আল কুরআন


সূরা ইউসুফ (আয়াত: 10)

সূরা ইউসুফ (আয়াত: 10)



হরকত ছাড়া:

قال قائل منهم لا تقتلوا يوسف وألقوه في غيابة الجب يلتقطه بعض السيارة إن كنتم فاعلين ﴿١٠﴾




হরকত সহ:

قَالَ قَآئِلٌ مِّنْهُمْ لَا تَقْتُلُوْا یُوْسُفَ وَ اَلْقُوْهُ فِیْ غَیٰبَتِ الْجُبِّ یَلْتَقِطْهُ بَعْضُ السَّیَّارَۃِ اِنْ کُنْتُمْ فٰعِلِیْنَ ﴿۱۰﴾




উচ্চারণ: কা-লা কাইলুমমিনহুমলা-তাকতুলূইঊছুফা ওয়া আলকুহুফীগায়া-বাতিল জুব্বি ইয়ালতাকিতহু বা‘দুছছাইইয়া-রাতি ইন কুনতুম ফা-‘ইলীন।




আল বায়ান: তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, ‘তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো না, আর যদি কিছু করই, তাহলে তাকে কোন কূপের গভীরে ফেলে দাও, যাত্রীদলের কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাবে’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০. তাদের মধ্যে একজন বলল, তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো না এবং যদি কিছু করতেই চাও তবে তাকে কোন কূপের গভীরে নিক্ষেপ কর, যাত্রীদলের কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাবে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদের একজন বলল, তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো না, তোমাদেরকে যদি কিছু করতেই হয় বরং তাকে কোন অন্ধ কূপে ফেলে দাও, কোন যাত্রীদল তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে।’




আহসানুল বায়ান: (১০) তাদের মধ্যে একজন বলল, ‘ইউসুফকে হত্যা করো না, বরং যদি তোমরা কিছু করতেই চাও, তাহলে তাকে কোন গভীর কূপে[1] নিক্ষেপ কর, যাত্রীদলের কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাবে।’ [2]



মুজিবুর রহমান: তাদের মধ্যে একজন বললঃ ইউসুফকে হত্যা করনা, বরং যদি তোমরা কিছু করতেই চাও তাহলে তাকে কোন গভীর কুপে নিক্ষেপ কর, যাত্রী দলের কেহ তাকে তুলে নিয়ে যাবে।



ফযলুর রহমান: তাদের মধ্যে একজন বলল, “ইউসুফকে মেরো না, যদি কিছু করতেই চাও তাহলে তাকে কোন কূপের তলায় ফেলে দাও; কোন কাফেলার লোকেরা তাকে তুলে নেবে।”



মুহিউদ্দিন খান: তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, তোমরা ইউসুফ কে হত্যা করো না, বরং ফেলে দাও তাকে অন্ধকূপে যাতে কোন পথিক তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়, যদি তোমাদের কিছু করতেই হয়।



জহুরুল হক: তাদের মধ্যে থেকে একজন বক্তা বললে -- "ইউসুফকে কাতল করো না, তাকে বরং কোনো কুয়োর তলায় ফেলে দাও, ভ্রমণকারীদের কেউ তাকে তুলেও নিতে পারে, -- যদি তোমরা কাজ করতে চাও।"



Sahih International: Said a speaker among them, "Do not kill Joseph but throw him into the bottom of the well; some travelers will pick him up - if you would do [something]."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০. তাদের মধ্যে একজন বলল, তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো না এবং যদি কিছু করতেই চাও তবে তাকে কোন কূপের গভীরে নিক্ষেপ কর, যাত্রীদলের কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাবে।(১)


তাফসীর:

(১) এ আয়াতে বলা হয়েছেঃ ভ্রাতাদের মধ্যেই একজন সমস্ত কথাবার্তা শুনে বললঃ ইউসুফকে হত্যা করো না। যদি কিছু করতেই হয় তবে, কুপের গভীরে এমন জায়গায় নিক্ষেপ কর, যেখানে সে জীবিত থাকে এবং পথিক যখন কুপে আসে, তখন তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এভাবে একদিকে তোমাদের উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে যাবে এবং অপরদিকে তাকে নিয়ে তোমাদেরকে কোন দূরদেশে যেতে হবে না। কোন কাফেলা আসবে, তারা স্বয়ং তাকে সাথে করে দূর-দূরান্তে পৌছে দেবে। কারো কারো মতে এ অভিমত প্রকাশকারী সম্পর্কেই পরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিসরে যখন ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর ছোট ভাই বিনইয়ামীনকে আটক করা হয়, তখন সে বলেছিলঃ আমি ফিরে গিয়ে পিতাকে কিভাবে মুখ দেখাব? তাই আমি কেনানে ফিরে যাব না। [তাবারী; কুরতুবী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০) তাদের মধ্যে একজন বলল, ‘ইউসুফকে হত্যা করো না, বরং যদি তোমরা কিছু করতেই চাও, তাহলে তাকে কোন গভীর কূপে[1] নিক্ষেপ কর, যাত্রীদলের কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাবে।’ [2]


তাফসীর:

[1] جبٌ কূপকে ও غِيابَةٌ কূপের গভীরতাকে বলা হয়। কূপ এমনিতেই গভীর হয় এবং তাতে নিক্ষিপ্ত বস্তুকে দেখতে পাওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও কূপের গভীরতার কথা উল্লেখ করে অতিশয়োক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে।

[2] অর্থাৎ, পথচারী মুসাফির, যখন পানির খোঁজে কূপের নিকট আসবে, তখন হয়তো কেউ জানতে পারবে যে, কূপে কোন মানুষ পড়ে আছে এবং সে তাকে তুলে নিজের সাথে নিয়ে যাবে। ইউসুফ (আঃ)-এর এক ভাই এই বুদ্ধি দয়াবশতঃ পেশ করলেন। হত্যার পরিবর্তে উক্ত বুদ্ধিতে সত্যই সহানুভূতির আর্দ্রতা ছিল। ভাইদের মনে হিংসার আগুন এমনভাবে জ্বলে উঠেছিল যে, উক্ত অভিমত তিনি ভয়ে ভয়ে পেশ করে বলেছিলেন যে, যদি তোমাদেরকে কিছু করতেই হয়, তবে এরূপ কর।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭-১০ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে ইউসুফ (عليه السلام) কে হত্যা করার ব্যাপারে তার ভাইয়েরা যে ষড়যন্ত্র করেছিল সে কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘ইউসুফ এবং তার ভ্রাতাদের ঘটনায় জিজ্ঞাসুদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।’ তা হল এতে আল্লাহ তা‘আলার অসীম ক্ষমতা ও নবুওয়াতের সত্যতার নিদর্শন রয়েছে। এত চক্রান্ত করেও তারা ইউসুফ (عليه السلام)-কে হত্যা করতে পারল না এবং হিংসা-বিদ্বেষ করেও নবুওয়াতের মর্যাদা ছিনিয়ে আনতে পারল না।



এটা স্বভাবগত রীতি যে, বিমাতা ভাইয়েরা সাধারণতঃ পরস্পরের বিদ্বেষী হয়ে থাকে। সম্ভবতঃ এ বিদ্বেষ যাতে মাথাচাড়া না দেয়, সে কারণে ইয়া‘কূব (عليه السلام) একই শ্বশুরের পরপর তিন মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। এরপরেও শ্বশুর ছিলেন আপন মামা। পরস্পরে রক্ত সম্পর্কীয়, ঘনিষ্ঠ নিকটাত্মীয় এবং নাবী পরিবারের সার্বক্ষণিক দীনী পরিবেশে থাকা সত্ত্বেও হিংসার কবল থেকে দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানেরা রক্ষা পায়নি। তাই বলা চলে, ইউসুফের প্রতি তার সৎভাইদের হিংসার প্রথম কারণ ছিল বৈমাত্রেয় বিদ্বেষ। দ্বিতীয় কারণ ছিল সদ্য মাতৃহীন শিশু হওয়ার কারণে তাদের দু’ ভাইয়ের প্রতি পিতার স্বভাবগত স্নেহের আধিক্য। তৃতীয় কারণ ছিল ইউসুফের অতুলনীয় রূপ-লাবণ্য ও অনন্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। চতুর্থ কারণ ছিল ইউসুফের স্বপ্নবৃত্তান্তের কথা অবগত হওয়া। মূলতঃ শেষোক্ত কারণেই তারা তাদের হিংসার আগুনে জ্বলে উঠে এবং ইউসুফকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ফেলার শয়তানী চক্রান্ত করে। ইউসুফ (عليه السلام)-এর বৈমাত্রেয় দশ ভাই পরস্পর বলল আমাদের পিতা আমাদেরকে বাদ দিয়ে ইউসুফ (عليه السلام) ও তাঁর সহোদর ভাই বিনয়ামীনকে বেশি ভালবাসেন, আমাদের ওপর প্রাধান্য দেন, অথচ আমরা দশ ভাই, একটি শক্তিশালী দল, উচিত ছিল আমাদেরকে ভালবাসা এবং মর্যাদা দেয়া। সুতরাং আমরা মনে করছি আমাদের পিতা একটি প্রকাশ্য ভুলে আছেন। অতএব ইউসুফকে হত্যা করলে বা দূরবর্তী কোন এলাকায় ফেলে আসলে আমরা আমাদের পিতার প্রিয়পাত্র হতে পারব। ইউসুফকে হত্যা করে অথবা দূরে কোথাও ফেলে এসে আল্লাহ তা‘আলার কাছে তাওবাহ করে ভাল হয়ে যাব। তাই তারা পরামর্শ করল ইউসুফকে হত্যা করতে হবে। তখন তাদের মধ্যে এক ভাই পরামর্শ দিল যে, তাকে হত্যা করার প্রয়োজন নেই, হত্যা না করে কোন এক গভীর কূপে তাকে নিক্ষেপ কর। ফলে যখন কোন মানুষ কূপ থেকে পানি নিতে আসবে তখন তারা হয়ত তাকে তুলে নিয়ে যাবে আর আমাদের উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যাবে, সে আমাদের থেকে অনেক দূরে চলে যাবে, আর নিরপরাধ বালককে হত্যা করার পাপ থেকে আমরা বেঁচে যাব। অবশেষে তারা এ পরামর্শের ওপর স্থির হল। এ ভাই ইউসুফ (عليه السلام) এর প্রতি দয়ালু ছিল, তাই একটু সহানুভূতি দেখাল।



الْجُبِّ কূপ, غَيٰبَتِ অর্থ দ্বারা কূপের গভীরতাকে বুঝানো হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. শয়তানের প্রবঞ্চনায় পড়ে কারো ক্ষতি সাধন করা ঠিক নয়।

২. এখন পাপ করি পরে তাওবাহ করে নেব, এরূপ কথা ও কাজ নিজেকে ধোঁকা দেয়ার শামিল। কারণ মানুষ জানেনা সে কখন মারা যাবে।

৩. অন্যের কল্যাণ দেখে হিংসা করা উচিত নয় বরং উচিত হল অন্যের মত নিজের জন্যও আল্লাহ তা‘আলার কাছে কল্যাণ কামনা করা।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭-১০ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআ’লা বলেন যে, ইউসুফ (আঃ) ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় জ্ঞান পিপাসুদের জন্যে বহু শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। হযরত ইউসুফের (আঃ) একটি মাত্র সহোদর ভাই ছিলেন, যার নাম ছিল বিনইয়ামীন। অন্যান্য ভাইগুলি ছিলেন তাঁর বৈমাত্রেয় ভাই। তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইগুলি পরস্পর বলাবলি করেনঃ “আমাদের পিতা এ দু'ভাইকে আমাদের অপেক্ষা বেশি ভালবাসেন। বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার যে, আমরা একটা দল রয়েছি, অথচ তিনি আমাদের উপর তাদের দুজনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন! নিঃসন্দেহে এটা তাঁর স্পষ্ট ভুলই বটে।”

এটা উল্লেখযোগ্য বিষয় যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের নুবওয়াতের উপর প্রকৃতপক্ষে কোন দলীল প্রমাণ নেই। আর এই আয়াতের বর্ণনা ধারা তো এর বিপরীত। কোন কোন লোক বলেছেন যে, এই ঘটনার পর তাঁরা সবাই নুবওয়াত লাভ করেছিলেন। কিন্তু এটাও প্রমাণের মুখাপেক্ষী। তাঁরা এর প্রমাণ হিসেবে শুধু নিম্নের আয়াতটি পেশ করেছেনঃ (আরবি)

তাঁরা বলতে চান যে, এই আয়াতে বলা হয়েছেঃ ইয়াকুব (আঃ) ও তাঁর (আরবি) বা সন্তানদের প্রতি ওয়াহী নাযিল করা হয়েছিল। এটা কিন্তু সম্ভাবনা ছাড়া আর বেশী কিছুর ক্ষমতা রাখে না। কেননা, বণী ইসরাঈলের বংশ পরস্পরকে (আরবি) বলা হয়ে থাকে। যেমন আরবকে (আরবি) এবং আজমকে (আরবি) বলা হয়ে থাকে। সুতরাং এই আয়াতে শুধু এটুকুই রয়েছে যে, বণী ইসরাঈলের (আরবি) এর উপর ওয়াহী নাযিল হয়েছিল। তাঁদেরকে এরূপ সংক্ষিপ্তভাবে বলার কারণ এই যে, তাঁরা অনেক ছিলেন কিন্তু প্রত্যেক (আরবি) হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের মধ্যকার একজনের নসল বা বংশ ছিলেন। অতএব, এর কোন প্রমাণ নেই যে, আল্লাহ তাআ’লা বিশেষভাবে ঐ ভাইদেরকে নুবওয়াত দান করেছিলেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।

তাঁরা একে অপরকে বলেনঃ ‘এক কাজ করা যাক! তা হলো এই যে, ইউসুফের (আঃ) সাথে পিতার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। সে-ই হচ্ছে আমাদের পথের কাঁটা। সে যদি না থাকে তবে পিতার মুহাব্বত শুধু আমাদের উপরই থাকবে। এখন তাকে পিতার নিকট হতে সরাবার দু'টি পন্থা আছে। হয় তাকে মেরেই ফেলতে হবে, না হয় কোন দূর দূরান্তে তাকে ফেলে আসতে হবে। এরূপ করলেই আমরা পিতার প্রিয় ভাজন হতে পারবো। এরপর আমরা তাওবা’ করবো, আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ পাকের উক্তি: (আরবি) (তাদের একজন বললো) কাতাদা’ (রঃ) এবং মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড়, তাঁর নাম ছিল রাওভীল। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, তাঁর নাম ছিল ইয়াহুযা। আর মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন শামউনুস সাফা। তিনি বললেনঃ “তোমরা ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করো না। এটা অন্যায় হবে। শুধু শত্রুতার বশবর্তী হয়ে একজন নিরপরাধ ছেলেকে হত্যা করা উচিত হবে না।” এর মধ্যেও মহান আল্লাহর নিপুণতা নিহিত ছিল। তাঁর এটার ইচ্ছাই ছিল না। তাঁদের মধ্যে হযরত ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করার ক্ষমতাই ছিল না। আল্লাহ তাআ’লার ইচ্ছা তো এটাই ছিল যে, তিনি তাকে নবী করবেন এবং তাঁর ভাইদেরকে তার সামনে বিনীত অবস্থায় দাঁড় করাবেন। সুতরাং রাওভীলের পরামর্শে তাঁদের মন নরম হয়ে গেল এবং সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো যে, ইউসুফকে (আঃ) কোন অব্যবহৃত কূপে নিক্ষেপ করতে হবে।

কাতাদা’ (রঃ) বলেন যে, ওটা বায়তুল মুকাদ্দাসের কূপ ছিল। তাঁদের এ ধারণা হলো যে, সম্ভবতঃ কোন মুসাফির সেখান দিয়ে গমনের সময় তাঁকে কূপ থেকে উঠিয়ে নেবে এবং নিজের কাফেলার কাছে নিয়ে যাবে। তখন কোথায় তিনি এবং কোথায় তারা। সুতরাং তাকে হত্যা না করেই যদি কাজ সফল হয়ে যায় তবে হত্যা করার কি প্রয়োজন? মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ইবনু ইয়াসার (রঃ) বলেন যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতাগণ বড় অপরাধমূলক কাজে একমত হয়েছিলেন। তা হচ্ছেঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, পিতার সাথে অবাধ্যাচরণ করা, ছোট ভাই এর প্রতি অত্যাচার করা, নিরপরাধ ও নিস্পাপ বালকের ক্ষতি সাধন করা, অচল বৃদ্ধকে কষ্ট দেয়া, হকদারের হক নষ্ঠ করা, হুরমত ও ফযীলতের বিপরীত করা, মর্যাদাবানের মর্যাদা হানি করা, পিতাকে দুঃখ দেয়, তাঁর নিকট থেকে তাঁর কলিজার টুকরা ও চোখের মণিকে চিরতরে সরিয়ে দেয়া, বৃদ্ধপিতা ও আল্লাহ তাআ’লার প্রিয় নবীকে বৃদ্ধ বয়সে অসহনীয় বিপদে পৌছানো, ঐ অবুঝ ছেলেকে দয়ালু পিতার স্নেহপূর্ণ দৃষ্টির অন্তরালে নিয়ে যাওয়া, আল্লাহর দু’জন নবীকে দুঃখ দেয়া, প্রেমিক ও প্রেমাস্পদকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া, সুখময় জীবনকে দুঃখ ভারাক্রান্ত করে তোলা, ফুলের চেয়েও নরম অবলা শিশুকে মমতাময় বৃদ্ধ পিতার নরম ও গরম কোল হতে চিরতরে পৃথক করে দেয়া ইত্যাদি। আল্লাহ তাঁদেরকে ক্ষমা করুন। তিনি বড়ই করুনাময় ও দয়ালু। বাস্তবেই তারা (শয়তানের চক্রান্তে পড়ে) কতই না বড় অপরাধমূলক কাজের জন্যে উঠে পড়ে লেগেছিলেন!





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।