রিসালাত ও নুবওয়াতের স্পষ্ট দলীল যে, অতীত ঘটনাবলী। তুমি জনগণের সামনে এমনভাবে খুলে খুলে বর্ণনা করছো যে, যেন তুমি ওগুলো স্বচক্ষে দেখেছো এবং তোমার সামনেই সেগুলো সংঘটিত হয়েছে। আবার এই ঘটনাগুলি উপদেশ, শিক্ষা এবং হিকমতে পরিপূর্ণ, যার মাধ্যমে মানুষের দ্বীন ও দুনিয়া সুন্দর হতে পারে। এতদসত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ ঈমান থেকে অজ্ঞ থাকছে। তুমি হাজার চাইলেও এরা ঈমান আনবে না।” এর জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “ (হে নবী (সঃ)! তুমি যদি ভূ-পৃষ্ঠের অধিকাংশ লোকের কথা মত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে ফেলবে।” প্রত্যেক ঘটনার সাথে সাথে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেনঃ “যদিও এতে বড় রকমের নিদর্শন রয়েছে তথাপি অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।” (৬: ১১৬)
আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ তুমি তো তাদের কাছে কোন বিনিময় বা পারিশ্রমিক দাবী করছে না। তুমি যে মানুষকে আল্লাহর পথে আহবান করছে এবং এ জন্যে বহু চেষ্টা ও পরিশ্রম করছো এতে পার্থিব কোন লাভ বা উপকার তোমার কাম্য নয়। তোমার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। এটা সারা বিশ্বজগতের জন্যে উপদেশ ছাড়া কিছু নয়। এর মাধ্যমে দুনিয়াবাসী উপদেশ লাভ করবে, সুপথ প্রাপ্ত হবে এবং পরকালে কঠিন শাস্তি হতে মুক্তি পাবে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।